📄 নবী রসূলদের মুজেযা কি ভুয়া?
ওয়াছওয়াছা: নবী রসূলদের মুজেযা ভুয়া? যাদুকররাও এমন অলৌকিক অনেক কিছু দেখাতে পারে। মুজিযা ও যাদুর মধ্যে কী পার্থক্য?
উত্তর: অলৌকিক কিছু মানেই মুজিযা নয়। যাদুকররা অলৌকিক যা কিছু দেখায় সেটা মুজিযা নয়। বস্তুত আসবাব বা উপকরণের সহযোগিতায় এবং শয়তানের সহযোগিতা নিয়ে অদ্ভূত যা কিছু দেখানো হয় সেটা হচ্ছে যাদু। যাদুকররা অদ্ভূত যা কিছু দেখায় তা এই শ্রেণীর। পক্ষান্তরে কোন আসবাব বা উপকরণের মাধ্যম ছাড়া সরাসরি আল্লাহর নির্দেশে নবী রসূলগণ থেকে অদ্ভূত যা কিছু প্রকাশ পায় তাকে বলা হয় মুজিযা। যাদুকররা কখনই মুজিযার সমকক্ষ কিছু দেখাতে সক্ষম নয়। যদি সক্ষম হত তাহলে সেই কুরআন নাযেল হওয়ার যুগেই তো বলা হয়েছিল কুরআন হচ্ছে রসূলের এক জীবন্ত মুজিযা, কেউ কুরআনের সমকক্ষ রচনা করে দেখাতে পারবে না। তাহলে যাদুকররা এখন কুরআনের সমকক্ষ রচনা করে দেখাক। আল্লাহর নবী হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম মুজিযা দেখিয়েছিলেন পাহাড় ফেটে উটনী বের হয়ে এসেছিল এবং সেটি দীর্ঘদিন যাবত স্বাভাবিক জীবন-যাপন করেছিল। যাদুকররা পারলে এরূপ করে দেখাক তো। যাদুকররা হয়তো এটা সেটা কিছু দিয়ে উটনীর মত একটা কিছু দেখাতে পারবে, কিন্তু সেটা একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, সে উটনী কখনই স্বাভাবিক জীবনের অধিকারী হবে না, কারণ সেটা হবে তুকতাক। বুঝা গেল যাদু আর মুজিযার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মূলত যাদু আর মুজিযার মধ্যে রয়েছে বহু পার্থক্য। সীরাত ও আকাঈদের কিতাবে সেগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। যারা সেগুলো জানে না, তারাই বলে মুজিযা আর যাদুর মধ্যে কী পার্থক্য?
📄 বুযুর্গদের কাশফ ও ইলহাম কি ভুয়া?
ওয়াছওয়াছা: বুযুর্গদের কাশ্ফ ও ইলহাম ভুয়া? পাপীদেরও এটা হতে পারে।
উত্তর: পাপীদেরও যখন হতে পারে বলা হচ্ছে তাহলে তো বুঝা গেল এর অস্তিত্ব আছে, সমূলেই তো ভুয়া নয়। যার থেকে কাশফ বা ইলহাম হচ্ছে তিনি যদি বুযুর্গ হন তাহলেই তো সেটাকে আমরা কাশফ ও ইলহাম বলি, আর বুযুর্গ না হলে সেটাকে আমরা কাশফ ও ইলহাম বলি না। যারা বুযুর্গ নয় এমনকি মুসলমানও নয়, আত্মিক সাধনার মাধ্যমে হোক তা গলত সাধনা—তাদের কাছেও অদৃশ্য জগতের অনেক কিছু বিকশিত হয়ে উঠতে পারে।
📄 এখন বুযুর্গদের কারামত দেখা যায় না কেন?
ওয়াছওয়াছা: এখন বুযুর্গদের থেকে কারামতের প্রকাশ ঘটে না কেন? জুনায়েদ বাগদাদী, ইব্রাহীম ইবনে আদহাম প্রমুখ অতীতের বুযুর্গদের কত কারামত বর্ণনা করা হয়, এখন বুযুর্গদের থেকে সে জাতীয় করামত প্রকাশ পায় না কেন, তাহলে তো সেগুলো দেখে মানুষ ঈমানকে মজবুত করতে পারত?
উত্তর: এখন বুযুর্গদের থেকে কারামত একেবারেই দেখা যায় না এ কথা ঠিক নয়। যারা বুযুর্গদের সঙ্গে ওঠাবসা করেন তারা কমবেশ কারামতের প্রকাশ এখনও দেখতে পান। তবে হাঁ কারামত প্রকাশের হার ও মাত্রা আগের চেয়ে কমে গেছে। কারণ কারামত প্রকাশ করা হত যে প্রয়োজনে সে প্রয়োজন আর অবশিষ্ট থাকেনি। বস্তুত মানুষের ঈমান মজবুত করানোর জন্য আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন বুযুর্গের মাধ্যমে অলৌকিক অনেক কিছু তথা অনেক কারামত-এর প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তারপর এক সময় আল্লাহ দেখলেন এ পর্যন্ত এতসব কারামতের প্রকাশ ঘটেছে যা ঈমানকে মজবুত করার জন্য যথেষ্ট। তাহলে এখন আর কারামত ঘটানোর প্রয়োজন অবশিষ্ট থাকেনি। তাই তখন থেকে বুযুর্গদের মাধ্যমে কারামতের প্রকাশ ঘটা কমে গেছে। আল্লাহর তো মানুষের ঈমানের জন্য এত ঠেকা পড়েনি যে, তিনি এতসব কারামতের প্রকাশ ঘটানো সত্ত্বেও সেগুলো সম্বন্ধে জেনেও মানুষ ঈমানকে মজবুত করবে না বরং আরও কারামতের অপেক্ষায় থাকবে আর আল্লাহ তার প্রকাশ ঘটিয়েই যেতে থাকবেন।