📄 ছাত্রদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়
ছাত্রদের যেসব ওয়াছওয়াছা হয়, তার মধ্যে বিশেষ কয়েকটা নিম্নে উল্লেখ করা হল।
১. আমরা এখন ছাত্র। ছাত্রদের দশ খুন মাফ। এই ওয়াছওয়াছা থেকে ছাত্ররা বে-পরোয়া হওয়ার চেতনা লাভ করে। কোন ছাত্র কোন অন্যায় করলে সমাজের অনেককেও বলতে শোনা যায় আরে ও ছাত্রমানুষ ওকে ছেড়ে দাও। তিনি বোঝাতে চান ছাত্রদের অন্যায় কোন অন্যায় নয়, ছাত্রদের অন্যায় ধরতে নেই। অথচ ছাত্রদের অন্যায় অন্যায় নয়, ছাত্রদের অন্যায় ধরতে নেই —এটা কুরআন-সুন্নাহর কোন কথা তো নয়ই যুক্তিসম্মত কথাও নয়। বরং যুক্তিতে বলে ছাত্রদের অন্যায় বেশি করে ধরা দরকার। কেননা ছাত্র-বয়স তাদের শেখার সময়, এটা তাদের সংশোধনের সময়, তাই এখন তাদের দোষ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ধরা দরকার, যাতে তাদের শিক্ষা অর্জন হয়, ভুল-বিচ্যুতি সম্বন্ধে এখন থেকেই তারা সচেতন হয় এবং তাদের সংশোধন হয়ে যায়।
২. ছাত্রসমাজ হচ্ছে শক্তি, তারা হচ্ছে প্রতিবাদী কণ্ঠ, ছাত্রসমাজই যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। এসব কথা থেকে ছাত্রসমাজ পড়ালেখা বাদ দিয়ে আন্দোলনের জন্য উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে ছাত্রসমাজকে আন্দোলনে লাগানোর জন্য ছাত্রদেরকে এসব রক্ত-গরম-করা কথা শোনায়। এসব কথায় ছাত্রসমাজ ধোঁকায় পড়ে যায়, তারা আন্দোলনমুখী হয়ে ওঠে এবং লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হয়। ছাত্রসমাজকে লেখাপড়া থেকে দূরে সরানোর জন্য শয়তানই হয়তো এসব কথা শিখিয়েছে। বস্তুত ছাত্রজীবন কর্মজীবন নয়, ছাত্রজীবনকে একান্তই একাডেমিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ছাত্রজীবনকে কোনোভাবেই কর্মমুখী করে তোলা যাবে না। লেখাপড়াই ছাত্রদের একমাত্র দায়িত্ব—এসব চিন্তা জাগ্রত রাখলেই সমাজের কিছু লোকের উপরোক্ত রক্ত-গরম-করা কথামালা সত্ত্বেও ছাত্ররা আন্দোলনমুখী হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
৩. ক্লাসে শিক্ষকের পাঠদানের সময় অনেক ছাত্রের ওয়াছওয়াছা হয়, এখন পড়া শুনতে ভাল লাগছে না, এখন মেজাযটা ভাল না, কিংবা এখন মাথাটা ভাল লাগছে না। আচ্ছা পরে নিজে পড়ে বুঝে নেব। এই ওয়াছওয়াছায় তারা শিক্ষকের পাঠদানের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ে। পরে নিজেরা পড়ে যখন তারা ভালমত বুঝতে পারে না, তখন ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে হতাশা জাগে যে, আমাদের মেধা দুর্বল, আমাদের দ্বারা লেখাপড়া হবে না! এভাবে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। শয়তান লেখাপড়া থেকে আউট করার জন্যই হয়তো ক্লাসের সময় আছর করে মন মেজায বিগড়ে দিয়েছে, তাই তার শিক্ষকের পাঠদান শুনতে ভাল লাগছে না। অতএব ক্লাসে শিক্ষকের পাঠদান শুনতে ভাল লাগছে না—এরূপ বোধ হলেই শয়তানের ওয়াছওয়াছা হচ্ছে মনে করে শয়তানকে তাড়ানোর জন্য পাঠ করবে "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"। তবে হাঁ স্বাস্থ্যগত কারণেও ভাল না লাগতে পারে। যদি সত্যিকারভাবেই কারণ স্বাস্থ্যগতই হয়ে থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা চাই।
