📄 তাকদীর প্রসঙ্গে ওয়াসওয়াসা
ওয়াছওয়াছা: তাকদীরের বিশ্বাস এক অন্ধ বিশ্বাস, এটা যুক্তিহীন। তাকদীর বলে কিছু নেই। মানুষ নিজেই তার ভাগ্য নির্ধারণ করে থাকে।
জবাব: সব বিশ্বাসই অন্ধ বিশ্বাস। চাক্ষুস বিশ্বাস আবার কিসের বিশ্বাস? বিশ্বাস তো না দেখেই হয়, আর না দেখে যা বিশ্বাস তা-ই তো অন্ধ-বিশ্বাস। রয়ে গেল তাকদীরে বিশ্বাস যুক্তিহীন বিশ্বাস কি না। তাকদীরের বিষয়টা তো এমন যে, প্রতিনিয়ত প্রতি মুহূর্ত আমরা হাতে নাতে তার প্রমাণ পাই। কীভাবে আমরা হাতে নাতে তাকদীরের প্রমাণ পাই তার ব্যাখ্যা:
১. অনেকেই তো কোটি কোটি টাকার মালিক হতে চায়। যে লেখাপড়া বা চেষ্টা-চরিত্র দ্বারা কেউ কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে, ঠিক একই লেখাপড়া ও চেষ্টা-চরিত্র করেও অন্য অনেকে তা হতে পারছে না। বুঝা গেল শুধু চেষ্টা দ্বারাই হয় না, ভাগ্যেরও একটা বিষয় রয়েছে।
২. একাধিক ব্যক্তি একই আবহাওয়ায় জীবন কাটাচ্ছে। তারপরও কেউ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, কেউ হচ্ছে না। বুঝা গেল পশ্চাতে তাকদীর তথা ভাগ্যের একটা বিষয় রয়েছে।
৩. একাধিক ব্যক্তি একই রোগের জন্য একই ওষুধ সেবন করছে। তারপরও কারও রোগ ভাল হচ্ছে কারও হচ্ছে না। বুঝা গেল ওষুধেই সবকিছু হয় না।
৪. দেখা যায় একই পথ ধরে একজন মানুষ সুখী হচ্ছে, কিন্তু আরও অনেকে হুবহু সে পথ ধরেও সুখী হতে পারছে না।
৫. যদি মানুষ নিজেই নিজের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, তাহলে আর কিছু না হোক অন্তত মরত না কেউই।
ওয়াছওয়াছা: তাকদীর তথা ভাগ্যে যখন সবকিছু লেখা আছে তখন আমল করার জন্য চেষ্টা করার প্রয়োজন কী? ভাগ্যে লেখা থাকলে তো চেষ্টাও আমার দ্বারা হবেই।
জবাব: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর দিয়েছিলেন, «اعْمَلُوا فَكُلُّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ.» অর্থাৎ, তোমরা আমল করতে থাক, যে উদ্দেশ্যে যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তার অনুকূল কাজের তাওফীক তাকে দেয়া হবে। (বোখারী ও মুসলিম)
এখানে একটা প্রশ্ন হতে পারে এই যে, আল্লাহ না চাইলে তো আমরা কিছু চাইতেও পারব না। এ প্রশ্নের উত্তর হল— আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মত হল বান্দা পূর্ণাঙ্গ মাজবুর বা অক্ষম নয় বরং বান্দা হচ্ছে মুখতার মাজবুর।¹ ইখতিয়ার হল ইচ্ছার সূচনা করার আর মাজবুরী² তথা অক্ষমতা হল ইচ্ছাকে নিজের থেকে চূড়ান্ত রূপ দিতে না পারার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: তাকদীর হচ্ছে এক গভীর সমুদ্র, তুমি তাতে ডুব দিও না। তাকদীর নিয়ে বেশি ঘাটাঘাতি করা ঠিক নয়। অতীতেও অনেক লোক তাকদীর নিয়ে ঘাটাঘাতি করায় বিভ্রান্ত হয়েছে। কেউ হয়েছে কাদরিয়া³ কেউ হয়েছে জাবরিয়া।⁴
টিকাঃ
১। মুখতার অর্থ যার ইতিয়ার বা ইচ্ছাধিকার রয়েছে।
২। মাজবুর অর্থ বাধ্য বা অক্ষম।
৩। তাকদীরকে অস্বীকারকারী একটা ভ্রান্ত দল।
৪। একটা ভ্রান্ত দল যারা মনে করত মানুষের কোন ইচ্ছাধিকার নেই, মানুষ হচ্ছে সম্পূর্ণ মাজবুর বা অক্ষম।