📘 নবিজী এর ভাষায় যারা আমাদের মধ্য থেকে নয় 📄 নবীজী ছোটদের চুমু দিতেন

📄 নবীজী ছোটদের চুমু দিতেন


আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, নবী কারীম তাঁর নাতি হাসানকে চুমু দিলেন। সেখানে আকরা ইবনু হাবিস রাযি. নামে এক সাহাবী বসা ছিলেন। হাসানকে চুমু খাওয়া দেখে তিনি বললেন, আমার দশটি সন্তান রয়েছে। আমি তাদের কাউকে চুমু দেই-নি। নবীজী তার দিকে তাকিয়ে বললেন
مَنْ لا يَرْحَمْ لا يُرْحَمْ যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হবে না।
আরেক হাদীসে আছে আয়েশা রাযি. বলেন, এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী করিম এর কাছে এলো। নবীজি তাকে বললেন, তোমরা কি তোমাদের শিশুদের চুমু দাও? সে বলল, 'জ্বি না।' নবী করিম বললেন
أَوَ أَمْلِكُ لَكَ أَنْ نَزَعَ اللَّهُ مِنْ قَلْبِكَ الرَّحْمَةَ ؟ তোমাদের অন্তরে যদি দয়া-মায়া না থাকে তাহলে আমার কী করার আছে!

টিকাঃ
১১. বুখারী: ৫৬৫১
১২. বুখারী: ৫৬৫২

📘 নবিজী এর ভাষায় যারা আমাদের মধ্য থেকে নয় 📄 হাসান হুসাইন রাযি.-এর প্রতি নবীজীর স্নেহ

📄 হাসান হুসাইন রাযি.-এর প্রতি নবীজীর স্নেহ


আমরা জানি নবীজী এর ঘরেও শিশু ছিল। হাসান রাযি. ও হুসাইন রাযি.। নবীজী তাঁদেরকে কেমন আদর করতেন! আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ হাসান ও হুসাইন দুইজনকে দুই কাঁধে নিয়ে আমাদের সামনে এলেন এবং একবার এর গালে আদর করছিলেন আরেকবার ওর গালে আদর করছিলেন। এক সাহাবী বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি এদেরকে খুব ভালোবাসেন? নবীজী উত্তর দিলেন مَنْ أَحَبَّهُمَا فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَبْغَضَهُمَا فَقَدْ أَبْغَضَنِي যে এদের ভালোবাসবে সে আমাকে ভালোবাসল আর যে এদের প্রতি বিদ্বেষ রাখবে সে যেন আমার প্রতি বিদ্বেষ রাখল。
এমন ঘটনাও আছে যে, হাসান রাযি. ও হুসাইন রাযি. অনেক সময় রাসূলে কারীম এর পিঠে চড়ে বসতেন, তাঁকে ঘোড়া বানিয়ে তারা খেলতেন। এমন চমৎকার দৃশ্য দেখে একদিন এক সাহাবী মজা করে বলে উঠলেন نِعْمَ الْمَرْكَبُ رَكِبْتَ يَا غُلَامُ বৎস! তুমি দারুণ সাওয়ারি পেয়েছ! নবীজী তখন উত্তর দিলেন وَنِعْمَ الرَّاكِبُ هُو আরোহীও দারুণ!
নামাযের মত ইবাদতেও এমনটি ঘটত যে, নবীজী সিজদায় গিয়েছেন আর হাসান বা হুসাইন রাযি. তাঁর পিঠে চড়ে বসেছেন। ফলে তিনি দীর্ঘ সময় সিজদায় থাকতেন। অপেক্ষা করতেন কখন তারা পিঠ থেকে নামবে।

টিকাঃ
১৩. মাজমাউয যাওয়াইদ: ৯/১৮০
১৪. তিরমিযী: ৩৭৪৬
১৫. নাসাঈ : ১১৪১

📘 নবিজী এর ভাষায় যারা আমাদের মধ্য থেকে নয় 📄 মসজিদে বাচ্চাদের সঙ্গে পুলিশী আচরণ না করি

📄 মসজিদে বাচ্চাদের সঙ্গে পুলিশী আচরণ না করি


আর আমরা কী করি? মসজিদে কোনো বাচ্চাকে দেখলে এমন ধমক দেই যে, তার শিশু মনে মসজিদের ব্যাপারেই ভয় ঢুকিয়ে দেই। তখন সে মনে করে মসজিদে গেলে বড়দের ধমক খেতে হয়। অবশেষে এ শিশুটা আর নামাযের অভ্যাস করতে পারে না।
এমনিতে অবুঝ শিশুকে মসজিদে নিয়ে আসা নিষেধ। একটু বুঝমান হলে তাকে মসজিদে আসার অভ্যাস করাতে হয়। কিন্তু যদি কোনো অবুঝ শিশু মসজিদে চলে আসে তাহলে তার সঙ্গে পুলিশী আচরণ করে তার কচি অন্তরে নামাযের ব্যাপারে অনীহা সৃষ্টি করা যাবে না। যদি তা করেন তাহলে لَيْسَ مِنْ أُمَّتِي সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়-এর আওতায় পড়ে যাবেন। আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে হেফাজত করুন আমীন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px