📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 জান্নাত, জাহান্নাম, কবরের আযাব আসলেই আছে কি?

📄 জান্নাত, জাহান্নাম, কবরের আযাব আসলেই আছে কি?


জান্নাত, জাহান্নাম, কবরের আযাব আসলেই আছে কি? কেউ কি দেখেছে? না দেখে বিশ্বাস করা কি অন্ধ বিশ্বাস নয়? এ ওয়াছওয়াছার জবাব হল— হাঁ আসলেই আছে, কেউ দেখেনি এমন নয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেছেন। আমাদের মধ্যকার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের সকলের পক্ষ হতে তাঁকে দেখানো হয়েছে। মেরাজের রাতে তিনি শুধু আল্লাহকে নয়, জান্নাত জাহান্নাম ইত্যাদি যা কিছু আমরা না দেখে বিশ্বাস করি সেসব কিছু তিনি স্ব-চোখে দেখেছেন। এমন একজন দেখে এসে বলেছেন, যাকে দুনিয়ার কেউ মিথ্যাবাদী বলতে পারেনি। ঘোর শত্রু পর্যন্ত যাকে মিথ্যুক বলতে পারেনি। আমাদের মত লক্ষ মানুষকে যদি দেখানো হত, আর আমরা দেখে এসে বলতাম, তবুও মানুষ অস্বীকার করতে পারত যে, হয়তো পরিকল্পিতভাবে আমরা মিথ্যা বলছি। কিন্তু এমন একজনকে দেখানো হয়েছে, যাকে কেউ মিথ্যুক বলতে পারেনি এবং পারবেও না। আমাদের মত লক্ষ কোটি মানুষের দেখার চেয়ে তাঁর একার দেখার বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি। তিনি দেখে এসে বলেছেন, অতএব এটাতে বিশ্বাস স্থাপন করা অন্ধ বিশ্বাস হতে পারে না।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 জান্নাতে এত জায়গা কোথায়?

📄 জান্নাতে এত জায়গা কোথায়?


যদি ওয়াছওয়াছা হয় সর্বনিম্ন জান্নাতীকে কমপক্ষে এই দুনিয়ার দশ গুণ পরিমাণ স্থান দেয়া হবে। এত জায়গা কোথায়? এ ওয়াছওয়াছার প্রথম জবাব হল এটা সহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। হাদীছে এসেছে সর্বশেষে যাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে তাকে আল্লাহ তাআলা বলবেন, «اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ فَإِن مِثْلَ الدُّنْيَا وَعَشَرَةَ أَمْثَالِهَا .» অর্থাৎ, যাও জান্নাতে প্রবেশ কর, তোমার জন্য রয়েছে দুনিয়ার সমপরিমাণ ও তার দশ গুণ। (মুসলিম: হাদীছ নং ৩০৮)

এ গেল হাদীছের বক্তব্য দিয়ে জবাব। হাদীছের জবাব তো নিশ্চয়ই শয়তান মানবে না। তাহলে দ্বিতীয় জবাব হল বিজ্ঞানীদের বক্তব্য দিয়ে জবাব। বিজ্ঞানীরা বলে, সারা পৃথিবীতে যত বালুকণা আছে তার তুলনায় একটা বালুকণা যত ক্ষুদ্র, মহাবিশ্বের সামনে পৃথিবী তার চেয়েও ক্ষুদ্র। আর বিজ্ঞানীদের ভাষায় যে মহাবিশ্ব জান্নাত তার চেয়েও বড়। তাহলে সর্বনিম্ন জান্নাতীকে দশ দুনিয়া পরিমাণ কেন দশ হাজার দুনিয়া পরিমাণ জায়গা দিলেও জান্নাতের জায়গা ফুরাবে না। বিজ্ঞানীদের আর একটা তথ্য শুনুন। বেশ কিছু বছর পূর্বে বিজ্ঞানীরা একটা নতুন নক্ষত্র আবিষ্কার করেছিল, যার নাম দিয়েছিল তারা "কোয়াসার”। এটা ছিল তখনকার আবিষ্কৃত সবচেয়ে দূরবর্তী নক্ষত্র। বিজ্ঞানীদের ভাষায় সেটা এক হাজার কোটি আলোক বর্ষ দূরে অবস্থিত। অর্থাৎ এতদূরে যে, আলোর গতিতে (প্রতি সেকেন্ডে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল তথা প্রায় তিন লক্ষ কিলোমিটার গতিতে) কোন যানবাহন যদি দুনিয়া থেকে চলা শুরু করে, তাহলে সেই নক্ষত্র পর্যন্ত পৌঁছতে সময় লাগবে এক হাজার কোটি বছর। আরও মনে রাখুন কুরআনে কারীমের ভাষ্যমতে প্রথম আসমানকে গ্রহ-নক্ষত্র দ্বারা সাজানো হয়েছে। তাহলে এই কোয়াসার নামক নক্ষত্রও প্রথম আসমানের নিচে। তার কত উপরে প্রথম আসমান তা-ও আমাদের জানা নেই। তারপর দ্বিতীয় আসমান, তারপর তৃতীয় আসমান, এভাবে চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আসমান। সপ্তম আসমানের উপরে জান্নাত। তাহলে জান্নাতের এরিয়া যে কত বিশাল বিস্তীর্ণ তা আমাদের কল্পনায়ও আনা সম্ভব নয়। এভাবে চিন্তা করলে মনে হয় সর্বনিম্ন জান্নাতীকে দশ দুনিয়া কেন দশ লক্ষ দুনিয়া পরিমাণ এবং অন্যদেরকে তাদের মর্যাদা অনুপাতে আরও বেশি পরিমাণ দিলেও হয়তো জান্নাতের জায়গা ফুরাবে না। সুবহানাল্লাহ!

ফন্ট সাইজ
15px
17px