📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 মুরীদদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়

📄 মুরীদদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়


১. মুরীদ হতে চাইলে শুরুতেই ওয়াছওয়াছা হয় যার হাতে মুরীদ হব, তার কোনো করামত আছে কি না। কিছু একটা কারামত বা অলৌকিক কিছু না দেখলে তাকে কামেল মানুষ বিশ্বাসই হতে চায় না। এভাবে তার পক্ষে কোনদিনই হয়ত কারও হাতে বায়আত হওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। অনেক সময় মুরীদ হওয়ার পরও শায়েখের কোন কারামত ইত্যাদি না দেখার ফলে তার থেকে পৃথক হয়ে যায়। অথচ কামেল হওয়ার জন্য কারামত থাকা শর্ত নয়। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী (রহ.)-এর একটা ঘটনা শুনুন। এক লোক হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী (রহ.)-এর হাতে বায়আত হন। দশ বছর হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী (রহ.)-এর খেদমতে থাকার পর একদিন রাতে চিন্তা করেন এই দশ বছর হযরত থেকে কোন কারামত দেখতে পেলাম না। না, এখানে আর থাকব না। আগামীকালই চলে যাব। পরদিন সকালে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী (রহ.) তাকে বললেন, বল দিলে কী কথা এসেছে। তিনি অকপটে বললেন, হযরত! দিলের মধ্যে এই কথা এসেছে যে, দশ বছর হযরত থেকে কোন কারামত দেখতে পেলাম না। না, এখানে আর থাকব না। আগামীকালই চলে যাব। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী (রহ.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কী কারামত আছে? তিনি বললেন, হযরত আমি ধ্যান করে কবরে প্রবেশ করে কবরবাসী সম্বন্ধে তথ্য জেনে আসতে পারি। তখন হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী (রহ,) বললেন, তুমি তো ধ্যান করে কবরবাসীদের সম্বন্ধে তথ্য জানবে আর আমি এখানে বসে ডাক দিব, কবরবাসী উঠে এসে আমাকে তথ্য জানিয়ে যাবে। কিন্তু এটা কোন কামালিয়াত নয়। তুমি বল, এই দশ বছর আমার খেদমতে থেকেছ, আমার থেকে ফরয ওয়াজিব নয় কোন সুন্নাত মুস্তাহাব ছুটতে দেখেছ?¹ তিনি বললেন, না। তখন হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী (রহ.) বললেন, এটাই হচ্ছে কামালিয়াত, এটাই হচ্ছে বুযুর্গী।

২. মুরীদ হতে চাইলে শুরুতেই আরও যেসব ওয়াছওয়াছা হয় তার মধ্যে আর একটা হল যার হাতে বায়আত হব তার নাম-ডাক কেমন আছে তা দেখা, তার মুরীদের সংখ্যা অনেক আছে কি না তা দেখা, নামী দামী প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তার মুরীদ আছে কি না তা দেখা ইত্যাদি। অথচ নাম-ডাক থাকা, মুরীদের সংখ্যা বেশি থাকা এবং তার মুরীদের মধ্যে প্রভাবশালী লোক থাকা ইত্যাদি কারও কামেল বা হক্কানী হওয়ার দলীল নয়। কারও কাছে মুরীদ হতে চাইলে যা দেখা দরকার তা হচ্ছে তিনি হক্কপন্থী লোক কি না, তিনি হক্কানী সিলসিলার শায়খ কি না, তিনি শরীয়ত সম্বন্ধে বিজ্ঞ ব্যক্তি কি না, তিনি আমলদার কি না, তার তালীম তালকীনে মুরীদদের ফায়দা হয় কি না অর্থাৎ, তার কাছে যারা মুরীদ হয়েছে মুরীদ হওয়ার পর তাদের তাকওয়া পরহেযগারী ও দ্বীনদারী বৃদ্ধি পেয়েছে কি না ইত্যাদি।

