📘 নবীজির সংসার > 📄 ব্যক্তিগত বিষয়েও সাহাবীদের ওপর আস্থা রাখতেন

📄 ব্যক্তিগত বিষয়েও সাহাবীদের ওপর আস্থা রাখতেন


নবীজি বিলাল ইবনে রাবাহর রাযি. ওপর তাঁর খরচ দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আবদুল্লাহ আল-হাওযানীর রাযি. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদা হালব শহরে আমার সাথে রাসূলুল্লাহর মুয়াযযিন বিলালের রাযি. দেখা হলো। আমি বললাম, 'হে বিলাল, রাসূলুল্লাহর পরিবারে ভরণ-পোষণের খরচ কীভাবে ব্যবস্থা হতো, আমাকে বলুন।' তিনি বললেন, 'মহান আল্লাহ নবীজিকে (রাসূল করে) পাঠানোর পর থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর পরিবারের যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বে ছিলাম। তাঁর কাছে কোনো বস্ত্রহীন মুসলিম এলে তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতেন এবং আমি ধার করতে বের হতাম। আমি তাঁর জন্য কাপড় কিনে এনে তাঁকে পরিয়ে দিতাম এবং আহার করাতাম। এমতাবস্থায় মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, আমার অনেক সম্পদ রয়েছে। তুমি অন্য কারও কাছ থেকে ধার না করে আমার কাছ থেকে ধার নাও। সুতরাং আমি তা-ই করলাম।'
এ-অবস্থায় আমি একদিন উযু করে সালাতের আযান দিতে উঠি। এ-সময় মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ীর সাথে এসে উপস্থিত হলো। সে আমাকে দেখামাত্র বলল, 'হে হাবশি!' আমি বললাম, 'উপস্থিত আছি।' সে আমাকে কটূক্তি করাতে আমার মনে খুব বিঁধল। সে আমাকে আরও বলল, 'তুমি কি জানো, মাসের কত দিন বাকি আছে?' আমি বললাম, 'প্রায় শেষ।' সে বলল, 'তোমার ও তার (ঋণ পরিশোধের সময়ের) মধ্যে চার দিন ব্যবধান। কাজেই আমি তোমাকে ঋণের পরিবর্তে ধরে নিয়ে যাব এবং মেষপালের রাখাল বানিয়ে তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।' তার এরূপ কথা শুনে আমি মর্মাহত হলাম, যেমন অন্যান্য লোকদের হয়ে থাকে। আমি যখন ইশার সালাত আদায় করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পরিজনের কাছে ফিরে এলেন। আমি তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলে তিনি তা অনুমতি দিলেন。
আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আমি যে-মুশরিক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম, সে আমাকে এ-কথা বলেছে। আমার এ-ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য আপনারও নেই, আমারও নেই। সে আমাকে অপদস্থ করবে। কাজেই ইতোপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছে এরূপ কোনো মুসলিম জনপদে পলায়ন করার অনুমতি আমাকে দিন। আমি তত দিন আত্মগোপন থাকার অনুমতি চাই, যত দিন না মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ﷺ এ-সম্পদের ব্যবস্থা করে দেন, যা দিয়ে আমার ঋণ পরিশোধ হবে।' এ-কথা বলে আমি আমার ঘরে চলে এসে আমার তরবারি, মোজা, জুতা ও ঢাল গুছিয়ে আমার মাথার কাছে রাখি। ইচ্ছা ছিলো, ভোরের আভা ফোটামাত্রই বেরিয়ে পড়ব।
হঠাৎ এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, রাসূলুল্লাহ ﷺ তোমাকে স্মরণ করেছেন।' আমি রওনা হয়ে তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হয়ে দেখি, চারটি উট পিঠে সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে বসে আছে। আমি অনুমতি চাইলাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করো! মহান আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধের জন্য এগুলো পাঠিয়েছেন।” পুনরায় তিনি বললেন, “তুমি কি দেখছ না চারটি উট মাল বোঝাই হয়ে বসে আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, “এই উট এবং এদের পিঠে বোঝাই সম্পদ তোমার জন্য। এগুলো—পিঠ বোঝাই বস্ত্র ও খাদ্যদ্রব্য ফাদাকের শাসক আমার জন্য পাঠিয়েছে। এগুলো নিয়ে তোমার ঋণ পরিশোধ করো।' আমি তা-ই করলাম।
তারপর বিলাল বলেন, 'আমি মসজিদে গিয়ে দেখি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বসে আছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি বললেন, "তুমি যে সম্পদ পেয়েছ, তা কী করেছ? ঋণ পরিশোধ হয়েছে কি?" আমি বললাম, 'মহান আল্লাহ রাসূলের ﷺ সমস্ত ঋণ পরিশোধের তাওফীক দিয়েছেন। এখন আর অবশিষ্ট নেই।' তিনি বললেন, "কিছু সম্পদ অবশিষ্ট আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "অবশিষ্ট সম্পদ তাড়াতাড়ি খরচ করো। তুমি আমাকে এ-অবশিষ্ট সম্পদ থেকে রেহাই না দেওয়া পর্যন্ত আমি আমার পরিবারের কারও কাছে যাব না।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইশার সালাত আদায়ের পর আমাকে ডেকে বললেন, “তোমাকে দেওয়া মালের অবস্থা কী?” আমি বললাম, 'সেগুলো আমার কাছেই আছে। আমার কাছে কেউ আসেনি।' রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে রাত কাটালেন। বর্ণনাকারী হাদীসের বাকি অংশ বর্ণনা করলেন—'এমনকি পরবর্তী দিনের ইশার সালাত আদায় করে তিনি আমাকে ডাকলেন। তিনি বললেন, “তোমার কাছে অবশিষ্ট মালের অবস্থা কী?' আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে তা থেকে চিন্তামুক্ত করেছেন।' তিনি তাকবীর দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন।” ৩২৮

