📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 ব্যবসায়ীদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়

📄 ব্যবসায়ীদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়


১. ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রধান যে ওয়াছওয়াছা হয় তা হচ্ছে নকল করার ওয়াছওয়াছা, অন্যের নাম করা মালামাল নকল করে দ্রুত সম্পদ গড়ে তোলার ওয়াছওয়াছা। কিংবা নকল মালামাল বিক্রি করে বেশি লাভ করার ওয়াছওয়াছা। অথচ ব্যবসায়ীরা যদি মনে রাখতেন যে, নকল করা ও নকল মাল বিক্রি করায় পাপ হয় আর পাপের পন্থায় সম্পদ উপার্জন করলে সে সম্পদে বরকত হয় না, সে সম্পদ শান্তি বয়ে আনে না বরং বিভিন্ন রকম অশান্তি ও বিপদ ডেকে আনে, ব্যবসায়ীরা যদি এটা মনে রাখতেন, তাহলে তারা নকল করা ও নকল মাল বাজারজাত করা থেকে বিরত থাকতে পারতেন।

২. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় মালের দোষ-ত্রুটি থাকলে তা না বলে ক্রেতাকে গছিয়ে দেয়ার ওয়াছওয়াছা। অনেক সময় মালের যে গুণাগুণ নেই মিথ্যামিথ্যি সেসব গুণের কথা বলে মাল কাটতি করার চেষ্টা করা হয়। এভাবে মালের দোষ গোপন রেখে কিংবা মিথ্যা গুণাগুণ বলে মাল কাটতি করে সাময়িক লাভবান হওয়া গেলেও তার ভবিষ্যত ব্যবসা নষ্ট হয়ে যায়। কারণ, ক্রেতা যখন বুঝতে পারে তাকে ঠকানো হয়েছে, তার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে, তখন সে ভবিষ্যতে আর ঐ ব্যবসায়ী থেকে মাল ক্রয় করে না। এভাবে ব্যবসায়ী ভবিষ্যতের আরও বহু দিনের ব্যবসার মুনাফা থেকে বঞ্চিত হয়। বস্তুত মালের দোষত্রুটি থাকলে বলে দেয়া এবং সত্য বলা দ্বারা ক্রেতার আস্থা অর্জিত হয়, সেই আস্থার ভিত্তিতে ঐ ক্রেতা ভবিষ্যতে আরও বহুবার তার কাছে আসে, এমনকি অন্যদেরকেও তার কাছে আসতে উদ্বুদ্ধ করে এই বলে যে, অমুক ব্যবসায়ী খাঁটি লোক, সে কাউকে ঠকায় না, কারও সাথে প্রতারণা করে না। তাই সত্য বলা দ্বারা একবার ব্যবসার মুনাফা কম হলেও ভবিষ্যতে বহু দিনের মুনাফা পাওয়ার এবং অনেকের থেকে মুনাফা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। এ জন্যই হাদীছে এসেছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, «فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُوْرِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا». অর্থাৎ, যদি তারা সত্য বলে এবং (দোষ-ত্রুটি থাকলে) স্পষ্ট বলে দেয়, তাহলে তাদের ব্যবসায় বরকত হয়, আর যদি গোপন করে ও মিথ্যা বলে তাহলে তাদের ব্যবসার বরকত মোচন হয়ে যায়। (বোখারী: হাদীছ নং ২০৭৯)

৩. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় কোন মালে দোষ-ত্রুটি থাকলে সেটাকে ভাল মালের সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে রাখা যাতে ক্রেতা তা ধরতে না পারে। এরই কারণে দেখা যায় একটা ফলের কোন এক পাশে দোষ থাকলে সে পাশকে নিচের দিকে রেখে ভাল পাশটা উপরের দিকে রেখে দেয়া হয়। এই ওয়াছওয়াছা থেকে বাঁচার উপায় হল ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে এটা এক ধরনের প্রতারণা ও পাপ। আর পাপ পন্থায় কখনও ব্যবসায় বরকত হয় না।

৪. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় যে ক্রেতা মালের দাম জানে না এমন ক্রেতা থেকে বেশি মূল্য রাখার ওয়াছওয়াছা। এই ওয়াছওয়াছা থেকে বাঁচার উপায় হল ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে এভাবে সাময়িক লাভ বেশি হয় মনে হলেও অন্য এই ভাইকে ঠকানো হচ্ছে। আর আল্লাহর নিয়ম হল অন্য ভাইয়ের সঙ্গে আমি যেমন মুআমালা করব আমার সঙ্গেও আল্লাহ তেমনি মুআমালা করবেন। অতএব এভাবে অন্যকে ঠকালে পরিমাণে আমারও ঠক হবে।