৩. মুরীদ হতে চাইলে আরও যেসব ওয়াছওয়াছা হয় তার মধ্যে এ-ও রয়েছে যে, যার হাতে বায়আত হব তিনি নির্দোষ, নিখুঁত মানুষ কি না। যদি তার জীবনে— অতীতে হলেও— কোন দোষ সম্বন্ধে জানতে পারে তাহলে তার হাতে আর বায়আত হতে চায় না, যদিও তিনি বর্তমানে মুরীদদেরকে ইসলাহ করার যোগ্যতায় উপনীত হয়ে থাকেন। এরূপ ওয়াছওয়াছা হলে মনকে বোঝানো চাই মানুষ ফেরেশতা নয়, তাই তার কিছু দোষ-ত্রুটি থাকতেই পারে। বায়আত হওয়ার জন্য ফেরেশতাদের মত নিষ্পাপ পীর-মাশায়েখ খুঁজলে জীবনে আদৌ বায়আত হওয়া ভাগ্যে জুটবে না। যেমন প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত ফুযায়েল ইবনে ইয়াজ (রহ.) বলেছেন, কেউ সম্পূর্ণ নির্দোষ নিষ্কলুষ বন্ধু খুঁজলে জীবনে কোনোদিন বন্ধু খুঁজে পাবে না।

৪. মুরীদ হওয়ার পরও মুরীদের মনে শায়েখ সম্বন্ধে নানান রকম ওয়াছওয়াছা হয়ে থাকে। কখনও হয়ত শায়েখ থেকে কোন সুন্নাত মুস্তাহাব পর্যায়ের কোন আমল ছুটতে দেখল, অমনি তার ভক্তি নষ্ট হয়ে গেল। অথচ সুন্নাতে গায়র মুআক্কাদা বা মুস্তাহাব ছোটা কামালিয়াত না থাকা বা নষ্ট হওয়ার দলীল নয়। ওজর থাকলে সুন্নাতে মুআক্কাদাও ছুটে যাওয়াতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যেকোনো রকমের সুন্নাত বা মুস্তাহাব ছুটতে দেখলেই মুরীদের মনে শয়তান ওয়াছওয়াছা দেয় ইনি কামেল লোক নন, নইলে সুন্নাত মুস্তাহাব ছোটে কেন? এ ক্ষেত্রে শায়খের কোন ওজর আছে কি না তা ভাববারও সুযোগ শয়তান দেয় না।

৫. মুরীদ যিকির-আযকার, মা'মূলাত, নফল তাহাজ্জুদ ইত্যাদি শুরু করার পর অনেক সময় বিভিন্ন লতীফার বিভিন্ন নূর তার সামনে ভেসে উঠতে পারে। তা দেখেও অনেকে ওয়াছওয়াছার শিকার হয় যে বুঝি কামেল হয়ে গেছি। অথচ এগুলো কামেল হওয়ার কোন দলীল নয়। খেয়ালাতের কারণেও অনেক সময় নূর বা বিশেষ ধরনের কোন আলো দেখছে বলে মনে হতে পারে। অতএব কোন নূর দেখা আদৌ কামেল হওয়ার দলীল নয়। এগুলোর দিকে মোটেই খেয়াল না দেয়া চাই।

৬. অনেক সময় যিকির-আযকার ও মামূলাত শুরু করার পর কোন নূর ইত্যাদি কিছু না দেখলেও কিংবা ভিতরে বিশেষ কোন জযবা বা হালাত অনুভূত না হলেও মুরীদ ওয়াছওয়াছার শিকার হয় যে, বুঝি তার যিকির-আযকার ও মামূলাত বেকার যাচ্ছে। অথচ যিকির-আযকার ও মামূলাতের দ্বারা নূর দেখা যাবে কিংবা বিশেষ কোন জযবা বা হালাত পয়দা হবেই এমন কোন অপরিহার্যতা নেই। মনে রাখতে হবে নূর, জযবা, হালাত—এগুলো যিকির-আযকার ও মামূলাতের উদ্দেশ্য নয়। যিকির-আযকার ও মামূলাতের উদ্দেশ্য হল কলবের ময়লা পরিষ্কার করা, কলবকে শক্তিশালী করা, কলবে নেক কাজের প্রতি আগ্রহ এবং গোনাহের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি করা। সর্বোপরি কলবকে সর্বক্ষণ আল্লাহর স্মরণে অভ্যস্ত করে তোলা।

