📄 সাহাবাদের জীবনযাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন
সাহাবায়ে কেরামগণ ইসলামের ছায়াতলে আসার জন্য অনেক কষ্ট ও মুজাহাদা করেছেন। অনেকে তাদের বিলাসী জীবন ত্যাগ করে দারিদ্র্যের কষাঘাত সহ্য করেছেন। যেমন, মুসআব ইবনে উমায়ের রাযি. তার মা, পরিবার এবং সব কিছু ছেড়ে রাসূলের কাছে হিজরত করেছিলেন।
আলি ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণিত, “আমি এক শীতের দিনে রাসূলুল্লাহর * ঘর হতে বের হলাম। (বের হবার) আগে আমি একটি লোমহীন চামড়া নিয়ে তা মাঝামাঝি কেটে গলায় ঢুকালাম এবং খেজুরের পাতা দিয়ে কোমরে শক্ত করে বাঁধলাম। আমি তখন খুব বেশী ক্ষুধার্ত ছিলাম। রাসূলুল্লাহর ঘরে কোনো খাদ্যসামগ্রী থাকলে তা অবশ্যই খেয়ে ফেলতাম।
আমি খাবারের খোঁজে বের হয়ে গেলাম। তারপর জনৈক ইহুদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, সে তার বাগানে (কপিকল জাতীয়) চরকির সাহায্যে কুয়া হতে পানি তুলছিল। আমি প্রাচীরের একটি ছিদ্র দিয়ে তাকে দেখলাম। সে প্রশ্ন করল, 'হে বেদুঈন, কী চাও? তুমি প্রতি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর পাবে, আমার বাগানের পানি তুলে দেবে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, দরজা খোলো; আমি ভেতরে আসি।' সে দরজা খুললে আমি ভেতরে গেলাম। তারপর সে একটি বালতি এনে দিল। আমি বালতি ভরে পানি উঠাতে লাগলাম আর সে প্রতি বালতিতে একটি করে খেজুর দিতে লাগল। অবশেষে খেজুরে আমার হাতের মুঠি ভরে গেল। আমি তখন বালতি রেখে দিয়ে বললাম, 'আমার যথেষ্ট হয়েছে। আমি খেজুরগুলো খেয়ে পানি পান করলাম।'
মসজিদে এসে রাসূলুল্লাহকে সেখানে পেলাম। আমরা রাসূলুল্লাহর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় চামড়ার তালিযুক্ত একটি ছেড়া চাঁদর গায়ে জড়িয়ে মুসআব ইবনে উমাইর রাযি. এসে আমাদের সামনে হাজির হলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার বর্তমান করুণ অবস্থা দেখে এবং তার পূর্বের সচ্ছল অবস্থার কথা মনে করে কেঁদে ফেললেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, 'সে-সময় তোমাদের কী অবস্থা হবে, যখন তোমাদের কেউ সকালে এক জোড়া পোশাক পরবে আর বিকেলে পরবে অন্য জোড়া। আর সামনে খাদ্যভর্তি একটি পেয়ালা রাখা হবে, অন্যটি উঠিয়ে নেওয়া হবে। তোমরা তোমাদের ঘরগুলো এমনভাবে পর্দায় ঢেকে রাখবে, যেভাবে কাবা ঘরকে গিলাফে ঢেকে রাখা হয়।" সাহাবীগণ আরয করেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমরা তো তখন বর্তমানের চেয়ে অনেক সচ্ছল থাকব। বিপদাপদ ও অভাব-অনটন হতে নিরাপদ থাকব। ফলে ইবাদাত বন্দেগির জন্য যথেষ্ট অবসর পাব।' রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “বরং বর্তমানটাই তোমাদের জন্য তখনকার তুলনায় অনেক ভালো।”” ৩৪২
হাদীসের অর্থ হলো, বিষয়টি এমন যে, ধনী ব্যক্তি তার সম্পদ নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে এবং ইবাদাতে সময় কম পাবে। অপরদিকে যার শুধু ততটুকুই আছে, যা তার জন্য যথেষ্ট, তার সম্পদের পেছনে অতিরিক্ত সময় নষ্টের প্রয়োজন নেই। তাই সে নিজেকে ইবাদাতে বেশি সময় ব্যস্ত রাখতে পারে।