টিকাঃ
৩২৮. আবু দাউদ (৩০৫৫)।

নবীজি বিলাল ইবনে রাবাহর রাযি. ওপর তাঁর খরচ দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আবদুল্লাহ আল-হাওযানীর রাযি. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদা হালব শহরে আমার সাথে রাসূলুল্লাহর মুয়াযযিন বিলালের রাযি. দেখা হলো। আমি বললাম, 'হে বিলাল, রাসূলুল্লাহর পরিবারে ভরণ-পোষণের খরচ কীভাবে ব্যবস্থা হতো, আমাকে বলুন।' তিনি বললেন, 'মহান আল্লাহ নবীজিকে (রাসূল করে) পাঠানোর পর থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর পরিবারের যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বে ছিলাম। তাঁর কাছে কোনো বস্ত্রহীন মুসলিম এলে তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতেন এবং আমি ধার করতে বের হতাম। আমি তাঁর জন্য কাপড় কিনে এনে তাঁকে পরিয়ে দিতাম এবং আহার করাতাম। এমতাবস্থায় মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, আমার অনেক সম্পদ রয়েছে। তুমি অন্য কারও কাছ থেকে ধার না করে আমার কাছ থেকে ধার নাও। সুতরাং আমি তা-ই করলাম।'
এ-অবস্থায় আমি একদিন উযু করে সালাতের আযান দিতে উঠি। এ-সময় মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ীর সাথে এসে উপস্থিত হলো। সে আমাকে দেখামাত্র বলল, 'হে হাবশি!' আমি বললাম, 'উপস্থিত আছি।' সে আমাকে কটূক্তি করাতে আমার মনে খুব বিঁধল। সে আমাকে আরও বলল, 'তুমি কি জানো, মাসের কত দিন বাকি আছে?' আমি বললাম, 'প্রায় শেষ।' সে বলল, 'তোমার ও তার (ঋণ পরিশোধের সময়ের) মধ্যে চার দিন ব্যবধান। কাজেই আমি তোমাকে ঋণের পরিবর্তে ধরে নিয়ে যাব এবং মেষপালের রাখাল বানিয়ে তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।' তার এরূপ কথা শুনে আমি মর্মাহত হলাম, যেমন অন্যান্য লোকদের হয়ে থাকে। আমি যখন ইশার সালাত আদায় করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পরিজনের কাছে ফিরে এলেন। আমি তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলে তিনি তা অনুমতি দিলেন。
আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আমি যে-মুশরিক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম, সে আমাকে এ-কথা বলেছে। আমার এ-ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য আপনারও নেই, আমারও নেই। সে আমাকে অপদস্থ করবে। কাজেই ইতোপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছে এরূপ কোনো মুসলিম জনপদে পলায়ন করার অনুমতি আমাকে দিন। আমি তত দিন আত্মগোপন থাকার অনুমতি চাই, যত দিন না মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ﷺ এ-সম্পদের ব্যবস্থা করে দেন, যা দিয়ে আমার ঋণ পরিশোধ হবে।' এ-কথা বলে আমি আমার ঘরে চলে এসে আমার তরবারি, মোজা, জুতা ও ঢাল গুছিয়ে আমার মাথার কাছে রাখি। ইচ্ছা ছিলো, ভোরের আভা ফোটামাত্রই বেরিয়ে পড়ব।