৭. মাঝে মধ্যে যিকির-আযকার বা মামূলাত ছুটে গেলে অনেকের ওয়াছওয়াছা হয় যে, যখন নিয়মিত যিকির-আযকার ও মামূলাত আদায় করতে পারি না, তখন আর এগুলো করে লাভ কী? এভাবে সম্পূর্ণরূপে যিকির আযকার ও মামূলাত থেকে সে দূরে সরে পড়ে। তাই মাশায়েখে কেরাম বলেন, নিয়মিত যিকির-আযকার ও মামূলাত আদায় করা হয়ে না উঠলেও মাঝে মধ্যে যে আদায় করা হচ্ছে এটাও তো এক ধরনের নিয়মিত করা। অতএব মাঝে মধ্যে ছুটে গেলেও হতাশ হয়ে সম্পূর্ণ ছেড়ে দিতে নেই। মনে রাখতে হবে মানুষের আগ্রহ, জযবা, ইচ্ছা ইত্যাদির মধ্যে কমবেশি হয়েই থাকে, এগুলোর মধ্যে জোয়ার-ভাটা হয়েই থাকে। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই মাঝে মধ্যে যিকির-আযকার ও মামূলাত ছুটতেই পারে, এজন্য হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তবে আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকা চাই এবং নিয়ত ও হিম্মত রাখা চাই যেন নিয়মিত আদায় করা যায়।

৮. কোন সমস্যা বা বিপদ-আপদে শায়েখের কাছে দুআ চাইলে যদি সমস্যা না কাটে বা বিপদ-আপদ দূর না হয়, তাহলেও অনেক মুরীদের মনে ওয়াছওয়াছা আসে বুঝি শায়খ কামেল লোক নন। অথচ দুআ কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে শায়েখের কোন হাত নেই। শায়েখ সমস্যা দূর করার কিংবা বিপদ-আপদ কাটানোর মালিক নন। আল্লাহ তাআলা যদি কারও সমস্যা দূর না করার কিংবা বিপদ-আপদ না কাটানোর সিদ্ধান্ত করেন এবং তার মধ্যে বান্দার কোন না কোনভাবে মঙ্গল নিহীত থাকে, তাহলে শায়খ কেন কেউই দুআ করে তা পাল্টাতে পারবে না। শায়েখ খোদা নন যে, যা ইচ্ছা তা-ই করে ফেলবেন।

৯. অনেক মুরীদের শায়খ থেকে খেলাফত পাওয়ার জন্য নানান রকম ফন্দী-ফিকিরের ওয়াছওয়াছা হয়। সেই ওয়াছওয়াছাবশত মুরীদ শায়েখের অতিমাত্রায় প্রশংসা করতে শুরু করে, শায়েখের প্রতি অতিমাত্রায় ভক্তি জাহির করতে শুরু করে, শায়েখের অনুকূলে বিভিন্ন রকম কল্পিত স্বপ্ন শায়েখকে শোনায়। এসবের পেছনে উদ্দেশ্য থাকে যেন শায়েক তাকে তাড়াতাড়ি খেলাফত দিয়ে দেন। কিন্তু মুরীদ এ কথা চিন্তা করে দেখে না যে, খেলাফত পেলেই কি বিরাট কিছু পাওয়া হল? এই খেলাফতের সার্টিফিকেট দেখিয়ে কি কবর, হাশর, মীযান, পুলসিরাত কোথাও বাড়তি কোন সুযোগ পাওয়া যাবে? নিশ্চয় না। মনে রাখতে হবে কোন শায়েখ কাউকে খেলাফত দিলে তার অর্থ এই নয় যে, যাকে খেলাফত দেয়া হয়েছে সে কামেল হয়ে গেছে। শায়েখ যখন তরীকতের সঙ্গে কারও মুনাছাবাত হয়ে গেছে বুঝতে পারেন এবং একথা বুঝতে পারেন যে, সে অন্যকে তালীম তালকীন করার যোগ্যতা অর্জন করেছে তখনই তাকে খেলাফত দিয়ে থাকেন। সে কামেল হয়ে গেছে বোঝার উপর খেলাফত প্রদান নির্ভরশীল নয়। অতএব খেলাফত পাওয়া আদৌ কামেল হওয়ার দলীল নয়।

