📘 নফসের গোলামী ও মুক্তির উপায় > 📄 নফসের গোলামী

📄 নফসের গোলামী


নফসের গোলামী কাকে বলে এবং কিভাবে হয় সে ব্যাপারে মনীষীদের বিভিন্ন বাণী উল্লেখ করা হলো।
* নফস বা প্রবৃত্তি হলো: মানুষ যা চায়, পছন্দ করে ও তাতে সন্তুষ্ট থাকে এবং কামনা-বাসনা করে এবং তারই প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাকে নফস বা প্রবৃত্তি বলা হয়।
* নফস তিন প্রকার: (এক) “নফসে আম্মারা” তথা কুপ্রবৃত্তি যা সর্বদা কুমন্ত্রণা ও অন্যায় ও অসৎ কর্মের নির্দেশ করে। (দুই) “নফসে লাওয়ামা” অর্থাৎ- অসৎ ও অন্যায় কাজের জন্য অনুতপ্ত মন; দোটানা মন। (তিন) “নফসে মুতমাইন্না” মানে বিশুদ্ধ ও শান্ত মন।
* কুপ্রবৃত্তি বলতে নফসের প্রবণতা, খেয়াল-খুশী, কামনা-বাসনা, রিপু ও কোন জিনিসের প্রতি টানকে বুঝায়। ইহা অধিকাংশ বক্রতা ও ভ্রষ্টার প্রতি প্রয়োগ হয়।
ইমাম ইবনুল কায়্যেম (রহ:) বলেন: স্বভাব ও মেজাজের অনুকূলের প্রতি টানকে প্রবৃত্তি বলে। নফসের কামনা-বাসনার চাহিদাই হলো প্রবৃত্তি। এ ঝোঁক মানুষের টিকে থাকার জন্যেই তার মাঝে সৃষ্টি করা হয়েছে; কারণ যদি তার খাদ্য, পানি ও বিবাহের প্রতি টান না থাকত, তাহলে সে খানাপিনা ও বিবাহ-শাদি করত না। তাই প্রবৃত্তি মানুষকে উৎসাহিত করে যখন সে চায়। যেমন রাগ যা তাকে কষ্ট দেয় তা দূর করে। তাই সর্বদা প্রবৃত্তিকে দোষারোপ করা বা সর্বদা প্রশংসা করা উচিত নয়। যেরূপ রাগকে সব সময় ভর্ৎসনা বা প্রশংসা করা ঠিক নয়। বরং দুই প্রকারের মধ্যে যে অতিরঞ্জন করত: উপকার ও ক্ষতির সীমা অতিক্রম করবে তাকেই শুধু ভর্ৎসনা করা উচিত।
প্রবৃত্তির গোলামী হলো: অন্তরে বক্রতা ও বিবেক বিপর্যয়ের কারণে সত্য ছেড়ে বাতিলের দিকে ঝোঁকা। ইহাই হলো: প্রতিটি পথভ্রষ্ট বিপথগামী ব্যক্তির পথ। যেমন সত্য ও হেদায়েতের অনুসরণ মুমিনদের পথ।
মানুষের কোন জিনিসের প্রতি মহব্বত এবং অন্তরে তার প্রভাব বিস্তার হওয়াকে প্রবৃত্তি বলে।
শা'বী (রহ:) বলেন: প্রবৃত্তিকে আরবিতে বলে: “হাওয়া” যার অর্থ পতিত হওয়া বা নিচে নামা; কারণ প্রবৃত্তি তার সাথীকে গহীন গহ্বরে পতিত করে দেয়। এর লাগামহীন ঘোড়ার আরোহী পরিণাম না ভেবে উপস্থিত মজার প্রতি আহ্বান করে। আর তাৎক্ষণিক কামনা-বাসনার প্রতি উৎসাহিত করে যদিও ইহকালে-পরকালে তা কঠিন দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শরিয়তের নির্দেশ ও সুস্থ বিবেকের পরামর্শ ছাড়া নফসের কামনা-বাসনার আনুগত্য করাই হলো প্রবৃত্তির গোলামী।

টিকাঃ
১. রাওযাতুল মুহিব্বীন-ইবনুল কায়্যেম: পৃ:৪৬৯ দ্রঃ
১. মুহাব্বাতুল রসূল বাইনাল ইত্তিবায়ে ওয়াল ইবতিদা':১/১৯৩

