📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 নফছ ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা করার গুরুত্ব

📄 নফছ ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা করার গুরুত্ব


নফছ ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা করার গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা, মনের মধ্যে সৃষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল চিন্তাই মানুষকে খারাপ পথে নিয়ে যায়। পক্ষান্তরে ভাল চিন্তা-চেতনাই ভাল পথে অগ্রসর করে। একজন মানুষ হঠাৎই খারাপ হয়ে যায় না। প্রথমে তার মধ্যে খারাপ চিন্তা-চেতনার উদয় ঘটে। সে যখন সেই খারাপ চিন্তা-চেতনাকে প্রতিহত করতে সক্ষম না হয়, তখন অবলীলায় সেই খারাপ চিন্তা-চেতনার পথে অগ্রসর হয়। এভাবে সে খারাপ হয়ে যায়। যেমন- একজনের মনে যেনা করার চিন্তা উদয় হল, বা গান শোনার চিন্তা উদয় হল, কিংবা মদ গাঁজা খাওয়ার বা অন্য কোনো নেশা গ্রহণের চিন্তা উদয় হল। এখন সে যদি এই চিন্তাকে প্রতিহত করতে সক্ষম না হয়, তাহলে সে এসব পাপের দিকেই অগ্রসর হয়ে খারাপ হয়ে যাবে। আর যদি এসব চিন্তাকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়, তাহলে সে খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। তাই মনের চিন্তার বিষয়কে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। খারাপ চিন্তাকে শনাক্ত করে সেটাকে প্রতিহত করার ব্যাপারে যত্নবান না হলে খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 নফছে আম্মারাহ থেকে মুক্ত নয় কেউ

📄 নফছে আম্মারাহ থেকে মুক্ত নয় কেউ


মনে রাখতে হবে, খারাপ চিন্তা উদয় হওয়া থেকে কেউ নিরাপদ নয়। কারণ, নফছে আম্মারাহ থেকে মুক্ত নয় কেউ। নফছে আম্মারার পক্ষ থেকে খারাপ চিন্তা উদয় করে দিয়ে ক্ষতির দিকে ধাবিত করার আশংকা থেকে মুক্ত নয় কেউ। এমনকি কুরআনে কারীমের একটি আয়াতে জলীলুল কদর নবী হযরত ইউসুফ (আ.)-এর একটি উক্তি বর্ণিত হয়েছে— وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ . অর্থাৎ, আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় নফছ মন্দ বিষয়ের নির্দেশ দেয়। (সূরা ইউসুফ: ৫৩) নবীর বেলায় যখন বিষয়টা এমন, অন্যদের বেলায় তো অবশ্যই তেমনি। তাই কেউ যতই কামেল হোক না কেন নফছে আম্মারার ওয়াছওয়াছা থেকে কখনই মুক্ত হতে পারবে না। নফছে আম্মারাহ ও তার সহযোগী শয়তানের সঙ্গে মোকাবেলা করার পর্যায় থেকে কেউ কখনই অব্যাহতি লাভ করতে পারবে না। অতএব নফছ ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা করার পদ্ধতি সম্বন্ধে অবগত হওয়া সকল স্তরের সকলের জন্য জরুরি পর্যায়ের বিষয়।

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 মনের আবেগ-অনুভূতি যতটুকু বান্দার ইখতিয়ারে

📄 মনের আবেগ-অনুভূতি যতটুকু বান্দার ইখতিয়ারে


মনের মধ্যে কখন কোন্ ধরনের আবেগ-অনুভূতি প্রবেশ করবে, কখন মনের পর্দায় কোন আবেগ-অনুভূতি আবির্ভূত হবে, মন কখন কী বলে উঠবে, কোন্ চিন্তা-ভাবনা কখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে, তা কারও ইখতিয়ারী বিষয় নয়। এ বিষয়টা সম্পূর্ণ আল্লাহর ইখতিয়ারে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনুল আস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীছে এসেছে- রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, «إِنَّ قُلُوْبَ بَنِي آدَمَ كُلَّهَا بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَنِ كَقَلْبٍ وَاحِدٍ يُصَرِّفُهُ حَيْثُ يَشَاءُ» . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ - صلى الله عليه وسلم- « اللهم مُصَرِّفَ الْقُلُوبِ صَرِفْ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ ». অর্থাৎ, “বনী আদমের ক্বলবসমূহ আল্লাহর দুই আঙ্গুলের মধ্যে একটি ক্বলবের ন্যায় (তথা সম্পূর্ণই আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে), যেভাবে তিনি চান সেভাবে তাকে ঘুরান। এ কথা বর্ণনা করার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআ করলেন, হে ক্বলবসমূহের পরিবর্তনকারী! আমাদের ক্বলবসমূহ তোমার আনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দাও। (মুসলিম)

