📄 কৌশল নং ৫: ধীরে ধীরে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া
শয়তানের নিত্য কৌশলের একটা হল ধীরে ধীরে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া। যেমন ধরুন একজন নিয়মিত নামাযী মানুষ, যিনি নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাআতের সঙ্গে নামায আদায় করেন। এরূপ লোককে যদি শয়তান হুট করে প্রথমেই নামায ছেড়ে দেয়ার ওয়াছওয়াছা দেয় তাহলে লোকটিকে তা কোনোক্রমেই মানাতে পারবে না। তাই শয়তান এরূপ লোকের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে এবং পর্যায়ক্রমে পেছনের দিকে নেয়ার কৌশল গ্রহণ করে। যেমন: সে প্রথমে একদিন লোকটিকে ওয়াছওয়াছা দেয় যে, আজ শরীরটা তেমন ভাল লাগছে না। আজ না হয় ঘরেই নামায আদায় করে নেই। এভাবে একদিন দু'দিন ঘরে নামায পড়াতে পারলে তারপর মনে এনে দেয় আমি তো আর নিয়মিত জামাতে নামায পড়ি না। ঘরেও তো মাঝে মধ্যে নামায পড়ি। তা নামায ঘরে পড়লেও তো হয়ে যায়। এভাবে তার মসজিদে না গিয়ে ঘরে নামায পড়ার পালা বাড়তে থাকে। ঘরে নামায পড়তে গিয়ে মুস্তাহাব ওয়াক্তে নামায আদায় ছুটতে শুরু করে। মনে হয় আচ্ছা ঘরেই তো নামায পড়ব তা একটু বিলম্বে পড়লেও তো চলে। এভাবে মুস্তাহাব ওয়াক্তে নামায পড়া বাদ যায়।
তারপর বিলম্বে পড়তে গিয়ে মাঝে মধ্যে মাকরূহ ওয়াক্তেও চলে যায়। তারপর পড়ি পড়ি করতে করতে কোন একদিন হয়তো কাজা হয়ে গেল। কাজাও পড়ে নিল। এভাবে কাযার পরিমাণ বেড়ে গেলে মনে আসতে শুরু করে আচ্ছা পরে কাযা করে নিব। এভাবে নামায ছোটা বাড়তে থাকে এবং কাযার স্তূপ হতে থাকে। তারপর একসময় মনে আসতে শুরু করে আমি তো নিয়মিত নামাযী নই। আচ্ছা ভবিষ্যতে নিয়মিত হওয়া যাবে। এই ভেবে এক সময় পূরো বে-নামাযী হয়ে যায়। এমনকি নাউযু বিল্লাহ এভাবে পেছনে সরতে সরতে বে-ঈমান কাফের পর্যন্ত হয়ে যায়।
শুধু নামাযীর ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রে অগ্রসর ব্যক্তিদেরকেও শয়তান এভাবে ধীরে ধীরে পেছনের দিকে নিয়ে থাকে। তাই সর্বদা সচেতন থাকতে হয় শয়তান আমার গতি যেন পেছন দিকে নিতে না পারে। একবার গতি পেছনের দিকে হয়ে গেলে চূড়ান্ত পতন না হওয়া পর্যন্ত পেছনে যেতেই থাকবে। যেমন মনে করুন একটা গাড়ি যদি উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করতে চায় তাহলে তার গতি কখনও কমানোর অবকাশ নেই, বরং সর্বদাই গতি বাড়ানো এবং গতিকে শক্তিশালী করে যেতে হবে। যদি একবার গাড়ি পেছনের দিকে যেতে শুরু করে, তাহলে সর্বনিম্ন স্তরে খাদে পড়ে ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত হয়তো গাড়ি আর থামবে না। ঠিক তেমনি জীবনে উন্নতির শিখরে আরোহণ করার জন্য গতি যখন সামনের দিকে বাড়তে শুরু করবে, তখন পেছনের দিকে গেলে হতে পারে জীবন নামক এই গাড়ি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আর ক্ষান্ত হবে না। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন!