৫. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় মালে ওজন কম দেয়ার ওয়াছওয়াছা। ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে মাপে বা ওজনে কম দেয়া গোনাহে কাবীরা। আর পূর্বেও বলা হয়েছে পাপের পন্থায় আদৌ ব্যবসায়ে বরকত হয় না। কুরআনে কারীমে সূরা মুতাফফিফীন-এর শুরুতেই বলা হয়েছে, وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُوْنَ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ . অর্থাৎ, ঐসব লোকদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে যারা মানুষ থেকে মেপে নেয়ার সময় পুরোপুরি নেয় অথচ অন্যদেরকে মেপে বা ওজন করে দেয়ার সময় কম দেয়।

৬. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় মালে ভেজাল দেয়ার ওয়াছওয়াছা। এই ওয়াছওয়াছা থেকে বাঁচার উপায় হল ব্যবসায়ীকে চিন্তা করতে হবে যে, মালে ভেজাল দেয়া প্রতারণা ও গোনাহ। এ পন্থায় আদৌ ব্যবসায়ে বরকত হয় না।

৭. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় পাশের ব্যবসায়ী যেন ব্যবসা করতে না পারে, সে যেন ব্যবসা থেকে আউট হয়ে যায়। এ জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করা হয়। কখনও ক্রেতাদেরকে বোঝানো হয় পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী মূল্য বেশি রাখে বা ভাল মাল রাখে না। কখনও পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীর নির্ধারিত ক্রেতাকে অল্প মূল্যে মাল দেয়ার অফার দেয়া হয়। এভাবে নিজে সাময়িক ঠকে হলেও তা করা হয় শুধু এই চিন্তায় যে, পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী এভাবে দিতে না পেরে এক সময় সে এখান থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিবে, তারপর সে ইচ্ছামত ক্রেতাদের থেকে দাম নিয়ে অতীতের ক্ষতি পুশিয়ে নিবে। ইত্যাদি।

৮. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় ব্যবসাকে বড় করার জন্য ব্যাংক থেকে সুদী লোন নেয়ার ওয়াছওয়াছা। তাদের ওয়াছওয়াছা হয়— হাজার ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে সুদী লোন নিয়ে তাদের ব্যবসাকে বড় করছে, আমি লোন না নিলে আমার ব্যবসা ছোটই থেকে যাবে। কাজেই ব্যবসাকে বড় করতে হলে আমাকে লোন নিতে হবে। এই ওয়াছওয়াছা থেকে বাঁচার জন্য ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে ব্যবসা বড় করাতেই সফলতা নয়। যদি বড় ব্যবসা করে অনেক টাকা-পয়সা উপার্জন করেও সুখ শান্তি পাওয়া না গেল, তাহলে সেই বড় ব্যবসা করে লাভ কী? পক্ষান্তরে ব্যবসা ছোট থাকলেও যদি আয়- উপার্জনে বরকত হয়, যা উপার্জন হয় তাতেই মনে সুখ-শান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই সেই ছোট ব্যবসাই উত্তম। তাহলে এবার শুনুন আল্লাহ পাক কি বলছেন। আল্লাহ পাক বলছেন, সুদী কারবারে বরকত নেই। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا . অর্থাৎ, আল্লাহ সুদ (তথা সুদী কারবার-এর বরকত) কে মোচন করে দেন। (সূরা বাকারাহ: ২৭৬)

