📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 ফেরেশতা দেখার কয়েকটা ঘটনা

📄 ফেরেশতা দেখার কয়েকটা ঘটনা


• আল-বিদায়া ওয়ান্নিহায়া গ্রন্থের টীকায় সনদ সহকারে সাহাবী হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.)-এর একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.) একবার তায়েফে একজন লোক থেকে একটা গাধা এই শর্তে ভাড়া নিলেন যে, তিনি যেখানে চান গাধাওয়ালা সেখানে তাকে পৌঁছে দিবেন। গাধাওয়ালা গাধাটাকে হাঁকাতে হাঁকাতে একটা নির্জন স্থানে নিয়ে গেল। হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.) দেখলেন সেখানে প্রচুর মৃতদেহ পড়ে আছে। সেখানে পৌঁছে গাধাওয়ালা হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.)কে হত্যা করতে উদ্যত হল। তখন হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.) তাকে বললেন, আমাকে দুই রাকআত নামায পড়ার সুযোগ দাও। সে বলল, ঠিক আছে দুই রাকআত নামায পড়ে নাও। এই যাদের মৃতদেহ পড়ে আছে দেখছ, তারাও সবাই নামায পড়েছিল, কিন্তু নামায তাদের কিছুই উপকারে আসেনি। হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.) বলেন, আমি দুই রাকআত নামায পড়লাম। তারপর লোকটা আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হল। তখন আমি বললাম, ইয়া আরহামার রাহিমীন! (অর্থাৎ, হে সবচেয়ে বড় দয়ালু!) তখন অদৃশ্য থেকে একজন কেউ চিৎকার দিয়ে বলে উঠল, "লা তাকতুল" (অর্থাৎ, তাকে হত্যা করো না।) আওয়াজ শুনে লোকটা ভয় পেয়ে গেল এবং এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে আবার আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হল। তখন আমি আবার বললাম, ইয়া আরহামার রাহিমীন! তখন আবার সে ঐ আওয়াজ শুনতে পেল "লা তাকতুল" (অর্থাৎ, তাকে হত্যা করো না।) সে এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে আবার আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হল। আমি বললাম, ইয়া আরহামার রাহিমীন! তখন আমি দেখতে পেলাম একজন ঘোড়সওয়ার তার ঘোড়ার উপর আরোহিত অবস্থায় উপস্থিত। তার হাতে আছে একটা বল্লম, যার মাথায় আগুনের শিখা। সে ঐ বল্লম দিয়ে লোকটাকে আঘাত করল। বল্লম লোকটার শরীর ভেদ করে পার হয়ে গেল। লোকটা মরে লুটিয়ে পড়ল। (এ ছিল একজন ফেরেশতা।) তখন সে বলল, তুমি যখন প্রথমবার (ইয়া আরহামার রাহিমীন বলে) ডেকেছ তখন আমি সপ্তম আসমানে ছিলাম। যখন দ্বিতীয়বার ডেকেছ তখন আমি প্রথম আসমানে ছিলাম। আর যখন তৃতীয়বার ডেকেছ তখন আমি তোমার নিকট এসে পৌঁছেছি।