টিকাঃ
৩৪২. তিরমিযী (২৪৭৩)
সাহাবায়ে কেরামগণ ইসলামের ছায়াতলে আসার জন্য অনেক কষ্ট ও মুজাহাদা করেছেন। অনেকে তাদের বিলাসী জীবন ত্যাগ করে দারিদ্র্যের কষাঘাত সহ্য করেছেন। যেমন, মুসআব ইবনে উমায়ের রাযি. তার মা, পরিবার এবং সব কিছু ছেড়ে রাসূলের কাছে হিজরত করেছিলেন।
আলি ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণিত, “আমি এক শীতের দিনে রাসূলুল্লাহর * ঘর হতে বের হলাম। (বের হবার) আগে আমি একটি লোমহীন চামড়া নিয়ে তা মাঝামাঝি কেটে গলায় ঢুকালাম এবং খেজুরের পাতা দিয়ে কোমরে শক্ত করে বাঁধলাম। আমি তখন খুব বেশী ক্ষুধার্ত ছিলাম। রাসূলুল্লাহর ঘরে কোনো খাদ্যসামগ্রী থাকলে তা অবশ্যই খেয়ে ফেলতাম।
আমি খাবারের খোঁজে বের হয়ে গেলাম। তারপর জনৈক ইহুদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, সে তার বাগানে (কপিকল জাতীয়) চরকির সাহায্যে কুয়া হতে পানি তুলছিল। আমি প্রাচীরের একটি ছিদ্র দিয়ে তাকে দেখলাম। সে প্রশ্ন করল, 'হে বেদুঈন, কী চাও? তুমি প্রতি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর পাবে, আমার বাগানের পানি তুলে দেবে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, দরজা খোলো; আমি ভেতরে আসি।' সে দরজা খুললে আমি ভেতরে গেলাম। তারপর সে একটি বালতি এনে দিল। আমি বালতি ভরে পানি উঠাতে লাগলাম আর সে প্রতি বালতিতে একটি করে খেজুর দিতে লাগল। অবশেষে খেজুরে আমার হাতের মুঠি ভরে গেল। আমি তখন বালতি রেখে দিয়ে বললাম, 'আমার যথেষ্ট হয়েছে। আমি খেজুরগুলো খেয়ে পানি পান করলাম।'
মসজিদে এসে রাসূলুল্লাহকে সেখানে পেলাম। আমরা রাসূলুল্লাহর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় চামড়ার তালিযুক্ত একটি ছেড়া চাঁদর গায়ে জড়িয়ে মুসআব ইবনে উমাইর রাযি. এসে আমাদের সামনে হাজির হলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার বর্তমান করুণ অবস্থা দেখে এবং তার পূর্বের সচ্ছল অবস্থার কথা মনে করে কেঁদে ফেললেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, 'সে-সময় তোমাদের কী অবস্থা হবে, যখন তোমাদের কেউ সকালে এক জোড়া পোশাক পরবে আর বিকেলে পরবে অন্য জোড়া। আর সামনে খাদ্যভর্তি একটি পেয়ালা রাখা হবে, অন্যটি উঠিয়ে নেওয়া হবে। তোমরা তোমাদের ঘরগুলো এমনভাবে পর্দায় ঢেকে রাখবে, যেভাবে কাবা ঘরকে গিলাফে ঢেকে রাখা হয়।" সাহাবীগণ আরয করেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমরা তো তখন বর্তমানের চেয়ে অনেক সচ্ছল থাকব। বিপদাপদ ও অভাব-অনটন হতে নিরাপদ থাকব। ফলে ইবাদাত বন্দেগির জন্য যথেষ্ট অবসর পাব।' রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “বরং বর্তমানটাই তোমাদের জন্য তখনকার তুলনায় অনেক ভালো।”” ৩৪২
হাদীসের অর্থ হলো, বিষয়টি এমন যে, ধনী ব্যক্তি তার সম্পদ নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে এবং ইবাদাতে সময় কম পাবে। অপরদিকে যার শুধু ততটুকুই আছে, যা তার জন্য যথেষ্ট, তার সম্পদের পেছনে অতিরিক্ত সময় নষ্টের প্রয়োজন নেই। তাই সে নিজেকে ইবাদাতে বেশি সময় ব্যস্ত রাখতে পারে।