৪. ক্লাসে ফাঁকি দেয়ার ওয়াছওয়াছাও অনেক ছাত্রের হয়ে থাকে। প্রথম দিকে শয়তান বোঝায় আচ্ছা এই ক্লাসগুলোর পড়া পরে নিজে বুঝে নিলেই তো হবে। এই ওয়াছওয়াছায় তারা ক্লাস ফাঁকি দেয়। পরে নিজে পড়ে যখন তারা ভালমত বুঝতে পারে না, কিংবা অনেক ক্লাস ছুটে যাওয়ায় অত পড়া আর আয়ত্ব করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, বুঝ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে হতাশা জাগে যে, আমাদের মেধা দুর্বল, আমাদের দ্বারা লেখাপড়া হবে না! এভাবে তারা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। শয়তান লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত করার জন্যই হয়তো ক্লাস ফাঁকি দেয়ার চেতনা মনে এনে দিয়েছে, আর পরে নিজে পড়ে নিলে চলবে এই ওয়াছওয়াছা দিয়েছে। অতএব ক্লাস ফাঁকি দেয়ার চিন্তা মনে উদয় হলেই শয়তানের ওয়াছওয়াছা হচ্ছে মনে করে শয়তানকে তাড়ানোর জন্য পাঠ করবে "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"।
৫. ক্লাসে ফাঁকি দিলে যেন উস্তাদের শাসানী খেতে না হয়, তার জন্য অনেক ছাত্র ভুয়া অজুহাত দেখিয়ে ছুটি নিয়ে থাকে, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ছুটি নিয়ে থাকে। মাথায় ব্যাথা, পেটে ব্যাথা এসব অজুহাত তো কমন, অনেক সময় ছুটি নেয়ার জন্য ছাত্ররা এমনসব অজুহাতও দেখায় যা রীতিমত হাস্যকর। যেমন: উদাহরণ স্বরূপ ছুটির আবেদন কেন করল খুব খুঁটে খুঁটে জিজ্ঞাসা করায় জানা গেল যে, তার মামাতো বোনের মেয়ের জন্মদিন তাই তাকে ছুটি নিতে হচ্ছে। কিংবা তার চাচাত বোনের ননদের ছেলের আকীকা, তাই তাকে ছুটি নিতে হচ্ছে। চিন্তা করে দেখুন কত দূরের সব কারণে ছুটির আবেদন। এগুলো কি আদৌ কোন প্রয়োজন? পড়ালেখা বাদ দিয়ে এ জাতীয় কাজে যাওয়া কি আদৌ কোন ছাত্রের মানসিকতা হতে পারে? শয়তানই পড়ালেখা থেকে দূরে সরানোর জন্য এসব অপ্রয়োজনীয় জিনিসকে মনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিস হিসেবে তুলে ধরে। আর ছাত্ররা সেসবের জন্য পাগলপারা হয়ে ওঠে। ছাত্রদের লা হাওলা পড়া উচিত।
৬. বাসায় পড়া ফাঁকি দেয়া এবং বাইরে গিয়ে আড্ডা ইত্যাদির সুযোগ বের করার জন্য শয়তান ছাত্রদেরকে খুব সহজ কৌশল শিখিয়ে দেয়। সে মোতাবেক মা বাবাকে কোচিংয়ে যাচ্ছি বা অমুকের কাছে নোট আনতে যাচ্ছি কিংবা মাদ্রাসার ছাত্র হলে মাদ্রাসায় তাকরার আছে বা নসীহতের মজলিস আছে ইত্যাকার ভুয়া ওজুহাত দেখিয়ে বাসার বাইরে চলে যায়। ছাত্রদের মনে রাখা দরকার গার্জিয়ানরাও এগুলো বোঝেন, তারাও তো এ বয়স পার হয়েই এসেছেন। কিংবা তারা অনেক সময় যাচাইও করে থাকেন। কিন্তু তারা বলেন না এই ভেবে যে, মুখের উপর ওদেরকে অপরাধী সাবস্ত করে ফেললে পরে ওরা আমাদের সামনে মুখ দেখাবে কী করে? কিংবা তাতে যদি আরও বেশি নষ্ট হয়ে যায় এই ভেবে যে, গার্জিয়ানের কাছে আমি তো খারাপ প্রতিপন্ন হয়েই গেছি, তাহলে এখন আর রাখঢাকের কী প্রয়োজন? তাই গার্জিয়ানরা এসব ভেবে মুখে না বললেও অন্তরে একটা অসুখকর উপলব্ধি শিকার হন। ফলে ঐ ছাত্রদের প্রতি তাদের আদর, স্নেহ ও আন্তরিকতায় ঘাটতি দেখা দেয়। এভাবে ঐ ছাত্ররা বঞ্চিত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
