📘 নফসের গোলামী ও মুক্তির উপায় > 📄 কুরআনে নিষেধ ও ভর্ৎসনা

📄 কুরআনে নিষেধ ও ভর্ৎসনা


১. আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর নবী দাউদ [] কে প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করেন:
يَا دَاوُودُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ Z ص
“হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি। অতএব, তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়সঙ্গতভাবে রাজত্ব কর এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।” [সূরা ছোয়াদ: ২৬]
২. আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর খালীল ও হাবীব মুহাম্মদ []কে মানুষের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করে বলেন:
(১) قُلْ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ قُلْ لَا أَتَّبِعُ أَهْوَاءَكُمْ قَدْ ضَلَلْتُ إِذًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُهْتَدِينَ الأنعام
“আপনি বলে দিন: আমাকে তাদের এবাদত করতে নিষেধ করা হয়েছে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের এবাদত কর। আপনি বলে দিন: আমি তোমাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করব না। কেননা, তাহলে আমি পথভ্রান্ত হয়ে যাবো এবং সুপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হবো না।” [সূরা আন'আম: ৫৬]
(২) قُلْ هَلُمَّ شُهَدَاءَكُمُ الَّذِينَ يَشْهَدُونَ أَنَّ اللَّهَ حَرَّمَ هَذَا فَإِنْ شَهِدُوا فَلَا تَشْهَدْ مَعَهُمْ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بالْآخِرَةِ وَهُمْ بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ Z الأنعام
“আপনি বলুন: তোমাদের সাক্ষীদেরকে আন, যারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তা'য়ালা এগুলো হারাম করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে আপনি এ সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না এবং তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং যারা স্বীয় প্রতিপালকের সমতুল্য অংশীদার করে।" [সূরা আন'আম: ১৫০]
(৩) ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ Z الجاثية
“এরপর আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরীয়তের উপর। অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না।” [সূরা জাসিয়া: ১৮]
(৪) وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلِّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً Z المائدة
“আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতঃ এব আপনি তাদের পারস্পরিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না।” [মায়েদা: ৪৮]
(৫) وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضٍ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ Z المائدة
“আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন; তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না এবং তাদের থেকে সতর্ক থাকুন-যেন তারা আপনাকে এমন কোন নির্দেশ থেকে বিচ্যুত না করে, যা আল্লাহ আপনার প্রতি নাজিল করেছেন।" [সূরা মায়েদা: ৪৯]
(৬) فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ Z الشورى
"সুতরাং আপনি ওর দিকে সবাইকে আহবান করুন এবং এতেই দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকুন যেভাবে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না।” [সূরা শূরা: ১৫]
(৭) وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرِ Z البقرة
"আর ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা আপনি তাদের ধর্ম অনুসরণ না করা পর্যন্ত আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না; আপনি বলুন! আল্লাহর পথ-নির্দেশিত পথই সুপথ এবং তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে তৎপর যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন, তবে আল্লাহ হতে আপনার জন্যে কোনই অভিভাবক ও সাহায্যকারী নেই।” [সূরা বাকারা: ১২০]
(৮) وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ بِكُلِّ آيَةٍ مَا تَبِعُوا قَبْلَتَكَ وَمَا أَنْتَ بِتَابِعٍ قَبْلَتَهُمْ وَمَا بَعْضُهُمْ بِتَابِعِ قِبْلَةَ بَعْضٍ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ إِنَّكَ إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ البقرة
“আপনি যদি আহলে কিতাবদের কাছে সমুদয় নিদর্শন উপস্থাপন করেন, তবুও তারা আপনার কেবলা মেনে নেবে না এবং আপনিও তাদের কেবলা মানেন না। যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন, সে জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে নিশ্চয়ই আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।” [সূরা বাকারা: ১৪৫]
(৯) وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَمَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَلِيٌّ وَلَا وَاقِ الرعد
“এভাবেই আমি এ কোরআনকে আরবী ভাষায় নিদর্শনরূপে অবতারণ করেছি। যদি আপনি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেন আপনার কাছে জ্ঞান পৌঁছার পর, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার না কোন সাহায্যকারী আছে এবং না কোন রক্ষাকারী।" [সূরা রা'দ:৩৭]
৩. আল্লাহ তা'য়ালা আহলে কিতাবকে প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করে বলেন: قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ 2 المائدة