এ হাদীছে সম্ভবত চিন্তা-চেতনার যে স্তর মানুষের ইখতিয়ার বহির্ভূত, সে দিকেই ইংগিত করা হয়েছে। তবে চিন্তার একটা স্তর বান্দার ইখতিয়ারের আওতাভুক্ত। সেটা হল কোন চিন্তাকে বারবার মনের মধ্যে রোমন্থন করা এবং চিন্তাকে সংকল্পের স্তরে পৌঁছানোর তৎপরতা। চিন্তাকে রোমন্থন করার মধ্যেও বান্দার ইখতিয়ার থাকে, আবার সংকল্পের স্তরে পৌঁছানোর মধ্যেও বান্দার ইখতিয়ার থাকে। এজন্য কোনো পাপ কাজের সংকল্প করলে এবং সংকল্পজাত পদক্ষেপ শুরু করলে তার জন্য বান্দা পাপী হয়। কেননা, এটা তার ইখতিয়ারে ঘটে থাকে। অতএব মনে কোনো খারাপ আবেগ- অনুভূতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে, মনের মধ্যে কোনো খারাপ ইচ্ছা জাগ্রত হলে সেটা যেন সংকল্পে রূপ নিতে না পারে সেজন্য মনের জবান দিয়ে তার বিপক্ষে বক্তব্য রাখতে হবে, সেই খারাপটার অনুকূলে নফছ ও শয়তান বক্তব্য রাখলে নফছ ও শয়তানের সাথে বাহাছ করতে হবে, নফছ ও শয়তানের পেশ করা দলীল-প্রমাণ ও যুক্তিকে খণ্ডন করতে হবে, নফছ ও শয়তানের সাথে চালাতে হবে মোকাবেলা। "নফছ ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা" শীর্ষক এ পুস্তকে এমন সব বাহাছের কথাই তুলে ধরা হবে। এসব বাহাছে বিজয়ী হতে পারলেই হবে নফছের সঙ্গে মোকাবেলায় বিজয়। এটাই হল নফছের সঙ্গে জেহাদ। নফছের সঙ্গে জেহাদই হচ্ছে সবচেয়ে বড় জেহাদ।

তবে মনে রাখতে হবে যে, নফছ ও শয়তানের সঙ্গে এই বাহাছে বিজয়ী হওয়ার জন্য শুধু নফছ ও শয়তানের প্রতারণা-কৌশল ও তা মোকাবেলা করার মত যুক্তি-তর্ক ও পদ্ধতি জানাই যথেষ্ট নয়, আল্লাহ তাআলার রহমতেরও একান্ত প্রয়োজন। তাই এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলার রহমত কামনা করেই অঙ্গনে অবতীর্ণ হওয়া বৈ গত্যন্তর নেই। আমরা শুধু এ বিষয়েই নয়, সর্ববিষয়ে সদা আল্লাহ তাআলার রহমত কামনা করি। আমীন!