১০. অনেক সময় মুরীদের ওয়াছওয়াছা হয় যে, শায়েখ অমুককে কেন খেলাফত দিলেন? ও লোকটা তো ভাল নয়, ওর এই দোষ সেই দোষ! ওয়াছওয়াছা হয় যে, আসলে শায়েখের মধ্যে ভাল-মন্দ বুঝার যোগ্যতা নেই, কিংবা বিশেষ কোন স্বার্থে শায়েখ তাকে খেলাফত দিয়েছেন, অতএব এই শায়েখকে বর্জন করা উচিত। এই ভেবে সে শায়েখ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক সময় সমূলে তরীকতের লাইন থেকেই বিচ্যুত হয়ে যায়। এই ওয়াছওয়াছার প্রতিকার পূর্বের আলোচনায় এসে গিয়েছে। পূর্বের অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কাউকে কামেল বোঝার উপর খেলাফত প্রদান নির্ভরশীল নয়। শায়েখ যখন তরীকতের সঙ্গে কারও মুনাছাবাত হয়ে গেছে বুঝতে পারেন এবং একথা বুঝতে পারেন যে, সে অন্যকে তালীম তালকীন করার যোগ্যতা অর্জন করেছে তখনই তাকে খেলাফত দিয়ে থাকেন। কাজেই শায়েখ কাউকে খেলাফত দিয়েছেন এর অর্থ আদৌ এ নয় যে, তিনি তাকে কামেল হিসেবে সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছেন। তদুপরি পীর বা শায়েখ গায়েব জানেন না, তিনি কারও জাহিরী হালাত দেখেই বিচার-বিবেচনা করে থাকেন, তার বিচার-বিবেচনায় ভুলও হতে পারে। তাই শায়েখ কাকে খেলাফত দিলেন, কাকে এজাযত দিলেন—এসবের জন্য শায়েখের ব্যাপারে কুধারণা না করা চাই। শয়তানই কুধারণা সৃষ্টি করে দিয়ে শায়খ থেকে তথা তরীকতের লাইন থেকে বিচ্যুত করার কৌশল নিয়ে থাকতে পারে।

টিকাঃ
১। বস্তুত সুন্নাতে গায়র মুআক্কাদা বা মুস্তাহাব ছোটা কামেল হওয়ার পরিপন্থী নয়। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী (রহ.) মূলত তাকে বোঝাতে চেয়েছিলেন কেউ কামেল কি না তা বোঝার জন্য তার থেকে কারামত বা অলৌকিক কিছু প্রকাশ পেল কি না তা দেখার দরকার নেই। তাঁর আমল ঠিক কি না— এটাই দেখার বিষয়। এটা বোঝাতে গিয়েই তিনি নিজের সম্বন্ধে এভাবে বলে থাকবেন।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 ছাত্রদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়

📄 ছাত্রদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়


ছাত্রদের যেসব ওয়াছওয়াছা হয়, তার মধ্যে বিশেষ কয়েকটা নিম্নে উল্লেখ করা হল।

১. আমরা এখন ছাত্র। ছাত্রদের দশ খুন মাফ। এই ওয়াছওয়াছা থেকে ছাত্ররা বে-পরোয়া হওয়ার চেতনা লাভ করে। কোন ছাত্র কোন অন্যায় করলে সমাজের অনেককেও বলতে শোনা যায় আরে ও ছাত্রমানুষ ওকে ছেড়ে দাও। তিনি বোঝাতে চান ছাত্রদের অন্যায় কোন অন্যায় নয়, ছাত্রদের অন্যায় ধরতে নেই। অথচ ছাত্রদের অন্যায় অন্যায় নয়, ছাত্রদের অন্যায় ধরতে নেই —এটা কুরআন-সুন্নাহর কোন কথা তো নয়ই যুক্তিসম্মত কথাও নয়। বরং যুক্তিতে বলে ছাত্রদের অন্যায় বেশি করে ধরা দরকার। কেননা ছাত্র-বয়স তাদের শেখার সময়, এটা তাদের সংশোধনের সময়, তাই এখন তাদের দোষ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ধরা দরকার, যাতে তাদের শিক্ষা অর্জন হয়, ভুল-বিচ্যুতি সম্বন্ধে এখন থেকেই তারা সচেতন হয় এবং তাদের সংশোধন হয়ে যায়।

২. ছাত্রসমাজ হচ্ছে শক্তি, তারা হচ্ছে প্রতিবাদী কণ্ঠ, ছাত্রসমাজই যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। এসব কথা থেকে ছাত্রসমাজ পড়ালেখা বাদ দিয়ে আন্দোলনের জন্য উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের দলীয় স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে ছাত্রসমাজকে আন্দোলনে লাগানোর জন্য ছাত্রদেরকে এসব রক্ত-গরম-করা কথা শোনায়। এসব কথায় ছাত্রসমাজ ধোঁকায় পড়ে যায়, তারা আন্দোলনমুখী হয়ে ওঠে এবং লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হয়। ছাত্রসমাজকে লেখাপড়া থেকে দূরে সরানোর জন্য শয়তানই হয়তো এসব কথা শিখিয়েছে। বস্তুত ছাত্রজীবন কর্মজীবন নয়, ছাত্রজীবনকে একান্তই একাডেমিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ছাত্রজীবনকে কোনোভাবেই কর্মমুখী করে তোলা যাবে না। লেখাপড়াই ছাত্রদের একমাত্র দায়িত্ব—এসব চিন্তা জাগ্রত রাখলেই সমাজের কিছু লোকের উপরোক্ত রক্ত-গরম-করা কথামালা সত্ত্বেও ছাত্ররা আন্দোলনমুখী হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