📘 নফসের গোলামী ও মুক্তির উপায় > 📄 নফসের গোলামীর কারণসমূহ

📄 নফসের গোলামীর কারণসমূহ


১. অজ্ঞতা-মূর্খতা।
২. ইবলীস শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা।
৩. বাপ-দাদার অন্ধ অনুসরণ-অনুকরণ।
৪. গড ফাদার ও হুজুর-বুজুর্গদের তকলীদ তথা অন্ধ ব্যক্তি পূজা।
৫. সম্পদ, গদি ও নারীর ভালবাসার ফাঁদ।
৬. বিভিন্ন ধরণের সংশয় ও সন্দেহ।
৭. গাফলতি ও অবহেলা।
৮. অন্তরের বক্রতা।
৯. আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের দুর্বলতা।
১০. নিজেদের বিবেক বুদ্ধিকে কুরআন-সুন্নার উপরে প্রাধান্য দেয়া।

১. অজ্ঞতা-মূর্খতা।
২. ইবলীস শয়তানের ধোঁকা ও প্রতারণা।
৩. বাপ-দাদার অন্ধ অনুসরণ-অনুকরণ।
৪. গড ফাদার ও হুজুর-বুজুর্গদের তকলীদ তথা অন্ধ ব্যক্তি পূজা।
৫. সম্পদ, গদি ও নারীর ভালবাসার ফাঁদ।
৬. বিভিন্ন ধরণের সংশয় ও সন্দেহ।
৭. গাফলতি ও অবহেলা।
৮. অন্তরের বক্রতা।
৯. আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের দুর্বলতা।
১০. নিজেদের বিবেক বুদ্ধিকে কুরআন-সুন্নার উপরে প্রাধান্য দেয়া।

📘 নফসের গোলামী ও মুক্তির উপায় > 📄 নফসের গোলামীর কিছু চিত্র

📄 নফসের গোলামীর কিছু চিত্র


১. বিদাত আবিস্কারে।
২. দলিলহীন মাজহাবের মতামতে।
৩. দলাদলি ও ফের্কাবন্দীতে।
৪. ফতোয়া ও বিধানে।
৫. সত্যকে প্রত্যাহার ও তার অনুসারীদের সাথে ঝগড়ায়।
৬. বাতিল ও তার অনুসারীদের সাহায্য- সহযোগিতায়।
৭. মূর্তি ও প্রতিমা পূজায়।
৮. নেক-বুজুর্গ ব্যক্তিদের অতিরঞ্জন ভক্তিতে।
৯. অশ্লীলতা ও অপরাধের প্রচার-প্রসারে।
১০. নফল কাজে জলদি এবং ফরজ-ওয়াজিব আদায়ে অলসতা প্রদর্শন।
১১. ধর্মের নামে পুঁজি, লাইসেন্স, টেক্স, লোকসান ও চাঁদা ছাড়া মজার ব্যবসায়।

১. বিদাত আবিস্কারে।
২. দলিলহীন মাজহাবের মতামতে।
৩. দলাদলি ও ফের্কাবন্দীতে।
৪. ফতোয়া ও বিধানে।
৫. সত্যকে প্রত্যাহার ও তার অনুসারীদের সাথে ঝগড়ায়।
৬. বাতিল ও তার অনুসারীদের সাহায্য- সহযোগিতায়।
৭. মূর্তি ও প্রতিমা পূজায়।
৮. নেক-বুজুর্গ ব্যক্তিদের অতিরঞ্জন ভক্তিতে।
৯. অশ্লীলতা ও অপরাধের প্রচার-প্রসারে।
১০. নফল কাজে জলদি এবং ফরজ-ওয়াজিব আদায়ে অলসতা প্রদর্শন।
১১. ধর্মের নামে পুঁজি, লাইসেন্স, টেক্স, লোকসান ও চাঁদা ছাড়া মজার ব্যবসায়।