হঠাৎ এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, রাসূলুল্লাহ ﷺ তোমাকে স্মরণ করেছেন।' আমি রওনা হয়ে তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হয়ে দেখি, চারটি উট পিঠে সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে বসে আছে। আমি অনুমতি চাইলাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করো! মহান আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধের জন্য এগুলো পাঠিয়েছেন।” পুনরায় তিনি বললেন, “তুমি কি দেখছ না চারটি উট মাল বোঝাই হয়ে বসে আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, “এই উট এবং এদের পিঠে বোঝাই সম্পদ তোমার জন্য। এগুলো—পিঠ বোঝাই বস্ত্র ও খাদ্যদ্রব্য ফাদাকের শাসক আমার জন্য পাঠিয়েছে। এগুলো নিয়ে তোমার ঋণ পরিশোধ করো।' আমি তা-ই করলাম।
তারপর বিলাল বলেন, 'আমি মসজিদে গিয়ে দেখি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বসে আছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি বললেন, "তুমি যে সম্পদ পেয়েছ, তা কী করেছ? ঋণ পরিশোধ হয়েছে কি?" আমি বললাম, 'মহান আল্লাহ রাসূলের ﷺ সমস্ত ঋণ পরিশোধের তাওফীক দিয়েছেন। এখন আর অবশিষ্ট নেই।' তিনি বললেন, "কিছু সম্পদ অবশিষ্ট আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "অবশিষ্ট সম্পদ তাড়াতাড়ি খরচ করো। তুমি আমাকে এ-অবশিষ্ট সম্পদ থেকে রেহাই না দেওয়া পর্যন্ত আমি আমার পরিবারের কারও কাছে যাব না।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইশার সালাত আদায়ের পর আমাকে ডেকে বললেন, “তোমাকে দেওয়া মালের অবস্থা কী?” আমি বললাম, 'সেগুলো আমার কাছেই আছে। আমার কাছে কেউ আসেনি।' রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে রাত কাটালেন। বর্ণনাকারী হাদীসের বাকি অংশ বর্ণনা করলেন—'এমনকি পরবর্তী দিনের ইশার সালাত আদায় করে তিনি আমাকে ডাকলেন। তিনি বললেন, “তোমার কাছে অবশিষ্ট মালের অবস্থা কী?' আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে তা থেকে চিন্তামুক্ত করেছেন।' তিনি তাকবীর দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন।” ৩২৮

টিকাঃ
৩২৮. আবু দাউদ (৩০৫৫)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 কোনো সাহাবী অনুপস্থিত থাকলে তার খোঁজ নিতেন

