📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 বিধর্মীদের সঙ্গে যুদ্ধে আল্লাহ মুসলমানদের সাহায্য করেন কৈ?

📄 বিধর্মীদের সঙ্গে যুদ্ধে আল্লাহ মুসলমানদের সাহায্য করেন কৈ?


উত্তর: মার খাওয়ার কাজ করলে তো মার খাবেই। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও রাষ্ট্রীয় কর্ণধাররা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অমুসলিমদের সঙ্গে ইসলাম বিরোধী যেসব গোপন আঁতাত চালিয়ে যায় তাতে আল্লাহ না করুন আমাদের আরও মার খাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আল্লাহ মেহেরবান বলেই আমাদের অনেক মার থেকে বাঁচান। যুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য যে শর্তাবলী পূরণ করতে হয় তা কি এখনকার মুসলমানদের দ্বারা পূরণ হচ্ছে? না হলে আল্লাহ সাহায্য করবেন না সেটাই তো স্বাভাবিক। তারপরও কুফরী শক্তি মুসলমানদের নির্মূল করার জন্য একযোগে কাজ করেও মুসলমানদের নির্মূল করতে পারছে না। আর যদি কিছু নিরাপদ মুসলমান মার খায় তবে তার জন্য তাদের পাপ মোচন হবে এবং আখেরাতে তারা বড় লাভবান হবে।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 যুদ্ধে সাহায্যের জন্য এখন ফেরেশতারা আসে না কেন?

📄 যুদ্ধে সাহায্যের জন্য এখন ফেরেশতারা আসে না কেন?


উত্তর: প্রথমত এখন যে ফেরেশতারা আসেন না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কারণ নবী যখন নেই তখন তা জানার উপায়ও নেই। দ্বিতীয়ত সাহায্যের জন্য ফেরেশতা আসতেই হবে এমন কোন কথা নেই। সাহায্যকারী তো স্বয়ং আল্লাহ নিজে, তাঁর তো ফেরেশতা পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে না। তবে ইসলামের শুরুর দিকে মানুষের মনোবল বৃদ্ধি ও ঈমান সুদৃঢ় করার জন্য ফেরেশতা পাঠানো হয়েছিল। এখনকার প্রেক্ষাপটে এ প্রয়োজন নেই।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 ধর্মের নামে আলেমরা গরীবদেরকে শোষণ করে

📄 ধর্মের নামে আলেমরা গরীবদেরকে শোষণ করে


উত্তর: এটা একটা ভুয়া অভিযোগ। আলেমরা গরীবদেরকে কীভাবে শোষণ করে? উলামায়ে কেরাম মসজিদ মাদ্রাসার জন্য দান-সদকার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন আর জনগণ স্বেচ্ছায় পরকালে প্রতিদান পাওয়ার আশায় দান করেন। উলামায়ে কেরাম সেই অর্থ নিজেদের স্বার্থে নয় দ্বীনী কাজে ব্যয় করেন। স্কুল কলেজের জন্যও চাঁদা আদায় করা হয়, সরকারও ট্যাক্স নেয়, সেটাকে কেউ শোষণ বলে না। শোষণ বলা হয় তখন, যখন কেউ বলপূর্বক নিজের স্বার্থে অর্থ গ্রহণ করে।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 ধর্মের নামে আলেমরা পোপতন্ত্র কায়েম করেছে

📄 ধর্মের নামে আলেমরা পোপতন্ত্র কায়েম করেছে


উত্তর: আলেম ও পোপ¹—এই দু'টোর মধ্যে পার্থক্যগুলো দেখুন:
১. আলেম হতে বিশেষ ধরনের লেখাপড়ার প্রয়োজন পড়ে, পক্ষান্তরে পোপ হতে কোন বিশেষ ধরনের লেখাপড়ার প্রয়োজন পড়ে না। কার্ডিনালরা² যাকে পোপ নিয়োগ দেয় সে-ই পোপ হয়।
২. আলেমকে কেউ নিয়োগ দেয় না, লেখাপড়ায় উত্তীর্ণ ব্যক্তি এমনিতেই আলেম হন। পক্ষান্তরে নিয়োগ ছাড়া কেউ পোপ হন না।
৩. আলেম ব্যক্তি বিশেষ চরিত্রে চরিত্রবান হয়ে থাকেন। পোপ হওয়ার জন্য বিশেষ চরিত্রের দরকার পড়ে না। পোপ ত্রিশতম জন একজন জলদস্যু ছিলেন।
৪. আলেমদেরও ত্রুটি থাকতে পারে, তারা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। পক্ষান্তরে পোপ নিয়োজিত হওয়ার পরই তিনি সম্পূর্ণ নিষ্পাপ হয়ে যান বলে বিশ্বাস করা হয়।
৫. পোপ যা বলেন তা-ই আইন হয়ে দাঁড়ায়। পক্ষান্তরে আলেম যা-ই বলেন তা-ই আইন হয় না, যদি না কুরআন সুন্নাহয় তার ভিত্তি থাকে।
৬. একজন পোপ নিজের স্বার্থেও আইন রচনা করতে পারেন, পক্ষান্তরে আলেম তা পারেন না।

টিকাঃ
১। "পোপ" (pope) ক্যাথলিক খৃষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
২। "কার্ডিনাল" খৃষ্টান জগতের একটা ধর্মীয় উপাধি। সারা বিশ্বে সর্বমোট ২৭০ জন কার্ডিনাল থাকে। তাদের মাধ্যমে পোপ নিয়োগ পান।

ফন্ট সাইজ
15px
17px