📄 ইসলাম ধর্ম সঠিক হলে এর অনুসারীদের সংখ্যা বেশি হয় না কেন?
উত্তর: ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যা বেশি নয় বলে ইসলাম সঠিক নয়—এই যুক্তি ভুল। যে জিনিসের পরিমাণ বেশি সেটা সঠিক—এই ধারণাই তো ভুল। পূণ্যের চেয়ে পাপের পরিমাণ বেশি তাই বলে কি পাপই সঠিক? খাঁটির চেয়ে ভেজালের পরিমাণ বেশি হলে কি ভেজালটা সঠিক হয়ে দাঁড়ায়? বস্তুত কোন কিছুর সংখ্যা বা পরিমাণ দিয়ে তার সঠিকতা নির্ণয় করা যায় না। বরং সঠিকতা নির্ণিত হয় তার অন্তর্নিহিত গুণাবলী দ্বারা। অন্যান্য ধর্মের তুলনায় ইসলামের খাঁটিত্ব নির্ণিত করতে হলে ইসলামের নীতিমালা বিচার করে দেখতে হবে। আর একথা বিধর্মীরাও স্বীকার করে যে, নীতিমালার বিচারে ইসলামের তুলনা হয় না।
📄 ধর্ম-কর্ম সঠিক হলে উন্নত মানের লোকেরা কেন ধর্মে আসে না?
উত্তর: আগে নিম্নমানের কারা আর উন্নতমানের কারা তা সঠিকভাবে বুঝে নিন। যারা ধর্ম-কর্ম করে না, তারা ইসলামের দৃষ্টিতে উন্নতমানের লোক নয়। কুরআনের বর্ণনামতে তাদের অবস্থা হল— "তাদের অন্তর থাকা সত্ত্বেও তারা (সঠিক জিনিস) উপলব্ধি করে না, চোখ থাকা সত্ত্বেও দেখে না, কান থাকা সত্ত্বেও শোনে না, তাই তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত বরং তার চেয়ে অধম।” অতএব তারা যেখানে পশুর কাতারের, সেখানে তারা উন্নত মানের মানুষ কী করে হতে পারে?
যদি প্রশ্ন হয় সম্পদশালী বা প্রভাবশালীরা কেন ইসলাম গ্রহণ করে না, তার উত্তর শুনুন। অর্থসম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে তাদের মধ্যে অহংকার থাকে, আর অহংকারই সত্য গ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে অর্থসম্পদ থাকা সত্ত্বেও যাদের মধ্যে বিনয় থাকে, আল্লাহ তাদেরকে ইসলামের তাওফীক দিয়েও থাকেন।
📄 বিজ্ঞানের যুগে ধর্ম অচল
উত্তর: এখানে মূলত ৩টা অভিযোগ রয়েছে।
১. বিজ্ঞানের যুগে ধর্ম অচল নয় বরং আরও বেশি সচল হওয়ার কথা। কারণ, বিজ্ঞান তো ধর্মীয় বিষয়গুলোর সত্যতাই প্রমাণ করে চলেছে। বিজ্ঞানই আজ মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা থাকার অপরিহার্যতা প্রমাণ করছে। বিজ্ঞান দেখিয়েছে আলো মাপা যায়, বাতাস মাপা যায়, অতএব মীযানে আমল মাপার সম্ভাব্যতাও প্রমাণিত হয়েছে।
২. বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই, বরং সমন্বয় রয়েছে। ধর্ম তো সত্য বিষয়, আর বিজ্ঞানও যদি সত্য হয় তাহলে দুটোর মধ্যে সমন্বয়ই থাকবে। বিজ্ঞানের সাথে সাথে ধর্মেরও অনুসরণ করলে ইহকালীন ও পরকালীন উভয় সফলতা অর্জিত হয়।
৩. ধর্ম অনুসরণের অর্থ পেছন দিকে যাওয়া—একথা অবুঝের কথা। বিজ্ঞান কি অতীতকে বাদ দিয়ে সামনের দিকে চলে? বিজ্ঞান কি অতীতের গ্রহ-নক্ষত্র, মাটি, পানি, ধাতু সবকিছু বাদ দিয়ে চলে? নিশ্চয় না। বরং অতীতের সবকিছুকে নিয়েই গবেষণা করে সামনের দিকে অগ্রসর হয়। তদ্রূপ আমাদেরও অতীতে প্রবর্তিত ধর্মকে নিয়েই সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে।
📄 বিধর্মীদের সঙ্গে যুদ্ধে আল্লাহ মুসলমানদের সাহায্য করেন কৈ?
উত্তর: মার খাওয়ার কাজ করলে তো মার খাবেই। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও রাষ্ট্রীয় কর্ণধাররা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অমুসলিমদের সঙ্গে ইসলাম বিরোধী যেসব গোপন আঁতাত চালিয়ে যায় তাতে আল্লাহ না করুন আমাদের আরও মার খাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আল্লাহ মেহেরবান বলেই আমাদের অনেক মার থেকে বাঁচান। যুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য যে শর্তাবলী পূরণ করতে হয় তা কি এখনকার মুসলমানদের দ্বারা পূরণ হচ্ছে? না হলে আল্লাহ সাহায্য করবেন না সেটাই তো স্বাভাবিক। তারপরও কুফরী শক্তি মুসলমানদের নির্মূল করার জন্য একযোগে কাজ করেও মুসলমানদের নির্মূল করতে পারছে না। আর যদি কিছু নিরাপদ মুসলমান মার খায় তবে তার জন্য তাদের পাপ মোচন হবে এবং আখেরাতে তারা বড় লাভবান হবে।