📘 নফস ও শয়তানের সাথে মোকাবেলা 📄 ক্বলব, নফছ ও রূহ সম্বন্ধে কিছু কথা

📄 ক্বলব, নফছ ও রূহ সম্বন্ধে কিছু কথা


ক্বলব শব্দের এক অর্থ হচ্ছে হৃৎপিণ্ড। এর আর এক অর্থ হচ্ছে মন/অন্তর/হৃদয়। এই অর্থে ক্বলব হল সব রকম ভাবনা-চেতনার আকর। মনের মধ্যে আছে একটি স্মৃতি ভাণ্ডার। সেই স্মৃতিভাণ্ডারে সঞ্চারিত হয় ও সঞ্চিত থাকে সব রকমের আবেগ, অনুভূতি, কল্পনা, অনুমান, সংবেদন ইত্যাদি। এই আবেগ, অনুভূতি, কল্পনা, অনুমান ও সংবেদন ইত্যাদির কোনোটি যখন চিন্তা ও ইচ্ছায় রূপ নিয়ে কোন লক্ষ্যে অগ্রসর হতে চায়, তখন মন তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। এ হিসাবে মনকে তুলনা করা যায় একটা ইঞ্জিনের সঙ্গে। আর ঐ চিন্তা বা ইচ্ছাকে তুলনা করা যায় একজন আরোহীর সঙ্গে। আমাদের জড়দেহ হল সেই গাড়ির বডি সমতুল্য। আর রূহ তথা আত্মা/প্রাণ হল ইঞ্জিনের শক্তি সমতুল্য। আত্মার শক্তিতে মনরূপ ইঞ্জিন তার গাড়ির বডি তথা এই জড়দেহ নিয়ে অগ্রসর হয় গন্তব্যের দিকে। অবশ্য এই জড়দেহ ছাড়াও রূহ (আত্মা/প্রাণ) ও ক্বলবের আরও একটা অজড় দেহ রয়েছে, যাকে বলে "জিমে মিছালী” তথা প্রতীকী দেহ বা রূপক দেহ। নিদ্রাবস্থায় এই জিমে মিছালী নিয়েই আত্মা ও ক্বলব বিচরণ করে থাকে। উল্লেখ্য, নিদ্রার সময় পরমাত্মা¹ বিচরণে বের হয়। জীবাত্মা² তখনও জড়দেহে বিদ্যমান থাকে, ফলে জড়দেহ বেঁচে থাকে।

ক্বলব তথা ইঞ্জিন যেদিকে চলে, জড়দেহরূপ গাড়ির বডিও সেদিকেই চলে। রূহ, ক্বলব ও জড়দেহ- এই তিনটি মিলেই হল একটি গাড়ি। এই গাড়ির ড্রাইভার হয়ে থাকে ফিতরতে সালীমা (সুস্থ স্বভাব বা সু-প্রবৃত্তি) কিংবা নফস্ (কু-প্রবৃত্তি)। "ফিতরতে সালীমা" হল মানুষের মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত জন্মগত একটি সুস্থ স্বভাব, যা মানুষকে ইতিবাচক পথের দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কুরআনে কারীমের একটি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে— فَطْرَةَ اللَّهِ الَّذِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ . অর্থাৎ, আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত স্বভাব-প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানবকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর এই সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সঠিক দ্বীন। (সূরা রূম: ৩০) এ আয়াতে "ফিতরত" বলে এই ফিতরতে সালীমা তথা সুস্থ স্বভাবকেই বোঝানো হয়েছে, যা মানুষকে দ্বীনসম্মত ইতিবাচক পথের দিক-নির্দেশনা দিয়ে থাকে। প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবে এ স্বভাব প্রদত্ত হয়ে থাকে। এ সম্বন্ধে হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত এক হাদীছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, كُلُّ مَوْلُودِ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَحِّسَانِهِ كَمَثَلِ الْبَهِيمَةِ تُنْتِجُ الْبَهِিমَةَ هَلْ تَرَى فِيهَا جَدْعَاءَ.» (رواه البخاري برقم ١٣٨٥) অর্থাৎ, প্রত্যেক সন্তান ফিতরতে সালীমার উপর জন্মগহণ করে, তারপর তার পিতা-মাতা তাকে ইয়াহূদী বানায় বা নাসারা (খৃষ্টান) বানায় কিংবা মাজুসী (অগ্নিপূজক) বানায়। যেমন একটা অবলা প্রাণী একটি সুস্থ বাচ্চা জন্ম দেয়, তারপর তোমরা সেই বাচ্চাদের মধ্যে নাক-কান কর্তিত কোনো শাবক দেখতে পাও কি? (বোখারী)

এ হাদীছে বোঝানো হয়েছে, প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবে যে স্বভাব প্রদত্ত হয় তা তাকে ইতিবাচক পথের দিক-নির্দেশনা দেয়, নেতিবাচক পথের দিক-নির্দেশনা দেয় না। বরং পরবর্তীতে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে তার মধ্যে নেতিবাচক চিন্তা-চেতনার উদ্রেক হয়³। যেমন- একটি প্রাণীর বাচ্চা জন্মগতভাবেই নাক/কান কর্তিত অবস্থায় জন্মায় না, পরবর্তীতে মানুষ তার নাক/কান কেটে খুঁতযুক্ত করে দেয়। এভাবে মানুষ ফিতরতে সালীমা নিয়ে জন্মগ্রহণ করার পরও পরবর্তীতে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে তার মধ্যে খুঁত দেখা দেয় অর্থাৎ, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে তার মধ্যে নেতিবাচ্যতা দেখা দেয়। সারকথা- মানুষের মধ্যে জন্মগত যে সুস্থ স্বভাব সেটিই হল ফিতরতে সালীমা। পক্ষান্তরে নফস্ বা প্রবৃত্তি হল মানুষের মধ্যে বাধা এমন একটা শক্তি যাতে ভাল ও মন্দ উভয় বৃত্তি থাকে। উভয় রকম প্রভাব গ্রহণের যোগ্যতাই আল্লাহ তার মধ্যে রেখেছেন। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا، فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا، قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا، وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا . অর্থাৎ, শপথ (মানুষের) নফসের এবং যিনি তাকে (সবদিক থেকে) সুসমঞ্জস করেছেন তার। অতঃপর তিনি তার (নফসের) মধ্যে ভাল ও মন্দের বৃত্তি দিয়ে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি নফসকে পবিত্র করে সে নিশ্চিত সফলকাম হয় আর যে তাকে কলুষিত করে সে ব্যর্থ মনোরথ হয়। (সূরা আশ-শামস্: ৭-১০)