"বলুন: হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা স্বীয় ধর্মে অন্যায় বাড়াবাড়ি করো না এবং এতে ঐ সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে।" [সূরা মায়েদা: ৭৭]
৪. আল্লাহ তা'য়ালা মুমিনদেরকে প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করে বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا وَإِنْ تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا النساء
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজেদের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনদের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশি। অতএব তোমরা বিচার করতে গিয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ- কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [সূরা-নিসা: ১৩৫]
৫. প্রবৃত্তির অনুসরণ করলে আসমান-জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে বলে মহান আল্লাহর ঘোষণা:
وَلَوِ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْوَاءَهُمْ لَفَسَدَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ بَلْ أَتَيْنَاهُمْ بِذِكْرِهِمْ فَهُمْ عَنْ ذِكْرِهِمْ مُعْرِضُونَ المؤمنون
“সত্য যদি তাদের কাছে প্রবৃত্তির অনুসারী হত, তবে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল এবং এগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছুই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত। বরং আমি তাদের দান করেছি উপদেশ, কিন্তু তারা তাদের উপদেশ অনুধাবন করে না।” [সূরা মু'মিনুন: ৭১]
৬. আল্লাহ তা'য়ালা প্রবৃত্তির গোলামীর ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন:
(১) فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَنْ لَا يُؤْمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَتَرْدَى Z طه
“সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস রাখে না এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন আপনাকে তা থেকে নিবৃত না করে। নিবৃত হলে আপনি ধ্বংস হয়ে যাবেন।” [সূরা ত্ব-হা:১৭]
(২) أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا Z الفرقان
“আপনি কি তাদের দেখেন না, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদারী হবেন?” [সূরা ফুরকান: ৪৩]
(৩) فَإِنْ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ القصص
“অত:পর তারা যদি আপনার কথায় সাড়া না দেয়, তবে জানবেন, তারা শুধু নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। আল্লাহর হেদায়েতের পরিবর্তে যে ব্যক্তি নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার চাইতে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয়ই আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ দেখান না।” [সূরা কাসাস: ৫০]
(৪) بَلِ اتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَهْوَاءَهُمْ بِغَيْرِ عِلْمٍ فَمَنْ يَهْدِي مَنْأَضَلَّ اللَّهُ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ 2 الروم
"বরং যারা জালেম, তারা অজ্ঞতাবশতঃ তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে থাকে। অতএব, আল্লাহ্‌ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কে বোঝাবে? তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।” [সূরা রুম: ২৯]
(৫) أَفَمَنْ كَانَ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّهِ كَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ Z محمد
“যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে।” [সূরা মুহাম্মদ: ১৪]
(৬) وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ حَتَّى إِذَا خَرَجُوا مِنْ عِنْدِكَ قَالُوا لِلَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مَاذَا قَالَ آنفًا أُولَئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ Z محمد
“তাদের মধ্যে কতক আপনার দিকে কান পাতে, অত:পর যখন আপনার কাছ থেকে বাইরে যায়, তখন যারা শিক্ষিত তাদেরকে বলে: এইমাত্র তিনি কি বললেন? এদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তারা নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে।" [সূরা মুহাম্মাদ: ১৬]
(৭) أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِه وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَره غشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ Z الجاثية
"আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে স্বীয় উপাস্য স্থীর করেছে? আল্লাহ জেনে-শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মোহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথপ্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তা-ভাবনা করবে না।” [সূরা জাসিয়া: ২৩]
(৮) أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا . أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا Z الفرقان
“আপনি কি তাকে দেখেন না, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন? আপনি কি মনে করেন যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং আরও পথভ্রান্ত।” [সূরা ফুরকান: ৪৩-৪৪]
(৯) وَكَذَّبُوا وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ وَكُلُّ أَمْرٍ مُسْتَقِرٌّ القمر
“তারা মিথ্যারোপ করেছে এবং নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। প্রত্যেক কাজ যথাসময়ে স্থিরকৃত হয়।" [সূরা কামার: ৩]
৭. আদম [ﷴ]-এর সন্তান কাবীলের আপন ভাই হাবীলকে হত্যার কারণ ছিল প্রবৃত্তির গোলামী:
فَطَوَّعَتْ لَهُ نَفْسُهُ قَتْلَ أَخِيهِ فَقَتَلَهُ فَأَصْبَحَ مِنَ الْخَاسِرِينَ Z المائدة
"অত:পর তার নফস তাকে ভ্রাতৃহত্যায় উদ্বুদ্ধ করল। অনন্তর সে তাকে হত্যা করল। ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।” [সূরা মায়েদা: ৩০]
৮. মেশরের আজীজের স্ত্রী জুলায়খার ইজ্জতহানীর কারণ ছিল প্রবৃত্তির গোলামী:
[ وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّي إِنَّ رَبِّي غَفُورٌ رَحِيمٌ ] 7 يوسف
"আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় মানুষের প্রবৃত্তি মন্দ কর্মপ্রবণ কিন্তু সে নয়-আমার পালনকর্তা যার প্রতি অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু।” [সূরা ইউসুফ: ৫৩]
৯. তওরাতের হাফেজ বাল'আম ইবনে বা'উরের ধ্বংসের কারণ প্রবৃত্তির গোলামী:
[ وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ . وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ ذَلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ ] 7 الأعراف
"আর আপনি তাদেরকে শুনিয়ে দিন, সে লোকের অবস্থা, যাকে আমি নিজের নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অথচ সে তা পরিহার করে বেরিয়ে গেছে। আর তার পিছনে লেগেছে শয়তান, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। অবশ্য আমি ইচ্ছা করলে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিতাম সে সকল নিদর্শনসমূহের দৌলতে। কিন্তু সে যে অধঃপতিত এবং নিজের প্রবৃত্তির অনুগামী হয়ে রইল সুতরাং তার অবস্থা হল কুকুরের মত; যদি তাকে তাড়া কর তবুও হাঁপাবে আর যদি ছেড়ে দাও তবুও হাঁপাবে। এ হল সেসব লোকের উদাহরণ, যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার নিদর্শনসমূহকে। অতএব, আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনী, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।" [সূরা আ'রাফ: ১৭৫-১৭৬]

টিকাঃ
১. রাওযাতুল মুহিব্বীন: পৃ:৪৬৯

📘 নফসের গোলামী ও মুক্তির উপায় > 📄 হাদীসে নিষেধ ও ভর্ৎসনা

📄 হাদীসে নিষেধ ও ভর্ৎসনা


عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: تُعْرَضُ الْفَتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا فَأَيُّ قَلْبٍ أَشْرَبَهَا لكت فيه نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ وَأَيُّ قَلْبِ أَنْكَرَهَا نُكَتَ فِيهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ حَتَّى تَصِيرَ عَلَى قَلْبَيْنِ عَلَى أَبْيَضَ مِثْلِ الصَّفَا فَلَا تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتْ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَالْآخَرُ أَسْوَدُ مُرْبَادًا كَالْكُوزِ مُجَنِّيًا لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا إِلَّا مَا أُشْرِبَ مِنْ هَوَاهُ ». مسلم.
হুযাইফা [] থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [] কে বলতে শুনেছি: "মাদুরের গাঁথা পাতার সারির মত অন্তরের প্রতি একটির পর অপরটি ফেৎনা আসতে থাকবে। অত:পর যে অন্তর সে ফেৎনার প্রীতি পান করবে তাতে একটি কালো দাগ পড়ে যাবে। আর যে অন্তর সে ফেৎনাকে অস্বীকার করবে তাতে একটি সাদা দাগ পড়বে। এভাবে অন্তর দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি হলো: পিচ্ছিল অন্তর যাতে আসমান-জমিন থাকা অবধি ফেৎনা কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর অপরটি হলো: কালো-ধূসরবর্ণ অন্তর উপুর করা জগের মত। যা ভালকে ভাল ও মন্দকে মন্দ উপলব্ধি করতে পারে না বরং তার কুপ্রবৃত্তির প্রীতির অনুসরণ করে।”
عَنْ عَبْدِ اللهِ بنِ عَمْرِو بْنِ العَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: « لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هَوَاهُ تَبَعَاً لما جئتُ به ». [٢٧٦] شرح السنة وقال النووي في أربعينه : هذا حديث صحيح رويناه في كتاب الحجة بإسناد صحيح.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস [] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [] বলেছেন: “ততক্ষণ তোমাদের কেউ পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ তার প্রবৃত্তি আমার আনিত বিধানের অনুগত না হবে।'
عَنْ أَبِي بَرْزَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: « إِنَّمَا أَخْشَى عَلَيْكُمْ شَهْوَاتَ الْغَيِّ فِي بُطُونِكُمْ وَفُرُوجِكُمْ، وَمُضلات الْهَوَى » ، رواه أحمد والطبراني والبزار وبعض أسانيدهم رجاله ثقات صحيح الترغيب والترهيب - (ج ٢ / ص ٢٤٦)
আবু বারজা [৬] হতে বর্ণিত, তিনি নবী [] থেকে বর্ণনা করেন। তিনি [৫] বলেছেন: "আমি তোমাদের প্রতি তোমাদের পেট ও লজ্জাস্থানের কামনা-বাসনার ভ্রষ্টতা ও কুপ্রবৃত্তির গুমরাহী হতে ভয় করছি।”
عَنْ أَبِي عَامِرِ الهَوْزَنِي أَنَّهُ حَجَّ مَعَ مُعَاوِيَةَ فَسَمِعَهُ يَقُولُ قَامَ فِيْنَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَذَكَرَ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ قَبْلَكُمْ تَفَرَّقُوا عَلَى اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فِي الْأَهْوَاءِ، أَلَا وَإِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلَاثَ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فِي الْأَهْوَاءِ، كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةً، وَهِيَ الْجَمَاعَةُ أَلَا وَإِنَّهُ يَخْرُجُ فِي أُمَّتِي قَوْمٌ يَهْرُونَ هَوًى يَتَجَارَى بِهُمْ ذَلِكَ الْهَوَى كَمَا يَتَجَارَى الْكَلْبُ بصاحبه لا يَدَعُ مِنْهُ عِرْقًا وَلَا مَفْصَلاً إِلَّا دَخَلَهُ».
