📄 সাহাবীদের মতামত ও পরামর্শ শুনতেন
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একদা আমরা (সাহাবাগণ) রাসূলুল্লাহকে ঘিরে বসেছিলাম। আমাদের জামাআতে আবু বাকর এবং উমার রাযি. ও ছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝ থেকে উঠে গেলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলে আমরা শঙ্কিত হলাম—তিনি কোথাও কোনো বিপদের সম্মুখীন হলেন কিনা। আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম। আমিই সর্বপ্রথম বিচলিত হলাম। তাই তাঁর খোঁজে বের হয়ে পড়লাম。
আমি বনু নাজ্জারের জনৈক আনসারীর বাগানের কাছে গেলাম। বাগানের ভেতর প্রবেশের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় কি না, সেজন্য চারদিকে ঘুরলাম। কিন্তু পেলাম না। হঠাৎ দেখতে পেলাম, বাইরের একটি কুয়া থেকে একটি নালা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। সংকীর্ণ নালাকে জাদওয়াল বলা হয়। আমি নিজেকে শেয়ালের মতো সংকুচিত করে নর্দমার মধ্য দিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, “আবু হুরাইরা নাকি?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ!' তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার?” আমি বললাম, 'আপনি আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ উঠে চলে এলেন, আর দীর্ঘ সময় পরও ফিরে না আসায় আমরা বিচলিত হয়ে পড়লাম। আমাদের অনুপস্থিতিতে কোথাও বিপদের সম্মুখীন হলেন কি না, আমাদের এ-আশঙ্কা হলো। আমি সর্বপ্রথম বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এ-দেয়ালের কাছে এসে শেয়ালের ন্যায় সঙ্কুচিত হয়ে নালার ভিতর দিয়ে এখানে উপস্থিত হলাম। অন্যরা আমার পেছনে আছে।' তিনি তাঁর জুতা-জোড়া আমাকে দিয়ে বললেন, 'আবু হুরাইরা, আমার জুতা-জোড়া সাথে নিয়ে যাও। এ-বাগানের বাইরে যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হয়, তাকে বলো, “যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এ-সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।”
আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “সর্বপ্রথম উমারের রাযি. সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাকে বললেন, 'আবু হুরাইরা, জুতা-জোড়া কার?' আমি বললাম, “আল্লাহর রাসূলের। তিনি আমাকে এ-জুতা-জোড়াসহ এই বলে পাঠিয়েছেন যে, 'যে ব্যক্তি প্রশান্ত মনে এ-সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দেবে।' আমার এ-কথা শুনে উমার রাযি. আমার বুকের উপর এমন জোরে চপেটাঘাত করলেন যে, আমি পেছন দিকে পড়ে গেলাম।
তিনি বললেন, 'আবু হুরাইরা, তুমি (রাসূলুল্লাহর কাছে) ফিরে চলো। তাই আমি রাসূলুল্লাহর কাছে কাঁদো কাঁদো অবস্থায় ফিরে এলাম। আমার পেছনে পেছনে উমার রাযি. সেখানে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আবু হুরাইরাহ, তোমার কী হয়েছে?” আমি বললাম, 'আমার সাথে উমারের দেখা হলো। আপনি আমাকে যে-সুসংবাদ দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তাকে সেটা জানালে তিনি আমার বুকে এমন জোরে ঘুষি মারলেন যে, আমি পিছন দিকে পড়ে গেলাম। তিনি এটাও বলেছেন যে, আমি যেন (আপনার কাছে) ফিরে যাই。
