📄 সাহাবীদের বিপদে খোঁজ নিতেন
যায়েদ ইবনে সাবিত রাযি. বলেন, "রাসূলুল্লাহ উহুদের যুদ্ধের দিন আমাকে সাদ ইবনে আর-রাবীর খোঁজে পাঠালেন। তিনি আমাকে বললেন, "তুমি যদি সাদকে দেখতে পাও, তাহলে তাকে আমার সালাম জানাবে এবং বলবে রাসূলুল্লাহ তোমার অবস্থা জানতে চেয়েছেন।" আমি তাকে মৃতদের মাঝে খুঁজতে লাগলাম, তখন তিনি তার জীবনের অন্তিম মুহূর্তে ছিলেন। তার শরীরে বল্লম, তরবারি ও তিরের সত্তরটির বেশি আঘাত ছিল। আমি তাকে বললাম, 'সাদ, রাসূলুল্লাহ তোমাকে সালাম জানিয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন, 'কেমন আছ?' তিনি উত্তর দিলেন, 'রাসূলুল্লাহ এবং তোমার ওপর সালাম বর্ষিত হোক। তাঁকে বোলো, আমি বলেছি, 'আল্লাহর রাসূল, আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি। আর আমার আনসার লোকদের বোলো, 'তোমাদের কোনো অজুহাত খাটবে না, যদি রাসূল ক্ষতিগ্রস্ত হন আর তোমরা চোখের পলক ফেলার সুযোগ পাও।'-এটা বলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।” ৩৩১
সুলাইমান আল-বাজি রাহ. বলেন, “সাহাবীদের জন্য নবীজির চিন্তার একটি দৃষ্টান্ত এই ঘটনা। কাউকে দেখতে না পেলেই তিনি তার জন্য খোঁজখবর নিতেন।”৩৩২
মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সামী রাহ. বলেন, "যখন সাদ বললেন, 'আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি'-এটি আক্ষরিক অর্থে হতে পারে, তিনি যে সুবাস পাচ্ছেন, সেটি এ-দুনিয়ার নয়, সত্যিই জান্নাতের। কিংবা তিনি নিশ্চিত ছিলেন (শাহাদাতের কারণে) শীঘ্রই তিনি জান্নাতে যাবেন আল্লাহর ইচ্ছায়, তাই এ-কথা রূপক অর্থে বলেছেন।” ৩৩৩
টিকাঃ
৩৩১. বায়হাকী (২৬৯/৩) ও মালিক (৮৮৪)।
৩৩২. মুস্তাকা শারহুল মুয়াত্তা' (৬৮/৩)।
৩৩৩. সুবুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সিরাতি খায়রিল ইবাদ (২৪৭/৪)।
যায়েদ ইবনে সাবিত রাযি. বলেন, "রাসূলুল্লাহ উহুদের যুদ্ধের দিন আমাকে সাদ ইবনে আর-রাবীর খোঁজে পাঠালেন। তিনি আমাকে বললেন, "তুমি যদি সাদকে দেখতে পাও, তাহলে তাকে আমার সালাম জানাবে এবং বলবে রাসূলুল্লাহ তোমার অবস্থা জানতে চেয়েছেন।" আমি তাকে মৃতদের মাঝে খুঁজতে লাগলাম, তখন তিনি তার জীবনের অন্তিম মুহূর্তে ছিলেন। তার শরীরে বল্লম, তরবারি ও তিরের সত্তরটির বেশি আঘাত ছিল। আমি তাকে বললাম, 'সাদ, রাসূলুল্লাহ তোমাকে সালাম জানিয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন, 'কেমন আছ?' তিনি উত্তর দিলেন, 'রাসূলুল্লাহ এবং তোমার ওপর সালাম বর্ষিত হোক। তাঁকে বোলো, আমি বলেছি, 'আল্লাহর রাসূল, আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি। আর আমার আনসার লোকদের বোলো, 'তোমাদের কোনো অজুহাত খাটবে না, যদি রাসূল ক্ষতিগ্রস্ত হন আর তোমরা চোখের পলক ফেলার সুযোগ পাও।'-এটা বলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।” ৩৩১
সুলাইমান আল-বাজি রাহ. বলেন, “সাহাবীদের জন্য নবীজির চিন্তার একটি দৃষ্টান্ত এই ঘটনা। কাউকে দেখতে না পেলেই তিনি তার জন্য খোঁজখবর নিতেন।”৩৩২
মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সামী রাহ. বলেন, "যখন সাদ বললেন, 'আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি'-এটি আক্ষরিক অর্থে হতে পারে, তিনি যে সুবাস পাচ্ছেন, সেটি এ-দুনিয়ার নয়, সত্যিই জান্নাতের। কিংবা তিনি নিশ্চিত ছিলেন (শাহাদাতের কারণে) শীঘ্রই তিনি জান্নাতে যাবেন আল্লাহর ইচ্ছায়, তাই এ-কথা রূপক অর্থে বলেছেন।” ৩৩৩