আবু আমের হাওজানী হতে বর্ণিত, তিনি মু'আবিয়া [4]-এর সঙ্গে হজ্ব করা অবস্থায় তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ [] একদিন আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেন: তোমাদের পূর্বে আহলে কিতাবরা কুপ্রবৃত্তির কারণে বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়। আর জেনে রাখ! আমার এ উম্মত কুপ্রত্তির কারণে অদূর ভবিষ্যতে তিহাত্তর দলে বিভক্ত হবে। একটি দল বাদে বাকিগুলো সব জাহান্নামে যাবে। সে দলটি হলো: সকল মুসলিমদের সম্মিলিত জামাত। আরো জেনে রেখ! আমার উম্মত থেকে একটি জাতি বের হবে যারা তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবে। সে কুপ্রবৃত্তি তাদেরকে ঐভাবে দৌড়াবে যেমন কুকুর তার সঙ্গীর সাথে দৌড়াই। প্রবৃত্তি তাদের প্রতিটি রগরেশায় ও জোড়ে জোড়ে প্রবেশ করবে।”
« ثَلَاثَ مُنْجِيَاتٌ : خَشْيَةُ اللهِ تَعَالَى فِي السِّرِّ وَ الْعَلَانِيَّةِ وَ الْعَدْلُ فِي الرِّضَا وَ الْغَضَبِ وَالْقَصْدُ فِي الْفَقْرِ وَ الْغَنِّى وَ ثَلَاثَ مُهْلِكَاتٌ : هَوَى مُتَّبَعٌ وَ شُحَّ مُطَاعٌ وَ إِعْجَابُ الْمَرْءِ بِنَفْسِهِ » . تخريج السيوطي ( أبو الشيخ في التوبيخ طس ) عن أنس . تحقيق الألباني انظر حديث رقم : ۳۰۳۹ في صحيح الجامع .
নবী [ﷺ] বলেছেন: “তিনটি নাজাতকারী জিনিস: প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর ভয়, সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টিতে ইনসাফ ও স্বচ্ছল ও অস্বচ্ছল অবস্থায় মিতব্যয়ীতা। আর তিনটি জিনিস ধ্বংসকারী: কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ, মান্য কৃপণতা এবং মানুষের আত্মমুগ্ধতা।”
«أَفْضَلُ الْجِهَادِ أَنْ يُجَاهِدَ الرَّجُلُ نَفْسَهُ وَ هَوَاهُ ». تخريج السيوطي ( ابن النجار ( عن أبي ذر تحقيق الألباني صحيح ) انظر حديث رقم : ۱۰۹۹ في صحيح الجامع .
নবী [ﷺ] বলেন: “মানুষের সর্বোত্তম জিহাদ হলো: তার নফস ও কুপ্রবৃত্তির সাথে জিহাদ।”

টিকাঃ
১. মুসলিম
২. সরহুস সুন্নাহ, ইমাম নববী তাঁর আরবা'য়ীনে বলেন: এ হাদীসটি সহীহ, আমি কিতাবুল হুজ্জাতে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছি।
১. আহমাদ, তাবরানী ও বাজ্জার, হাদীসটি সহীহ-সহীহত্তরগীব ওয়াত্তারহীব-আলবানী: ২/ খণ্ড পৃঃ ২৪৬ নং হাঃ নং ২১৪৩
১. হাদীসটি সহীহ লিগাইরিহী, যিলালুলজান্নাহ-আলবানী:১/২
১. হাদীসটি হাসান, সহীহুল জামে'-আলবানী হা: নং ৩০৩৯
২. হাদীসটি সহীহ, সহীহুল জামে'-আলবানী হা: নং ১০৯৯

📘 নফসের গোলামী ও মুক্তির উপায় > 📄 বিভিন্ন মনীষীদের বাণীতে নিষেধ

📄 বিভিন্ন মনীষীদের বাণীতে নিষেধ


১. আলী ইবনে আবি তালেব [রাঃ] বলেন: “আমি দু'টি জিনিসকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই: বড় আশা ও প্রবৃত্তির গোলামী; কারণ বড় আশা আখেরাতকে ভুলিয়ে দেয়। আর প্রবৃত্তির গোলামী সত্যকে গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখে। জেনে রাখ! দুনিয়া পেছনে যাচ্ছে আর আখেরাত সামনে আসতেছে। আর প্রতিটির সন্তান রয়েছে। অতএব, অখেরাতের সন্তান হওয়ার চেষ্টা কর এবং দুনিয়ার সন্তান হওয়ার চেষ্টা করা না। এ জগতে আমল আছে হিসাব নেই এবং পরকালে হিসাব আছে আমল নেই।”
২. ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বেহ বলেন: “দ্বীনের জন্য সবচেয়ে সাহায্যকারী চরিত্র হলো: আল্লাহমুখী হওয়া এবং ধ্বংসের জন্য হলো প্রবৃত্তির গোলামী। প্রবৃত্তির গোলামীর মধ্য হতে হচ্ছে দুনিয়ামুখী হওয়া। দুনিয়ামুখী হওয়ার মধ্য হতে সম্পদ ও পদের ভালবাসা। সম্পদ ও পদের ভালবাসা হারামকে হালাল করে এবং এর দ্বারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি আসে। আর আল্লাহর অসন্তুষ্টি এমন একটি রোগ যার ঔষধ তাঁর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য আর কিছুই নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি এমন ঔষধ যার পরে আর কোন রোগ ক্ষতি করতে পারে না। অতএব, যে তার প্রতিপালককে রাজি করাতে চায় তাকে তার প্রবৃত্তিকে নারাজ করাতে হবে; কারণ যে তার প্রবৃত্তিকে নারাজ করতে পারবে না সে তার প্রতিপালককে খুশী করাতে পারবে না। আর মানুষ তার প্রতি দ্বীনের কোন কাজ যখনই ভারী মনে করে ছাড়তে থাকবে একদিন এমন হবে যে, তার সাথে দ্বীনের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।"
৩. ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন: দাবিতে প্রবৃত্তির অনুসারীদের চাইতে বড় মিথ্যুক আর কাউকে দেখিনি। অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানে শিয়া- রাফেযীদের চাইতে বড় মিথ্যাসাক্ষী প্রদানকারী কাউকে দেখিনি।
৩. ফুযাইল ইবনে ইয়ায বলেন: “যার প্রতি তার প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার অনুসরণ বিজয়ী হবে, তার থেকে সকল প্রকার তওফিকের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে।"
৪. আতা বলেন: “যার প্রবৃত্তি তার বিবেকের উপর এবং অধৈর্য ধৈর্যের উপর জয়ী হবে, সে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে।"
৫. আলী ইবনে সাহল বলেন: “বিবেক ও প্রবৃত্তি দু'টির মাঝে ঝগড়া লাগে। এরপর তওফিক হয় বিবেকের বন্ধু এবং অপদস্ত হয় প্রবৃত্তির বন্ধু। আর নফস দুইজনের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকে যার জয়ী হয় তার সঙ্গে থাকে।"
৬. ইমাম গাজ্জালী বলেন: “মূলত দ্বীনের সকল বৈশিষ্ট্য ও সুন্দর চরিত্র ভালবাসার ফলাফল। আর যে ভালবাসা ফলপ্রসূ নয়, তা হচ্ছে প্রবৃত্তির গোলামী যা নিকৃষ্ট চরিত্র। এ ছাড়া যখন প্রবৃত্তির গোলামী জয়ী হয় তখন তোমাকে সে বধির ও অন্ধ বানিয়ে ফেলে। আর তখন ভয় থাকে না হেদায়েতে জটিলতা বরং ভয় হয় প্রবৃত্তির গোলামীর।”
৭. ইমাম ইবনুল কায়্যেম বলেন: “প্রতিটি বান্দার শুরু ও শেষ রয়েছে, যার শুরুটা প্রবৃত্তির গোলামী দ্বারা তার শেষ অপদস্ত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত ও বালা-মসিবত। যতটুকু প্রবৃত্তির গোলামী হবে ততটুকু হবে তার বিপদ। বরং তার শেষ হবে এমন আজাব দ্বারা যা সর্বদা সে অন্তরে ব্যথা অনুভব করতে থাকবে।---- আর যার শুরুটা হবে প্রবৃত্তির বিপরীত করা এবং বিবেকের অনুসরণ দ্বারা তার পরিণাম হবে ইজ্জত-সম্মান, অভাবমুক্ত এবং আল্লাহ ও মানুষের নিকট সম্মানিত।
৮. আবু আলী আদ্দাক্কাক বলেন: “যে যৌবনে তার নফসের কামনা-বাসনার মালিক হতে পারবে আল্লাহ তা'য়ালা তাকে তার পরিণতবয়সে সম্মানিত করবেন।"
