📄 তাকাব্বুর বা অহংকারের ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায়
এই অহংকারের ওয়াছওয়াছা থেকে বাঁচার উপায় হল নিজের দোষ-ত্রুটির কথা স্মরণ করে তাওয়াজু বা বিনয় অবলম্বন করা। আর নিজের কোন গুণ বা কৃতিত্বের কথা স্মরণ হলে সেটাকে আল্লাহর দান মনে করে সেই দানকারীর উদ্দেশ্যে মাথা নত করে দেয়া। বুযুর্গানে দ্বীন কুরআন-সুন্নাহর আলোকে অহংকার থেকে বাঁচার জন্য নিম্নোক্ত উপায়সমূহ বলেছেন, ১. নিজের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা যে, আমি নাপাক পানি থেকে তৈরী এবং বর্তমানেও আমার পেটে নাপাক ভরা, চোখে মুখে ও নাকের ভিতর ময়লা ভরা। আর মৃত্যুর পর আমার সবকিছু পচে গলে দুর্গন্ধময় হয়ে যাবে। ইত্যাদি। ২. এ কথা চিন্তা করা যে, সমস্ত গুণ মূলত আল্লাহ্রই একান্ত দান, আমার বুদ্ধি বা বাহু বলে তা অর্জিত হয়নি, নতুবা আমার চেয়ে কত বুদ্ধিমান বা শক্তিশালী ব্যক্তি এ গুণ অর্জন করতে পারেনি। অতএব আল্লাহ্ অনুগ্রহে যা অর্জিত হয়েছে তার জন্য আমার অহংকার বা বড়ত্ববোধ করা বোকামি বৈ কি? বরং এর জন্য আল্লাহ্ সামনে আমার বিনয়ী হওয়া উচিত। ৩. যাকে ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ মনে হবে, মনে না চাইলেও জোর-জবরদস্তী তার সাথে নম্র ব্যবহার করতে হবে। ৪. অভাবী ও গরীব শ্রেণীর লোকদের সঙ্গে বেশি উঠা-বসা রাখতে হবে। ৫. মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করতে হবে। ৬. নিজের দোষ-ত্রুটি, নিন্দা-অপবাদ শুনেও প্রতিবাদ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ৭. ক্রোধ প্রকাশ পেলে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে (ছোটদের থেকে হলেও)। ৮. একান্ত প্রয়োজন ছাড়া নিজের ছোট-খাট কাজ নিজেই করতে হবে, সেসব কাজে মজদুর বা চাকর-নওকর লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ৯. সকলকে আগে সালাম দিতে হবে। ১০. তাকাব্বুর দূর করার সবচেয়ে উত্তম ও সহজ পন্থা হল তাকাব্বরের ধরন ও বিবরণ জানিয়ে হক্কানী পীর ও শায়খে তরীকত থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা জেনে সে অনুযায়ী আমল করা। কারণ নিজে তাকাব্বরের ধরন ও প্রতিকারের পন্থা বুঝতে অনেক সময় কঠিন হয়ে থাকে।
📄 উজব বা আত্মগর্ব থেকে বাঁচার উপায়
তাকাব্বুর বা অহংকারের কাছাকাছি আর একটা জিনিস রয়েছে। তা হল উজ্জ্ব তথা আত্মগর্ব। তাকাব্বুর বা অহংকার হল নিজেকে বড় মনে করার সাথে সাথে অন্যকে ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ মনে করা। আর কেউ যদি কোন বিষয়ে অন্যকে তুচ্ছ মনে না করে শুধু নিজেকে বড় মনে করে গর্ববোধ করে, তাহলে সেটাকে বলা হয় উজ্জ্ব বা আত্মগর্ব। আত্মগর্ব করাও গোনাহে কবীরা। বুযুর্গানে দ্বীন কুরআন-সুন্নাহর আলোকে উদ্ধু বা আত্মগর্ব থেকে বাঁচার জন্য নিম্নোক্ত উপায়সমূহ বলেছেন, ১. নিজের দোষ-ত্রুটি চিন্তা করে দেখা। ২. গুণকে আল্লাহ্র দান মনে করা। ৩. উক্ত দানের জন্য আল্লাহ্ শোকর আদায় করা। ৪. এই আশংকা রাখা যে, আল্লাহ্ শক্তি আছে যেকোনো সময় তিনি এটা ছিনিয়ে নিতে পারেন। ৫. দুআ করা যেন আল্লাহ উক্ত দান থেকে মাহরূম না করেন, সেটা যেন ছিনিয়ে না নেন।