এ আয়াতে বোঝানো হয়েছে যে, নফসের মধ্যে ভাল-মন্দ উভয় রকম প্রভাব গ্রহণের যোগ্যতা রাখা হয়েছে। যখন নফস্ শয়তানের কু-মন্ত্রণা কিংবা পারিপার্শ্বিকতার কু-প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয় এবং নেতিবাচক দিকটা তার মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে, তখন সে আখ্যায়িত হয় নফসে আম্মারাহ বা কু-প্রবৃত্তি বলে। আবার ক্রমাগত নফসের কথা অমান্য করতে থাকলে, মন্দটাকে বারবার তার সামনে মন্দ হিসাবে তুলে ধরতে থাকলে এবং অব্যাহত সু-দিক-নির্দেশনা প্রদান অব্যাহত রাখলে নফস্ও মন্দটাকে মন্দ বলতে শেখে এবং মন্দের পক্ষে উস্কানী বন্ধ করে দেয়। এ পর্যায়ে উপনীত হলে তখন নফসকে বলা হয় "নফসে লাওয়ামাহ" তথা মন্দকে তিরস্কার জানানো প্রবৃত্তি। তারপর এ অবস্থা আরও অব্যাহত থাকলে এক পর্যায়ে নফসের পক্ষ থেকে এতমীনান হওয়া যায় যে, সে আর মন্দের উস্কানী দিবে না। নফস্ এ পর্যায়ে উপনীত হলে তাকে বলা হয় "নফসে মুত্যুায়িন্না” অর্থাৎ, এমন নফস্ যার ব্যাপারে এতমীনান হওয়া যায় এবং যার থেকে আশংকা মুক্ত থাকা যায়। তবে স্বভাবগতভাবে নফসের মধ্যে কু-প্রভাব গ্রহণের বৃত্তি প্রবল থাকায় এবং শুরু থেকেই শয়তান কর্তৃক তাকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা জোরদার হওয়ায় নফস্ নফসে আম্মারাহ তথা মন্দের উস্কানীদাতাই হয়ে থাকে। তাই সাধারণভাবে নফস্ বলতে নফসে আম্মারাহ তথা কু-প্রবৃত্তিকেই বোঝানো হয়ে থাকে। যাহোক বলা হচ্ছিল, মনরূপ ইঞ্জিনের (গাড়ির) ড্রাইভার হয়ে থাকে এই ফিতরতে সালীমা কিংবা নফস্ তথা কু-প্রবৃত্তি।

টিকাঃ
১। এখানে "পরমাত্মা" বলে বোঝানো হয়েছে আত্মার যে অংশটুকুর ফলে মানুষের চিন্তা-চেতনা সক্রিয় থাকে। ঘুমের সময় মানুষের দেহের অভ্যন্তরে এই পরমাত্মা থাকে না বলেই তখন চিন্তা-চেতনা সক্রীয় থাকে না।
২। জীবাত্মা" বলে বোঝানো হয়েছে আত্মার যে অংশটুকুর ফলে মানুষ বেঁচে থাকে। ঘুমের সময় দেহের অভ্যন্তরে জীবাত্মা থাকে বলে মানুষ বেঁচে থাকে, কিন্তু পরমাত্মা না থাকায় চিন্তা-চেতনা সক্রীয় থাকে না।
৩। মানুষ পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় বিভ্রান্ত হলেও মানুষের মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত জন্মগত যে সুস্থ স্বভাব তা কখনও নিঃশেষ হয়ে যায় না। এরই ফলে চরম বিভ্রান্ত লোকও যেকোনো সময় ভাল হয়ে উঠতে পারে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px