৩. ক্লাসে শিক্ষকের পাঠদানের সময় অনেক ছাত্রের ওয়াছওয়াছা হয়, এখন পড়া শুনতে ভাল লাগছে না, এখন মেজাযটা ভাল না, কিংবা এখন মাথাটা ভাল লাগছে না। আচ্ছা পরে নিজে পড়ে বুঝে নেব। এই ওয়াছওয়াছায় তারা শিক্ষকের পাঠদানের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ে। পরে নিজেরা পড়ে যখন তারা ভালমত বুঝতে পারে না, তখন ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে হতাশা জাগে যে, আমাদের মেধা দুর্বল, আমাদের দ্বারা লেখাপড়া হবে না! এভাবে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। শয়তান লেখাপড়া থেকে আউট করার জন্যই হয়তো ক্লাসের সময় আছর করে মন মেজায বিগড়ে দিয়েছে, তাই তার শিক্ষকের পাঠদান শুনতে ভাল লাগছে না। অতএব ক্লাসে শিক্ষকের পাঠদান শুনতে ভাল লাগছে না—এরূপ বোধ হলেই শয়তানের ওয়াছওয়াছা হচ্ছে মনে করে শয়তানকে তাড়ানোর জন্য পাঠ করবে "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"। তবে হাঁ স্বাস্থ্যগত কারণেও ভাল না লাগতে পারে। যদি সত্যিকারভাবেই কারণ স্বাস্থ্যগতই হয়ে থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখা চাই।

৪. ক্লাসে ফাঁকি দেয়ার ওয়াছওয়াছাও অনেক ছাত্রের হয়ে থাকে। প্রথম দিকে শয়তান বোঝায় আচ্ছা এই ক্লাসগুলোর পড়া পরে নিজে বুঝে নিলেই তো হবে। এই ওয়াছওয়াছায় তারা ক্লাস ফাঁকি দেয়। পরে নিজে পড়ে যখন তারা ভালমত বুঝতে পারে না, কিংবা অনেক ক্লাস ছুটে যাওয়ায় অত পড়া আর আয়ত্ব করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, বুঝ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে হতাশা জাগে যে, আমাদের মেধা দুর্বল, আমাদের দ্বারা লেখাপড়া হবে না! এভাবে তারা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। শয়তান লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত করার জন্যই হয়তো ক্লাস ফাঁকি দেয়ার চেতনা মনে এনে দিয়েছে, আর পরে নিজে পড়ে নিলে চলবে এই ওয়াছওয়াছা দিয়েছে। অতএব ক্লাস ফাঁকি দেয়ার চিন্তা মনে উদয় হলেই শয়তানের ওয়াছওয়াছা হচ্ছে মনে করে শয়তানকে তাড়ানোর জন্য পাঠ করবে "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ"।

৫. ক্লাসে ফাঁকি দিলে যেন উস্তাদের শাসানী খেতে না হয়, তার জন্য অনেক ছাত্র ভুয়া অজুহাত দেখিয়ে ছুটি নিয়ে থাকে, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ছুটি নিয়ে থাকে। মাথায় ব্যাথা, পেটে ব্যাথা এসব অজুহাত তো কমন, অনেক সময় ছুটি নেয়ার জন্য ছাত্ররা এমনসব অজুহাতও দেখায় যা রীতিমত হাস্যকর। যেমন: উদাহরণ স্বরূপ ছুটির আবেদন কেন করল খুব খুঁটে খুঁটে জিজ্ঞাসা করায় জানা গেল যে, তার মামাতো বোনের মেয়ের জন্মদিন তাই তাকে ছুটি নিতে হচ্ছে। কিংবা তার চাচাত বোনের ননদের ছেলের আকীকা, তাই তাকে ছুটি নিতে হচ্ছে। চিন্তা করে দেখুন কত দূরের সব কারণে ছুটির আবেদন। এগুলো কি আদৌ কোন প্রয়োজন? পড়ালেখা বাদ দিয়ে এ জাতীয় কাজে যাওয়া কি আদৌ কোন ছাত্রের মানসিকতা হতে পারে? শয়তানই পড়ালেখা থেকে দূরে সরানোর জন্য এসব অপ্রয়োজনীয় জিনিসকে মনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিস হিসেবে তুলে ধরে। আর ছাত্ররা সেসবের জন্য পাগলপারা হয়ে ওঠে। ছাত্রদের লা হাওলা পড়া উচিত।

