📄 অন্য সাহাবীদের তুলনায় ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের বেশি প্রাধান্য দিতেন
আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ তাঁর মৃত্যুর কিছু কাল আগে একটি খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, “আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটি বেছে নেওয়ার অধিকার দিয়েছেন। একটি হলো দুনিয়ার ভোগ-বিলাস, আরেকটি হলো আল্লাহর নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে-বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা-ই পছন্দ করলেন।”
এ-কথা শুনে আবু বাকর রাযি. কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক!” তার অবস্থা দেখে আমরা অবাক হলাম। লোকেরা বলতে লাগল, 'এ বৃদ্ধের অবস্থা দ্যাখো! রাসূলুল্লাহ ﷺ এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ ভোগ-সম্পদ দিয়েছে এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ-দুরের মধ্যে বেছে নিতে বললেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতাপিতা উৎসর্গ করলাম!'
রাসূলুল্লাহই ﷺ হলেন সেই ইখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা। আর আবু বাকরই রাযি.-ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ বলেন, “যে-ব্যক্তি তার সঙ্গ ও সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সবচেয়ে ইহসান করেছেন, তিনি হলেন আবু বাকর রাযি.। যদি আমি আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তা হলে আবু বাকরকেই করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বাকরের রাযি. দরজা ছাড়া অন্য কারও দরজা খোলা থাকবে না।”” ৩২৩
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আবু বাকর রাযি. বুঝতে পেরেছিলেন যে, এতে নবীজির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।” ৩২৪
টিকাঃ
৩২৩. বুখারী (৩৯০৪) ও মুসলিম (২৩৮২)।
৩২৪. ফাতহুল বারী (১২/৭)।
আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ তাঁর মৃত্যুর কিছু কাল আগে একটি খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, “আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটি বেছে নেওয়ার অধিকার দিয়েছেন। একটি হলো দুনিয়ার ভোগ-বিলাস, আরেকটি হলো আল্লাহর নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে-বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা-ই পছন্দ করলেন।”
এ-কথা শুনে আবু বাকর রাযি. কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক!” তার অবস্থা দেখে আমরা অবাক হলাম। লোকেরা বলতে লাগল, 'এ বৃদ্ধের অবস্থা দ্যাখো! রাসূলুল্লাহ ﷺ এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ ভোগ-সম্পদ দিয়েছে এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ-দুরের মধ্যে বেছে নিতে বললেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতাপিতা উৎসর্গ করলাম!'
রাসূলুল্লাহই ﷺ হলেন সেই ইখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা। আর আবু বাকরই রাযি.-ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ বলেন, “যে-ব্যক্তি তার সঙ্গ ও সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সবচেয়ে ইহসান করেছেন, তিনি হলেন আবু বাকর রাযি.। যদি আমি আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তা হলে আবু বাকরকেই করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বাকরের রাযি. দরজা ছাড়া অন্য কারও দরজা খোলা থাকবে না।”” ৩২৩
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আবু বাকর রাযি. বুঝতে পেরেছিলেন যে, এতে নবীজির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।” ৩২৪
টিকাঃ
৩২৩. বুখারী (৩৯০৪) ও মুসলিম (২৩৮২)।
৩২৪. ফাতহুল বারী (১২/৭)।
📄 অন্যদের চেয়ে সাহাবীদের প্রতি বেশি সহনশীল ছিলেন