টিকাঃ
৩৪২. তিরমিযী (২৪৭৩)
📄 কোনো কারণে সম্পদের অংশ দিতে না পারলেও সাহাবীদের খুশি রাখতেন
আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার নবীজি কুরাইশ ও আরব-গোত্রদের উপহার দিলেন, কিন্তু আনসারদের কিছুই দিলেন না। এতে তারা কষ্ট পেল এবং কথা বলতে শুরু করল এবং একপর্যায়ে একজন বলে বসল, 'আল্লাহর নবী তাঁর লোকদেরকেই শুধু দিচ্ছেন।' তখন সাদ ইবনে উবাদা রাযি. নবীজির কাছে এসে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, এই লোকগুলো (আনসারগণ) আপনার গনিমতের বিতরণের ব্যাপারে কষ্ট পেয়েছে। আপনি আরব-গোত্রগুলোকে সম্পদ দিয়েছেন এবং আনসারগণ কিছুই পায়নি।' নবীজি বলেন, “তুমি কী ভাবছ, সাদ?” তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তো আমার লোকদেরই একজন। আমি কেউই না এখানে (মতামত দেওয়ার)।' নবীজি বলেন, "এখানে তোমার লোকদের জড়ো করো।" তখন সাদ তাদের নিয়ে আসলেন।
মুহাজিরদের থেকে কিছু লোক এলে নবীজি তাদেরকেও ঢুকতে দিলেন। অন্যরা আসতে চাইলে তাদের চলে যেতে বলা হলো। যখন সবাই জড়ো হলো, সাদ তাঁর কাছে এসে বললেন, 'আনসাররা আপনার কাছে জড়ো হয়েছে।' নবীজি তাদের কাছে এসে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর বললেন, “হে আনসার, তোমাদের ব্যাপারে এ আমি কী শুনছি যে, তোমরা কষ্ট পেয়েছ? যখন তোমরা পথভ্রষ্ট ছিলে, তখন আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে হেদায়েত দেননি? তোমরা দরিদ্র ছিলে, আল্লাহ তোমাদের সম্পদশালী করলেন! তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, আল্লাহ তোমাদের হৃদয়গুলো এক করে দিলেন।” তারা বললেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগ্রহ আমাদের ওপর সবচেয়ে বেশি।' তিনি বললেন, “হে আনসার, তোমরা আমার কথার উত্তর দাও।” তারা বললেন, 'আমরা আপনাকে কী জবাব দেব! সকল অনুগ্রহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এসেছে।' তিনি বললেন, “তোমরা ইচ্ছা করলেই সত্য কথাগুলো বলতে পার এবং আমি সেগুলো স্বীকার করি যে—আপনি অস্বীকৃত অবস্থায় আমাদের কাছে এসেছেন, আমরা আপনার ওপর বিশ্বাস এনেছি। আপনার কোনো সাহায্য ছিল না, আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি। আপনি বহিষ্কৃত অবস্থায় এসেছেন, আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি। আপনি দরিদ্র ছিলেন, আমরা আপনাকে ধনী করেছি。
হে আনসার, তোমরা কি দুনিয়াবি তুচ্ছ জিনিস, যা দিয়ে মানুষের অন্তরকে (ইসলামের দিকে) টানার চেষ্টা করি, সেগুলোর জন্য দুঃখ পাচ্ছ? যেখানে কিনা আমি তোমাদের ইসলাম দিয়েছি! হে আনসার, তোমরা কি খুশি নও যে, লোকেরা উট-ভেড়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে ঘরে ফিরবে? যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম, হিজরতের কারণে, নাহলে আমি নিজেকে আনসার বলে দাবি করতাম। যদি লোকেরা এক পথে যেত আর আনসারগণ অন্য পথে যেত, তবে আমি আনসারদের পথেই যেতাম। ইয়া আল্লাহ, আনসারদের ওপর, তাদের সন্তানদের ওপর, তাদের নাতি-নাতনিদের ওপর রহমত বর্ষণ করো!”
