📄 আল্লাহ কি বায়তুল্লার মধ্যে থাকেন যে, ওখানে ঘুরতে হবে?
প্রশ্ন: হজ্জে যা করা হয়, তারই বা যুক্তি কী? আল্লাহকে পাওয়ার জন্য বায়তুল্লাহর পাশে ঘোরা হয়। আল্লাহ কি বায়তুল্লাহর মধ্যে থাকেন যে, তাকে পাওয়ার জন্য ওখানে ঘুরতে হবে? হাজেরা (আ.) তার সন্তানের জন্য পানির খোঁজে ছোটাছুটি করেছিলেন, হজ্জে তার নকল করা হয়, হযরত ইব্রাহীম (আ.) শয়তানকে পাথর মেরেছিলেন, এখন তারই নকল করে হাওয়ার উপর পাথর ছোড়া হয়। এখন তো শয়তান সেখানে পাথর খাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে না। তাহলে এখন ওখানে পাথর মেরে লাভ কী? এগুলোর পেছনে কোন যুক্তি নেই। এগুলো কেন ইবাদত হতে গেল?
উত্তর: পূর্বেই তো বলেছি, ইবাদত হল আল্লাহকে খুশি করার জন্য। আর মা হাজেরা ও ইব্রাহীম (আ.) প্রমুখ আল্লাহর কতিপয় বান্দা-বান্দীর কিছু কাজে আল্লাহ খুশি হয়ে স্থির করেছেন, যারা আমার এই বান্দা-বান্দীদের এইসব কাজের নকল করবে তাদের প্রতিও আমি খুশি, তাহলে সেখানেও বা আমার যুক্তি খোঁজার দরকার কী? তিনি যা কিছুতে খুশি আমরাও সেই সবকিছুতেই খুশি। অতএব আমাদের যুক্তি খোঁজার দরকার নেই।
রইল আল্লাহকে পাওয়ার জন্য বাইতুল্লাহর চতুর্দিকে ঘোরার বিষয়টা, তা এখানে আসল কথা হল প্রেমিক যেমন তার প্রেমাষ্পদকে পাওয়ার জন্য তার আশপাশে ঘুরঘুর করে, আমরাও আমাদের প্রেমাষ্পদ আল্লাহকে পাওয়ার জন্য তাঁর আশপাশে ঘুরঘুর করতে চাই। কিন্তু আল্লাহর সত্তা যেহেতু সৃষ্টির সবকিছুর চেয়ে বড়, তাঁর পক্ষে নির্দিষ্ট কোন স্থানে সীমাবদ্ধ থাকা সম্ভব নয়, তাহলে আমরা তাঁর পাশে ঘুরঘুর করব কীকরে? কোথায় ঘুরঘুর করব? তাই আল্লাহ তাআলা বাইতুল্লাহ তথা কা'বা শরীফকে তাঁর রহমত ও মনোযোগের কেন্দ্র নির্ধারণ করে দিয়ে বলেছেন, তোমরা একে কেন্দ্র করেই ঘুরে দেখাও কে কে আমাকে পাওয়ার জন্য ঘুরঘুর করার মানসিকতা পোষণ কর। আমরা সেই মানসিকতা পোষণের প্রমাণ স্বরূপ প্রতীকীভাবে বাইতুল্লাহর চক্কর দিয়ে থাকি। আল্লাহ তাআলা বাইতুল্লাহর মধ্যে রয়েছেন এই ভেবে আমরা বাইতুল্লাহর চক্কর দেই না। বরং এটা হল একটা প্রতীকী আমল, এই ঘোরা হল প্রতীকী ঘোরা। আর আল্লাহ এই দেখে উৎফুল্ল হন যে, ওরা আমাকে পাওয়ার জন্য প্রতীকী ঘুরঘুর পালন করছে, যদি প্রকৃতপক্ষেই ওরা আমাকে নির্দিষ্ট কোন স্থানে পেত তাহলে ওরা ঠিকই সেখানে ঘুরঘুর করত। ব্যস আল্লাহ এতেই তাওয়াফকারীদেরকে তাঁর প্রেমিকদের মধ্যে গণ্য করে নেন।
📄 হজ্জ তো হচ্ছে একটা মেলা
প্রশ্ন: হজ্জ আর এমন কী ইবাদত? হজ্জ তো হচ্ছে একটা মেলা। নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বাজারঘাট করা- এই তো হজ্জ। হজ্জ আর মেলার মধ্যে কী পার্থক্য?