টিকাঃ
৩৩১. বায়হাকী (২৬৯/৩) ও মালিক (৮৮৪)।
৩৩২. মুস্তাকা শারহুল মুয়াত্তা' (৬৮/৩)।
৩৩৩. সুবুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সিরাতি খায়রিল ইবাদ (২৪৭/৪)।
📄 সাহাবীদের মৃত্যুতে অনেক কষ্ট পেতেন এবং কাঁদতেন
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত, “মৃতার যুদ্ধে নবীজি সেনাপতি হিসেবে জায়িদ ইবনে হারিসাকে একদল সৈন্যসহ পাঠালেন এবং বললেন, “যায়েদ যদি শহীদ হয়, তা হলে জাফর সেনাপতি হবে; জাফর যদি শহীদ হয়, তা হলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা সেনাপতি হবে।” আবদুল্লাহ বলেন, 'ঐ যুদ্ধে তাদের সঙ্গে আমিও ছিলাম। (যুদ্ধ শেষে) আমরা জাফর ইবনে আবু তালিবকে রাযি. খুঁজতে গিয়ে তাকে শহীদদের মধ্যে পেলাম। তখন আমরা তার দেহে বর্শা ও তিরের নব্বইটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখেছিলাম।” ৩৩৪
আনাস ইবনে মালিক রাযি. (উপরের একই ঘটনা সম্পর্কে) বলেন, “নবীজি খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের ভাই ও শত্রুরা যুদ্ধে নেমেছে। যায়েদ পতাকা নিলো এবং সে শহীদ হলো। এরপর জাফর ইবনে আবু তালিব পতাকা নিল, সেও শহীদ হলো। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা পতাকা নিল, সেও শহীদ হলো। এরপর আল্লাহর অন্যতম তরবারি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ পতাকা নিল এবং জয়লাভ করল।” ৩৩৫
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “আমি রাসূলুল্লাহকে উসমান ইবনে মাযঊনের লাশে চুমু খেতে দেখেছি। আমি তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে দেখেছি।” ৩৩৬
মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, “উসমান ইবনে মাযঊন রাযি. মারা গেলে তার লাশ আনা হলো, তারপর লাশ দাফন করা হলো। নবী এক ব্যক্তিকে একটি পাথর নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। কিন্তু লোকটি তা বহন করতে অক্ষম হলো। রাসূলুল্লাহ নিজে পাথরটির কাছে গেলেন এবং নিজের জামার আস্তিন গোটালেন।
মুত্তালিব বললেন, আমাকে যে-ব্যক্তি এ-ঘটনা অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, 'আমি যেন এখনো রাসূলুল্লাহর বাহুদ্বয়ের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছি, যখন তিনি তাঁর জামার আস্তিন গুটিয়েছিলেন। তারপর তিনি পাথরটি দু হাতে তুলে এনে (উসমান ইবনে মাযউনের) শিয়রে রাখেন। তিনি বললেন, “এর দ্বারা আমি আমার ভাইয়ের কবর চিনতে পারব এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে তার কাছে দাফন করব।”” ৩৩৭ উসমান ইবনে মাযউন রাযি. নবীজির দুধভাই ছিলেন। তিনি প্রথমে ইথিওপিয়ায় হিজরত করেন, পরে মদীনায় আসেন এবং বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ইসলামের আগমনের পূর্বে থেকেই মদ খেতে নিষেধ করতেন। মদীনায় হিজরতের ঠিক ত্রিশ মাস পর শাবান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।
টিকাঃ
৩৩৪. বুখারী (৪২৬১)।
৩৩৫. বুখারী (১২৪৬)।
৩৩৬. আবু দাউদ (৩১৬৩), তিরমিযী (৯৮৯) ও ইবনে মাজাহ (১৪৫৬)।
৩৩৭. আবু দাউদ (৩২০৬)।
আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত, “মৃতার যুদ্ধে নবীজি সেনাপতি হিসেবে জায়িদ ইবনে হারিসাকে একদল সৈন্যসহ পাঠালেন এবং বললেন, “যায়েদ যদি শহীদ হয়, তা হলে জাফর সেনাপতি হবে; জাফর যদি শহীদ হয়, তা হলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা সেনাপতি হবে।” আবদুল্লাহ বলেন, 'ঐ যুদ্ধে তাদের সঙ্গে আমিও ছিলাম। (যুদ্ধ শেষে) আমরা জাফর ইবনে আবু তালিবকে রাযি. খুঁজতে গিয়ে তাকে শহীদদের মধ্যে পেলাম। তখন আমরা তার দেহে বর্শা ও তিরের নব্বইটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখেছিলাম।” ৩৩৪
আনাস ইবনে মালিক রাযি. (উপরের একই ঘটনা সম্পর্কে) বলেন, “নবীজি খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের ভাই ও শত্রুরা যুদ্ধে নেমেছে। যায়েদ পতাকা নিলো এবং সে শহীদ হলো। এরপর জাফর ইবনে আবু তালিব পতাকা নিল, সেও শহীদ হলো। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা পতাকা নিল, সেও শহীদ হলো। এরপর আল্লাহর অন্যতম তরবারি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ পতাকা নিল এবং জয়লাভ করল।” ৩৩৫
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “আমি রাসূলুল্লাহকে উসমান ইবনে মাযঊনের লাশে চুমু খেতে দেখেছি। আমি তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে দেখেছি।” ৩৩৬
মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, “উসমান ইবনে মাযঊন রাযি. মারা গেলে তার লাশ আনা হলো, তারপর লাশ দাফন করা হলো। নবী এক ব্যক্তিকে একটি পাথর নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। কিন্তু লোকটি তা বহন করতে অক্ষম হলো। রাসূলুল্লাহ নিজে পাথরটির কাছে গেলেন এবং নিজের জামার আস্তিন গোটালেন।
মুত্তালিব বললেন, আমাকে যে-ব্যক্তি এ-ঘটনা অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, 'আমি যেন এখনো রাসূলুল্লাহর বাহুদ্বয়ের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছি, যখন তিনি তাঁর জামার আস্তিন গুটিয়েছিলেন। তারপর তিনি পাথরটি দু হাতে তুলে এনে (উসমান ইবনে মাযউনের) শিয়রে রাখেন। তিনি বললেন, “এর দ্বারা আমি আমার ভাইয়ের কবর চিনতে পারব এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে তার কাছে দাফন করব।”” ৩৩৭ উসমান ইবনে মাযউন রাযি. নবীজির দুধভাই ছিলেন। তিনি প্রথমে ইথিওপিয়ায় হিজরত করেন, পরে মদীনায় আসেন এবং বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ইসলামের আগমনের পূর্বে থেকেই মদ খেতে নিষেধ করতেন। মদীনায় হিজরতের ঠিক ত্রিশ মাস পর শাবান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।
টিকাঃ
৩৩৪. বুখারী (৪২৬১)।
৩৩৫. বুখারী (১২৪৬)।
৩৩৬. আবু দাউদ (৩১৬৩), তিরমিযী (৯৮৯) ও ইবনে মাজাহ (১৪৫৬)।
৩৩৭. আবু দাউদ (৩২০৬)।
📄 সাহাবীদের মতামত ও পরামর্শ শুনতেন
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একদা আমরা (সাহাবাগণ) রাসূলুল্লাহকে ঘিরে বসেছিলাম। আমাদের জামাআতে আবু বাকর এবং উমার রাযি. ও ছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝ থেকে উঠে গেলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলে আমরা শঙ্কিত হলাম—তিনি কোথাও কোনো বিপদের সম্মুখীন হলেন কিনা। আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম। আমিই সর্বপ্রথম বিচলিত হলাম। তাই তাঁর খোঁজে বের হয়ে পড়লাম。