📄 কৌশল নং ৭: ভাল হওয়া সম্ভব নয়— এই ধারণা দেয়া
শয়তানের নিত্য কৌশলের আর একটা হল— ভাল হওয়া সম্ভব নয়— এই ধারণা দেয়া। শয়তানের এরূপ ওয়াছওয়াছার ফলেই অনেকের মনে হয় আমি এত অন্যায় করেছি, জীবনে এতসব জঘন্য কাজ করেছি, না, আমার পক্ষে আর ভাল হওয়া সম্ভব নয়! এভাবে সে ভাল হওয়ার চিন্তা থেকে বহু পিছনে হটে যায়। অথচ হাজার খারাপ হওয়ার পরও যে ভাল হওয়া সম্ভব তার প্রমাণও রয়েছে হাজার হাজার মানুষের জীবন। তার মধ্যে একটা প্রসিদ্ধ ঘটনা হচ্ছে প্রসিদ্ধ বুযুর্গ হযরত ফুযায়েল ইবনে ইয়াজ (রহ.)-এর ঘটনা। তিনি ছিলেন ডাকাতের সর্দার। একবার গভীর রাতে ডাকাতি করার জন্য দলবল নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন। পথিমধ্যে এক জীর্ণ কুঠিরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় শুনলেন তার মধ্যে একজন তাহাজ্জুদের নামাযে তেলাওয়াত করছেন, أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَতَالَ بِهِ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ. (এ আয়াতের ভাবার্থ হচ্ছে— জীবনের এত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও, এত দলীল-প্রমাণ থাকার পরও কি মুমিনদের সময় হয়নি যে, আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য তাদের দিল নরম হবে? এরপরও আহলে কিতাবদের দিল যেমন শক্ত রয়ে গেছে তেমনই দিল শক্ত রয়ে যাবে? তাদের মত অবাধ্য রয়ে যাবে? তাদের অধিকাংশই তো অবাধ্য। তাদের পথ পরিহার করার সময় কি হয়নি?) হযরত ফুযায়েল ইবনে ইয়াজ (রহ.) আয়াতের তেলাওয়াত শুনে এবং তার মর্মার্থ অনুধাবন করে কিছুক্ষণ থম মেরে দাঁড়িয়ে রইলেন। বললেন, হাঁ আমার সময় হয়েছে! হাঁ আমার দিল নরম হওয়ার মুহূর্ত এসে গেছে! তারপর সঙ্গীদেরকে বললেন, তোমরা যা ইচ্ছে করতে পার, আমি এখন থেকে আর ডাকাতির কাজে যাব না। তিনি ভাল হওয়ার পথ সন্ধান করতে করতে বিখ্যাত বুযুর্গ হযরত খাজা আব্দুল ওয়াহেদ (রহ.)-এর সন্ধান লাভ করে তাঁর সান্ধিধ্যে থেকে আল্লাহকে পাওয়ার সাধনায় নিমগ্ন হলেন এবং বিখ্যাত বুযুর্গে পরিণত হলেন।
হাজার খারাপ হওয়ার পরও যে ভাল হওয়ার চেষ্টা করতে হয় এবং চেষ্টা করতে করতে ভাল হওয়ার আগে মরে গেলেও আল্লাহর কাছে ভাল প্রতিপন্ন হওয়া যায় তার একটা প্রমাণ হল মুসলিম শরীফ দ্বিতীয় খণ্ডে বর্ণিত একটি ঘটনা। স্বয়ং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘটনাটি বয়ান করেছেন। ঘটনাটি এরূপ— পূর্বের যুগে একজন লোক ৯৯টা খুন করেছিল, তারপর লোকটির মনে হল, আমি ভাল হতে চাই। তাই সে ঐ যুগের সবচেয়ে বড় জ্ঞানীর সন্ধান করছিল। এক পর্যায়ে লোকেরা তাকে এক খৃষ্টান পণ্ডিতের সন্ধান দিল। সে উক্ত খৃষ্টান পণ্ডিতের কাছে গিয়ে নিজের অবস্থা জানিয়ে বলল, আমি ভাল হতে চাই, আমার ক্ষমা পাওয়ার