উমার ইবনে খাত্তাব রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(মুনাফিক-সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূলকে আহ্বান করা হলো। আল্লাহর রাসূল (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ইবনে উবাইয়ের জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে! এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম।' আল্লাহর রাসূল মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, “উমার, সরে যাও!” আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, “আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তরবারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে, তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম।”
তারপর আল্লাহর রাসূল তার জানাযার সালাত আদায় করে ফিরে এলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের ৩২৫ এ-দুটি আয়াত নাযিল হলো-“তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে, তারা ফাসিক।” (আল কুরআন, ৯:৮৪)
উমার বলেন, আল্লাহর রাসূলের সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণে আমি নিজেই বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ-ব্যাপারে অধিক অবগত।” ৩২৬ ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এভাবেই নবীজি সেই পরিস্থিতিতে উমার রাযি.-এর কথায় সহনশীল ছিলেন এবং তিনি তার দিকে ফিরে মুচকি হেসেছিলেন।” ৩২৭
টিকাঃ
৩২৫. সূরা তাওবা কে সূরা বারাআত ও বলা হয়。
৩২৬. বুখারী (১৩৬৬) ও মুসলিম (২৪০০)।
৩২৭. ফাতহুল বারী (৩৩৫/১)।
উমার ইবনে খাত্তাব রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(মুনাফিক-সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূলকে আহ্বান করা হলো। আল্লাহর রাসূল (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ইবনে উবাইয়ের জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে! এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম।' আল্লাহর রাসূল মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, “উমার, সরে যাও!” আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, “আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তরবারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে, তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম।”
তারপর আল্লাহর রাসূল তার জানাযার সালাত আদায় করে ফিরে এলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের ৩২৫ এ-দুটি আয়াত নাযিল হলো-“তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে, তারা ফাসিক।” (আল কুরআন, ৯:৮৪)
উমার বলেন, আল্লাহর রাসূলের সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণে আমি নিজেই বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ-ব্যাপারে অধিক অবগত।” ৩২৬ ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এভাবেই নবীজি সেই পরিস্থিতিতে উমার রাযি.-এর কথায় সহনশীল ছিলেন এবং তিনি তার দিকে ফিরে মুচকি হেসেছিলেন।” ৩২৭
টিকাঃ
৩২৫. সূরা তাওবা কে সূরা বারাআত ও বলা হয়。
৩২৬. বুখারী (১৩৬৬) ও মুসলিম (২৪০০)।
৩২৭. ফাতহুল বারী (৩৩৫/১)।
📄 ব্যক্তিগত বিষয়েও সাহাবীদের ওপর আস্থা রাখতেন
নবীজি বিলাল ইবনে রাবাহর রাযি. ওপর তাঁর খরচ দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আবদুল্লাহ আল-হাওযানীর রাযি. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদা হালব শহরে আমার সাথে রাসূলুল্লাহর মুয়াযযিন বিলালের রাযি. দেখা হলো। আমি বললাম, 'হে বিলাল, রাসূলুল্লাহর পরিবারে ভরণ-পোষণের খরচ কীভাবে ব্যবস্থা হতো, আমাকে বলুন।' তিনি বললেন, 'মহান আল্লাহ নবীজিকে (রাসূল করে) পাঠানোর পর থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর পরিবারের যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বে ছিলাম। তাঁর কাছে কোনো বস্ত্রহীন মুসলিম এলে তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতেন এবং আমি ধার করতে বের হতাম। আমি তাঁর জন্য কাপড় কিনে এনে তাঁকে পরিয়ে দিতাম এবং আহার করাতাম। এমতাবস্থায় মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, আমার অনেক সম্পদ রয়েছে। তুমি অন্য কারও কাছ থেকে ধার না করে আমার কাছ থেকে ধার নাও। সুতরাং আমি তা-ই করলাম।'