📄 স্বামীদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়
১. অনেক স্বামীর ওয়াছওয়াছা হয় আল্লাহ আমাদেরকে পুরুষ বানিয়েছেন, আমাদেরকে কর্তৃত্বকারী বানিয়েছেন, স্ত্রীদেরকে আমাদের অধীনস্থ বানিয়েছেন। অতএব ওরা আমাদের চেয়ে ছোট, আমাদের চেয়ে নিম্নস্তরের। ওরা দাসীর মত আমাদের খাটবে। এই চেতনা থেকে তারা স্ত্রীদেরকে হেয় দৃষ্টিতে দেখে, তাদের প্রতি নানান রকম জুলুম-অত্যাচার চালায়। এই ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল— স্বামীদেরকে মনে রাখতে হবে আল্লাহ তাআলা প্রাকৃতিক নিয়মানুসারে স্ত্রীদেরকে স্বামীদের অধীনস্থ বানালেও তাদের অধিকার কিন্তু স্বামীদের চেয়ে কম রাখেননি, বরং স্বামীর যেমন স্ত্রীর উপর অধিকার রয়েছে, স্ত্রীরও স্বামীর উপর অধিকার রয়েছে। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, وَ لَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ . অর্থাৎ, তাদেরও (স্ত্রীদেরও) অধিকার রয়েছে যেমন তাদের উপর (স্বামীদের) অধিকার রয়েছে, নিয়ম-নীতি অনুযায়ী। (সূরা বাকারা: ২২৮)
২. অনেক স্বামী এমন আছে বাইরে গেলে তার ওয়াছওয়াছা হয় ইত্যবসরে বিবি আবার অন্য কারও সঙ্গে লাইন-ফাইন, ইয়ে-সিয়ে করে কি না। বা অন্য কোন পুরুষ আমার অনুপস্থিতির সময়ে আমার ঘরে আসা-যাওয়া করে কি না। এই ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল এ কথা চিন্তা করা যে, বিনা দলীল-প্রমাণে কারও প্রতি কুধারণা করা ঠিক নয়। কুরআনে কারীমে এরকম ধারণাকে গোনাহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একথাও চিন্তা করা দরকার যে, আমি আমার বিবি সম্বন্ধে এই কুধারণা করলে বিবিও তো আমার সম্বন্ধে এই কুধারণা করতে পারে যে, আমি বাইরে গিয়ে অন্য কোন মেয়ের সঙ্গে ইয়ে সিয়ে করি কি না। বিবি আমার সম্বন্ধে এমন ধারণা করুক আমি যেমন তা চাই না এবং তা করা ঠিক মনে করি না, তদ্রূপ বিবি সম্বন্ধেও আমার এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
৩. অনেক স্বামীর ওয়াছওয়াছা হয় আমার অগোচরে বিবি অন্য কোন পুরুষের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখে কি না। এই ওয়াছওয়াছা বশত বিবির মোবাইলের কললিস্ট চেক করে দেখে। অথচ কললিস্ট দেখে অনেক সময় বিভ্রান্তিও হয়। একজন লোকের কথা জানি। সে তার স্ত্রীর ব্যাপারে সন্দেহ করত যে, তার মামা শ্বশুরের ছেলে অর্থাৎ, স্ত্রীর মামাত ভাইয়ের সঙ্গে বোধ হয় তার গোপন সম্পর্ক রয়েছে। মাঝে মাঝেই স্ত্রীর মোবাইলের কললিস্ট চেক করে ঐই মামাত ভাইয়ের মোবাইল থেকে কল আসে দেখতে পেত। এটা দেখে তার সন্দেহ প্রকট আকার ধারণ করে। অথচ অনেক দিন পর সে জানতে পারে যে, আসলে ঐ মোবাইল থেকে তার মামীই মাঝে মাঝে ফোন করে থাকে। অর্থাৎ, মা তার ছেলের মোবাইল থেকে ফোন করে থাকে। আর এমনটা হওয়া তো নিতান্তই স্বাভাবিক। তাই বলছিলাম, মোবাইল ফোনের কললিস্ট দেখেও বিভ্রান্তি হতে পারে। বস্তুত সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি সন্দেহ করতে নেই। শয়তান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনকে ধ্বংস করে দিতে চায়। তাদেরকে অশান্তিতে ফেলতে চায়। বনী আদমের অশান্তি দেখলে শয়তানের খুব আনন্দ লাগে কিনা!