কোন সুযোগ আছে কি না? পণ্ডিত বলল, সর্বনাশ তুমি ৯৯টা খুন করেছ! তোমার মত মানুষের ভাল হওয়ার আর কোনো পথ নেই, তোমার ক্ষমা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। লোকটি ভাবল যখন ভাল হওয়ার কোনোই পথ নেই, তখন খুনের সংখ্যা ১০০টা পুরো করে ফেলি। এই ভেবে সে উক্ত পণ্ডিতকেও খুন করল। এভাবে তার খুনের সংখ্যা ১০০টা পুরো হয়ে গেল। এরপর সে লোকজনের কাছে আবার জিজ্ঞেস করতে থাকল, সবচেয়ে বড় জ্ঞানী কে আছে? অবশেষে একজন বড় জ্ঞানীর সন্ধান পেয়ে তার কাছে সে গেল এবং সব ঘটনা খুলে বলল। জ্ঞানী লোকটি বলল, কে তোমার তওবার পথ বন্ধ করতে পারে? তুমি যে এলাকায় থেকে, যাদের সঙ্গে ওঠে-বসা করে খারাপ হয়েছ, সেই এলাকা ছেড়ে অমুক এলাকায় চলে যাও যেখানে নেককার-পরহেযগার লোকেরা বসবাস করে। লোকটি সেদিকে যাওয়া শুরু করল, মাঝপথে হযরত আজরাঈল (আ.) সামনে এসে পড়লেন। আজরাঈলকে দেখে সে মাটিতে পড়ে গেল। কিন্তু ভাবল আমি ভাল হওয়ার জন্য যেদিকে যাচ্ছি যতক্ষণ জীবন আছে আমি সে দিকে এগুতে থাকব। তখন বুক ঘষে ঘষে আরও কিছুটা অগ্রসর হল। ইতিমধ্যে তার ইন্তেকাল হয়ে গেল। ভাল লোকের ইন্তেকাল হলে খুবসুরত রহমতের ফেরেশতারা তার রূহ্ নিয়ে যান। আর খারাপ লোকের মৃত্যু হলে বদসুরত, কুৎসিত ভয়ংকর রূপের আযাবের ফেরেশতারা তার রূহ্ নিয়ে যান। এখন এই লোকটির রূহ্ কারা নিবে এ নিয়ে রহমতের ফেরেশতা আর আযাবের ফেরেশতার মধ্যে ঝগড়া শুরু হল। রহমতের ফেরেশতারা বললেন, তার রূহ আমরা নিব। কারণ সে তওবার উদ্দেশ্যে এসেছিল। অতএব তাকে ভাল বলে গণ্য করতে হবে। আযাবের ফেরেশতারা বললেন, সে জীবনে কোনো নেক কাজ করেনি, অতএব তাকে খারাপই গণ্য করতে হবে, কাজেই আমরা তার রূহ্ নিব। তখন আল্লাহ্ তাআলা অন্য এক ফেরেশতা প্রেরণ করলেন। তিনি এসে ফয়সালা দিলেন, সে যে এলাকা থেকে এসেছে এবং যে এলাকায় যাচ্ছিল, উভয় এলাকার মধ্যে মাপ দেয়া হোক। লোকটি যে এলাকার নিকটবর্তী তাকে সে এলাকার গণ্য করা হবে। মাপ দেয়া হল এবং দেখা গেল যেদিকে সে যাচ্ছিল, সেদিকে সামান্য একটু অগ্রসর। ফলে রহমতের ফেরেশতারা তার রূহ্ নিয়ে গেলেন। সম্ভবত এই সামান্য পরিমাণ যেটুকু সে অগ্রসর ছিল, সেটা হল ঐ জায়গাটুকু যেটুকু সে বুক ঘষে অগ্রসর হয়েছিল।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ঘটনার মাধ্যমে আমাদের অনেক কিছু শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাহল- (১) জীবনে হাজার খারাপ করার পরও ভাল হওয়ার চেষ্টা বাদ দিতে নেই। (২) ভাল হওয়ার চেষ্টা করতে হবে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। জানা নেই শেষ মুহূর্তের কোন একটা আমলও নাজাতের ওছীলা হতে পারে। হতে পারে ঐসময় সামান্যতম যা কিছু করা হবে সেটার কারণেই কল্যাণের ফয়সালা হয়ে যাবে। (৩) এ ঘটনার সব চেয়ে বড় শিক্ষা হল- ভাল হতে চাইলে ভাল লোকদের কাছে যেতে হবে। ভাল লোকদের কাছে গেলেই মানুষ ভাল হতে পারে। খারাপ লোকদের কাছে থেকে ভাল হওয়া বেশ কঠিন (৪) এ ঘটনার আর একটা বড় শিক্ষা হল মানুষ যত পাপই করুক না কেন তার জন্য তওবার দরজা খোলা থাকে। আল্লাহ্র নিকট তওবার দরজা তথা ক্ষমা পাওয়ার দরজা কখনও বন্ধ হয় না। ফার্সী কবিতায় বলা হয়েছে,