৬. বাসায় পড়া ফাঁকি দেয়া এবং বাইরে গিয়ে আড্ডা ইত্যাদির সুযোগ বের করার জন্য শয়তান ছাত্রদেরকে খুব সহজ কৌশল শিখিয়ে দেয়। সে মোতাবেক মা বাবাকে কোচিংয়ে যাচ্ছি বা অমুকের কাছে নোট আনতে যাচ্ছি কিংবা মাদ্রাসার ছাত্র হলে মাদ্রাসায় তাকরার আছে বা নসীহতের মজলিস আছে ইত্যাকার ভুয়া ওজুহাত দেখিয়ে বাসার বাইরে চলে যায়। ছাত্রদের মনে রাখা দরকার গার্জিয়ানরাও এগুলো বোঝেন, তারাও তো এ বয়স পার হয়েই এসেছেন। কিংবা তারা অনেক সময় যাচাইও করে থাকেন। কিন্তু তারা বলেন না এই ভেবে যে, মুখের উপর ওদেরকে অপরাধী সাবস্ত করে ফেললে পরে ওরা আমাদের সামনে মুখ দেখাবে কী করে? কিংবা তাতে যদি আরও বেশি নষ্ট হয়ে যায় এই ভেবে যে, গার্জিয়ানের কাছে আমি তো খারাপ প্রতিপন্ন হয়েই গেছি, তাহলে এখন আর রাখঢাকের কী প্রয়োজন? তাই গার্জিয়ানরা এসব ভেবে মুখে না বললেও অন্তরে একটা অসুখকর উপলব্ধি শিকার হন। ফলে ঐ ছাত্রদের প্রতি তাদের আদর, স্নেহ ও আন্তরিকতায় ঘাটতি দেখা দেয়। এভাবে ঐ ছাত্ররা বঞ্চিত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 স্বামীদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়

📄 স্বামীদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়


১. অনেক স্বামীর ওয়াছওয়াছা হয় আল্লাহ আমাদেরকে পুরুষ বানিয়েছেন, আমাদেরকে কর্তৃত্বকারী বানিয়েছেন, স্ত্রীদেরকে আমাদের অধীনস্থ বানিয়েছেন। অতএব ওরা আমাদের চেয়ে ছোট, আমাদের চেয়ে নিম্নস্তরের। ওরা দাসীর মত আমাদের খাটবে। এই চেতনা থেকে তারা স্ত্রীদেরকে হেয় দৃষ্টিতে দেখে, তাদের প্রতি নানান রকম জুলুম-অত্যাচার চালায়। এই ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল— স্বামীদেরকে মনে রাখতে হবে আল্লাহ তাআলা প্রাকৃতিক নিয়মানুসারে স্ত্রীদেরকে স্বামীদের অধীনস্থ বানালেও তাদের অধিকার কিন্তু স্বামীদের চেয়ে কম রাখেননি, বরং স্বামীর যেমন স্ত্রীর উপর অধিকার রয়েছে, স্ত্রীরও স্বামীর উপর অধিকার রয়েছে। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, وَ لَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ . অর্থাৎ, তাদেরও (স্ত্রীদেরও) অধিকার রয়েছে যেমন তাদের উপর (স্বামীদের) অধিকার রয়েছে, নিয়ম-নীতি অনুযায়ী। (সূরা বাকারা: ২২৮)

