📄 নবীর কাছে বাস্তবেই ওহী আসত কি?
ওয়াছওয়াছা: নবীর কাছে বাস্তবেই ওহী আসত কি? ওহী আসত তার প্রমাণ কী?
উত্তর: ওহী না আসলে জ্ঞানের মহাভাণ্ডার এই কুরআন তিনি কীকরে বললেন? তিনি তো জীবনে কোনদিন কারও থেকে কোন বিদ্যা শিক্ষা করেননি। আর সে যুগও এমন ছিল না যে, সব বিষয়ে বইপত্র পাওয়া যেত যা পড়ে নিজের জ্ঞান সমৃদ্ধ করা এবং তা জাহির করা সম্ভব ছিল। তিনি বিশ্বের সামনে যে কুরআন পেশ করেছেন, তা কোন মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়। কুরআনে কারীমে চ্যালেঞ্জও দেয়া হয়েছে, যদি তোমরা মনে কর এই কুরআন মুহাম্মাদের রচনা করা তাহলে এরকম পুরো একটা কুরআন নয় বরং এই কুরআনের ছোট্ট একটা সূরার মত রচনা করে দেখাও তো সেটা কুরআনের মানের হয় কি না। এই চ্যালেঞ্জ দেয়ার পর আজ পর্যন্ত কেউ এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়নি, যা প্রমাণ করে এই কুরআন মানব-রচিত নয়, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃকও রচিত নয় বরং এটা ওহীর মাধ্যমেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসেছিল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যে ওহী আসত, তিনি যে নবী ছিলেন তার প্রমাণ এ ছাড়াও আরও অনেক রয়েছে। উলামায়ে কেরাম এরকম প্রমাণ প্রায় তিন হাজারের মত গণ্য করেছেন। সীরাতের কিতাবাদিতে সেগুলো দেখে নেয়া যেতে পারে।
📄 আধুনিক যুগে নবী আসেন না কেন?
ওয়াছওয়াছা: আধুনিক যুগে নবী আসেন না কেন? এই আধুনিক যুগে নবী এলে এবং তিনি আধুনিক মারণাস্ত্রের মোকাবেলায় বিজয়ী হয়ে দেখাতে পারলে আমাদের ঈমান অনেক মজবুত হত।
উত্তর: "আধুনিক যুগ” কথাটার কোন স্টান্ডার্ড পরিচিতি নেই। এটা একটা আপেক্ষিক জিনিস। একই যুগ তার পূর্বের তুলনায় আধুনিক আবার তার পরের তুলনায় সেকেলে। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পূর্বের লোকেরা মনে করত তাদের যুগ আধুনিক যুগ। অথচ বিজ্ঞানের উন্নতির বিচারের এখন সে যুগকে সেকেলে বলে মনে হয়। আগামী দুই একশ বা পাঁচশ বছর পর হয়তো আমাদের এই যুগকেও চরম সেকেলে মনে করা হবে। তাই আধুনিক যুগের যুক্তিতে এই যুগে নবী পাঠালে সামনেও তো আধুনিক যুগের যুক্তিতে আবারও নবী পাঠাতে হবে। এবং কেয়ামত পর্যন্ত এভাবে নবী পাঠানো অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে আল্লাহ যে চান একজন শাশ্বত নবী পাঠাতে—যার নবুয়তের পূর্ণাঙ্গতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রেক্ষিতে তাঁর নবুয়তকে সর্বব্যাপী ও কেয়ামত তক সব যুগের জন্য ব্যাপক করে দেয়া হবে—তার কী উপায় হবে?
রয়ে গেল আধুনিক মারণাস্ত্রের মোকাবেলা করে দেখালে ঈমান মজবুত হওয়ার বিষয়। এ প্রসঙ্গে কথা হল— আসলে বড় কোন নিদর্শন দেখলেই যে ঈমান মজবুত হবে বা ঈমান আনা ভাগ্যে জুটবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। হাতের ইশারায় চাঁদ দু' টুকরো করে দিতে দেখেও তো বহু লোকের ভাগ্যে ঈমান আনা জুটল না, ঈমান মজবুত হওয়া তো আরও পরের কথা। তখন তো তারা সেটাকে যাদু বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। যদি মেনে নেয়া হয় যে, এখন একজন নবী এসে প্রতিপক্ষের পারমাণবিক অস্ত্রের মুখেও বিজয়ী হয়ে গেলেন তাহলে যে সেটারও একটা অপব্যাখ্যা দাঁড় করানো হবে না তার কী নিশ্চয়তা আছে? মনে করুন নবীর মুজিযায় একটা পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হল না, তখন তো কেউ সেটাকে মুজিযা না মেনে এমনও অপব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারবে যে, আসলে মোজেযা টোজেযা কিছুই না, ওই বোমাটার হয়তো কারিগরি কোন ত্রুটি ছিল ফলে তা বিস্ফোরিত হয়নি। তাই বলছি মুজিযা দেখেই যদি ঈমানকে মজবুত করতে হয় তাহলে নবীর যুগে যেসব মুজিযা ঘটেছে সেগুলো দেখাই যথেষ্ঠ। সেগুলো সম্বন্ধে জেনেও যার ঈমান মজবুত হচ্ছে না, তার যে পরবর্তী কোন মুজিযা দেখলে ঈমান মজবুত হবে তার কোনো গ্যারান্টি নেই। আর আল্লাহরও মানুষের ঈমানের জন্য এত ঠেকা পড়েনি যে, তিনি এতসব মুজিযা দেখানো সত্ত্বেও যারা সেগুলো না মেনে বরং আরও মুজিযার দাবি করতে থাকবে তিনি তাদেরকে তা দেখাতে থাকবেন।
📄 নবী রসূলদের মুজেযা কি ভুয়া?