অনেক সময় ব্যবসায়ীদের এই ওয়াছওয়াছা হয় যে, সূদী কারবার করে অমুসলিমরা বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য হাত করে ফেলেছে। এ অবস্থায় মুসলমানরা সুদকে এড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাইলে তারা বড় বড় ব্যবসা করতে পারবে না, ফলে মুসলমান জাতি ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে থাকবে। এভাবে অমুসলিম জাতি যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে মুসলমান জাতি সেখানে পিছিয়ে থাকবে, মুসলমান জাতির উন্নতি হবে না। এই ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল— ইসলামের দৃষ্টিতে উন্নতি কাকে বলে তা ভাল করে বুঝতে হবে। শুধু ব্যবসা বড় হলেই কি ইসলামের দৃষ্টিতে তা উন্নতি? উন্নতির সঠিক ব্যাখ্যা শুনুন। উন্নতি হল উঁচুতে পৌঁছা বা সমৃদ্ধির নাম। এখন দেখতে হবে এই উঁচুতে পৌঁছা বা সমৃদ্ধি দ্বারা কী উদ্দেশ্য? একটা ভবন শুধু গজ ফিতার মাপে উঁচু হলেই কি সেটা উন্নত ভবন বলে স্বীকৃতি পাবে যদি তার মধ্যে ভবনের মূল উদ্দেশ্য তথা বসবাসের ব্যবস্থা মানসম্পন্ন না হয়, ভবন টেকসই না হয়? নিশ্চয় না। একটা বিল্ডিংয়ে শুধু ইট সিমেন্ট বালু বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলেই কি ইট সিমেন্ট বালুতে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে সেটা উন্নত বিল্ডিং বলে স্বীকৃতি পাবে যদি তার মধ্যে বিল্ডিংয়ের মূল উদ্দেশ্য তথা বসবাসের ব্যবস্থা মানসম্পন্ন না হয়, বিল্ডিং টেকসই না হয়? নিশ্চয় না। একজন মানুষ যদি শুধু আক্ষরিক অর্থে উঁচু হয় যেমন: মনে করুন এই যুগে সাত আট ফুট লম্বা হয় তাহলে এই উঁচু হওয়ার দ্বারা কি সে উন্নত মানুষ বলে স্বীকৃতি পাবে যদি তার মধ্যে মানুষের মূল জিনিস তথা মনুষত্বের অভাব থাকে? নিশ্চয় না। কিংবা যদি কোন মানুষের শরীরে পাঁচ দশ মণ গোসত থাকে তাহলে কি শুধু এই গোসতে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে সে উন্নত মানুষ বলে স্বীকৃতি পাবে যদি তার মধ্যে মানুষের মূল জিনিসের অভাব থাকে? নিশ্চয় না। তাহলে বুঝা গেল প্রত্যেক জিনিসের যে মূল উদ্দেশ্য বা মৌলিকত্ব তাতে মানসম্পন্ন হওয়া এবং তাতে সমৃদ্ধ হওয়াই হচ্ছে সেই জিনিসের উন্নতি। আর মূল উদ্দেশ্যে বা মৌলিকত্বে পিছিয়ে থাকাই হচ্ছে তার অবনতি। আর একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা আরও একটু পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি। আমরা জানি রাস্তা-ঘাটের উদ্দেশ্য হচ্ছে চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি করা। অতএব যদি রাস্তঘাটের শুধু সংখ্যাই বৃদ্ধি করতে থাকা হয়, কিংবা শুধু রাস্তাঘাটের দৈর্ঘ-প্রস্থে বৃদ্ধি ঘটানো হয়, রাস্তাগুলোতে চলাফেরার অনুপযোগিতা বাড়তেই থাকে, তাহলে কেউ বলবে না রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়েছে, বরং বলবে রাস্তাঘাট বেড়েছে বটে তবে রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়নি, বা বলবে, রাস্তাঘাট বাড়ছে কিন্তু রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে না।

অতএব প্রতীয়মান হল মূল উদ্দেশ্যে বা মৌলিকত্বে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে উন্নতি আর মূল উদ্দেশ্যে বা মৌলিকত্বে পিছিয়ে যাওয়াই হচ্ছে অবনতি। সূতরাং কোন মানুষ যদি ঈমান- আকীদা, আমল-আখলাক ও আখেরাত বর্জন করে ব্যবসা-বাণিজ্য করে, তাহলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে যত বড় ব্যবসা-বাণিজ্যই হোক না কেন তাকে উন্নতি আখ্যা দেয়া যেতে পারে না। কারণ তাতে মানুষ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যে সে পিছিয়ে যায়।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 রাজা-বাদশাদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়

📄 রাজা-বাদশাদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়


আল্লামা ইবনুল জাওযী "তালবীছে ইবলীছ” কিতাবে শয়তান রাজা-বাদশাদের যেসব ওয়াছওয়াছা বা ধোঁকা দেয় তা সবিস্তারে লিখেছেন। সেই ধোঁকা বা ওয়াছওয়াছাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• শয়তান তাদেরকে এই ধোঁকা দেয় যে, তোমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা, নইলে এত মানুষের মধ্যে তোমাদেরকে নির্বাচন করে রাজত্ব প্রদান করতেন না। (এই ধোঁকার প্রতিকার হল এই জানা যে,) আল্লাহ শুধু তার প্রিয়পাত্রকেই রাজত্ব দান করেন না, বরং পাপিষ্ট এবং তার দুশমনকেও রাজত্ব দান করে থাকেন। যেমন ফেরাউন ও নমরূদকে রাজত্ব দেয়া হয়েছিল। (অথচ তারা ছিল পাপিষ্ট ও আল্লাহর দুশমন।) আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন এরূপ পাপিষ্টদের প্রতি রহমত করা তো দূরের কথা রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেনও না।