আমি বনু নাজ্জারের জনৈক আনসারীর বাগানের কাছে গেলাম। বাগানের ভেতর প্রবেশের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় কি না, সেজন্য চারদিকে ঘুরলাম। কিন্তু পেলাম না। হঠাৎ দেখতে পেলাম, বাইরের একটি কুয়া থেকে একটি নালা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। সংকীর্ণ নালাকে জাদওয়াল বলা হয়। আমি নিজেকে শেয়ালের মতো সংকুচিত করে নর্দমার মধ্য দিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, “আবু হুরাইরা নাকি?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ!' তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার?” আমি বললাম, 'আপনি আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ উঠে চলে এলেন, আর দীর্ঘ সময় পরও ফিরে না আসায় আমরা বিচলিত হয়ে পড়লাম। আমাদের অনুপস্থিতিতে কোথাও বিপদের সম্মুখীন হলেন কি না, আমাদের এ-আশঙ্কা হলো। আমি সর্বপ্রথম বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এ-দেয়ালের কাছে এসে শেয়ালের ন্যায় সঙ্কুচিত হয়ে নালার ভিতর দিয়ে এখানে উপস্থিত হলাম। অন্যরা আমার পেছনে আছে।' তিনি তাঁর জুতা-জোড়া আমাকে দিয়ে বললেন, 'আবু হুরাইরা, আমার জুতা-জোড়া সাথে নিয়ে যাও। এ-বাগানের বাইরে যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হয়, তাকে বলো, “যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এ-সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।”
আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “সর্বপ্রথম উমারের রাযি. সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাকে বললেন, 'আবু হুরাইরা, জুতা-জোড়া কার?' আমি বললাম, “আল্লাহর রাসূলের। তিনি আমাকে এ-জুতা-জোড়াসহ এই বলে পাঠিয়েছেন যে, 'যে ব্যক্তি প্রশান্ত মনে এ-সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দেবে।' আমার এ-কথা শুনে উমার রাযি. আমার বুকের উপর এমন জোরে চপেটাঘাত করলেন যে, আমি পেছন দিকে পড়ে গেলাম।
তিনি বললেন, 'আবু হুরাইরা, তুমি (রাসূলুল্লাহর কাছে) ফিরে চলো। তাই আমি রাসূলুল্লাহর কাছে কাঁদো কাঁদো অবস্থায় ফিরে এলাম। আমার পেছনে পেছনে উমার রাযি. সেখানে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আবু হুরাইরাহ, তোমার কী হয়েছে?” আমি বললাম, 'আমার সাথে উমারের দেখা হলো। আপনি আমাকে যে-সুসংবাদ দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তাকে সেটা জানালে তিনি আমার বুকে এমন জোরে ঘুষি মারলেন যে, আমি পিছন দিকে পড়ে গেলাম। তিনি এটাও বলেছেন যে, আমি যেন (আপনার কাছে) ফিরে যাই。
রাসূলুল্লাহ বললেন, "উমার, কেন তুমি এমন কাজ করলে?” তিনি বললেন, 'রাসূলুল্লাহ, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। আপনি কি আপনার জুতা-জোড়াসহ আবু হুরাইরাকে এ বলে পাঠিয়েছেন যে, যার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হয়, তাকে বলো, যে-ব্যক্তি অন্তর থেকে এ-সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” উমার রাযি. বললেন, 'এরূপ করবেন না; আমার আশংকা হচ্ছে, এতে লোকেরা (আমল বর্জন করে) এর উপর ভরসা করে বসে থাকবে; কাজেই লোকদেরকে আমাল করার সুযোগ দিন।' তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, “আচ্ছা, তা হলে বাদ দাও।” ৩৩৮