📘 নফসের গোলামী ও মুক্তির উপায় > 📄 নফসের গোলামীর ক্ষতি

📄 নফসের গোলামীর ক্ষতি


وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِنْ بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ Z البقرة
"অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। আর তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মো'জেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তি দান করেছি। অত:পর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদল মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।” [সূরা বাকারা: ৮৭]
لَقَدْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ رُسُلًا كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُهُمْ فَرِيقًا كَذَّبُوا وَفَرِيقًا يَقْتُلُونَ Z المائدة
"আমি বনি ঈসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গিকার নিয়েছিলাম এবং তাদের কাছে অনেক পয়গাম্বর পাঠিয়েছিলাম। যখনই তাদের কাছে কোন পয়গাম্বর এমন নির্দেশ নিয়ে আসত যা তাদের মনে চাইত না, তখন তাদের অনেকের প্রতি তারা মিথ্যারোপ করত এবং অনেককে হত্যা করে ফেলত।” [মায়েদা: ৭০]
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ المائدة
“বলুন: হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা স্বীয় ধর্মে অন্যায় বাড়াবাড়ি করো না এবং এতে ঐ সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে।" [সূরা মায়েদা: ৭৭]
১. আল্লাহর গজব ও অসন্তুষ্টি ও জাহান্নম।
২. পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি।
৩. জুলুম, অবিচার ও দমননীতি।
৪. খুন-খারাবী।
৫. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ ও ইজ্জতহানী।
৬. বিভিন্নভাবে সত্যকে প্রত্যাখ্যান।
৭. হিংসা-বিদ্বেষ।
৮. সিরাতে মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতি।
৯. দলাদলি ও ফের্কাবন্দী।
১০. ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের বিদায়।
১১. বিদাতের প্রকাশ ও প্রচার-প্রসার এবং সাহাবা, তাবে'য়ী ও সালাফে সালেহীনদের পথকে ত্যাগকরণ।
১২. ভ্রষ্টতা ও পথভ্রষ্টকরণ।
১৩. আল্লাহর আয়াতসমূকে মিথ্যারোপ।
১৪. ফেতনায় পতিত হওয়া।
১৫. কর্ণ, চক্ষু ও অন্তরে মোহর।
১৬. আল্লাহর বন্ধুত্ব, সাহায্য ও নিরাপদ থেকে মাহরুম-বঞ্চিত।
১৭. অপদস্ততা, লাঞ্ছনা ও লোকসান।
১৮. মানুষের পক্ষ থেকে ঘৃণা; এমনকি আপনজন ও প্রিয়জনের পক্ষ থেকে।

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِنْ بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ Z البقرة
"অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। আর তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মো'জেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তি দান করেছি। অত:পর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদল মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।” [সূরা বাকারা: ৮৭]
لَقَدْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ رُسُلًا كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَى أَنْفُسُهُمْ فَرِيقًا كَذَّبُوا وَفَرِيقًا يَقْتُلُونَ Z المائدة
"আমি বনি ঈসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গিকার নিয়েছিলাম এবং তাদের কাছে অনেক পয়গাম্বর পাঠিয়েছিলাম। যখনই তাদের কাছে কোন পয়গাম্বর এমন নির্দেশ নিয়ে আসত যা তাদের মনে চাইত না, তখন তাদের অনেকের প্রতি তারা মিথ্যারোপ করত এবং অনেককে হত্যা করে ফেলত।” [মায়েদা: ৭০]
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ المائدة
“বলুন: হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা স্বীয় ধর্মে অন্যায় বাড়াবাড়ি করো না এবং এতে ঐ সম্প্রদায়ের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, যারা পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। তারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে।" [সূরা মায়েদা: ৭৭]
১. আল্লাহর গজব ও অসন্তুষ্টি ও জাহান্নম।
২. পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি।
৩. জুলুম, অবিচার ও দমননীতি।
৪. খুন-খারাবী।
৫. অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ ও ইজ্জতহানী।
৬. বিভিন্নভাবে সত্যকে প্রত্যাখ্যান।
৭. হিংসা-বিদ্বেষ।
৮. সিরাতে মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুতি।
৯. দলাদলি ও ফের্কাবন্দী।
১০. ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের বিদায়।
১১. বিদাতের প্রকাশ ও প্রচার-প্রসার এবং সাহাবা, তাবে'য়ী ও সালাফে সালেহীনদের পথকে ত্যাগকরণ।
১২. ভ্রষ্টতা ও পথভ্রষ্টকরণ।
১৩. আল্লাহর আয়াতসমূকে মিথ্যারোপ।
১৪. ফেতনায় পতিত হওয়া।
১৫. কর্ণ, চক্ষু ও অন্তরে মোহর।
১৬. আল্লাহর বন্ধুত্ব, সাহায্য ও নিরাপদ থেকে মাহরুম-বঞ্চিত।
১৭. অপদস্ততা, লাঞ্ছনা ও লোকসান।
১৮. মানুষের পক্ষ থেকে ঘৃণা; এমনকি আপনজন ও প্রিয়জনের পক্ষ থেকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00