রাসূলুল্লাহ বললেন, "উমার, কেন তুমি এমন কাজ করলে?” তিনি বললেন, 'রাসূলুল্লাহ, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। আপনি কি আপনার জুতা-জোড়াসহ আবু হুরাইরাকে এ বলে পাঠিয়েছেন যে, যার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হয়, তাকে বলো, যে-ব্যক্তি অন্তর থেকে এ-সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” উমার রাযি. বললেন, 'এরূপ করবেন না; আমার আশংকা হচ্ছে, এতে লোকেরা (আমল বর্জন করে) এর উপর ভরসা করে বসে থাকবে; কাজেই লোকদেরকে আমাল করার সুযোগ দিন।' তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, “আচ্ছা, তা হলে বাদ দাও।” ৩৩৮
টিকাঃ
৩৩৮. মুসলিম (৩১)।
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একদা আমরা (সাহাবাগণ) রাসূলুল্লাহকে ঘিরে বসেছিলাম। আমাদের জামাআতে আবু বাকর এবং উমার রাযি. ও ছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝ থেকে উঠে গেলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলে আমরা শঙ্কিত হলাম—তিনি কোথাও কোনো বিপদের সম্মুখীন হলেন কিনা। আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম। আমিই সর্বপ্রথম বিচলিত হলাম। তাই তাঁর খোঁজে বের হয়ে পড়লাম。
আমি বনু নাজ্জারের জনৈক আনসারীর বাগানের কাছে গেলাম। বাগানের ভেতর প্রবেশের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় কি না, সেজন্য চারদিকে ঘুরলাম। কিন্তু পেলাম না। হঠাৎ দেখতে পেলাম, বাইরের একটি কুয়া থেকে একটি নালা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। সংকীর্ণ নালাকে জাদওয়াল বলা হয়। আমি নিজেকে শেয়ালের মতো সংকুচিত করে নর্দমার মধ্য দিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, “আবু হুরাইরা নাকি?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ!' তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার?” আমি বললাম, 'আপনি আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ উঠে চলে এলেন, আর দীর্ঘ সময় পরও ফিরে না আসায় আমরা বিচলিত হয়ে পড়লাম। আমাদের অনুপস্থিতিতে কোথাও বিপদের সম্মুখীন হলেন কি না, আমাদের এ-আশঙ্কা হলো। আমি সর্বপ্রথম বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এ-দেয়ালের কাছে এসে শেয়ালের ন্যায় সঙ্কুচিত হয়ে নালার ভিতর দিয়ে এখানে উপস্থিত হলাম। অন্যরা আমার পেছনে আছে।' তিনি তাঁর জুতা-জোড়া আমাকে দিয়ে বললেন, 'আবু হুরাইরা, আমার জুতা-জোড়া সাথে নিয়ে যাও। এ-বাগানের বাইরে যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হয়, তাকে বলো, “যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এ-সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।”
আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “সর্বপ্রথম উমারের রাযি. সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাকে বললেন, 'আবু হুরাইরা, জুতা-জোড়া কার?' আমি বললাম, “আল্লাহর রাসূলের। তিনি আমাকে এ-জুতা-জোড়াসহ এই বলে পাঠিয়েছেন যে, 'যে ব্যক্তি প্রশান্ত মনে এ-সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দেবে।' আমার এ-কথা শুনে উমার রাযি. আমার বুকের উপর এমন জোরে চপেটাঘাত করলেন যে, আমি পেছন দিকে পড়ে গেলাম।