৪. একজন স্বামীর কথা শুনেছি তার ওয়াছওয়াছা হয় তার অনুপস্থিতিতে বিবি কারও সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হয় কি না। এই সন্দেহে সে বাইরের থেকে বাসায় ফিরেই বিবির গালে মুখে গভীর দৃষ্টি দিয়ে দেখে কোন রকম লাল চিহ্ন-টিহ্ন ইত্যাদি আছে কি না। আবার ভিজা সায়া নাড়া দেখলে তাতে শুকে দেখে বীর্যের গন্ধ-টন্ধ বোধ হয় কি না। নাউযু বিল্লাহ! মুখে লাল চিহ্ন-টিহ্ন দেখাও কি ঐ কর্মের নিশ্চিত কোন দলীল? মশার কামড়েও তো লাল দাগ হয়ে যেতে পারে, চুলকালেও তো লাল দাগ হয়ে যেতে পারে, নখের আঁচড়েও তো লাল দাগ পড়তে পারে। আর ভিজা সায়ায় কোন গন্ধ যদি বোধ হয়ও সেটা তো তারই বীর্যের পুরণো গন্ধও হতে পারে। তাই আবারও বলছি, সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি সন্দেহ করতে নেই, তাতে গোনাহ হয়। স্ত্রীর প্রতি বিনা কারণে সন্দেহে দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি বিনষ্ট হয়, শয়তানের বাসনা পূর্ণ হয়। এমনতর বাজে চিন্তা মাথায় এলে লা হাওলা ... পড়া উচিত।
📄 স্ত্রীদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়
১. স্বামী বাইরে গেলে স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয় ইত্যবসরে স্বামী আবার অন্য কোন মেয়ের সঙ্গে লাইন-ফাইন, ইয়ে-সিয়ে করে কি না। বিশেষত স্বামীর যদি বাসায় ফিরতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু দেরি হয়, তাহলে এমন ধারণা প্রবলই হয়ে যায়। এই ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল এ কথা চিন্তা করা যে, বিনা দলীল-প্রমাণে কারও প্রতি কুধারণা করা ঠিক নয়। কুরআনে কারীমে এরকম ধারণাকে গোনাহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। স্ত্রীর একথাও চিন্তা করা দরকার যে, আমি আমার স্বামী সম্বন্ধে এমন কুধারণা করলে স্বামীও তো আমার সম্বন্ধে এমন কুধারণা করতে পারে যে, তার বাইরে থাকার সময়ে আমি কোন পর পুরুষের সঙ্গে ইয়ে সিয়ে করি কি না বা কোন পর পুরুষ আমার ঘরে যাতায়াত করে কি না। স্বামী আমার সম্বন্ধে এমন ধারণা করুক তা যেমন আমি চাই না এবং তাকে ঠিক মনে করি না, তদ্রূপ স্বামী সম্বন্ধেও আমার এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
২. অনেক স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয় আমার অগোচরে স্বামী অন্য কোন মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখে কি না। এই ওয়াছওয়াছা বশত স্বামীর মোবাইলের কললিস্ট চেক করে দেখে। অথচ মোবাইলের কললিস্ট দেখে অনেক সময় বিভ্রান্তিও হয়, পূর্বের পরিচ্ছেদে উদাহরণসহ যার বিবরণ পেশ করেছি।