• মানুষ কর্তৃক ফেরেশতা দেখার আর একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ও বাইহাকী কৃত শুআবুল ঈমান-এ। ঘটনাটি হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) তার "আল-হাবাইক ফী আখবারিল মালাইক” কিতাবেও বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি নিম্নরূপ: হযরত ইকরমা ইবনে খালেদ (রহ.) বর্ণনা করেন— একজন আবেদ (বড় ইবাদতগোযার) ব্যক্তি ছিলেন। তাকে ধ্বংস করার জন্য এক শয়তান তার কাছে এল। কিন্তু তিনি আরও বেশি ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হলেন। তখন শয়তান তার কাছে একজন মানুষের রূপ ধরে এল এবং বলল, আমি আপনার সুহবতে থাকতে চাই। আবেদ লোকটি তার আবেদন মঞ্জুর করলেন। উক্ত শয়তান এভাবে তার কাছে অবস্থান করতে থাকল, তাকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ খুঁজতে থাকল, তার আশেপাশে ঘুরাঘুরি করতে থাকল। তখন আল্লাহ তাআলা (ঐ আবেদকে) হেফাজত করার জন্য তাঁর কাছে একজন ফেরেশতা প্রেরণ করলেন, যাকে শয়তান তো চিনতে পেরেছিল কিন্তু ঐ আবেদ চিনতে পারেননি। তারপর সন্ধাবেলায় যখন শয়তান তাকে পিষছিল, উক্ত ফেরেশতা তখন তার দিকে হাত বাড়িয়ে তাকে হত্যা করে দিল। তখন আবেদ (ঐ ফেরেশতাকে) বললেন, এরূপ ঘটনা আমি জীবনে দেখিনি, তুমি তাকে হত্যা করে দিলে? (নিহত) লোকটি তো এই এই অবস্থায় ছিল। তারপর তারা (ফেরেশতা ও আবেদ) উভয়ে একদিকে রওয়ানা দিল। একটা বস্তীতে তারা উপনীত হল। বস্তীর লোকেরা তাদেরকে স্থান দিল, তাদেরকে আপ্যায়ন করল। ফেরেশতা তাদের একটা রূপার পাত্র তুলে নিল এবং সেখান থেকে তারা রওয়ানা দিয়ে আর একটা বস্তীতে পৌঁছাল। এই বস্তীর লোকেরা তাদেরকে বসার জায়গাও দিল না, আপ্যায়নও করল না। তখন ফেরেশতা উক্ত রূপার পাত্রটি তাদের দিয়ে দিল। তখন আবেদ লোকটি তাকে বললেন, যারা আমাদের মেহমানদারী করল তাদের পাত্র নিয়ে নিলে আর যারা আমাদের মেহমানদারী করল না তাদেরকে সেই পাত্র দিয়ে দিলে? তুমি মোটেই আমার সাহচর্যে থাকতে পারবে না। তখন উক্ত ফেরেশতা বলল, ঐই যাকে আমি হত্যা করেছি ও ছিল এক শয়তান (শয়তানের বাহিনীর একজন), ও তোমাকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে এসেছিল। আর যাদের পাত্র নিয়ে নিয়েছি তারা হল নেককার লোক, তাদের জন্য রূপা (-এর পাত্র রাখা ও ব্যবহার করা) জায়েয ছিল না। পক্ষান্তরে এরা (যাদেরকে ঐ পাত্রটা দিয়েছি তারা) ফাসেক লোক। এরাই ঐ পাত্রের বেশি হকদার। বর্ণনাকারী হযরত ইকরামা ইবনে খালেদ (রহ.) বলেন, তারপর ঐ ফেরেশতা আসমানের দিকে উঠে গেল আর আবেদ লোকটি তা দেখতে থাকলেন।

• এবার একটি ঘটনা শুনুন, যে ঘটনায় মানুষ ফেরেশতার আওয়াজ শুনেছে। মুসনাদে আহমদে ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে। একদিন হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে আরয করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি নামায পড়ছিলাম, তখন (অদৃশ্য থেকে) একজন লোককে নিম্নোক্ত দুআ পড়তে শুনলাম— اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كُلُّهُ ، وَلَكَ الْمُلْكُ كُلُّهُ ، بِيَدِكَ الْخَيْرُ كُلُّهُ ، إِلَيْكَ يُرْجَعُ الْأَمْرُ كُلُّهُ عَلَانِيَتُهُ وَسِرُّهُ، فَأَهْلْ أَنْ تُحْمَدَ ، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي جَمِيعَ مَا مَضَى مِنْ ذَنْبِي ، وَاعْصِمُنِي فِيمَا بَقِيَ مِنْ عُمْرِي، وَارْزُقْنِي عَمَلًا زَاكِيًّا تَرْضَى بِهِ عَنِّي. তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তিনি ছিলেন একজন ফেরেশতা, যিনি তোমাদেরকে প্রতিপালকের প্রশংসা শেখানোর জন্য এসেছিলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px