📘 নবীজির সংসার > 📄 ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের সম্মান করতেন

📄 ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের সম্মান করতেন


আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবীজির কাছে বসে ছিলাম। এমন সময় আবু বাকর রাযি. তার পরনের কাপড়ের একপাশ এমনভাবে ধরে আসলেন যে, তার দু' হাঁটু বেরিয়ে পড়ছিল। নবী বললেন, “তোমাদের এ-সাথি এই মাত্র কারও সঙ্গে ঝগড়া করে আসছে।” তিনি সালাম করলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমার এবং উমার ইবনে খাত্তাবের মাঝে একটি বিষয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে। আমিই প্রথমে কটু কথা বলেছি। এরপর আমি লজ্জিত হয়ে তার কাছে মাফ চেয়েছি। কিন্তু তিনি মাফ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন আমি আপনার নিকট হাজির হয়েছি।'
নবী বললেন, আল্লাহ তোমাকে মাফ করবেন, হে আবু বাকর রাযি.! এ-কথাটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর উমার রাযি. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবু বাকরের রাযি. বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'আবু বাকর কি বাড়িতে আছেন?' তারা বলল, 'না'। তখন উমার রাযি. নবীজির কাছে গেলেন। (তাকে দেখে) নবীজির চেহারা রক্তবর্ণ হয়ে গেল। আবু বাকর রাযি. ভীত হয়ে নতজানু হয়ে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমিই প্রথমে অন্যায় করেছি।' এ-কথাটি তিনি দু বার বললেন। তখন নবী বললেন, "আল্লাহ যখন আমাকে তোমাদের কাছে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তোমরা সবাই বলেছ, 'তুমি মিথ্যা বলছ' আর আবু বাকর বলেছে, 'আপনি সত্য বলছেন'; তার জান-মাল সব কিছু দিয়ে আমাকে সহানুভূতি দেখিয়েছে। তোমরা কি আমার সম্মানে আমার সাথিকে অব্যাহতি দেবে না?” এ-কথাটি তিনি দু বার বললেন। এরপর আবু বাকরকে রাযি. আর কখনো কষ্ট দেয়া হয়নি। ৩২১
রাবীআ আল-আসলামী রাযি. থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ আমাকে ও আবু বাকরকে রাযি. এক খণ্ড জমি দিয়েছিলেন। তারপর একসময় দুনিয়ার চাকচিক্য এলো। ফলে একটি খেজুরের কাঁদিকে কেন্দ্র করে আমরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়লাম। আবু বাকর রাযি. বললেন, 'এটা আমার জমির সীমানার মধ্যে।' আমি বললাম, 'না, এটা আমার জমিতে।' (এ বিষয়ে) আমার ও আবু বাকরের রাযি. মধ্যে কথা কাটাকাটি হলো। আবু বাকর রাযি. আমাকে এমন একটি কথা বললেন, যেটি আমি অপছন্দ করলাম। এজন্য তিনি অনুতপ্ত হয়ে আমাকে বললেন, 'রাবীআ, তুমি অনুরূপ কথা বলে প্রতিশোধ নিয়ে নাও, যাতে সেটার বদলা হয়ে যায়।' আমি বললাম, 'না, আমি তা করব না।' তখন আবু বাকর রাযি. বললেন, 'তুমি অবশ্যই বলবে, নতুবা তোমার বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করব (অর্থাৎ নালিশ করব)।' আমি বললাম, 'আমি এটা করতে পারব না।' রাবীআ বলেন, তিনি জমি প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানালে আবু বাকর রাযি. আল্লাহর রাসূলের কাছে গেলেন। আমিও তার পিছু পিছু গেলাম।
এরই মধ্যে আসলাম গোত্রের কিছু লোক এসে বলল, 'আল্লাহ আবু বাকরের রাযি. উপর রহম করুন! তিনি তোমার বিরুদ্ধে রাসূলের -এর নিকট নালিশ করছেন! অথচ তিনিই যা ইচ্ছা তা-ই তোমাকে বলেছেন!' আমি বললাম, 'তোমরা জানো না, তিনি কে? ইনিই হচ্ছেন আবু বাকর সিদ্দীক (দুজনের ২য় জন)! তিনি মুসলমানদের মধ্যে সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। সুতরাং, তোমরা তার ব্যাপারে (কথা বলায়) সতর্ক থাকো। তিনি হয়তো দেখে ফেলবেন যে, তোমরা আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করছ। ফলে তিনি রেগে যাবেন এবং রাসূলের কাছে চলে যাবেন। অতঃপর তাঁর ক্রোধের কারণে রাসূলুল্লাহ ﷺ ক্রোধান্বিত হবেন। আর তাদের দুজনের ক্রোধের কারণে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হবেন। তখন রাবীআ ধ্বংস হয়ে যাবে।' তারা বলল, 'তা হলে তুমি আমাদের কী করার নির্দেশ দিচ্ছ?' আমি বললাম, 'তোমরা ফিরে যাও।'
আবু বাকর রাযি. রাসূলুল্লাহর ﷺ বাড়িতে গিয়ে তাঁর কাছে পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন। তারপর তিনি আমার দিকে মাথা উঁচু করে বললেন, “রাবীআ, তোমার ও আবু বাকরের রাযি. মধ্যে কী ঘটেছে?” আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ, ঘটনা ছিল এরূপ এরূপ। একপর্যায়ে তিনি আমাকে এমন কথা বললেন, যা আমার অপছন্দনীয় ছিল। ফলে তিনি আমাকে বললেন, 'আমি তোমাকে যেমন বলেছি, তুমি আমাকে তেমন বলো, যাতে সেটার বদলা হয়ে যায়।' তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “হ্যাঁ, তুমি তার জবাব দেবে না। বরং বলবে, 'আবু বাকর, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন। হে আবু বাকর, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন।' (এটা শুনে) আবু বাকর রাযি. কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেলেন।” ৩২২