این درگاه ما درگاه نا امید نیست + صد بار اگر توبه شکستی باز آ باز آ
অর্থাৎ, আমার এই দরবার হতাশ হওয়ার দরবার নয়, শতবার যদি তওবা ভঙ্গ করে থাক তবুও ফিরে আস, তবুও ফিরে আস। এখানে শতবার বলে ঠিক একশত বার বোঝানো উদ্দেশ্য নয়, বরং বোঝানো উদ্দেশ্য যত বেশিবারই অপরাধ হয়ে যাক না কেন, তোমার জন্য তওবার দরজা বন্ধ নয়, বরং খোলা।
📄 কৌশল নং ৯: বারংবার একই বিষয়ে ওয়াসওয়াসা দেয়া
শয়তানের নিত্য কৌশলের আর একটা হল— বারংবার একই বিষয়ে ওয়াছওয়াছা দেয়া। যেমন পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে, শয়তান ঈমান-সম্পর্কিত বিষয়ে বারবার ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে। বলে থাকে, আসলেই আল্লাহ আছেন কি? আসলেই কবরের আযাব বলে কিছু আছে কি? আসলেই জান্নাত জাহান্নাম আছে কি? ইত্যাদি। এরূপ ক্ষেত্রে শয়তানের মোকাবেলা করার পদ্ধতিও পূর্বে বলা হয়েছে যে, একবার এসব ওয়াছওয়াছার জবাব দিয়ে দিন। এসব ওয়াছওয়াছার জবাব কি তা পূর্বে বলা হয়েছে। সেভাবে একবার জবাব দিন, তারপর পুনরায় যখনই এবং যতবারই এসব বিষয়ে ওয়াছওয়াছা হবে তখন শুধু মনকে লক্ষ্য করে বলবেন, এর জবাব তো পূর্বে দিয়েছি, আবার জবাব দিতে গিয়ে সময় নষ্ট করার কোনো অর্থ হয় না। "আমানু বিল্লাহ (এসব ব্যাপারে আমি যথাযথ ঈমান রাখি)। ব্যস এই বলেই অন্য কোন কাজে বা অন্য কোন চিন্তায় লিপ্ত হবেন। নফস্ ও শয়তান যতই আপনার পা চাটুক, যতই ঘ্যানর ঘ্যানর করুক আর কখনও এগুলোর জবাব দিতে প্রবৃত্ত হবেন না। এমনিভাবে যত ধরনের নেক আমল রয়েছে তা না করার জন্য এবং বিভিন্ন রকম পাপ কাজ করার জন্য শয়তান বারংবার ওয়াছওয়াছা দিয়ে থাকে। এমন হয় না যে, একবার ওয়াছওয়াছার মোকাবেলা করে কোন নেক কাজ সম্পন্ন করলে কিংবা একবার ওয়াছওয়াছার মোকাবেলা করে কোন পাপ থেকে বিরত থাকলে ভবিষ্যতে সে ব্যাপারে শয়তান আর ওয়াছওয়াছা দিবে না। শয়তানের ওয়াছওয়াছা উপেক্ষা করা হল, এতে তার শরম লাগার কথা ছিল, কিন্তু শয়তানের হায়া-শরম নেই। সবচেয়ে বড় মুহছিন তথা অনুগ্রহকারী আল্লাহর মুখের সামনে তাঁর নির্দেশ অমান্য করতে যার শরম লাগেনি, মানুষের বেলায় তার আবার শরম কিসের? তাই তার ওয়াছওয়াছা উপেক্ষিত হলেও সে ওয়াছওয়াছা অব্যাহত রাখে। সুতরাং এসব ওয়াছওয়াছা কখনও বন্ধ বা নির্মূল করা যাবে না। নির্মূল করার চিন্তার দরকারও নেই। বরং সর্বদাই শয়তান এসব