উত্তর: পার্থক্য তো স্পষ্ট। মেলায় হয় মেলামেশা, আড্ডা আর বাজারঘাট করা, আর হজ্জ বলা হয় ইহরাম বাঁধা, তাওয়াফ সায়ী করা, উকূফে আরাফা করা ইত্যাদিকে। নারী পুরুষে অবাধ মেলামেশা আর বাজারঘাট করা হজ্জের কোনোই অংশ নয়। হজ্জের নিয়মের মধ্যে তো কোথাও এমন কিছু লেখা হয়নি যে, নারী পুরুষে অবাধ মেলামেশা করতে হবে, বাজারঘাট করতে হবে। যদি কেউ হজ্জের মূল কাজ বাদ দিয়ে এগুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকে তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত ভুল। কিন্তু তাই বলে প্রকৃত হজ্জকে তো আর মেলা বলা যায় না।
📄 হজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া হয়, এটাও তো মূর্তি পূজার মতই
প্রশ্ন: হজ্জ উমরায় হজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া হয়। এটাও তো মূর্তি পূজার মতই। মূর্তিকে সম্মান করা আর হজরে আসওয়াদে চুমু দিয়ে হজরে আসওয়াদকে সম্মান করার মধ্যে কী পার্থক্য? দুটোই তো পাথরকে সম্মান প্রদান।
উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তর তো সেই কোন্ যুগে হযরত ওমর (রা.) দিয়ে গেছেন। তিনি হজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, «أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَضُرُّ وَلَا تَنْفَعُ وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَلَمَكَ مَا اسْتَلَمْتُكَ .» (বোখারী: হাদীছ নং ১৬০৫) অর্থাৎ, জেনে রাখ, আমার নিশ্চিত বিশ্বাস আছে তুমি একটা পাথর, তোমার মধ্যে ক্ষতি করার বা উপকার করার কোনো ক্ষমতা নেই। আমি যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তোমায় চুমু দিতে না দেখতাম তাহলে আমিও তোমাকে চুমু দিতাম না।
হযরত ওমর (রা.)-এর এ কথায় ইসলামী আকীদা ব্যক্ত হয়েছে যে, আমরা হজরে আসওয়াদের মধ্যে নিজস্ব কোন ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস রাখি না। শুধু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নকলে এটা করা হয়। আর পূর্বেই তো বলা হয়েছে, হজ্জের অনেক কিছুই আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের নকলে করা হয়, এই নকলেই আল্লাহ খুশি হন, তাই আমরা এটা করি। পক্ষান্তরে যারা মূর্তির পূজা করে তারা বিভিন্ন মূর্তিকে বিভিন্ন ক্ষমতার অধিকারী বলে বিশ্বাস করে। তাই মূর্তির পূজা আর হজরে আসওয়াদে চুমু- এ দু'টোর মধ্যে মৌলিকভাবেই বিস্তর ফারাক রয়েছে। হে শয়তান! একটার সঙ্গে আরেকটার প্যাঁচ লাগিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা সফল হবে না।
📄 নামায পাঁচ ওয়াক্ত কেন?
প্রশ্ন: নামায পাঁচ ওয়াক্ত কেন?
উত্তর: আমি উল্টো প্রশ্ন করি- পাঁচ ওয়াক্ত হলে অসুবিধা কি? পাঁচ ওয়াক্ত না হয়ে কম বেশি কেন হতে যাবে? আসল কথা হল তুমি পাঁচ ওয়াক্ত থেকেও আর কম হলে কিংবা মোটেই নামায না থাকলে ভাল হত বলতে চাও, তাই নয় কি? তাহলে শোন, যদি আল্লাহ পাক ২৪ ঘণ্টাও নামাযে থাকতে বলতেন, তা-ই আমরা করতাম। আমাদেরকে সৃষ্টিই তো করা হয়েছে ইবাদতের জন্য। তিনি প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত ফরয করে তারপর সহজ করতে করতে পাঁচ ওয়াক্তে এনে দাঁড়িয়েছেন। আর কত সহজ চাই? একেবারে এক ওয়াক্তও না থাকলে বুঝি খুশি হতে?