২. অনেক স্বামী এমন আছে বাইরে গেলে তার ওয়াছওয়াছা হয় ইত্যবসরে বিবি আবার অন্য কারও সঙ্গে লাইন-ফাইন, ইয়ে-সিয়ে করে কি না। বা অন্য কোন পুরুষ আমার অনুপস্থিতির সময়ে আমার ঘরে আসা-যাওয়া করে কি না। এই ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল এ কথা চিন্তা করা যে, বিনা দলীল-প্রমাণে কারও প্রতি কুধারণা করা ঠিক নয়। কুরআনে কারীমে এরকম ধারণাকে গোনাহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। একথাও চিন্তা করা দরকার যে, আমি আমার বিবি সম্বন্ধে এই কুধারণা করলে বিবিও তো আমার সম্বন্ধে এই কুধারণা করতে পারে যে, আমি বাইরে গিয়ে অন্য কোন মেয়ের সঙ্গে ইয়ে সিয়ে করি কি না। বিবি আমার সম্বন্ধে এমন ধারণা করুক আমি যেমন তা চাই না এবং তা করা ঠিক মনে করি না, তদ্রূপ বিবি সম্বন্ধেও আমার এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

৩. অনেক স্বামীর ওয়াছওয়াছা হয় আমার অগোচরে বিবি অন্য কোন পুরুষের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখে কি না। এই ওয়াছওয়াছা বশত বিবির মোবাইলের কললিস্ট চেক করে দেখে। অথচ কললিস্ট দেখে অনেক সময় বিভ্রান্তিও হয়। একজন লোকের কথা জানি। সে তার স্ত্রীর ব্যাপারে সন্দেহ করত যে, তার মামা শ্বশুরের ছেলে অর্থাৎ, স্ত্রীর মামাত ভাইয়ের সঙ্গে বোধ হয় তার গোপন সম্পর্ক রয়েছে। মাঝে মাঝেই স্ত্রীর মোবাইলের কললিস্ট চেক করে ঐই মামাত ভাইয়ের মোবাইল থেকে কল আসে দেখতে পেত। এটা দেখে তার সন্দেহ প্রকট আকার ধারণ করে। অথচ অনেক দিন পর সে জানতে পারে যে, আসলে ঐ মোবাইল থেকে তার মামীই মাঝে মাঝে ফোন করে থাকে। অর্থাৎ, মা তার ছেলের মোবাইল থেকে ফোন করে থাকে। আর এমনটা হওয়া তো নিতান্তই স্বাভাবিক। তাই বলছিলাম, মোবাইল ফোনের কললিস্ট দেখেও বিভ্রান্তি হতে পারে। বস্তুত সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি সন্দেহ করতে নেই। শয়তান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনকে ধ্বংস করে দিতে চায়। তাদেরকে অশান্তিতে ফেলতে চায়। বনী আদমের অশান্তি দেখলে শয়তানের খুব আনন্দ লাগে কিনা!

৪. একজন স্বামীর কথা শুনেছি তার ওয়াছওয়াছা হয় তার অনুপস্থিতিতে বিবি কারও সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হয় কি না। এই সন্দেহে সে বাইরের থেকে বাসায় ফিরেই বিবির গালে মুখে গভীর দৃষ্টি দিয়ে দেখে কোন রকম লাল চিহ্ন-টিহ্ন ইত্যাদি আছে কি না। আবার ভিজা সায়া নাড়া দেখলে তাতে শুকে দেখে বীর্যের গন্ধ-টন্ধ বোধ হয় কি না। নাউযু বিল্লাহ! মুখে লাল চিহ্ন-টিহ্ন দেখাও কি ঐ কর্মের নিশ্চিত কোন দলীল? মশার কামড়েও তো লাল দাগ হয়ে যেতে পারে, চুলকালেও তো লাল দাগ হয়ে যেতে পারে, নখের আঁচড়েও তো লাল দাগ পড়তে পারে। আর ভিজা সায়ায় কোন গন্ধ যদি বোধ হয়ও সেটা তো তারই বীর্যের পুরণো গন্ধও হতে পারে। তাই আবারও বলছি, সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি সন্দেহ করতে নেই, তাতে গোনাহ হয়। স্ত্রীর প্রতি বিনা কারণে সন্দেহে দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি বিনষ্ট হয়, শয়তানের বাসনা পূর্ণ হয়। এমনতর বাজে চিন্তা মাথায় এলে লা হাওলা ... পড়া উচিত।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 স্ত্রীদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়