তিনি বললেন, 'আবু হুরাইরা, তুমি (রাসূলুল্লাহর কাছে) ফিরে চলো। তাই আমি রাসূলুল্লাহর কাছে কাঁদো কাঁদো অবস্থায় ফিরে এলাম। আমার পেছনে পেছনে উমার রাযি. সেখানে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আবু হুরাইরাহ, তোমার কী হয়েছে?” আমি বললাম, 'আমার সাথে উমারের দেখা হলো। আপনি আমাকে যে-সুসংবাদ দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তাকে সেটা জানালে তিনি আমার বুকে এমন জোরে ঘুষি মারলেন যে, আমি পিছন দিকে পড়ে গেলাম। তিনি এটাও বলেছেন যে, আমি যেন (আপনার কাছে) ফিরে যাই。
রাসূলুল্লাহ বললেন, "উমার, কেন তুমি এমন কাজ করলে?” তিনি বললেন, 'রাসূলুল্লাহ, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। আপনি কি আপনার জুতা-জোড়াসহ আবু হুরাইরাকে এ বলে পাঠিয়েছেন যে, যার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হয়, তাকে বলো, যে-ব্যক্তি অন্তর থেকে এ-সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” উমার রাযি. বললেন, 'এরূপ করবেন না; আমার আশংকা হচ্ছে, এতে লোকেরা (আমল বর্জন করে) এর উপর ভরসা করে বসে থাকবে; কাজেই লোকদেরকে আমাল করার সুযোগ দিন।' তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, “আচ্ছা, তা হলে বাদ দাও।” ৩৩৮
টিকাঃ
৩৩৮. মুসলিম (৩১)।
📄 বদর যুদ্ধে নবীজি সাহাবীদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন
ইবনে হিশাম রাহ. বলেন, “নবীজি বদর পৌঁছে সেখানে তাঁবু ফেললেন। হুবাব ইবনে মুনাযির রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, 'এই স্থান, যেটি আপনি ঠিক করলেন, এটি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেন আমরা এখান থেকে না সরি; নাকি এটি শুধুই একটি মতামত, যুদ্ধের একটি কৌশল?' নবীজি বললেন, “বরং, এটি একটি মতামত, যুদ্ধের একটি কৌশল।" তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, এটি ভালো অবস্থান হবে না। আমাদের শত্রুর নিকটস্থ জলাশয়ের কাছে থাকা উচিত। আমরা সেগুলোর পানি তুলে নিয়ে খালি করে আলাদা জলাধার বানাবো। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে আমাদের পান করার পানি থাকবে, তাদের কিছুই থাকবে না।' নবীজি বলেন, "আপনি ঠিক বলেছেন।" তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং সঙ্গীদের নিয়ে শত্রুর নিকটস্থ জলাশয়ের কাছে তাঁবু ফেললেন। তারপর কুয়াগুলো ফাঁকা করে দেয়ালের পাশে জলাধার তৈরি করে পানি দিয়ে ভর্তি করার নির্দেশ দিলেন।” ৩৩৯
উহুদ যুদ্ধেও সাহাবীদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ বদরের যুদ্ধের গনিমতে পাওয়া তাঁর যুলফিকার নামের তরবারি নিলেন। শুরুতে তিনি মুশরিকদের সাথে মদীনায় থেকে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি এমন কয়েকজন বললেন, 'আমরা উহুদে গিয়ে যুদ্ধ করতে চাই, তা হলে বদরের মতো সাওয়াব আমরাও লাভ করতে পারব।' তারা তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টা করতে লাগলেন এবং সবশেষে তিনি (রাজি হয়ে) বর্ম গায়ে চড়ালেন। যখন তিনি বর্ম পরে ফেললেন, তখন তাদের কিছু সাহাবী এ-সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করতে লাগলেন। তারা বলতে লাগলেন, 'আল্লাহর রাসূল, মদীনায় থাকুন। সিদ্ধান্ত আপনার একার ওপর।' তখন তিনি বললেন, “একজন নবীর শানে এটি মানায় না যে, তাঁর দল ও শত্রুদের মাঝে আল্লাহ ফয়সালা করার আগেই তিনি বর্ম পরে খুলে ফেলবেন।”” ৩৪০