ওয়াছওয়াছা দিতে থাকুক আর আপনি সেই ওয়াছওয়াছা উপেক্ষা করে যথাযথভাবে নেক আমলগুলো সম্পাদন করে যেতে থাকুন আর পাপ কাজগুলো থেকে বিরত রইতে থাকুন। এভাবে নেক আমল করার সাথে সাথে নফস্ ও শয়তানের সাথে মুজাহাদা করার ছওয়াবও হাছেল করতে থাকুন। নফস্ ও শয়তান যদি এসব ওয়াছওয়াছা বন্ধ করে দেয় তাতে বরং আপনি মুজাহাদা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, মুজাহাদার মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই এসব বিষয়ে ওয়াছওয়াছা হলেই মনকে বলুন, এই তো নফস্ ও শয়তানের সাথে মুজাহাদা করার সুযোগ এসে গেছে, এবার আমি নফস্ ও শয়তানের সাথে মুজাহাদা করে মুজাহাদার ফায়দা হাসেল করতে চাই। এই বলে সংশ্লিষ্ট বিষয় করণীয় নেক আমল হলে সেগুলো সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন করুন, আর পাপ বিষয় হলে তা থেকে বিরত থাকুন। তাতে সংশ্লিষ্ট নেক আমলের ছওয়াবের সাথে সাথে নফসের সাথে মুজাহাদার ছওয়াব ও অর্জিত হবে।
📄 কৌশল নং ১০: ইবাদত শুরু করলে তাড়াহুড়োর মনোভাব এনে দেয়া
শয়তানের নিত্য কৌশলের আর একটা হল— যেকোনো ইবাদত শুরু করলে তাড়াহুড়োর মনোভাব এনে দেয়া। যেমন: আপনি নামাযে দাঁড়িয়েছেন। মনের মধ্যে অহেতুক তাড়াহুড়োর মনোভাব জাগবে। মনে হবে কত কাজ রয়ে গেছে! নামায পড়ে এটা করতে হবে, সেটা করতে হবে, এক কাপ চা না খেলে তো আর চলছেই না, একটা পান মুখে পুরতে না পারলে তো মস্তিষ্ক সজীবই হচ্ছে না, চুরোটে একটা টান দিতে না পারলে যে মাথাটাই খারাপ হয়ে গেল, দোকানে কত কাষ্টমার ভীড় করে আছে, অফিসে কত লোক কাজ নিয়ে বসে আছে, জরুরী মুতালাআ রয়েছে, লেখার মত কত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মাথার মধ্যে রয়েছে, এখনই লিখে নেয়া চাই, একটু হিসেব বাকি রয়েছে, ওটা শেষ করতে পারলেই আজকের কাজের ঝামেলা মিটে যায়, ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু নামাযের ক্ষেত্রে নয়, তেলাওয়াত করতে বসেছেন, ওয়াজ-নসীহত শুনতে বসেছেন, ওজিফা আদায় করতে বসেছেন, ধর্মীয় বইপত্র পড়তে শুরু করেছেন— এসব ক্ষেত্রেও আপনার মধ্যে নানান অজুহাতে তাড়াহুড়োর মনোভাব জাগ্রত হবে। নানান ব্যস্ততার কথা মনে আসবে। আসলে এই যে চা পান চুরোটের চিন্তা, হিসেব নিকেশ ইত্যাদির চিন্তা— এগুলো প্রকৃতপক্ষে কোন ব্যস্ততাই নয়। এ বিষয়গুলো এমন যা পাঁচ দশ মিনিট পরে করলেও তেমন কোন অসুবিধে হয় না। মনকে বলুন, আচ্ছা! ধীরে সুস্থে নামাযটা আদায় করতে না হয় পাঁচ মিনিট বিলম্ব হবে, তাতে এমন কোনই ক্ষতি হবে না। এগুলো পাঁচ মিনিট পরে করলেও চলবে। মনকে আরও বলুন, প্রকৃতপক্ষে আমার কোনই ব্যস্ততা নেই, অহেতুকই আমি ব্যস্ততা অনুভব করছি। এরূপ চিন্তা করলে দেখবেন সত্যিই আপনার মন থেকে ব্যস্ততার অনুভূতি বিলীন হয়ে গেছে।