লোকেরা তখন এত কাঁদতে লাগল যে, কান্নায় তাদের দাড়ি ভিজে গেল। তারা বলে উঠল, 'আমরা আমাদের অংশে আল্লাহর রাসূলকে পেয়ে আমরা খুশি।' এরপর নবীজি চলে গেলেন এবং আমরাও বেরিয়ে গেলাম।”৩৪৩
টিকাঃ
৩৪৩. আহমাদ (১১৩২২)।
আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার নবীজি কুরাইশ ও আরব-গোত্রদের উপহার দিলেন, কিন্তু আনসারদের কিছুই দিলেন না। এতে তারা কষ্ট পেল এবং কথা বলতে শুরু করল এবং একপর্যায়ে একজন বলে বসল, 'আল্লাহর নবী তাঁর লোকদেরকেই শুধু দিচ্ছেন।' তখন সাদ ইবনে উবাদা রাযি. নবীজির কাছে এসে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, এই লোকগুলো (আনসারগণ) আপনার গনিমতের বিতরণের ব্যাপারে কষ্ট পেয়েছে। আপনি আরব-গোত্রগুলোকে সম্পদ দিয়েছেন এবং আনসারগণ কিছুই পায়নি।' নবীজি বলেন, “তুমি কী ভাবছ, সাদ?” তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তো আমার লোকদেরই একজন। আমি কেউই না এখানে (মতামত দেওয়ার)।' নবীজি বলেন, "এখানে তোমার লোকদের জড়ো করো।" তখন সাদ তাদের নিয়ে আসলেন।
মুহাজিরদের থেকে কিছু লোক এলে নবীজি তাদেরকেও ঢুকতে দিলেন। অন্যরা আসতে চাইলে তাদের চলে যেতে বলা হলো। যখন সবাই জড়ো হলো, সাদ তাঁর কাছে এসে বললেন, 'আনসাররা আপনার কাছে জড়ো হয়েছে।' নবীজি তাদের কাছে এসে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর বললেন, “হে আনসার, তোমাদের ব্যাপারে এ আমি কী শুনছি যে, তোমরা কষ্ট পেয়েছ? যখন তোমরা পথভ্রষ্ট ছিলে, তখন আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে হেদায়েত দেননি? তোমরা দরিদ্র ছিলে, আল্লাহ তোমাদের সম্পদশালী করলেন! তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, আল্লাহ তোমাদের হৃদয়গুলো এক করে দিলেন।” তারা বললেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগ্রহ আমাদের ওপর সবচেয়ে বেশি।' তিনি বললেন, “হে আনসার, তোমরা আমার কথার উত্তর দাও।” তারা বললেন, 'আমরা আপনাকে কী জবাব দেব! সকল অনুগ্রহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এসেছে।' তিনি বললেন, “তোমরা ইচ্ছা করলেই সত্য কথাগুলো বলতে পার এবং আমি সেগুলো স্বীকার করি যে—আপনি অস্বীকৃত অবস্থায় আমাদের কাছে এসেছেন, আমরা আপনার ওপর বিশ্বাস এনেছি। আপনার কোনো সাহায্য ছিল না, আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি। আপনি বহিষ্কৃত অবস্থায় এসেছেন, আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি। আপনি দরিদ্র ছিলেন, আমরা আপনাকে ধনী করেছি。
হে আনসার, তোমরা কি দুনিয়াবি তুচ্ছ জিনিস, যা দিয়ে মানুষের অন্তরকে (ইসলামের দিকে) টানার চেষ্টা করি, সেগুলোর জন্য দুঃখ পাচ্ছ? যেখানে কিনা আমি তোমাদের ইসলাম দিয়েছি! হে আনসার, তোমরা কি খুশি নও যে, লোকেরা উট-ভেড়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে ঘরে ফিরবে? যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম, হিজরতের কারণে, নাহলে আমি নিজেকে আনসার বলে দাবি করতাম। যদি লোকেরা এক পথে যেত আর আনসারগণ অন্য পথে যেত, তবে আমি আনসারদের পথেই যেতাম। ইয়া আল্লাহ, আনসারদের ওপর, তাদের সন্তানদের ওপর, তাদের নাতি-নাতনিদের ওপর রহমত বর্ষণ করো!”