৩. অনেক সময় স্বামী মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলতে থাকলে স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয়। সে আড়াল থেকে চুপি চুপি মোবাইলের কথোপকথোন শুনে আঁচ করার চেষ্টা করে থাকে, কোন মেয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে না তো। এতেও অনেক সময় ভুল বুঝাবুঝি হয়। যেমন: স্বামীকে হয়তো অফিসের কোন কলিক মহিলা অফিসের কোন বিষয়ে ফোন করেছে আর বিবি এদিকে কোন্ মেয়ের সঙ্গে প্রেমালাপ হচ্ছে ভেবে মাথা গরম করে বসে আছে। তাই আবারও পূর্বের কথার পুনরাবৃত্তি করছি, সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি সন্দেহ করতে নেই। শয়তান স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনকে ধ্বংস করে দিতে চায়। তাদেরকে অশান্তিতে ফেলতে চায়। বনী আদমের অশান্তি দেখলে শয়তান তো আনন্দে বগল বাজায়।
৪. অনেক সময় স্বামী স্বাস্থ্যগত কারণে বা মন-মেজায ভাল না থাকার কারণে স্ত্রীকে সাময়িক আদর-সোহাগ কম করলে বা যৌন-ব্যবহার কম করলে তাতে অনেক স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয় যে, স্বামী কি তাহলে অন্য কোথাও ইয়ে টিয়ে করে নাকি? না হলে এগুলো কমে গেল কেন? এই ওয়াছওয়াছায় সে স্বামীর প্রতি সন্দেহ নিয়ে সেভাবে আচরণ শুরু করে দেয়। অথচ স্ত্রীর ভেবে দেখা উচিত স্বামীর স্বাস্থ্যগত কোন সমস্যা চলছে কি না, কিংবা তার কোন মানসিক পেরেশানী আছে কি না। তাছাড়া যৌন-ব্যবহার ও আদর-সোহাগের বিষয়টা এমনিতেও তো এমন যার মধ্যে জোয়ার ভাটা চলে থাকে, অন্যান্য খাদ্য-খাবারের প্রতি চাহিদা ও ক্ষুদার ক্ষেত্রে যেমনটা হয়ে থাকে। এই বিষয়গুলো ঠাণ্ডা মাথায় ভাবলেই স্ত্রী ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে সক্ষম হবে।
৫. অনেক স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয় স্বামীর মাল আত্মসাৎ করলে বুঝি গোনাহ হয় না। এই ওয়াছওয়াছায় তারা স্বামীর অগোচরে স্বামীর টাকা-পয়সা নিজের বাপের বাড়ির লোকদেরকে পাচার করে বা স্বামীর অগোচরে স্বামীর টাকা-পয়সা ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখে। অথচ স্বামীর টাকা-পয়সা, অর্থকড়ি তার অনুমতি ব্যতীত সরানো বা লুকানো কোনক্রমেই জায়েয নয়। সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চাইলে তা-ও স্বামীর অনুমতিক্রমেই হতে হবে।
📄 ব্যবসায়ীদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়
১. ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রধান যে ওয়াছওয়াছা হয় তা হচ্ছে নকল করার ওয়াছওয়াছা, অন্যের নাম করা মালামাল নকল করে দ্রুত সম্পদ গড়ে তোলার ওয়াছওয়াছা। কিংবা নকল মালামাল বিক্রি করে বেশি লাভ করার ওয়াছওয়াছা। অথচ ব্যবসায়ীরা যদি মনে রাখতেন যে, নকল করা ও নকল মাল বিক্রি করায় পাপ হয় আর পাপের পন্থায় সম্পদ উপার্জন করলে সে সম্পদে বরকত হয় না, সে সম্পদ শান্তি বয়ে আনে না বরং বিভিন্ন রকম অশান্তি ও বিপদ ডেকে আনে, ব্যবসায়ীরা যদি এটা মনে রাখতেন, তাহলে তারা নকল করা ও নকল মাল বাজারজাত করা থেকে বিরত থাকতে পারতেন।
২. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় মালের দোষ-ত্রুটি থাকলে তা না বলে ক্রেতাকে গছিয়ে দেয়ার ওয়াছওয়াছা। অনেক সময় মালের যে গুণাগুণ নেই মিথ্যামিথ্যি সেসব গুণের কথা বলে মাল কাটতি করার চেষ্টা করা হয়। এভাবে মালের দোষ গোপন রেখে কিংবা মিথ্যা গুণাগুণ বলে মাল কাটতি করে সাময়িক লাভবান হওয়া গেলেও তার ভবিষ্যত ব্যবসা নষ্ট হয়ে যায়। কারণ, ক্রেতা যখন বুঝতে পারে তাকে ঠকানো হয়েছে, তার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে, তখন সে ভবিষ্যতে আর ঐ ব্যবসায়ী থেকে মাল ক্রয় করে না। এভাবে ব্যবসায়ী ভবিষ্যতের আরও বহু দিনের ব্যবসার মুনাফা থেকে বঞ্চিত হয়। বস্তুত মালের দোষত্রুটি থাকলে বলে দেয়া এবং সত্য বলা দ্বারা ক্রেতার আস্থা অর্জিত হয়, সেই আস্থার ভিত্তিতে ঐ ক্রেতা ভবিষ্যতে আরও বহুবার তার কাছে আসে, এমনকি অন্যদেরকেও তার কাছে আসতে উদ্বুদ্ধ করে এই বলে যে, অমুক ব্যবসায়ী খাঁটি লোক, সে কাউকে ঠকায় না, কারও সাথে প্রতারণা করে না। তাই সত্য বলা দ্বারা একবার ব্যবসার মুনাফা কম হলেও ভবিষ্যতে বহু দিনের মুনাফা পাওয়ার এবং অনেকের থেকে মুনাফা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। এ জন্যই হাদীছে এসেছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, «فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُوْرِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا». অর্থাৎ, যদি তারা সত্য বলে এবং (দোষ-ত্রুটি থাকলে) স্পষ্ট বলে দেয়, তাহলে তাদের ব্যবসায় বরকত হয়, আর যদি গোপন করে ও মিথ্যা বলে তাহলে তাদের ব্যবসার বরকত মোচন হয়ে যায়। (বোখারী: হাদীছ নং ২০৭৯)
৩. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় কোন মালে দোষ-ত্রুটি থাকলে সেটাকে ভাল মালের সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে রাখা যাতে ক্রেতা তা ধরতে না পারে। এরই কারণে দেখা যায় একটা ফলের কোন এক পাশে দোষ থাকলে সে পাশকে নিচের দিকে রেখে ভাল পাশটা উপরের দিকে রেখে দেয়া হয়। এই ওয়াছওয়াছা থেকে বাঁচার উপায় হল ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে এটা এক ধরনের প্রতারণা ও পাপ। আর পাপ পন্থায় কখনও ব্যবসায় বরকত হয় না।
৪. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় যে ক্রেতা মালের দাম জানে না এমন ক্রেতা থেকে বেশি মূল্য রাখার ওয়াছওয়াছা। এই ওয়াছওয়াছা থেকে বাঁচার উপায় হল ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে এভাবে সাময়িক লাভ বেশি হয় মনে হলেও অন্য এই ভাইকে ঠকানো হচ্ছে। আর আল্লাহর নিয়ম হল অন্য ভাইয়ের সঙ্গে আমি যেমন মুআমালা করব আমার সঙ্গেও আল্লাহ তেমনি মুআমালা করবেন। অতএব এভাবে অন্যকে ঠকালে পরিমাণে আমারও ঠক হবে।
৫. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় মালে ওজন কম দেয়ার ওয়াছওয়াছা। ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে মাপে বা ওজনে কম দেয়া গোনাহে কাবীরা। আর পূর্বেও বলা হয়েছে পাপের পন্থায় আদৌ ব্যবসায়ে বরকত হয় না। কুরআনে কারীমে সূরা মুতাফফিফীন-এর শুরুতেই বলা হয়েছে, وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُوْنَ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ . অর্থাৎ, ঐসব লোকদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে যারা মানুষ থেকে মেপে নেয়ার সময় পুরোপুরি নেয় অথচ অন্যদেরকে মেপে বা ওজন করে দেয়ার সময় কম দেয়।
