📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 রাজা-বাদশাদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়

📄 রাজা-বাদশাদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়


আল্লামা ইবনুল জাওযী "তালবীছে ইবলীছ” কিতাবে শয়তান রাজা-বাদশাদের যেসব ওয়াছওয়াছা বা ধোঁকা দেয় তা সবিস্তারে লিখেছেন। সেই ধোঁকা বা ওয়াছওয়াছাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• শয়তান তাদেরকে এই ধোঁকা দেয় যে, তোমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, নইলে এত মানুষের মধ্যে তোমাদেরকে নির্বাচন করে রাজত্ব প্রদান করতেন না। (এই ধোঁকার প্রতিকার হল এই জানা যে,) আল্লাহ শুধু তার প্রিয়পাত্রকেই রাজত্ব দান করেন না, বরং পাপিষ্ট এবং তার দুশমনকেও রাজত্ব দান করে থাকেন। যেমন ফেরাউন ও নমরূদকে রাজত্ব দেয়া হয়েছিল। (অথচ তারা ছিল পাপিষ্ট ও আল্লাহর দুশমন।) আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন এরূপ পাপিষ্টদের প্রতি রহমত করা তো দূরের কথা রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেনও না।

• শয়তান তাদেরকে এই ধোঁকা দেয় যে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রভাব ও প্রতাপ নিয়ে থাকা চাই। এই চেতনা থেকে তারা অহংকারী হয়ে ওঠে, আলেম উলামা থেকে বা জ্ঞানীদের থেকে কিছু শিক্ষা নেয় না। ফলে জালেম ও মূর্খদের সাহচর্যে থেকে জাহেল ও মূর্খসুলভ আচরণ করে, যা তাদের ধ্বংসের কারণ হয়।

• শয়তান তাদেরকে এই ধোঁকা দেয় যে, তোমার অনেক শত্রু। এই ভয় থেকে তারা এত পরিমাণ দেহরক্ষী ও পাহারাদার নিযুক্ত করে যে, মজলুম ও অসহায় ব্যক্তিরা তাদের অভাব অভিযোগ নিয়ে তাদের কাছে পৌঁছতে পারে না। (এই ধোঁকা থেকে পরিত্রাণের উপায় হল এই চিন্তা করা যে,) হাদীছ শরীফে আছে— আল্লাহ তাআলা যদি কাউকে মুসলমানদের শাসক নিযুক্ত করেন আর সে মানুষের অভাব অভিযোগ ও প্রয়োজনের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করে নেয় তাহলে আল্লাহ তাআলাও তার অভাব অভিযোগ ও প্রয়োজনের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করে দিবেন। এ হাদীছ থেকে বুঝা যায় কেয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহ তাআলা এরূপ শাসকদের অভিযোগ শুনবেন না।

• শয়তান তাদেরকে এই ধোঁকা দেয় যে, রাষ্ট্রীয় তহবীলে তোমাদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে, অতএব তোমরা যা ইচ্ছা তা খরচ করতে পার। (এই ধোঁকা থেকে পরিত্রাণের উপায় হল— তাদেরকে চিন্তা করতে হবে) রাষ্ট্রীয় তহবীল তাদের কাছে জনগণের আমানত। তারা তার রক্ষক মাত্র।

• অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে শয়তান এই বলে ধোঁকা দেয় যে, তোমার রাষ্ট্রে সর্বপ্রকার শান্তি ও নিয়ম-শৃঙ্খলা বিরাজমান। অথচ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সর্বত্র ত্রুটি-বিচ্যুতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম বিদ্যমান রয়েছে। শয়তান তাদেরকে অভিভূত করে রাখে।

• রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রজাদের কাছ থেকে এমনভাবেও ট্যাক্স আদায় করে যা অনেক ক্ষেত্রে জুলুমে পরিণত হয়। (অথচ তারা চিন্তা করে দেখে না এভাবে যে তারা আল্লাহর কাছে জালেম হিসেবে উপস্থিত হবে।)
হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.)-এর যমানায় জনৈক কর্মকর্তা তার কাছে লিখে পাঠালেন যে, এক ব্যক্তি সরকারী প্রাপ্য দিচ্ছে না, তাকে শাস্তি দেয়া ব্যতীত উক্ত প্রাপ্য উসূল করা যাবে না। (সে তাকে হত্যা করার দিকে ইংগিত দিয়েছিল।) এর জবাবে হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.) লিখে পাঠালেন যে, সে আল্লাহর দরবারে খেয়ানত নিয়ে হাজির হোক— এটা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় এ বিষয় থেকে যে, আমি তার খুনের জুলুম নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হব। (এ থেকে ঐসব রাষ্ট্রপ্রধানদের শিক্ষা নেয়া চাই যারা প্রতিপক্ষের লোকজনকে কারণে অকারণে খুন পর্যন্ত করে থাকে।)

টিকাঃ
১। "পোপ" (pope) ক্যাথলিক খৃষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
২। "কার্ডিনাল" খৃষ্টান জগতের একটা ধর্মীয় উপাধি। সারা বিশ্বে সর্বমোট ২৭০ জন কার্ডিনাল থাকে। তাদের মাধ্যমে পোপ নিয়োগ পান।

ফন্ট সাইজ
15px
17px