• শয়তান তাদেরকে এই ধোঁকা দেয় যে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রভাব ও প্রতাপ নিয়ে থাকা চাই। এই চেতনা থেকে তারা অহংকারী হয়ে ওঠে, আলেম উলামা থেকে বা জ্ঞানীদের থেকে কিছু শিক্ষা নেয় না। ফলে জালেম ও মূর্খদের সাহচর্যে থেকে জাহেল ও মূর্খসুলভ আচরণ করে, যা তাদের ধ্বংসের কারণ হয়।

• শয়তান তাদেরকে এই ধোঁকা দেয় যে, তোমার অনেক শত্রু। এই ভয় থেকে তারা এত পরিমাণ দেহরক্ষী ও পাহারাদার নিযুক্ত করে যে, মজলুম ও অসহায় ব্যক্তিরা তাদের অভাব অভিযোগ নিয়ে তাদের কাছে পৌঁছতে পারে না। (এই ধোঁকা থেকে পরিত্রাণের উপায় হল এই চিন্তা করা যে,) হাদীছ শরীফে আছে— আল্লাহ তাআলা যদি কাউকে মুসলমানদের শাসক নিযুক্ত করেন আর সে মানুষের অভাব অভিযোগ ও প্রয়োজনের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করে নেয় তাহলে আল্লাহ তাআলাও তার অভাব অভিযোগ ও প্রয়োজনের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করে দিবেন। এ হাদীছ থেকে বুঝা যায় কেয়ামতের কঠিন দিনে আল্লাহ তাআলা এরূপ শাসকদের অভিযোগ শুনবেন না।

• শয়তান তাদেরকে এই ধোঁকা দেয় যে, রাষ্ট্রীয় তহবীলে তোমাদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে, অতএব তোমরা যা ইচ্ছা তা খরচ করতে পার। (এই ধোঁকা থেকে পরিত্রাণের উপায় হল— তাদেরকে চিন্তা করতে হবে) রাষ্ট্রীয় তহবীল তাদের কাছে জনগণের আমানত। তারা তার রক্ষক মাত্র।

• অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে শয়তান এই বলে ধোঁকা দেয় যে, তোমার রাষ্ট্রে সর্বপ্রকার শান্তি ও নিয়ম-শৃঙ্খলা বিরাজমান। অথচ লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সর্বত্র ত্রুটি-বিচ্যুতি, দুর্নীতি ও অনিয়ম বিদ্যমান রয়েছে। শয়তান তাদেরকে অভিভূত করে রাখে।

• রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রজাদের কাছ থেকে এমনভাবেও ট্যাক্স আদায় করে যা অনেক ক্ষেত্রে জুলুমে পরিণত হয়। (অথচ তারা চিন্তা করে দেখে না এভাবে যে তারা আল্লাহর কাছে জালেম হিসেবে উপস্থিত হবে।)
হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.)-এর যমানায় জনৈক কর্মকর্তা তার কাছে লিখে পাঠালেন যে, এক ব্যক্তি সরকারী প্রাপ্য দিচ্ছে না, তাকে শাস্তি দেয়া ব্যতীত উক্ত প্রাপ্য উসূল করা যাবে না। (সে তাকে হত্যা করার দিকে ইংগিত দিয়েছিল।) এর জবাবে হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.) লিখে পাঠালেন যে, সে আল্লাহর দরবারে খেয়ানত নিয়ে হাজির হোক— এটা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় এ বিষয় থেকে যে, আমি তার খুনের জুলুম নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হব। (এ থেকে ঐসব রাষ্ট্রপ্রধানদের শিক্ষা নেয়া চাই যারা প্রতিপক্ষের লোকজনকে কারণে অকারণে খুন পর্যন্ত করে থাকে।)

টিকাঃ
১। "পোপ" (pope) ক্যাথলিক খৃষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
২। "কার্ডিনাল" খৃষ্টান জগতের একটা ধর্মীয় উপাধি। সারা বিশ্বে সর্বমোট ২৭০ জন কার্ডিনাল থাকে। তাদের মাধ্যমে পোপ নিয়োগ পান।

ফন্ট সাইজ
15px
17px