ইফকের ঘটনায় আয়িশাকে রাযি. মুনাফিকরা মিথ্যা অপবাদ দিলে নবীজি তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “তারা আমার নামে অপবাদ দিলে নবীজি খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। আল্লাহর হামদ পাঠ করে বললেন, “যারা আমার স্ত্রীর নামে অপবাদ দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আমার কী করা উচিত, আপনারা পরামর্শ দিন। আল্লাহর কসম, আমি তো আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না। আর এমন ব্যক্তিকে জড়িয়ে তারা কথা তুলেছে, যার সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না, আর সে (সাফওয়ান ইবনে মুআত্তাল) তো আমার সঙ্গে ব্যতীত আমার ঘরে কখনো প্রবেশ করত না।”” ৩৪১
টিকাঃ
৩৩৯. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২৬৮/৩)।
৩৪০. আহমাদ (২৮১০)।
৩৪১. তিরমিযী (৩১৮০), বুখারী (৪১৪১) ও মুসলিম (২৭৭০)।
ইবনে হিশাম রাহ. বলেন, “নবীজি বদর পৌঁছে সেখানে তাঁবু ফেললেন। হুবাব ইবনে মুনাযির রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, 'এই স্থান, যেটি আপনি ঠিক করলেন, এটি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেন আমরা এখান থেকে না সরি; নাকি এটি শুধুই একটি মতামত, যুদ্ধের একটি কৌশল?' নবীজি বললেন, “বরং, এটি একটি মতামত, যুদ্ধের একটি কৌশল।" তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, এটি ভালো অবস্থান হবে না। আমাদের শত্রুর নিকটস্থ জলাশয়ের কাছে থাকা উচিত। আমরা সেগুলোর পানি তুলে নিয়ে খালি করে আলাদা জলাধার বানাবো। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে আমাদের পান করার পানি থাকবে, তাদের কিছুই থাকবে না।' নবীজি বলেন, "আপনি ঠিক বলেছেন।" তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং সঙ্গীদের নিয়ে শত্রুর নিকটস্থ জলাশয়ের কাছে তাঁবু ফেললেন। তারপর কুয়াগুলো ফাঁকা করে দেয়ালের পাশে জলাধার তৈরি করে পানি দিয়ে ভর্তি করার নির্দেশ দিলেন।” ৩৩৯
উহুদ যুদ্ধেও সাহাবীদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ বদরের যুদ্ধের গনিমতে পাওয়া তাঁর যুলফিকার নামের তরবারি নিলেন। শুরুতে তিনি মুশরিকদের সাথে মদীনায় থেকে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি এমন কয়েকজন বললেন, 'আমরা উহুদে গিয়ে যুদ্ধ করতে চাই, তা হলে বদরের মতো সাওয়াব আমরাও লাভ করতে পারব।' তারা তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টা করতে লাগলেন এবং সবশেষে তিনি (রাজি হয়ে) বর্ম গায়ে চড়ালেন। যখন তিনি বর্ম পরে ফেললেন, তখন তাদের কিছু সাহাবী এ-সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করতে লাগলেন। তারা বলতে লাগলেন, 'আল্লাহর রাসূল, মদীনায় থাকুন। সিদ্ধান্ত আপনার একার ওপর।' তখন তিনি বললেন, “একজন নবীর শানে এটি মানায় না যে, তাঁর দল ও শত্রুদের মাঝে আল্লাহ ফয়সালা করার আগেই তিনি বর্ম পরে খুলে ফেলবেন।”” ৩৪০