লোকেরা তখন এত কাঁদতে লাগল যে, কান্নায় তাদের দাড়ি ভিজে গেল। তারা বলে উঠল, 'আমরা আমাদের অংশে আল্লাহর রাসূলকে পেয়ে আমরা খুশি।' এরপর নবীজি চলে গেলেন এবং আমরাও বেরিয়ে গেলাম।”৩৪৩
টিকাঃ
৩৪৩. আহমাদ (১১৩২২)।
📄 প্রত্যেক সাহাবীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আচরণ করতেন
নবীজি উমারের আত্মমর্যাদার দিকে খেয়াল রাখতেন। আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, "নবীজি বললেন, "আমি নিদ্রিত ছিলাম। দেখলাম, আমি জান্নাতে আছি। হঠাৎ দেখলাম, এক নারী এক দালানের পাশে উযু করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "এ-দালানটি কার?” তারা উত্তরে বললেন, 'উমারের।' তখন তাঁর আত্মমর্যাদার কথা আমার স্মরণ হলো। আমি পেছনের দিকে ফিরে চলে এলাম।” এ-কথা শুনে উমার রাযি. কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, 'আল্লাহর রাসূল , আপনার সামনে কি আমার কোনো মর্যাদাবোধ থাকতে পারে?” ৩৪৪ নবীজি তাঁর সাহাবীদের অনুভূতির কত যত্নবান ছিলেন, তা এ-হাদীস থেকে বোঝা যায়।
নবীজি উমারের আত্মমর্যাদার দিকে খেয়াল রাখতেন। আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, "নবীজি বললেন, "আমি নিদ্রিত ছিলাম। দেখলাম, আমি জান্নাতে আছি। হঠাৎ দেখলাম, এক নারী এক দালানের পাশে উযু করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "এ-দালানটি কার?” তারা উত্তরে বললেন, 'উমারের।' তখন তাঁর আত্মমর্যাদার কথা আমার স্মরণ হলো। আমি পেছনের দিকে ফিরে চলে এলাম।” এ-কথা শুনে উমার রাযি. কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, 'আল্লাহর রাসূল , আপনার সামনে কি আমার কোনো মর্যাদাবোধ থাকতে পারে?” ৩৪৪ নবীজি তাঁর সাহাবীদের অনুভূতির কত যত্নবান ছিলেন, তা এ-হাদীস থেকে বোঝা যায়।
📄 উসমানের রাযি. লজ্জার ব্যাপারে খেয়াল রাখতেন
আয়িশা রাযি. বলেন, “রাসূলুল্লাহ আমার ঘরে শুয়ে ছিলেন; তাঁর উরু কিংবা পায়ের কিছু অংশ উন্মুক্ত ছিল। আবু বাকর রাযি. এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং এ-অবস্থাতে কথাবার্তা বললেন। তারপর উমার রাযি. অনুমতি চাইলে অনুমতি দিলেন এবং এ-অবস্থাতেই কথাবার্তা বললেন। উসমান রাযি. অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ উঠে বসলেন এবং তাঁর কাপড় ঠিক করলেন।
উসমান রাযি. এসে কথা বলে চলে যাওয়ার পর আয়িশা রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, “আবু বাকর রাযি. এলেন, আপনি তাকে কোনো গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না; উমার রাযি. এলেন, আপনি তাকেও কোনো গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না; উসমান রাযি. ঢুকতেই আপনি উঠে বসলেন এবং জামা ঠিক করে নিলেন!” রাসূলুল্লাহ বললেন, “আমি কি তাকে লজ্জা করব না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাকে দেখলে লজ্জা করে!”” ৩৪৫
টিকাঃ
৩৪৪. বুখারী (৩২৪২) ও মুসলিম (২৩৯৫)।
৩৪৫. মুসলিম (২৪০১)।
আয়িশা রাযি. বলেন, “রাসূলুল্লাহ আমার ঘরে শুয়ে ছিলেন; তাঁর উরু কিংবা পায়ের কিছু অংশ উন্মুক্ত ছিল। আবু বাকর রাযি. এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন এবং এ-অবস্থাতে কথাবার্তা বললেন। তারপর উমার রাযি. অনুমতি চাইলে অনুমতি দিলেন এবং এ-অবস্থাতেই কথাবার্তা বললেন। উসমান রাযি. অনুমতি চাইলেন। রাসূলুল্লাহ উঠে বসলেন এবং তাঁর কাপড় ঠিক করলেন।
উসমান রাযি. এসে কথা বলে চলে যাওয়ার পর আয়িশা রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, “আবু বাকর রাযি. এলেন, আপনি তাকে কোনো গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না; উমার রাযি. এলেন, আপনি তাকেও কোনো গুরুত্ব দিলেন না ও ভ্রুক্ষেপ করলেন না; উসমান রাযি. ঢুকতেই আপনি উঠে বসলেন এবং জামা ঠিক করে নিলেন!” রাসূলুল্লাহ বললেন, “আমি কি তাকে লজ্জা করব না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাকে দেখলে লজ্জা করে!”” ৩৪৫
টিকাঃ
৩৪৪. বুখারী (৩২৪২) ও মুসলিম (২৩৯৫)।
৩৪৫. মুসলিম (২৪০১)।