৬. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় মালে ভেজাল দেয়ার ওয়াছওয়াছা। এই ওয়াছওয়াছা থেকে বাঁচার উপায় হল ব্যবসায়ীকে চিন্তা করতে হবে যে, মালে ভেজাল দেয়া প্রতারণা ও গোনাহ। এ পন্থায় আদৌ ব্যবসায়ে বরকত হয় না।
৭. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় পাশের ব্যবসায়ী যেন ব্যবসা করতে না পারে, সে যেন ব্যবসা থেকে আউট হয়ে যায়। এ জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করা হয়। কখনও ক্রেতাদেরকে বোঝানো হয় পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী মূল্য বেশি রাখে বা ভাল মাল রাখে না। কখনও পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীর নির্ধারিত ক্রেতাকে অল্প মূল্যে মাল দেয়ার অফার দেয়া হয়। এভাবে নিজে সাময়িক ঠকে হলেও তা করা হয় শুধু এই চিন্তায় যে, পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী এভাবে দিতে না পেরে এক সময় সে এখান থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিবে, তারপর সে ইচ্ছামত ক্রেতাদের থেকে দাম নিয়ে অতীতের ক্ষতি পুশিয়ে নিবে। ইত্যাদি।
৮. ব্যবসায়ীদের আর একটা ওয়াছওয়াছা হয় ব্যবসাকে বড় করার জন্য ব্যাংক থেকে সুদী লোন নেয়ার ওয়াছওয়াছা। তাদের ওয়াছওয়াছা হয়— হাজার ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে সুদী লোন নিয়ে তাদের ব্যবসাকে বড় করছে, আমি লোন না নিলে আমার ব্যবসা ছোটই থেকে যাবে। কাজেই ব্যবসাকে বড় করতে হলে আমাকে লোন নিতে হবে। এই ওয়াছওয়াছা থেকে বাঁচার জন্য ব্যবসায়ীকে মনে রাখতে হবে ব্যবসা বড় করাতেই সফলতা নয়। যদি বড় ব্যবসা করে অনেক টাকা-পয়সা উপার্জন করেও সুখ শান্তি পাওয়া না গেল, তাহলে সেই বড় ব্যবসা করে লাভ কী? পক্ষান্তরে ব্যবসা ছোট থাকলেও যদি আয়- উপার্জনে বরকত হয়, যা উপার্জন হয় তাতেই মনে সুখ-শান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই সেই ছোট ব্যবসাই উত্তম। তাহলে এবার শুনুন আল্লাহ পাক কি বলছেন। আল্লাহ পাক বলছেন, সুদী কারবারে বরকত নেই। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا . অর্থাৎ, আল্লাহ সুদ (তথা সুদী কারবার-এর বরকত) কে মোচন করে দেন। (সূরা বাকারাহ: ২৭৬)
অনেক সময় ব্যবসায়ীদের এই ওয়াছওয়াছা হয় যে, সূদী কারবার করে অমুসলিমরা বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য হাত করে ফেলেছে। এ অবস্থায় মুসলমানরা সুদকে এড়িয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাইলে তারা বড় বড় ব্যবসা করতে পারবে না, ফলে মুসলমান জাতি ব্যবসা-বাণিজ্যে পিছিয়ে থাকবে। এভাবে অমুসলিম জাতি যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে মুসলমান জাতি সেখানে পিছিয়ে থাকবে, মুসলমান জাতির