ইফকের ঘটনায় আয়িশাকে রাযি. মুনাফিকরা মিথ্যা অপবাদ দিলে নবীজি তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “তারা আমার নামে অপবাদ দিলে নবীজি খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। আল্লাহর হামদ পাঠ করে বললেন, “যারা আমার স্ত্রীর নামে অপবাদ দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আমার কী করা উচিত, আপনারা পরামর্শ দিন। আল্লাহর কসম, আমি তো আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না। আর এমন ব্যক্তিকে জড়িয়ে তারা কথা তুলেছে, যার সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না, আর সে (সাফওয়ান ইবনে মুআত্তাল) তো আমার সঙ্গে ব্যতীত আমার ঘরে কখনো প্রবেশ করত না।”” ৩৪১
টিকাঃ
৩৩৯. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২৬৮/৩)।
৩৪০. আহমাদ (২৮১০)।
৩৪১. তিরমিযী (৩১৮০), বুখারী (৪১৪১) ও মুসলিম (২৭৭০)।
📄 সাহাবাদের জীবনযাপন নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন
সাহাবায়ে কেরামগণ ইসলামের ছায়াতলে আসার জন্য অনেক কষ্ট ও মুজাহাদা করেছেন। অনেকে তাদের বিলাসী জীবন ত্যাগ করে দারিদ্র্যের কষাঘাত সহ্য করেছেন। যেমন, মুসআব ইবনে উমায়ের রাযি. তার মা, পরিবার এবং সব কিছু ছেড়ে রাসূলের কাছে হিজরত করেছিলেন।
আলি ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণিত, “আমি এক শীতের দিনে রাসূলুল্লাহর * ঘর হতে বের হলাম। (বের হবার) আগে আমি একটি লোমহীন চামড়া নিয়ে তা মাঝামাঝি কেটে গলায় ঢুকালাম এবং খেজুরের পাতা দিয়ে কোমরে শক্ত করে বাঁধলাম। আমি তখন খুব বেশী ক্ষুধার্ত ছিলাম। রাসূলুল্লাহর ঘরে কোনো খাদ্যসামগ্রী থাকলে তা অবশ্যই খেয়ে ফেলতাম।
আমি খাবারের খোঁজে বের হয়ে গেলাম। তারপর জনৈক ইহুদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, সে তার বাগানে (কপিকল জাতীয়) চরকির সাহায্যে কুয়া হতে পানি তুলছিল। আমি প্রাচীরের একটি ছিদ্র দিয়ে তাকে দেখলাম। সে প্রশ্ন করল, 'হে বেদুঈন, কী চাও? তুমি প্রতি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর পাবে, আমার বাগানের পানি তুলে দেবে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, দরজা খোলো; আমি ভেতরে আসি।' সে দরজা খুললে আমি ভেতরে গেলাম। তারপর সে একটি বালতি এনে দিল। আমি বালতি ভরে পানি উঠাতে লাগলাম আর সে প্রতি বালতিতে একটি করে খেজুর দিতে লাগল। অবশেষে খেজুরে আমার হাতের মুঠি ভরে গেল। আমি তখন বালতি রেখে দিয়ে বললাম, 'আমার যথেষ্ট হয়েছে। আমি খেজুরগুলো খেয়ে পানি পান করলাম।'
মসজিদে এসে রাসূলুল্লাহকে সেখানে পেলাম। আমরা রাসূলুল্লাহর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় চামড়ার তালিযুক্ত একটি ছেড়া চাঁদর গায়ে জড়িয়ে মুসআব ইবনে উমাইর রাযি. এসে আমাদের সামনে হাজির হলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার বর্তমান করুণ অবস্থা দেখে এবং তার পূর্বের সচ্ছল অবস্থার কথা মনে করে কেঁদে ফেললেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, 'সে-সময় তোমাদের কী অবস্থা হবে, যখন তোমাদের কেউ সকালে এক জোড়া পোশাক পরবে আর বিকেলে পরবে অন্য জোড়া। আর সামনে খাদ্যভর্তি একটি পেয়ালা রাখা হবে, অন্যটি উঠিয়ে নেওয়া হবে। তোমরা তোমাদের ঘরগুলো এমনভাবে পর্দায় ঢেকে রাখবে, যেভাবে কাবা ঘরকে গিলাফে ঢেকে রাখা হয়।" সাহাবীগণ আরয করেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমরা তো তখন বর্তমানের চেয়ে অনেক সচ্ছল থাকব। বিপদাপদ ও অভাব-অনটন হতে নিরাপদ থাকব। ফলে ইবাদাত বন্দেগির জন্য যথেষ্ট অবসর পাব।' রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “বরং বর্তমানটাই তোমাদের জন্য তখনকার তুলনায় অনেক ভালো।”” ৩৪২