এ-অবস্থায় আমি একদিন উযু করে সালাতের আযান দিতে উঠি। এ-সময় মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ীর সাথে এসে উপস্থিত হলো। সে আমাকে দেখামাত্র বলল, 'হে হাবশি!' আমি বললাম, 'উপস্থিত আছি।' সে আমাকে কটূক্তি করাতে আমার মনে খুব বিঁধল। সে আমাকে আরও বলল, 'তুমি কি জানো, মাসের কত দিন বাকি আছে?' আমি বললাম, 'প্রায় শেষ।' সে বলল, 'তোমার ও তার (ঋণ পরিশোধের সময়ের) মধ্যে চার দিন ব্যবধান। কাজেই আমি তোমাকে ঋণের পরিবর্তে ধরে নিয়ে যাব এবং মেষপালের রাখাল বানিয়ে তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।' তার এরূপ কথা শুনে আমি মর্মাহত হলাম, যেমন অন্যান্য লোকদের হয়ে থাকে। আমি যখন ইশার সালাত আদায় করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পরিজনের কাছে ফিরে এলেন। আমি তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলে তিনি তা অনুমতি দিলেন。
আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আমি যে-মুশরিক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম, সে আমাকে এ-কথা বলেছে। আমার এ-ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য আপনারও নেই, আমারও নেই। সে আমাকে অপদস্থ করবে। কাজেই ইতোপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছে এরূপ কোনো মুসলিম জনপদে পলায়ন করার অনুমতি আমাকে দিন। আমি তত দিন আত্মগোপন থাকার অনুমতি চাই, যত দিন না মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ﷺ এ-সম্পদের ব্যবস্থা করে দেন, যা দিয়ে আমার ঋণ পরিশোধ হবে।' এ-কথা বলে আমি আমার ঘরে চলে এসে আমার তরবারি, মোজা, জুতা ও ঢাল গুছিয়ে আমার মাথার কাছে রাখি। ইচ্ছা ছিলো, ভোরের আভা ফোটামাত্রই বেরিয়ে পড়ব।
হঠাৎ এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, রাসূলুল্লাহ ﷺ তোমাকে স্মরণ করেছেন।' আমি রওনা হয়ে তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হয়ে দেখি, চারটি উট পিঠে সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে বসে আছে। আমি অনুমতি চাইলাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করো! মহান আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধের জন্য এগুলো পাঠিয়েছেন।” পুনরায় তিনি বললেন, “তুমি কি দেখছ না চারটি উট মাল বোঝাই হয়ে বসে আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, “এই উট এবং এদের পিঠে বোঝাই সম্পদ তোমার জন্য। এগুলো—পিঠ বোঝাই বস্ত্র ও খাদ্যদ্রব্য ফাদাকের শাসক আমার জন্য পাঠিয়েছে। এগুলো নিয়ে তোমার ঋণ পরিশোধ করো।' আমি তা-ই করলাম।
তারপর বিলাল বলেন, 'আমি মসজিদে গিয়ে দেখি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বসে আছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি বললেন, "তুমি যে সম্পদ পেয়েছ, তা কী করেছ? ঋণ পরিশোধ হয়েছে কি?" আমি বললাম, 'মহান আল্লাহ রাসূলের ﷺ সমস্ত ঋণ পরিশোধের তাওফীক দিয়েছেন। এখন আর অবশিষ্ট নেই।' তিনি বললেন, "কিছু সম্পদ অবশিষ্ট আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "অবশিষ্ট সম্পদ তাড়াতাড়ি খরচ করো। তুমি আমাকে এ-অবশিষ্ট সম্পদ থেকে রেহাই না দেওয়া পর্যন্ত আমি আমার পরিবারের কারও কাছে যাব না।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইশার সালাত আদায়ের পর আমাকে ডেকে বললেন, “তোমাকে দেওয়া মালের অবস্থা কী?” আমি বললাম, 'সেগুলো আমার কাছেই আছে। আমার কাছে কেউ আসেনি।' রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে রাত কাটালেন। বর্ণনাকারী হাদীসের বাকি অংশ বর্ণনা করলেন—'এমনকি পরবর্তী দিনের ইশার সালাত আদায় করে তিনি আমাকে ডাকলেন। তিনি বললেন, “তোমার কাছে অবশিষ্ট মালের অবস্থা কী?' আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে তা থেকে চিন্তামুক্ত করেছেন।' তিনি তাকবীর দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন।” ৩২৮
টিকাঃ
৩২৮. আবু দাউদ (৩০৫৫)।