উন্নতি হবে না। এই ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল— ইসলামের দৃষ্টিতে উন্নতি কাকে বলে তা ভাল করে বুঝতে হবে। শুধু ব্যবসা বড় হলেই কি ইসলামের দৃষ্টিতে তা উন্নতি? উন্নতির সঠিক ব্যাখ্যা শুনুন। উন্নতি হল উঁচুতে পৌঁছা বা সমৃদ্ধির নাম। এখন দেখতে হবে এই উঁচুতে পৌঁছা বা সমৃদ্ধি দ্বারা কী উদ্দেশ্য? একটা ভবন শুধু গজ ফিতার মাপে উঁচু হলেই কি সেটা উন্নত ভবন বলে স্বীকৃতি পাবে যদি তার মধ্যে ভবনের মূল উদ্দেশ্য তথা বসবাসের ব্যবস্থা মানসম্পন্ন না হয়, ভবন টেকসই না হয়? নিশ্চয় না। একটা বিল্ডিংয়ে শুধু ইট সিমেন্ট বালু বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলেই কি ইট সিমেন্ট বালুতে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে সেটা উন্নত বিল্ডিং বলে স্বীকৃতি পাবে যদি তার মধ্যে বিল্ডিংয়ের মূল উদ্দেশ্য তথা বসবাসের ব্যবস্থা মানসম্পন্ন না হয়, বিল্ডিং টেকসই না হয়? নিশ্চয় না। একজন মানুষ যদি শুধু আক্ষরিক অর্থে উঁচু হয় যেমন: মনে করুন এই যুগে সাত আট ফুট লম্বা হয় তাহলে এই উঁচু হওয়ার দ্বারা কি সে উন্নত মানুষ বলে স্বীকৃতি পাবে যদি তার মধ্যে মানুষের মূল জিনিস তথা মনুষত্বের অভাব থাকে? নিশ্চয় না। কিংবা যদি কোন মানুষের শরীরে পাঁচ দশ মণ গোসত থাকে তাহলে কি শুধু এই গোসতে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে সে উন্নত মানুষ বলে স্বীকৃতি পাবে যদি তার মধ্যে মানুষের মূল জিনিসের অভাব থাকে? নিশ্চয় না। তাহলে বুঝা গেল প্রত্যেক জিনিসের যে মূল উদ্দেশ্য বা মৌলিকত্ব তাতে মানসম্পন্ন হওয়া এবং তাতে সমৃদ্ধ হওয়াই হচ্ছে সেই জিনিসের উন্নতি। আর মূল উদ্দেশ্যে বা মৌলিকত্বে পিছিয়ে থাকাই হচ্ছে তার অবনতি। আর একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা আরও একটু পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি। আমরা জানি রাস্তা-ঘাটের উদ্দেশ্য হচ্ছে চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি করা। অতএব যদি রাস্তঘাটের শুধু সংখ্যাই বৃদ্ধি করতে থাকা হয়, কিংবা শুধু রাস্তাঘাটের দৈর্ঘ-প্রস্থে বৃদ্ধি ঘটানো হয়, রাস্তাগুলোতে চলাফেরার অনুপযোগিতা বাড়তেই থাকে, তাহলে কেউ বলবে না রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়েছে, বরং বলবে রাস্তাঘাট বেড়েছে বটে তবে রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়নি, বা বলবে, রাস্তাঘাট বাড়ছে কিন্তু রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে না।
অতএব প্রতীয়মান হল মূল উদ্দেশ্যে বা মৌলিকত্বে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে উন্নতি আর মূল উদ্দেশ্যে বা মৌলিকত্বে পিছিয়ে যাওয়াই হচ্ছে অবনতি। সূতরাং কোন মানুষ যদি ঈমান- আকীদা, আমল-আখলাক ও আখেরাত বর্জন করে ব্যবসা-বাণিজ্য করে, তাহলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে যত বড় ব্যবসা-বাণিজ্যই হোক না কেন তাকে উন্নতি আখ্যা দেয়া যেতে পারে না। কারণ তাতে মানুষ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যে সে পিছিয়ে যায়।