📄 কোনো সাহাবী অনুপস্থিত থাকলে তার খোঁজ নিতেন


আনাস ইবনে মালিক রাযি. হতে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ সাবিত ইবনে কায়েসকে রাযি. তাঁর মজলিসে অনুপস্থিত পেলেন। তখন এক সাহাবী বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তার সম্পর্কে জানি।' তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন, সাবিত রাযি. তার ঘরে মাথা নুয়ে বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'সাবিত, কী অবস্থা তোমার?' তিনি বললেন, 'অত্যন্ত খারাপ। তার গলার স্বর নবীর ﷺ গলার স্বর থেকে উচ্চ হয়েছিল। কাজেই তার সব নেক আমল নষ্ট হয়ে গেছে। সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।' ঐ ব্যক্তি ফিরে এসে নবীজিকে ﷺ জানালেন সাবিত রাযি. এ-সব কথা বলছে। তখন নবীজি ﷺ বললেন, “বরং সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত।”” ৩২৯
কুররা ইবনে আইয়্যাস থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে নিয়ে নবীজির ﷺ কাছে এলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি তাকে ভালোবাসো?” সে বলল, 'আমি তাকে যতখানি ভালোবাসি, আল্লাহ যেন আপনাকে ততখানি ভালোবাসেন।" তারপর তার ছেলে একদিন মারা গেল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে দেখতে না পেয়ে তার কথা জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটাকে বললেন, “তুমি কি আনন্দিত না যে, তুমি জান্নাতের যে-কোনো দরজা দিয়ে ঢুকতে চাইলে তোমার ছেলে এসে দৌড়ে তা খুলে দেবে?”” ৩৩০

টিকাঃ
৩২৯. বুখারী (৩৬১৩) ও মুসলিম (১১৯)।
৩৩০. নাসাঈ (১৮৭০) ও আহমদ (১৯৮২৫)।

আনাস ইবনে মালিক রাযি. হতে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ সাবিত ইবনে কায়েসকে রাযি. তাঁর মজলিসে অনুপস্থিত পেলেন। তখন এক সাহাবী বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তার সম্পর্কে জানি।' তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন, সাবিত রাযি. তার ঘরে মাথা নুয়ে বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'সাবিত, কী অবস্থা তোমার?' তিনি বললেন, 'অত্যন্ত খারাপ। তার গলার স্বর নবীর ﷺ গলার স্বর থেকে উচ্চ হয়েছিল। কাজেই তার সব নেক আমল নষ্ট হয়ে গেছে। সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।' ঐ ব্যক্তি ফিরে এসে নবীজিকে ﷺ জানালেন সাবিত রাযি. এ-সব কথা বলছে। তখন নবীজি ﷺ বললেন, “বরং সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত।”” ৩২৯
কুররা ইবনে আইয়্যাস থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে নিয়ে নবীজির ﷺ কাছে এলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি তাকে ভালোবাসো?” সে বলল, 'আমি তাকে যতখানি ভালোবাসি, আল্লাহ যেন আপনাকে ততখানি ভালোবাসেন।" তারপর তার ছেলে একদিন মারা গেল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে দেখতে না পেয়ে তার কথা জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটাকে বললেন, “তুমি কি আনন্দিত না যে, তুমি জান্নাতের যে-কোনো দরজা দিয়ে ঢুকতে চাইলে তোমার ছেলে এসে দৌড়ে তা খুলে দেবে?”” ৩৩০

টিকাঃ
৩২৯. বুখারী (৩৬১৩) ও মুসলিম (১১৯)।
৩৩০. নাসাঈ (১৮৭০) ও আহমদ (১৯৮২৫)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 সাহাবীদের বিপদে খোঁজ নিতেন