নবীজি বিলাল ইবনে রাবাহর রাযি. ওপর তাঁর খরচ দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আবদুল্লাহ আল-হাওযানীর রাযি. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদা হালব শহরে আমার সাথে রাসূলুল্লাহর মুয়াযযিন বিলালের রাযি. দেখা হলো। আমি বললাম, 'হে বিলাল, রাসূলুল্লাহর পরিবারে ভরণ-পোষণের খরচ কীভাবে ব্যবস্থা হতো, আমাকে বলুন।' তিনি বললেন, 'মহান আল্লাহ নবীজিকে (রাসূল করে) পাঠানোর পর থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর পরিবারের যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বে ছিলাম। তাঁর কাছে কোনো বস্ত্রহীন মুসলিম এলে তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতেন এবং আমি ধার করতে বের হতাম। আমি তাঁর জন্য কাপড় কিনে এনে তাঁকে পরিয়ে দিতাম এবং আহার করাতাম। এমতাবস্থায় মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, আমার অনেক সম্পদ রয়েছে। তুমি অন্য কারও কাছ থেকে ধার না করে আমার কাছ থেকে ধার নাও। সুতরাং আমি তা-ই করলাম।'
এ-অবস্থায় আমি একদিন উযু করে সালাতের আযান দিতে উঠি। এ-সময় মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ীর সাথে এসে উপস্থিত হলো। সে আমাকে দেখামাত্র বলল, 'হে হাবশি!' আমি বললাম, 'উপস্থিত আছি।' সে আমাকে কটূক্তি করাতে আমার মনে খুব বিঁধল। সে আমাকে আরও বলল, 'তুমি কি জানো, মাসের কত দিন বাকি আছে?' আমি বললাম, 'প্রায় শেষ।' সে বলল, 'তোমার ও তার (ঋণ পরিশোধের সময়ের) মধ্যে চার দিন ব্যবধান। কাজেই আমি তোমাকে ঋণের পরিবর্তে ধরে নিয়ে যাব এবং মেষপালের রাখাল বানিয়ে তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।' তার এরূপ কথা শুনে আমি মর্মাহত হলাম, যেমন অন্যান্য লোকদের হয়ে থাকে। আমি যখন ইশার সালাত আদায় করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পরিজনের কাছে ফিরে এলেন। আমি তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলে তিনি তা অনুমতি দিলেন。
আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আমি যে-মুশরিক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম, সে আমাকে এ-কথা বলেছে। আমার এ-ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য আপনারও নেই, আমারও নেই। সে আমাকে অপদস্থ করবে। কাজেই ইতোপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছে এরূপ কোনো মুসলিম জনপদে পলায়ন করার অনুমতি আমাকে দিন। আমি তত দিন আত্মগোপন থাকার অনুমতি চাই, যত দিন না মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ﷺ এ-সম্পদের ব্যবস্থা করে দেন, যা দিয়ে আমার ঋণ পরিশোধ হবে।' এ-কথা বলে আমি আমার ঘরে চলে এসে আমার তরবারি, মোজা, জুতা ও ঢাল গুছিয়ে আমার মাথার কাছে রাখি। ইচ্ছা ছিলো, ভোরের আভা ফোটামাত্রই বেরিয়ে পড়ব।
হঠাৎ এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, রাসূলুল্লাহ ﷺ তোমাকে স্মরণ করেছেন।' আমি রওনা হয়ে তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হয়ে দেখি, চারটি উট পিঠে সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে বসে আছে। আমি অনুমতি চাইলাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করো! মহান আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধের জন্য এগুলো পাঠিয়েছেন।” পুনরায় তিনি বললেন, “তুমি কি দেখছ না চারটি উট মাল বোঝাই হয়ে বসে আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, “এই উট এবং এদের পিঠে বোঝাই সম্পদ তোমার জন্য। এগুলো—পিঠ বোঝাই বস্ত্র ও খাদ্যদ্রব্য ফাদাকের শাসক আমার জন্য পাঠিয়েছে। এগুলো নিয়ে তোমার ঋণ পরিশোধ করো।' আমি তা-ই করলাম।