📄 স্ত্রীদের যেসব ওয়াসওয়াসা হয়


১. স্বামী বাইরে গেলে স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয় ইত্যবসরে স্বামী আবার অন্য কোন মেয়ের সঙ্গে লাইন-ফাইন, ইয়ে-সিয়ে করে কি না। বিশেষত স্বামীর যদি বাসায় ফিরতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একটু দেরি হয়, তাহলে এমন ধারণা প্রবলই হয়ে যায়। এই ওয়াছওয়াছার প্রতিকার হল এ কথা চিন্তা করা যে, বিনা দলীল-প্রমাণে কারও প্রতি কুধারণা করা ঠিক নয়। কুরআনে কারীমে এরকম ধারণাকে গোনাহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। স্ত্রীর একথাও চিন্তা করা দরকার যে, আমি আমার স্বামী সম্বন্ধে এমন কুধারণা করলে স্বামীও তো আমার সম্বন্ধে এমন কুধারণা করতে পারে যে, তার বাইরে থাকার সময়ে আমি কোন পর পুরুষের সঙ্গে ইয়ে সিয়ে করি কি না বা কোন পর পুরুষ আমার ঘরে যাতায়াত করে কি না। স্বামী আমার সম্বন্ধে এমন ধারণা করুক তা যেমন আমি চাই না এবং তাকে ঠিক মনে করি না, তদ্রূপ স্বামী সম্বন্ধেও আমার এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

২. অনেক স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয় আমার অগোচরে স্বামী অন্য কোন মেয়ের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ রাখে কি না। এই ওয়াছওয়াছা বশত স্বামীর মোবাইলের কললিস্ট চেক করে দেখে। অথচ মোবাইলের কললিস্ট দেখে অনেক সময় বিভ্রান্তিও হয়, পূর্বের পরিচ্ছেদে উদাহরণসহ যার বিবরণ পেশ করেছি।

৩. অনেক সময় স্বামী মোবাইলে কারও সঙ্গে কথা বলতে থাকলে স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয়। সে আড়াল থেকে চুপি চুপি মোবাইলের কথোপকথোন শুনে আঁচ করার চেষ্টা করে থাকে, কোন মেয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে না তো। এতেও অনেক সময় ভুল বুঝাবুঝি হয়। যেমন: স্বামীকে হয়তো অফিসের কোন কলিক মহিলা অফিসের কোন বিষয়ে ফোন করেছে আর বিবি এদিকে কোন্ মেয়ের সঙ্গে প্রেমালাপ হচ্ছে ভেবে মাথা গরম করে বসে আছে। তাই আবারও পূর্বের কথার পুনরাবৃত্তি করছি, সুনির্দিষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি সন্দেহ করতে নেই। শয়তান স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনকে ধ্বংস করে দিতে চায়। তাদেরকে অশান্তিতে ফেলতে চায়। বনী আদমের অশান্তি দেখলে শয়তান তো আনন্দে বগল বাজায়।

৪. অনেক সময় স্বামী স্বাস্থ্যগত কারণে বা মন-মেজায ভাল না থাকার কারণে স্ত্রীকে সাময়িক আদর-সোহাগ কম করলে বা যৌন-ব্যবহার কম করলে তাতে অনেক স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয় যে, স্বামী কি তাহলে অন্য কোথাও ইয়ে টিয়ে করে নাকি? না হলে এগুলো কমে গেল কেন? এই ওয়াছওয়াছায় সে স্বামীর প্রতি সন্দেহ নিয়ে সেভাবে আচরণ শুরু করে দেয়। অথচ স্ত্রীর ভেবে দেখা উচিত স্বামীর স্বাস্থ্যগত কোন সমস্যা চলছে কি না, কিংবা তার কোন মানসিক পেরেশানী আছে কি না। তাছাড়া যৌন-ব্যবহার ও আদর-সোহাগের বিষয়টা এমনিতেও তো এমন যার মধ্যে জোয়ার ভাটা চলে থাকে, অন্যান্য খাদ্য-খাবারের প্রতি চাহিদা ও ক্ষুদার ক্ষেত্রে যেমনটা হয়ে থাকে। এই বিষয়গুলো ঠাণ্ডা মাথায় ভাবলেই স্ত্রী ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে সক্ষম হবে।

৫. অনেক স্ত্রীর ওয়াছওয়াছা হয় স্বামীর মাল আত্মসাৎ করলে বুঝি গোনাহ হয় না। এই ওয়াছওয়াছায় তারা স্বামীর অগোচরে স্বামীর টাকা-পয়সা নিজের বাপের বাড়ির লোকদেরকে পাচার করে বা স্বামীর অগোচরে স্বামীর টাকা-পয়সা ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখে। অথচ স্বামীর টাকা-পয়সা, অর্থকড়ি তার অনুমতি ব্যতীত সরানো বা লুকানো কোনক্রমেই জায়েয নয়। সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চাইলে তা-ও স্বামীর অনুমতিক্রমেই হতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px