হাদীসের অর্থ হলো, বিষয়টি এমন যে, ধনী ব্যক্তি তার সম্পদ নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে এবং ইবাদাতে সময় কম পাবে। অপরদিকে যার শুধু ততটুকুই আছে, যা তার জন্য যথেষ্ট, তার সম্পদের পেছনে অতিরিক্ত সময় নষ্টের প্রয়োজন নেই। তাই সে নিজেকে ইবাদাতে বেশি সময় ব্যস্ত রাখতে পারে।
টিকাঃ
৩৪২. তিরমিযী (২৪৭৩)
সাহাবায়ে কেরামগণ ইসলামের ছায়াতলে আসার জন্য অনেক কষ্ট ও মুজাহাদা করেছেন। অনেকে তাদের বিলাসী জীবন ত্যাগ করে দারিদ্র্যের কষাঘাত সহ্য করেছেন। যেমন, মুসআব ইবনে উমায়ের রাযি. তার মা, পরিবার এবং সব কিছু ছেড়ে রাসূলের কাছে হিজরত করেছিলেন।
আলি ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণিত, “আমি এক শীতের দিনে রাসূলুল্লাহর * ঘর হতে বের হলাম। (বের হবার) আগে আমি একটি লোমহীন চামড়া নিয়ে তা মাঝামাঝি কেটে গলায় ঢুকালাম এবং খেজুরের পাতা দিয়ে কোমরে শক্ত করে বাঁধলাম। আমি তখন খুব বেশী ক্ষুধার্ত ছিলাম। রাসূলুল্লাহর ঘরে কোনো খাদ্যসামগ্রী থাকলে তা অবশ্যই খেয়ে ফেলতাম।
আমি খাবারের খোঁজে বের হয়ে গেলাম। তারপর জনৈক ইহুদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, সে তার বাগানে (কপিকল জাতীয়) চরকির সাহায্যে কুয়া হতে পানি তুলছিল। আমি প্রাচীরের একটি ছিদ্র দিয়ে তাকে দেখলাম। সে প্রশ্ন করল, 'হে বেদুঈন, কী চাও? তুমি প্রতি বালতির বিনিময়ে একটি করে খেজুর পাবে, আমার বাগানের পানি তুলে দেবে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ, দরজা খোলো; আমি ভেতরে আসি।' সে দরজা খুললে আমি ভেতরে গেলাম। তারপর সে একটি বালতি এনে দিল। আমি বালতি ভরে পানি উঠাতে লাগলাম আর সে প্রতি বালতিতে একটি করে খেজুর দিতে লাগল। অবশেষে খেজুরে আমার হাতের মুঠি ভরে গেল। আমি তখন বালতি রেখে দিয়ে বললাম, 'আমার যথেষ্ট হয়েছে। আমি খেজুরগুলো খেয়ে পানি পান করলাম।'
মসজিদে এসে রাসূলুল্লাহকে সেখানে পেলাম। আমরা রাসূলুল্লাহর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় চামড়ার তালিযুক্ত একটি ছেড়া চাঁদর গায়ে জড়িয়ে মুসআব ইবনে উমাইর রাযি. এসে আমাদের সামনে হাজির হলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার বর্তমান করুণ অবস্থা দেখে এবং তার পূর্বের সচ্ছল অবস্থার কথা মনে করে কেঁদে ফেললেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, 'সে-সময় তোমাদের কী অবস্থা হবে, যখন তোমাদের কেউ সকালে এক জোড়া পোশাক পরবে আর বিকেলে পরবে অন্য জোড়া। আর সামনে খাদ্যভর্তি একটি পেয়ালা রাখা হবে, অন্যটি উঠিয়ে নেওয়া হবে। তোমরা তোমাদের ঘরগুলো এমনভাবে পর্দায় ঢেকে রাখবে, যেভাবে কাবা ঘরকে গিলাফে ঢেকে রাখা হয়।" সাহাবীগণ আরয করেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমরা তো তখন বর্তমানের চেয়ে অনেক সচ্ছল থাকব। বিপদাপদ ও অভাব-অনটন হতে নিরাপদ থাকব। ফলে ইবাদাত বন্দেগির জন্য যথেষ্ট অবসর পাব।' রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “বরং বর্তমানটাই তোমাদের জন্য তখনকার তুলনায় অনেক ভালো।”” ৩৪২