৯. মুহাল্লাব ইবনে আবী সুফরাকে বলা হলো: কী দ্বারা এসব অর্জন করতে পেরেছেন? তিনি বললেন: দৃঢ়তার অনুসরণ এবং প্রবৃত্তির নাফরমানি দ্বারা। ইহাই হচ্ছে দুনিয়ার শুরু ও শেষ। আর আখেরাতে আল্লাহ তা'য়ালা জান্নাতকে শেষ স্থান করে দিয়েছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে নিষেধ করে। আর যে প্রবৃত্তির গোলামী করে তার জন্য করেছেন জাহান্নামকে।”
১০. জুবাইর বলেন: “মানুষ তার নফসকে যখন যা চাবে তাই দেবে ও বারণ করবে না তখন সে প্রতিটি বাতিলের কামনা করবে এবং বয়ে আনবে তার জন্যে পাপ ও লাঞ্ছনা।”
১১. আবু ইসহাক শীরাজী বলেন:" যদি তোমাকে তোমার নফস একদিন কামনা-বাসনার কথা বলে আর তার বিপরীত করার কোন রাস্তা থাকে তবে সম্ভবপর বিপরীত কর; কারণ নফসের চাওয়া হলো শত্রু এবং তার বিপরীত হলো মিত্র।
১২. মালেক ইবনে দীনার বলেন: "তওরাতে পড়েছি যে, যার জ্ঞান তার প্রবৃত্তির উপরে বিজয়ী সেই হলো জয়ী বিজ্ঞ আলেম।"
১৩. ইবরাহীম তায়মী তাঁর দোয়াতে বলতেন: “হে আল্লাহ! সত্যের ব্যাপারে মতভেদ করা হতে আমাকে তোমার কিতাব ও নবীর সুন্নত দ্বারা হেফাজত কর। আরো হেফাজত কর তোমার হেদায়েত দ্বারা প্রবৃত্তির গোলামী করা থেকে, পথভ্রষ্ট থেকে, সংশয়, বক্রতা ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে।
১৪. কেউ বলেছেন: আসমানের নিচে আল্লাহ ছাড়া সবচেয়ে যার বেশি এবাদত করা হয় তা হলো: প্রবৃত্তির এবাদত তথা মন পূজা।
১৫. কোন একজন সালাফে সালেহীন বলেছেন: যে তার প্রবৃত্তির উপরে বিজয়ী সে একটি শহর বিজয়কারীর চাইতেও বেশি শক্তিশালী।
১৬. কেউ বলেছেন: প্রবৃত্তির গোলামী সবচেয়ে বড় বিপদ এবং দ্বীন-দুনিয়ার মারত্মক ক্ষতিকারক।
১৭. কেউ বলেছেন: জমিনের উপর সবচেয়ে ঘৃণ্য উপাস্য হলো প্রবৃত্তি।
১৮. কেউ বলেছেন: যদি তোমান নিকট দু'টি জিনিসের মাঝে শংসয় ঘটে তাহলে তোমার নফসের উপর যেটি ভারী মনে হয় সেটির অনুসরণ কর; কারণ নফসের উপর সত্যটি ছাড়া ভারী হয় না।
১৯. কেউ বলেছেন: প্রবৃত্তির বিপরীত করাতেই রয়েছে দ্বীনের ও আখেরাতের সম্মান এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইজ্জত। আর প্রবৃত্তির গোলামীতে রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে অপমান এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অপদস্ত।
২০. কেউ বলেছেন: আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর নবীর মাধ্যমে যে সকল এবাদত, আনুগত্য, আদেশ-নিষেধ ইত্যাদি পাঠিয়েছেন তার সবকিছুর বিপরীত হয় শুধুমাত্র প্রবৃত্তির অনুসরণের দ্বারাই।
২১. কেউ বলেছেন: যখন বিবেক শরিয়তের অনুসারী না হয় তখন তার জন্যে প্রবৃত্তি ও শাহওয়াত ছাড়া আর কোন উপাস্য থাকে না। প্রবৃত্তির গোলামীতে ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নেই।
২২. কেউ বলেছেন: তোমার সাথী তুমি যা পছন্দ কর তাতে একমত এবং তুমি যা ঘৃণা কর তাতে দ্বিমত হলে বুঝতে হবে তুমি প্রবৃত্তির গোলামী করছ। আর যে তার প্রবৃত্তির গোলামী করে সে দুনিয়ার আরাম-আয়েশ তালাশকারী।

টিকাঃ
১. আল-ইবানাতুল কুবরা-ইবনু বাত্তাহ:২/২০৬

১. আলী ইবনে আবি তালেব [রাঃ] বলেন: “আমি দু'টি জিনিসকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই: বড় আশা ও প্রবৃত্তির গোলামী; কারণ বড় আশা আখেরাতকে ভুলিয়ে দেয়। আর প্রবৃত্তির গোলামী সত্যকে গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখে। জেনে রাখ! দুনিয়া পেছনে যাচ্ছে আর আখেরাত সামনে আসতেছে। আর প্রতিটির সন্তান রয়েছে। অতএব, অখেরাতের সন্তান হওয়ার চেষ্টা কর এবং দুনিয়ার সন্তান হওয়ার চেষ্টা করা না। এ জগতে আমল আছে হিসাব নেই এবং পরকালে হিসাব আছে আমল নেই।”
২. ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বেহ বলেন: “দ্বীনের জন্য সবচেয়ে সাহায্যকারী চরিত্র হলো: আল্লাহমুখী হওয়া এবং ধ্বংসের জন্য হলো প্রবৃত্তির গোলামী। প্রবৃত্তির গোলামীর মধ্য হতে হচ্ছে দুনিয়ামুখী হওয়া। দুনিয়ামুখী হওয়ার মধ্য হতে সম্পদ ও পদের ভালবাসা। সম্পদ ও পদের ভালবাসা হারামকে হালাল করে এবং এর দ্বারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি আসে। আর আল্লাহর অসন্তুষ্টি এমন একটি রোগ যার ঔষধ তাঁর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য আর কিছুই নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি এমন ঔষধ যার পরে আর কোন রোগ ক্ষতি করতে পারে না। অতএব, যে তার প্রতিপালককে রাজি করাতে চায় তাকে তার প্রবৃত্তিকে নারাজ করাতে হবে; কারণ যে তার প্রবৃত্তিকে নারাজ করতে পারবে না সে তার প্রতিপালককে খুশী করাতে পারবে না। আর মানুষ তার প্রতি দ্বীনের কোন কাজ যখনই ভারী মনে করে ছাড়তে থাকবে একদিন এমন হবে যে, তার সাথে দ্বীনের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।"
৩. ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন: দাবিতে প্রবৃত্তির অনুসারীদের চাইতে বড় মিথ্যুক আর কাউকে দেখিনি। অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানে শিয়া- রাফেযীদের চাইতে বড় মিথ্যাসাক্ষী প্রদানকারী কাউকে দেখিনি।
৩. ফুযাইল ইবনে ইয়ায বলেন: “যার প্রতি তার প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার অনুসরণ বিজয়ী হবে, তার থেকে সকল প্রকার তওফিকের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে।"
৪. আতা বলেন: “যার প্রবৃত্তি তার বিবেকের উপর এবং অধৈর্য ধৈর্যের উপর জয়ী হবে, সে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবে।"
৫. আলী ইবনে সাহল বলেন: “বিবেক ও প্রবৃত্তি দু'টির মাঝে ঝগড়া লাগে। এরপর তওফিক হয় বিবেকের বন্ধু এবং অপদস্ত হয় প্রবৃত্তির বন্ধু। আর নফস দুইজনের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকে যার জয়ী হয় তার সঙ্গে থাকে।"
৬. ইমাম গাজ্জালী বলেন: “মূলত দ্বীনের সকল বৈশিষ্ট্য ও সুন্দর চরিত্র ভালবাসার ফলাফল। আর যে ভালবাসা ফলপ্রসূ নয়, তা হচ্ছে প্রবৃত্তির গোলামী যা নিকৃষ্ট চরিত্র। এ ছাড়া যখন প্রবৃত্তির গোলামী জয়ী হয় তখন তোমাকে সে বধির ও অন্ধ বানিয়ে ফেলে। আর তখন ভয় থাকে না হেদায়েতে জটিলতা বরং ভয় হয় প্রবৃত্তির গোলামীর।”
৭. ইমাম ইবনুল কায়্যেম বলেন: “প্রতিটি বান্দার শুরু ও শেষ রয়েছে, যার শুরুটা প্রবৃত্তির গোলামী দ্বারা তার শেষ অপদস্ত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত ও বালা-মসিবত। যতটুকু প্রবৃত্তির গোলামী হবে ততটুকু হবে তার বিপদ। বরং তার শেষ হবে এমন আজাব দ্বারা যা সর্বদা সে অন্তরে ব্যথা অনুভব করতে থাকবে।---- আর যার শুরুটা হবে প্রবৃত্তির বিপরীত করা এবং বিবেকের অনুসরণ দ্বারা তার পরিণাম হবে ইজ্জত-সম্মান, অভাবমুক্ত এবং আল্লাহ ও মানুষের নিকট সম্মানিত।