📄 সাহাবীদের বিপদে খোঁজ নিতেন


যায়েদ ইবনে সাবিত রাযি. বলেন, "রাসূলুল্লাহ উহুদের যুদ্ধের দিন আমাকে সাদ ইবনে আর-রাবীর খোঁজে পাঠালেন। তিনি আমাকে বললেন, "তুমি যদি সাদকে দেখতে পাও, তাহলে তাকে আমার সালাম জানাবে এবং বলবে রাসূলুল্লাহ তোমার অবস্থা জানতে চেয়েছেন।" আমি তাকে মৃতদের মাঝে খুঁজতে লাগলাম, তখন তিনি তার জীবনের অন্তিম মুহূর্তে ছিলেন। তার শরীরে বল্লম, তরবারি ও তিরের সত্তরটির বেশি আঘাত ছিল। আমি তাকে বললাম, 'সাদ, রাসূলুল্লাহ তোমাকে সালাম জানিয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন, 'কেমন আছ?' তিনি উত্তর দিলেন, 'রাসূলুল্লাহ এবং তোমার ওপর সালাম বর্ষিত হোক। তাঁকে বোলো, আমি বলেছি, 'আল্লাহর রাসূল, আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি। আর আমার আনসার লোকদের বোলো, 'তোমাদের কোনো অজুহাত খাটবে না, যদি রাসূল ক্ষতিগ্রস্ত হন আর তোমরা চোখের পলক ফেলার সুযোগ পাও।'-এটা বলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।” ৩৩১
সুলাইমান আল-বাজি রাহ. বলেন, “সাহাবীদের জন্য নবীজির চিন্তার একটি দৃষ্টান্ত এই ঘটনা। কাউকে দেখতে না পেলেই তিনি তার জন্য খোঁজখবর নিতেন।”৩৩২
মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সামী রাহ. বলেন, "যখন সাদ বললেন, 'আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি'-এটি আক্ষরিক অর্থে হতে পারে, তিনি যে সুবাস পাচ্ছেন, সেটি এ-দুনিয়ার নয়, সত্যিই জান্নাতের। কিংবা তিনি নিশ্চিত ছিলেন (শাহাদাতের কারণে) শীঘ্রই তিনি জান্নাতে যাবেন আল্লাহর ইচ্ছায়, তাই এ-কথা রূপক অর্থে বলেছেন।” ৩৩৩

টিকাঃ
৩৩১. বায়হাকী (২৬৯/৩) ও মালিক (৮৮৪)।
৩৩২. মুস্তাকা শারহুল মুয়াত্তা' (৬৮/৩)।
৩৩৩. সুবুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সিরাতি খায়রিল ইবাদ (২৪৭/৪)।

যায়েদ ইবনে সাবিত রাযি. বলেন, "রাসূলুল্লাহ উহুদের যুদ্ধের দিন আমাকে সাদ ইবনে আর-রাবীর খোঁজে পাঠালেন। তিনি আমাকে বললেন, "তুমি যদি সাদকে দেখতে পাও, তাহলে তাকে আমার সালাম জানাবে এবং বলবে রাসূলুল্লাহ তোমার অবস্থা জানতে চেয়েছেন।" আমি তাকে মৃতদের মাঝে খুঁজতে লাগলাম, তখন তিনি তার জীবনের অন্তিম মুহূর্তে ছিলেন। তার শরীরে বল্লম, তরবারি ও তিরের সত্তরটির বেশি আঘাত ছিল। আমি তাকে বললাম, 'সাদ, রাসূলুল্লাহ তোমাকে সালাম জানিয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন, 'কেমন আছ?' তিনি উত্তর দিলেন, 'রাসূলুল্লাহ এবং তোমার ওপর সালাম বর্ষিত হোক। তাঁকে বোলো, আমি বলেছি, 'আল্লাহর রাসূল, আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি। আর আমার আনসার লোকদের বোলো, 'তোমাদের কোনো অজুহাত খাটবে না, যদি রাসূল ক্ষতিগ্রস্ত হন আর তোমরা চোখের পলক ফেলার সুযোগ পাও।'-এটা বলে তিনি ইন্তেকাল করলেন।” ৩৩১
সুলাইমান আল-বাজি রাহ. বলেন, “সাহাবীদের জন্য নবীজির চিন্তার একটি দৃষ্টান্ত এই ঘটনা। কাউকে দেখতে না পেলেই তিনি তার জন্য খোঁজখবর নিতেন।”৩৩২
মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সামী রাহ. বলেন, "যখন সাদ বললেন, 'আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি'-এটি আক্ষরিক অর্থে হতে পারে, তিনি যে সুবাস পাচ্ছেন, সেটি এ-দুনিয়ার নয়, সত্যিই জান্নাতের। কিংবা তিনি নিশ্চিত ছিলেন (শাহাদাতের কারণে) শীঘ্রই তিনি জান্নাতে যাবেন আল্লাহর ইচ্ছায়, তাই এ-কথা রূপক অর্থে বলেছেন।” ৩৩৩