হাদীসের অর্থ হলো, বিষয়টি এমন যে, ধনী ব্যক্তি তার সম্পদ নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকবে এবং ইবাদাতে সময় কম পাবে। অপরদিকে যার শুধু ততটুকুই আছে, যা তার জন্য যথেষ্ট, তার সম্পদের পেছনে অতিরিক্ত সময় নষ্টের প্রয়োজন নেই। তাই সে নিজেকে ইবাদাতে বেশি সময় ব্যস্ত রাখতে পারে।
টিকাঃ
৩৪২. তিরমিযী (২৪৭৩)
📄 কোনো কারণে সম্পদের অংশ দিতে না পারলেও সাহাবীদের খুশি রাখতেন
আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার নবীজি কুরাইশ ও আরব-গোত্রদের উপহার দিলেন, কিন্তু আনসারদের কিছুই দিলেন না। এতে তারা কষ্ট পেল এবং কথা বলতে শুরু করল এবং একপর্যায়ে একজন বলে বসল, 'আল্লাহর নবী তাঁর লোকদেরকেই শুধু দিচ্ছেন।' তখন সাদ ইবনে উবাদা রাযি. নবীজির কাছে এসে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, এই লোকগুলো (আনসারগণ) আপনার গনিমতের বিতরণের ব্যাপারে কষ্ট পেয়েছে। আপনি আরব-গোত্রগুলোকে সম্পদ দিয়েছেন এবং আনসারগণ কিছুই পায়নি।' নবীজি বলেন, “তুমি কী ভাবছ, সাদ?” তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তো আমার লোকদেরই একজন। আমি কেউই না এখানে (মতামত দেওয়ার)।' নবীজি বলেন, "এখানে তোমার লোকদের জড়ো করো।" তখন সাদ তাদের নিয়ে আসলেন।
মুহাজিরদের থেকে কিছু লোক এলে নবীজি তাদেরকেও ঢুকতে দিলেন। অন্যরা আসতে চাইলে তাদের চলে যেতে বলা হলো। যখন সবাই জড়ো হলো, সাদ তাঁর কাছে এসে বললেন, 'আনসাররা আপনার কাছে জড়ো হয়েছে।' নবীজি তাদের কাছে এসে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর বললেন, “হে আনসার, তোমাদের ব্যাপারে এ আমি কী শুনছি যে, তোমরা কষ্ট পেয়েছ? যখন তোমরা পথভ্রষ্ট ছিলে, তখন আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে হেদায়েত দেননি? তোমরা দরিদ্র ছিলে, আল্লাহ তোমাদের সম্পদশালী করলেন! তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, আল্লাহ তোমাদের হৃদয়গুলো এক করে দিলেন।” তারা বললেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগ্রহ আমাদের ওপর সবচেয়ে বেশি।' তিনি বললেন, “হে আনসার, তোমরা আমার কথার উত্তর দাও।” তারা বললেন, 'আমরা আপনাকে কী জবাব দেব! সকল অনুগ্রহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এসেছে।' তিনি বললেন, “তোমরা ইচ্ছা করলেই সত্য কথাগুলো বলতে পার এবং আমি সেগুলো স্বীকার করি যে—আপনি অস্বীকৃত অবস্থায় আমাদের কাছে এসেছেন, আমরা আপনার ওপর বিশ্বাস এনেছি। আপনার কোনো সাহায্য ছিল না, আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি। আপনি বহিষ্কৃত অবস্থায় এসেছেন, আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি। আপনি দরিদ্র ছিলেন, আমরা আপনাকে ধনী করেছি。
হে আনসার, তোমরা কি দুনিয়াবি তুচ্ছ জিনিস, যা দিয়ে মানুষের অন্তরকে (ইসলামের দিকে) টানার চেষ্টা করি, সেগুলোর জন্য দুঃখ পাচ্ছ? যেখানে কিনা আমি তোমাদের ইসলাম দিয়েছি! হে আনসার, তোমরা কি খুশি নও যে, লোকেরা উট-ভেড়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে ঘরে ফিরবে? যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম, হিজরতের কারণে, নাহলে আমি নিজেকে আনসার বলে দাবি করতাম। যদি লোকেরা এক পথে যেত আর আনসারগণ অন্য পথে যেত, তবে আমি আনসারদের পথেই যেতাম। ইয়া আল্লাহ, আনসারদের ওপর, তাদের সন্তানদের ওপর, তাদের নাতি-নাতনিদের ওপর রহমত বর্ষণ করো!”