টিকাঃ
৩৩৮. মুসলিম (৩১)।
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একদা আমরা (সাহাবাগণ) রাসূলুল্লাহকে ঘিরে বসেছিলাম। আমাদের জামাআতে আবু বাকর এবং উমার রাযি. ও ছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝ থেকে উঠে গেলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলে আমরা শঙ্কিত হলাম—তিনি কোথাও কোনো বিপদের সম্মুখীন হলেন কিনা। আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম। আমিই সর্বপ্রথম বিচলিত হলাম। তাই তাঁর খোঁজে বের হয়ে পড়লাম。
আমি বনু নাজ্জারের জনৈক আনসারীর বাগানের কাছে গেলাম। বাগানের ভেতর প্রবেশের কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় কি না, সেজন্য চারদিকে ঘুরলাম। কিন্তু পেলাম না। হঠাৎ দেখতে পেলাম, বাইরের একটি কুয়া থেকে একটি নালা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। সংকীর্ণ নালাকে জাদওয়াল বলা হয়। আমি নিজেকে শেয়ালের মতো সংকুচিত করে নর্দমার মধ্য দিয়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, “আবু হুরাইরা নাকি?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ!' তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার?” আমি বললাম, 'আপনি আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ উঠে চলে এলেন, আর দীর্ঘ সময় পরও ফিরে না আসায় আমরা বিচলিত হয়ে পড়লাম। আমাদের অনুপস্থিতিতে কোথাও বিপদের সম্মুখীন হলেন কি না, আমাদের এ-আশঙ্কা হলো। আমি সর্বপ্রথম বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এ-দেয়ালের কাছে এসে শেয়ালের ন্যায় সঙ্কুচিত হয়ে নালার ভিতর দিয়ে এখানে উপস্থিত হলাম। অন্যরা আমার পেছনে আছে।' তিনি তাঁর জুতা-জোড়া আমাকে দিয়ে বললেন, 'আবু হুরাইরা, আমার জুতা-জোড়া সাথে নিয়ে যাও। এ-বাগানের বাইরে যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হয়, তাকে বলো, “যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এ-সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।”
আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “সর্বপ্রথম উমারের রাযি. সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাকে বললেন, 'আবু হুরাইরা, জুতা-জোড়া কার?' আমি বললাম, “আল্লাহর রাসূলের। তিনি আমাকে এ-জুতা-জোড়াসহ এই বলে পাঠিয়েছেন যে, 'যে ব্যক্তি প্রশান্ত মনে এ-সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দেবে।' আমার এ-কথা শুনে উমার রাযি. আমার বুকের উপর এমন জোরে চপেটাঘাত করলেন যে, আমি পেছন দিকে পড়ে গেলাম।
তিনি বললেন, 'আবু হুরাইরা, তুমি (রাসূলুল্লাহর কাছে) ফিরে চলো। তাই আমি রাসূলুল্লাহর কাছে কাঁদো কাঁদো অবস্থায় ফিরে এলাম। আমার পেছনে পেছনে উমার রাযি. সেখানে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আবু হুরাইরাহ, তোমার কী হয়েছে?” আমি বললাম, 'আমার সাথে উমারের দেখা হলো। আপনি আমাকে যে-সুসংবাদ দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তাকে সেটা জানালে তিনি আমার বুকে এমন জোরে ঘুষি মারলেন যে, আমি পিছন দিকে পড়ে গেলাম। তিনি এটাও বলেছেন যে, আমি যেন (আপনার কাছে) ফিরে যাই。