ওয়াছওয়াছা: নবী রসূলদের মুজেযা ভুয়া? যাদুকররাও এমন অলৌকিক অনেক কিছু দেখাতে পারে। মুজিযা ও যাদুর মধ্যে কী পার্থক্য?
উত্তর: অলৌকিক কিছু মানেই মুজিযা নয়। যাদুকররা অলৌকিক যা কিছু দেখায় সেটা মুজিযা নয়। বস্তুত আসবাব বা উপকরণের সহযোগিতায় এবং শয়তানের সহযোগিতা নিয়ে অদ্ভূত যা কিছু দেখানো হয় সেটা হচ্ছে যাদু। যাদুকররা অদ্ভূত যা কিছু দেখায় তা এই শ্রেণীর। পক্ষান্তরে কোন আসবাব বা উপকরণের মাধ্যম ছাড়া সরাসরি আল্লাহর নির্দেশে নবী রসূলগণ থেকে অদ্ভূত যা কিছু প্রকাশ পায় তাকে বলা হয় মুজিযা। যাদুকররা কখনই মুজিযার সমকক্ষ কিছু দেখাতে সক্ষম নয়। যদি সক্ষম হত তাহলে সেই কুরআন নাযেল হওয়ার যুগেই তো বলা হয়েছিল কুরআন হচ্ছে রসূলের এক জীবন্ত মুজিযা, কেউ কুরআনের সমকক্ষ রচনা করে দেখাতে পারবে না। তাহলে যাদুকররা এখন কুরআনের সমকক্ষ রচনা করে দেখাক। আল্লাহর নবী হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম মুজিযা দেখিয়েছিলেন পাহাড় ফেটে উটনী বের হয়ে এসেছিল এবং সেটি দীর্ঘদিন যাবত স্বাভাবিক জীবন-যাপন করেছিল। যাদুকররা পারলে এরূপ করে দেখাক তো। যাদুকররা হয়তো এটা সেটা কিছু দিয়ে উটনীর মত একটা কিছু দেখাতে পারবে, কিন্তু সেটা একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত, সে উটনী কখনই স্বাভাবিক জীবনের অধিকারী হবে না, কারণ সেটা হবে তুকতাক। বুঝা গেল যাদু আর মুজিযার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মূলত যাদু আর মুজিযার মধ্যে রয়েছে বহু পার্থক্য। সীরাত ও আকাঈদের কিতাবে সেগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। যারা সেগুলো জানে না, তারাই বলে মুজিযা আর যাদুর মধ্যে কী পার্থক্য?
📄 বুযুর্গদের কাশফ ও ইলহাম কি ভুয়া?
ওয়াছওয়াছা: বুযুর্গদের কাশ্ফ ও ইলহাম ভুয়া? পাপীদেরও এটা হতে পারে।
উত্তর: পাপীদেরও যখন হতে পারে বলা হচ্ছে তাহলে তো বুঝা গেল এর অস্তিত্ব আছে, সমূলেই তো ভুয়া নয়। যার থেকে কাশফ বা ইলহাম হচ্ছে তিনি যদি বুযুর্গ হন তাহলেই তো সেটাকে আমরা কাশফ ও ইলহাম বলি, আর বুযুর্গ না হলে সেটাকে আমরা কাশফ ও ইলহাম বলি না। যারা বুযুর্গ নয় এমনকি মুসলমানও নয়, আত্মিক সাধনার মাধ্যমে হোক তা গলত সাধনা—তাদের কাছেও অদৃশ্য জগতের অনেক কিছু বিকশিত হয়ে উঠতে পারে।