লোকেরা তখন এত কাঁদতে লাগল যে, কান্নায় তাদের দাড়ি ভিজে গেল। তারা বলে উঠল, 'আমরা আমাদের অংশে আল্লাহর রাসূলকে পেয়ে আমরা খুশি।' এরপর নবীজি চলে গেলেন এবং আমরাও বেরিয়ে গেলাম।”৩৪৩
টিকাঃ
৩৪৩. আহমাদ (১১৩২২)।
আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার নবীজি কুরাইশ ও আরব-গোত্রদের উপহার দিলেন, কিন্তু আনসারদের কিছুই দিলেন না। এতে তারা কষ্ট পেল এবং কথা বলতে শুরু করল এবং একপর্যায়ে একজন বলে বসল, 'আল্লাহর নবী তাঁর লোকদেরকেই শুধু দিচ্ছেন।' তখন সাদ ইবনে উবাদা রাযি. নবীজির কাছে এসে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, এই লোকগুলো (আনসারগণ) আপনার গনিমতের বিতরণের ব্যাপারে কষ্ট পেয়েছে। আপনি আরব-গোত্রগুলোকে সম্পদ দিয়েছেন এবং আনসারগণ কিছুই পায়নি।' নবীজি বলেন, “তুমি কী ভাবছ, সাদ?” তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তো আমার লোকদেরই একজন। আমি কেউই না এখানে (মতামত দেওয়ার)।' নবীজি বলেন, "এখানে তোমার লোকদের জড়ো করো।" তখন সাদ তাদের নিয়ে আসলেন।
মুহাজিরদের থেকে কিছু লোক এলে নবীজি তাদেরকেও ঢুকতে দিলেন। অন্যরা আসতে চাইলে তাদের চলে যেতে বলা হলো। যখন সবাই জড়ো হলো, সাদ তাঁর কাছে এসে বললেন, 'আনসাররা আপনার কাছে জড়ো হয়েছে।' নবীজি তাদের কাছে এসে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর বললেন, “হে আনসার, তোমাদের ব্যাপারে এ আমি কী শুনছি যে, তোমরা কষ্ট পেয়েছ? যখন তোমরা পথভ্রষ্ট ছিলে, তখন আল্লাহ আমাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়ে হেদায়েত দেননি? তোমরা দরিদ্র ছিলে, আল্লাহ তোমাদের সম্পদশালী করলেন! তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, আল্লাহ তোমাদের হৃদয়গুলো এক করে দিলেন।” তারা বললেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগ্রহ আমাদের ওপর সবচেয়ে বেশি।' তিনি বললেন, “হে আনসার, তোমরা আমার কথার উত্তর দাও।” তারা বললেন, 'আমরা আপনাকে কী জবাব দেব! সকল অনুগ্রহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে এসেছে।' তিনি বললেন, “তোমরা ইচ্ছা করলেই সত্য কথাগুলো বলতে পার এবং আমি সেগুলো স্বীকার করি যে—আপনি অস্বীকৃত অবস্থায় আমাদের কাছে এসেছেন, আমরা আপনার ওপর বিশ্বাস এনেছি। আপনার কোনো সাহায্য ছিল না, আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি। আপনি বহিষ্কৃত অবস্থায় এসেছেন, আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি। আপনি দরিদ্র ছিলেন, আমরা আপনাকে ধনী করেছি。
হে আনসার, তোমরা কি দুনিয়াবি তুচ্ছ জিনিস, যা দিয়ে মানুষের অন্তরকে (ইসলামের দিকে) টানার চেষ্টা করি, সেগুলোর জন্য দুঃখ পাচ্ছ? যেখানে কিনা আমি তোমাদের ইসলাম দিয়েছি! হে আনসার, তোমরা কি খুশি নও যে, লোকেরা উট-ভেড়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে ঘরে ফিরবে? যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম, হিজরতের কারণে, নাহলে আমি নিজেকে আনসার বলে দাবি করতাম। যদি লোকেরা এক পথে যেত আর আনসারগণ অন্য পথে যেত, তবে আমি আনসারদের পথেই যেতাম। ইয়া আল্লাহ, আনসারদের ওপর, তাদের সন্তানদের ওপর, তাদের নাতি-নাতনিদের ওপর রহমত বর্ষণ করো!”
লোকেরা তখন এত কাঁদতে লাগল যে, কান্নায় তাদের দাড়ি ভিজে গেল। তারা বলে উঠল, 'আমরা আমাদের অংশে আল্লাহর রাসূলকে পেয়ে আমরা খুশি।' এরপর নবীজি চলে গেলেন এবং আমরাও বেরিয়ে গেলাম।”৩৪৩
টিকাঃ
৩৪৩. আহমাদ (১১৩২২)।