রাসূলুল্লাহ বললেন, "উমার, কেন তুমি এমন কাজ করলে?” তিনি বললেন, 'রাসূলুল্লাহ, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। আপনি কি আপনার জুতা-জোড়াসহ আবু হুরাইরাকে এ বলে পাঠিয়েছেন যে, যার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হয়, তাকে বলো, যে-ব্যক্তি অন্তর থেকে এ-সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” উমার রাযি. বললেন, 'এরূপ করবেন না; আমার আশংকা হচ্ছে, এতে লোকেরা (আমল বর্জন করে) এর উপর ভরসা করে বসে থাকবে; কাজেই লোকদেরকে আমাল করার সুযোগ দিন।' তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, “আচ্ছা, তা হলে বাদ দাও।” ৩৩৮
টিকাঃ
৩৩৮. মুসলিম (৩১)।
📄 বদর যুদ্ধে নবীজি সাহাবীদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন
ইবনে হিশাম রাহ. বলেন, “নবীজি বদর পৌঁছে সেখানে তাঁবু ফেললেন। হুবাব ইবনে মুনাযির রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, 'এই স্থান, যেটি আপনি ঠিক করলেন, এটি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেন আমরা এখান থেকে না সরি; নাকি এটি শুধুই একটি মতামত, যুদ্ধের একটি কৌশল?' নবীজি বললেন, “বরং, এটি একটি মতামত, যুদ্ধের একটি কৌশল।" তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, এটি ভালো অবস্থান হবে না। আমাদের শত্রুর নিকটস্থ জলাশয়ের কাছে থাকা উচিত। আমরা সেগুলোর পানি তুলে নিয়ে খালি করে আলাদা জলাধার বানাবো। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে আমাদের পান করার পানি থাকবে, তাদের কিছুই থাকবে না।' নবীজি বলেন, "আপনি ঠিক বলেছেন।" তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং সঙ্গীদের নিয়ে শত্রুর নিকটস্থ জলাশয়ের কাছে তাঁবু ফেললেন। তারপর কুয়াগুলো ফাঁকা করে দেয়ালের পাশে জলাধার তৈরি করে পানি দিয়ে ভর্তি করার নির্দেশ দিলেন।” ৩৩৯
উহুদ যুদ্ধেও সাহাবীদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ বদরের যুদ্ধের গনিমতে পাওয়া তাঁর যুলফিকার নামের তরবারি নিলেন। শুরুতে তিনি মুশরিকদের সাথে মদীনায় থেকে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি এমন কয়েকজন বললেন, 'আমরা উহুদে গিয়ে যুদ্ধ করতে চাই, তা হলে বদরের মতো সাওয়াব আমরাও লাভ করতে পারব।' তারা তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টা করতে লাগলেন এবং সবশেষে তিনি (রাজি হয়ে) বর্ম গায়ে চড়ালেন। যখন তিনি বর্ম পরে ফেললেন, তখন তাদের কিছু সাহাবী এ-সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করতে লাগলেন। তারা বলতে লাগলেন, 'আল্লাহর রাসূল, মদীনায় থাকুন। সিদ্ধান্ত আপনার একার ওপর।' তখন তিনি বললেন, “একজন নবীর শানে এটি মানায় না যে, তাঁর দল ও শত্রুদের মাঝে আল্লাহ ফয়সালা করার আগেই তিনি বর্ম পরে খুলে ফেলবেন।”” ৩৪০
ইফকের ঘটনায় আয়িশাকে রাযি. মুনাফিকরা মিথ্যা অপবাদ দিলে নবীজি তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “তারা আমার নামে অপবাদ দিলে নবীজি খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। আল্লাহর হামদ পাঠ করে বললেন, “যারা আমার স্ত্রীর নামে অপবাদ দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আমার কী করা উচিত, আপনারা পরামর্শ দিন। আল্লাহর কসম, আমি তো আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না। আর এমন ব্যক্তিকে জড়িয়ে তারা কথা তুলেছে, যার সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না, আর সে (সাফওয়ান ইবনে মুআত্তাল) তো আমার সঙ্গে ব্যতীত আমার ঘরে কখনো প্রবেশ করত না।”” ৩৪১