টিকাঃ
৩৩১. বায়হাকী (২৬৯/৩) ও মালিক (৮৮৪)।
৩৩২. মুস্তাকা শারহুল মুয়াত্তা' (৬৮/৩)।
৩৩৩. সুবুল হুদা ওয়ার রশাদ ফী সিরাতি খায়রিল ইবাদ (২৪৭/৪)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 সাহাবীদের মৃত্যুতে অনেক কষ্ট পেতেন এবং কাঁদতেন

📄 সাহাবীদের মৃত্যুতে অনেক কষ্ট পেতেন এবং কাঁদতেন


আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত, “মৃতার যুদ্ধে নবীজি সেনাপতি হিসেবে জায়িদ ইবনে হারিসাকে একদল সৈন্যসহ পাঠালেন এবং বললেন, “যায়েদ যদি শহীদ হয়, তা হলে জাফর সেনাপতি হবে; জাফর যদি শহীদ হয়, তা হলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা সেনাপতি হবে।” আবদুল্লাহ বলেন, 'ঐ যুদ্ধে তাদের সঙ্গে আমিও ছিলাম। (যুদ্ধ শেষে) আমরা জাফর ইবনে আবু তালিবকে রাযি. খুঁজতে গিয়ে তাকে শহীদদের মধ্যে পেলাম। তখন আমরা তার দেহে বর্শা ও তিরের নব্বইটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখেছিলাম।” ৩৩৪
আনাস ইবনে মালিক রাযি. (উপরের একই ঘটনা সম্পর্কে) বলেন, “নবীজি খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের ভাই ও শত্রুরা যুদ্ধে নেমেছে। যায়েদ পতাকা নিলো এবং সে শহীদ হলো। এরপর জাফর ইবনে আবু তালিব পতাকা নিল, সেও শহীদ হলো। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা পতাকা নিল, সেও শহীদ হলো। এরপর আল্লাহর অন্যতম তরবারি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ পতাকা নিল এবং জয়লাভ করল।” ৩৩৫
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “আমি রাসূলুল্লাহকে উসমান ইবনে মাযঊনের লাশে চুমু খেতে দেখেছি। আমি তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে দেখেছি।” ৩৩৬
মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, “উসমান ইবনে মাযঊন রাযি. মারা গেলে তার লাশ আনা হলো, তারপর লাশ দাফন করা হলো। নবী এক ব্যক্তিকে একটি পাথর নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। কিন্তু লোকটি তা বহন করতে অক্ষম হলো। রাসূলুল্লাহ নিজে পাথরটির কাছে গেলেন এবং নিজের জামার আস্তিন গোটালেন।
মুত্তালিব বললেন, আমাকে যে-ব্যক্তি এ-ঘটনা অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, 'আমি যেন এখনো রাসূলুল্লাহর বাহুদ্বয়ের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছি, যখন তিনি তাঁর জামার আস্তিন গুটিয়েছিলেন। তারপর তিনি পাথরটি দু হাতে তুলে এনে (উসমান ইবনে মাযউনের) শিয়রে রাখেন। তিনি বললেন, “এর দ্বারা আমি আমার ভাইয়ের কবর চিনতে পারব এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে তার কাছে দাফন করব।”” ৩৩৭ উসমান ইবনে মাযউন রাযি. নবীজির দুধভাই ছিলেন। তিনি প্রথমে ইথিওপিয়ায় হিজরত করেন, পরে মদীনায় আসেন এবং বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ইসলামের আগমনের পূর্বে থেকেই মদ খেতে নিষেধ করতেন। মদীনায় হিজরতের ঠিক ত্রিশ মাস পর শাবান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।