৮. আবু আলী আদ্দাক্কাক বলেন: “যে যৌবনে তার নফসের কামনা-বাসনার মালিক হতে পারবে আল্লাহ তা'য়ালা তাকে তার পরিণতবয়সে সম্মানিত করবেন।"
৯. মুহাল্লাব ইবনে আবী সুফরাকে বলা হলো: কী দ্বারা এসব অর্জন করতে পেরেছেন? তিনি বললেন: দৃঢ়তার অনুসরণ এবং প্রবৃত্তির নাফরমানি দ্বারা। ইহাই হচ্ছে দুনিয়ার শুরু ও শেষ। আর আখেরাতে আল্লাহ তা'য়ালা জান্নাতকে শেষ স্থান করে দিয়েছেন, যে তার প্রবৃত্তিকে নিষেধ করে। আর যে প্রবৃত্তির গোলামী করে তার জন্য করেছেন জাহান্নামকে।”
১০. জুবাইর বলেন: “মানুষ তার নফসকে যখন যা চাবে তাই দেবে ও বারণ করবে না তখন সে প্রতিটি বাতিলের কামনা করবে এবং বয়ে আনবে তার জন্যে পাপ ও লাঞ্ছনা।”
১১. আবু ইসহাক শীরাজী বলেন:" যদি তোমাকে তোমার নফস একদিন কামনা-বাসনার কথা বলে আর তার বিপরীত করার কোন রাস্তা থাকে তবে সম্ভবপর বিপরীত কর; কারণ নফসের চাওয়া হলো শত্রু এবং তার বিপরীত হলো মিত্র।
১২. মালেক ইবনে দীনার বলেন: "তওরাতে পড়েছি যে, যার জ্ঞান তার প্রবৃত্তির উপরে বিজয়ী সেই হলো জয়ী বিজ্ঞ আলেম।"
১৩. ইবরাহীম তায়মী তাঁর দোয়াতে বলতেন: “হে আল্লাহ! সত্যের ব্যাপারে মতভেদ করা হতে আমাকে তোমার কিতাব ও নবীর সুন্নত দ্বারা হেফাজত কর। আরো হেফাজত কর তোমার হেদায়েত দ্বারা প্রবৃত্তির গোলামী করা থেকে, পথভ্রষ্ট থেকে, সংশয়, বক্রতা ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে।
১৪. কেউ বলেছেন: আসমানের নিচে আল্লাহ ছাড়া সবচেয়ে যার বেশি এবাদত করা হয় তা হলো: প্রবৃত্তির এবাদত তথা মন পূজা।
১৫. কোন একজন সালাফে সালেহীন বলেছেন: যে তার প্রবৃত্তির উপরে বিজয়ী সে একটি শহর বিজয়কারীর চাইতেও বেশি শক্তিশালী।
১৬. কেউ বলেছেন: প্রবৃত্তির গোলামী সবচেয়ে বড় বিপদ এবং দ্বীন-দুনিয়ার মারত্মক ক্ষতিকারক।
১৭. কেউ বলেছেন: জমিনের উপর সবচেয়ে ঘৃণ্য উপাস্য হলো প্রবৃত্তি।
১৮. কেউ বলেছেন: যদি তোমান নিকট দু'টি জিনিসের মাঝে শংসয় ঘটে তাহলে তোমার নফসের উপর যেটি ভারী মনে হয় সেটির অনুসরণ কর; কারণ নফসের উপর সত্যটি ছাড়া ভারী হয় না।
১৯. কেউ বলেছেন: প্রবৃত্তির বিপরীত করাতেই রয়েছে দ্বীনের ও আখেরাতের সম্মান এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইজ্জত। আর প্রবৃত্তির গোলামীতে রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে অপমান এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অপদস্ত।
২০. কেউ বলেছেন: আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর নবীর মাধ্যমে যে সকল এবাদত, আনুগত্য, আদেশ-নিষেধ ইত্যাদি পাঠিয়েছেন তার সবকিছুর বিপরীত হয় শুধুমাত্র প্রবৃত্তির অনুসরণের দ্বারাই।
২১. কেউ বলেছেন: যখন বিবেক শরিয়তের অনুসারী না হয় তখন তার জন্যে প্রবৃত্তি ও শাহওয়াত ছাড়া আর কোন উপাস্য থাকে না। প্রবৃত্তির গোলামীতে ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নেই।
২২. কেউ বলেছেন: তোমার সাথী তুমি যা পছন্দ কর তাতে একমত এবং তুমি যা ঘৃণা কর তাতে দ্বিমত হলে বুঝতে হবে তুমি প্রবৃত্তির গোলামী করছ। আর যে তার প্রবৃত্তির গোলামী করে সে দুনিয়ার আরাম-আয়েশ তালাশকারী।

টিকাঃ
১. আল-ইবানাতুল কুবরা-ইবনু বাত্তাহ:২/২০৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00