টিকাঃ
৩৩৯. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২৬৮/৩)।
৩৪০. আহমাদ (২৮১০)।
৩৪১. তিরমিযী (৩১৮০), বুখারী (৪১৪১) ও মুসলিম (২৭৭০)।
ইবনে হিশাম রাহ. বলেন, “নবীজি বদর পৌঁছে সেখানে তাঁবু ফেললেন। হুবাব ইবনে মুনাযির রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, 'এই স্থান, যেটি আপনি ঠিক করলেন, এটি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেন আমরা এখান থেকে না সরি; নাকি এটি শুধুই একটি মতামত, যুদ্ধের একটি কৌশল?' নবীজি বললেন, “বরং, এটি একটি মতামত, যুদ্ধের একটি কৌশল।" তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, এটি ভালো অবস্থান হবে না। আমাদের শত্রুর নিকটস্থ জলাশয়ের কাছে থাকা উচিত। আমরা সেগুলোর পানি তুলে নিয়ে খালি করে আলাদা জলাধার বানাবো। এরপর যুদ্ধ শুরু হলে আমাদের পান করার পানি থাকবে, তাদের কিছুই থাকবে না।' নবীজি বলেন, "আপনি ঠিক বলেছেন।" তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং সঙ্গীদের নিয়ে শত্রুর নিকটস্থ জলাশয়ের কাছে তাঁবু ফেললেন। তারপর কুয়াগুলো ফাঁকা করে দেয়ালের পাশে জলাধার তৈরি করে পানি দিয়ে ভর্তি করার নির্দেশ দিলেন।” ৩৩৯
উহুদ যুদ্ধেও সাহাবীদের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ বদরের যুদ্ধের গনিমতে পাওয়া তাঁর যুলফিকার নামের তরবারি নিলেন। শুরুতে তিনি মুশরিকদের সাথে মদীনায় থেকে যুদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহন করেননি এমন কয়েকজন বললেন, 'আমরা উহুদে গিয়ে যুদ্ধ করতে চাই, তা হলে বদরের মতো সাওয়াব আমরাও লাভ করতে পারব।' তারা তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টা করতে লাগলেন এবং সবশেষে তিনি (রাজি হয়ে) বর্ম গায়ে চড়ালেন। যখন তিনি বর্ম পরে ফেললেন, তখন তাদের কিছু সাহাবী এ-সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করতে লাগলেন। তারা বলতে লাগলেন, 'আল্লাহর রাসূল, মদীনায় থাকুন। সিদ্ধান্ত আপনার একার ওপর।' তখন তিনি বললেন, “একজন নবীর শানে এটি মানায় না যে, তাঁর দল ও শত্রুদের মাঝে আল্লাহ ফয়সালা করার আগেই তিনি বর্ম পরে খুলে ফেলবেন।”” ৩৪০
ইফকের ঘটনায় আয়িশাকে রাযি. মুনাফিকরা মিথ্যা অপবাদ দিলে নবীজি তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “তারা আমার নামে অপবাদ দিলে নবীজি খুতবা দিতে দাঁড়ালেন। আল্লাহর হামদ পাঠ করে বললেন, “যারা আমার স্ত্রীর নামে অপবাদ দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আমার কী করা উচিত, আপনারা পরামর্শ দিন। আল্লাহর কসম, আমি তো আমার স্ত্রী সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না। আর এমন ব্যক্তিকে জড়িয়ে তারা কথা তুলেছে, যার সম্পর্কে ভালো ব্যতীত অন্য কিছু জানি না, আর সে (সাফওয়ান ইবনে মুআত্তাল) তো আমার সঙ্গে ব্যতীত আমার ঘরে কখনো প্রবেশ করত না।”” ৩৪১
টিকাঃ
৩৩৯. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (২৬৮/৩)।
৩৪০. আহমাদ (২৮১০)।
৩৪১. তিরমিযী (৩১৮০), বুখারী (৪১৪১) ও মুসলিম (২৭৭০)।