টিকাঃ
৩৩৪. বুখারী (৪২৬১)।
৩৩৫. বুখারী (১২৪৬)।
৩৩৬. আবু দাউদ (৩১৬৩), তিরমিযী (৯৮৯) ও ইবনে মাজাহ (১৪৫৬)।
৩৩৭. আবু দাউদ (৩২০৬)।

আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত, “মৃতার যুদ্ধে নবীজি সেনাপতি হিসেবে জায়িদ ইবনে হারিসাকে একদল সৈন্যসহ পাঠালেন এবং বললেন, “যায়েদ যদি শহীদ হয়, তা হলে জাফর সেনাপতি হবে; জাফর যদি শহীদ হয়, তা হলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা সেনাপতি হবে।” আবদুল্লাহ বলেন, 'ঐ যুদ্ধে তাদের সঙ্গে আমিও ছিলাম। (যুদ্ধ শেষে) আমরা জাফর ইবনে আবু তালিবকে রাযি. খুঁজতে গিয়ে তাকে শহীদদের মধ্যে পেলাম। তখন আমরা তার দেহে বর্শা ও তিরের নব্বইটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখেছিলাম।” ৩৩৪
আনাস ইবনে মালিক রাযি. (উপরের একই ঘটনা সম্পর্কে) বলেন, “নবীজি খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের ভাই ও শত্রুরা যুদ্ধে নেমেছে। যায়েদ পতাকা নিলো এবং সে শহীদ হলো। এরপর জাফর ইবনে আবু তালিব পতাকা নিল, সেও শহীদ হলো। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা পতাকা নিল, সেও শহীদ হলো। এরপর আল্লাহর অন্যতম তরবারি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ পতাকা নিল এবং জয়লাভ করল।” ৩৩৫
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “আমি রাসূলুল্লাহকে উসমান ইবনে মাযঊনের লাশে চুমু খেতে দেখেছি। আমি তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে দেখেছি।” ৩৩৬
মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, “উসমান ইবনে মাযঊন রাযি. মারা গেলে তার লাশ আনা হলো, তারপর লাশ দাফন করা হলো। নবী এক ব্যক্তিকে একটি পাথর নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। কিন্তু লোকটি তা বহন করতে অক্ষম হলো। রাসূলুল্লাহ নিজে পাথরটির কাছে গেলেন এবং নিজের জামার আস্তিন গোটালেন।
মুত্তালিব বললেন, আমাকে যে-ব্যক্তি এ-ঘটনা অবহিত করেছেন, তিনি বলেন, 'আমি যেন এখনো রাসূলুল্লাহর বাহুদ্বয়ের শুভ্রতা দেখতে পাচ্ছি, যখন তিনি তাঁর জামার আস্তিন গুটিয়েছিলেন। তারপর তিনি পাথরটি দু হাতে তুলে এনে (উসমান ইবনে মাযউনের) শিয়রে রাখেন। তিনি বললেন, “এর দ্বারা আমি আমার ভাইয়ের কবর চিনতে পারব এবং আমার পরিবারের কেউ মারা গেলে তার কাছে দাফন করব।”” ৩৩৭ উসমান ইবনে মাযউন রাযি. নবীজির দুধভাই ছিলেন। তিনি প্রথমে ইথিওপিয়ায় হিজরত করেন, পরে মদীনায় আসেন এবং বদরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ইসলামের আগমনের পূর্বে থেকেই মদ খেতে নিষেধ করতেন। মদীনায় হিজরতের ঠিক ত্রিশ মাস পর শাবান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।

টিকাঃ
৩৩৪. বুখারী (৪২৬১)।
৩৩৫. বুখারী (১২৪৬)।
৩৩৬. আবু দাউদ (৩১৬৩), তিরমিযী (৯৮৯) ও ইবনে মাজাহ (১৪৫৬)।
৩৩৭. আবু দাউদ (৩২০৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00