📄 হজ্জ তো হচ্ছে একটা মেলা
প্রশ্ন: হজ্জ আর এমন কী ইবাদত? হজ্জ তো হচ্ছে একটা মেলা। নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বাজারঘাট করা- এই তো হজ্জ। হজ্জ আর মেলার মধ্যে কী পার্থক্য?
উত্তর: পার্থক্য তো স্পষ্ট। মেলায় হয় মেলামেশা, আড্ডা আর বাজারঘাট করা, আর হজ্জ বলা হয় ইহরাম বাঁধা, তাওয়াফ সায়ী করা, উকূফে আরাফা করা ইত্যাদিকে। নারী পুরুষে অবাধ মেলামেশা আর বাজারঘাট করা হজ্জের কোনোই অংশ নয়। হজ্জের নিয়মের মধ্যে তো কোথাও এমন কিছু লেখা হয়নি যে, নারী পুরুষে অবাধ মেলামেশা করতে হবে, বাজারঘাট করতে হবে। যদি কেউ হজ্জের মূল কাজ বাদ দিয়ে এগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকে তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত ভুল। কিন্তু তাই বলে প্রকৃত হজ্জকে তো আর মেলা বলা যায় না।
📄 হজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া হয়, এটাও তো মূর্তি পূজার মতই
প্রশ্ন: হজ্জ উমরায় হজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া হয়। এটাও তো মূর্তি পূজার মতই। মূর্তিকে সম্মান করা আর হজরে আসওয়াদে চুমু দিয়ে হজরে আসওয়াদকে সম্মান করার মধ্যে কী পার্থক্য? দুটোই তো পাথরকে সম্মান প্রদান।
উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তর তো সেই কোন্ যুগে হযরত ওমর (রা.) দিয়ে গেছেন। তিনি হজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, «أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَضُرُّ وَلَا تَنْفَعُ وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَلَمَكَ مَا اسْتَلَمْتُكَ .» (বোখারী: হাদীছ নং ১৬০৫) অর্থাৎ, জেনে রাখ, আমার নিশ্চিত বিশ্বাস আছে তুমি একটা পাথর, তোমার মধ্যে ক্ষতি করার বা উপকার করার কোনো ক্ষমতা নেই। আমি যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তোমায় চুমু দিতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমাকে চুমু দিতাম না।
হযরত ওমর (রা.)-এর এ কথায় ইসলামী আকীদা ব্যক্ত হয়েছে যে, আমরা হজরে আসওয়াদের মধ্যে নিজস্ব কোন ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস রাখি না। শুধু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নকলে এটা করা হয়। আর পূর্বেই তো বলা হয়েছে, হজ্জের অনেক কিছুই আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের নকলে করা হয়, এই নকলেই আল্লাহ খুশি হন, তাই আমরা এটা করি। পক্ষান্তরে যারা মূর্তির পূজা করে তারা বিভিন্ন মূর্তিকে বিভিন্ন ক্ষমতার অধিকারী বলে বিশ্বাস করে। তাই মূর্তির পূজা আর হজরে আসওয়াদে চুমু- এ দু'টোর মধ্যে মৌলিকভাবেই বিস্তর ফারাক রয়েছে। হে শয়তান! একটার সঙ্গে আরেকটার প্যাঁচ লাগিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা সফল হবে না।
📄 নামায পাঁচ ওয়াক্ত কেন?
প্রশ্ন: নামায পাঁচ ওয়াক্ত কেন?
উত্তর: আমি উল্টো প্রশ্ন করি- পাঁচ ওয়াক্ত হলে অসুবিধা কি? পাঁচ ওয়াক্ত না হয়ে কম বেশি কেন হতে যাবে? আসল কথা হল তুমি পাঁচ ওয়াক্ত থেকেও আর কম হলে কিংবা মোটেই নামায না থাকলে ভাল হত বলতে চাও, তাই নয় কি? তাহলে শোন, যদি আল্লাহ পাক ২৪ ঘণ্টাও নামাযে থাকতে বলতেন, তা-ই আমরা করতাম। আমাদেরকে সৃষ্টিই তো করা হয়েছে ইবাদতের জন্য। তিনি প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত ফরয করে তারপর সহজ করতে করতে পাঁচ ওয়াক্তে এনে দাঁড়িয়েছেন। আর কত সহজ চাই? একেবারে এক ওয়াক্তও না থাকলে বুঝি খুশি হতে?
📄 মাগরিব, ইশা ও ফজরের কেরাত সশব্দে আর জোহর আসরের কেরাত আস্তে পড়া হয় কেন?
প্রশ্ন: মাগরিব, ইশা ও ফজরের কেরাত সশব্দে আর জোহর আসরের কেরাত আস্তে পড়া হয় কেন?
উত্তর: সব ওয়াক্তেই সশব্দে পড়ার কথা ছিল, যাতে মুক্তাদীরা শুনতে পায়। কিন্তু সেই যুগে কাফেররা দিনের বেলায় সশব্দে কেরাত পড়া হলে কেরাত শুনে কুরআন নিয়ে নানান রকম উপহাস করত। তাই দিনের বেলায় কেরাত আস্তে রেখে তাদের উপহাস করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। পক্ষান্তরে মাগরিবের সময় তারা অন্ধকারে ঘোরাঘুরি করত না এবং ইশা ও ফজরের সময় ঘুমিয়ে থাকত বিধায় তখন কেরাত সশব্দেই রাখা হয়েছিল। আর এই নিয়ম সবসময়ের জন্যই বহাল রাখা হয়েছে, যাতে নবীর যুগের স্মৃতি সকলের স্মরণ হয়।