তারপর বিলাল বলেন, 'আমি মসজিদে গিয়ে দেখি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বসে আছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি বললেন, "তুমি যে সম্পদ পেয়েছ, তা কী করেছ? ঋণ পরিশোধ হয়েছে কি?" আমি বললাম, 'মহান আল্লাহ রাসূলের ﷺ সমস্ত ঋণ পরিশোধের তাওফীক দিয়েছেন। এখন আর অবশিষ্ট নেই।' তিনি বললেন, "কিছু সম্পদ অবশিষ্ট আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "অবশিষ্ট সম্পদ তাড়াতাড়ি খরচ করো। তুমি আমাকে এ-অবশিষ্ট সম্পদ থেকে রেহাই না দেওয়া পর্যন্ত আমি আমার পরিবারের কারও কাছে যাব না।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইশার সালাত আদায়ের পর আমাকে ডেকে বললেন, “তোমাকে দেওয়া মালের অবস্থা কী?” আমি বললাম, 'সেগুলো আমার কাছেই আছে। আমার কাছে কেউ আসেনি।' রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে রাত কাটালেন। বর্ণনাকারী হাদীসের বাকি অংশ বর্ণনা করলেন—'এমনকি পরবর্তী দিনের ইশার সালাত আদায় করে তিনি আমাকে ডাকলেন। তিনি বললেন, “তোমার কাছে অবশিষ্ট মালের অবস্থা কী?' আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে তা থেকে চিন্তামুক্ত করেছেন।' তিনি তাকবীর দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন।” ৩২৮
টিকাঃ
৩২৮. আবু দাউদ (৩০৫৫)।
📄 কোনো সাহাবী অনুপস্থিত থাকলে তার খোঁজ নিতেন
আনাস ইবনে মালিক রাযি. হতে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ সাবিত ইবনে কায়েসকে রাযি. তাঁর মজলিসে অনুপস্থিত পেলেন। তখন এক সাহাবী বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তার সম্পর্কে জানি।' তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন, সাবিত রাযি. তার ঘরে মাথা নুয়ে বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'সাবিত, কী অবস্থা তোমার?' তিনি বললেন, 'অত্যন্ত খারাপ। তার গলার স্বর নবীর ﷺ গলার স্বর থেকে উচ্চ হয়েছিল। কাজেই তার সব নেক আমল নষ্ট হয়ে গেছে। সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।' ঐ ব্যক্তি ফিরে এসে নবীজিকে ﷺ জানালেন সাবিত রাযি. এ-সব কথা বলছে। তখন নবীজি ﷺ বললেন, “বরং সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত।”” ৩২৯
কুররা ইবনে আইয়্যাস থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে নিয়ে নবীজির ﷺ কাছে এলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি তাকে ভালোবাসো?” সে বলল, 'আমি তাকে যতখানি ভালোবাসি, আল্লাহ যেন আপনাকে ততখানি ভালোবাসেন।" তারপর তার ছেলে একদিন মারা গেল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে দেখতে না পেয়ে তার কথা জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটাকে বললেন, “তুমি কি আনন্দিত না যে, তুমি জান্নাতের যে-কোনো দরজা দিয়ে ঢুকতে চাইলে তোমার ছেলে এসে দৌড়ে তা খুলে দেবে?”” ৩৩০
টিকাঃ
৩২৯. বুখারী (৩৬১৩) ও মুসলিম (১১৯)।
৩৩০. নাসাঈ (১৮৭০) ও আহমদ (১৯৮২৫)।
আনাস ইবনে মালিক রাযি. হতে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ সাবিত ইবনে কায়েসকে রাযি. তাঁর মজলিসে অনুপস্থিত পেলেন। তখন এক সাহাবী বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তার সম্পর্কে জানি।' তিনি গিয়ে দেখতে পেলেন, সাবিত রাযি. তার ঘরে মাথা নুয়ে বসে আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'সাবিত, কী অবস্থা তোমার?' তিনি বললেন, 'অত্যন্ত খারাপ। তার গলার স্বর নবীর ﷺ গলার স্বর থেকে উচ্চ হয়েছিল। কাজেই তার সব নেক আমল নষ্ট হয়ে গেছে। সে জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে।' ঐ ব্যক্তি ফিরে এসে নবীজিকে ﷺ জানালেন সাবিত রাযি. এ-সব কথা বলছে। তখন নবীজি ﷺ বললেন, “বরং সে জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত।”” ৩২৯
কুররা ইবনে আইয়্যাস থেকে বর্ণিত, “এক ব্যক্তি তাঁর ছেলেকে নিয়ে নবীজির ﷺ কাছে এলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি তাকে ভালোবাসো?” সে বলল, 'আমি তাকে যতখানি ভালোবাসি, আল্লাহ যেন আপনাকে ততখানি ভালোবাসেন।" তারপর তার ছেলে একদিন মারা গেল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে দেখতে না পেয়ে তার কথা জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটাকে বললেন, “তুমি কি আনন্দিত না যে, তুমি জান্নাতের যে-কোনো দরজা দিয়ে ঢুকতে চাইলে তোমার ছেলে এসে দৌড়ে তা খুলে দেবে?”” ৩৩০
টিকাঃ
৩২৯. বুখারী (৩৬১৩) ও মুসলিম (১১৯)।
৩৩০. নাসাঈ (১৮৭০) ও আহমদ (১৯৮২৫)।