টিকাঃ
৩২১. বুখারী (৩৬৬১)।
৩২২. আহমাদ (১৬১৪৩)।

আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবীজির কাছে বসে ছিলাম। এমন সময় আবু বাকর রাযি. তার পরনের কাপড়ের একপাশ এমনভাবে ধরে আসলেন যে, তার দু' হাঁটু বেরিয়ে পড়ছিল। নবী বললেন, “তোমাদের এ-সাথি এই মাত্র কারও সঙ্গে ঝগড়া করে আসছে।” তিনি সালাম করলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমার এবং উমার ইবনে খাত্তাবের মাঝে একটি বিষয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে। আমিই প্রথমে কটু কথা বলেছি। এরপর আমি লজ্জিত হয়ে তার কাছে মাফ চেয়েছি। কিন্তু তিনি মাফ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন আমি আপনার নিকট হাজির হয়েছি।'
নবী বললেন, আল্লাহ তোমাকে মাফ করবেন, হে আবু বাকর রাযি.! এ-কথাটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর উমার রাযি. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবু বাকরের রাযি. বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'আবু বাকর কি বাড়িতে আছেন?' তারা বলল, 'না'। তখন উমার রাযি. নবীজির কাছে গেলেন। (তাকে দেখে) নবীজির চেহারা রক্তবর্ণ হয়ে গেল। আবু বাকর রাযি. ভীত হয়ে নতজানু হয়ে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমিই প্রথমে অন্যায় করেছি।' এ-কথাটি তিনি দু বার বললেন। তখন নবী বললেন, "আল্লাহ যখন আমাকে তোমাদের কাছে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তোমরা সবাই বলেছ, 'তুমি মিথ্যা বলছ' আর আবু বাকর বলেছে, 'আপনি সত্য বলছেন'; তার জান-মাল সব কিছু দিয়ে আমাকে সহানুভূতি দেখিয়েছে। তোমরা কি আমার সম্মানে আমার সাথিকে অব্যাহতি দেবে না?” এ-কথাটি তিনি দু বার বললেন। এরপর আবু বাকরকে রাযি. আর কখনো কষ্ট দেয়া হয়নি। ৩২১
রাবীআ আল-আসলামী রাযি. থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ আমাকে ও আবু বাকরকে রাযি. এক খণ্ড জমি দিয়েছিলেন। তারপর একসময় দুনিয়ার চাকচিক্য এলো। ফলে একটি খেজুরের কাঁদিকে কেন্দ্র করে আমরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়লাম। আবু বাকর রাযি. বললেন, 'এটা আমার জমির সীমানার মধ্যে।' আমি বললাম, 'না, এটা আমার জমিতে।' (এ বিষয়ে) আমার ও আবু বাকরের রাযি. মধ্যে কথা কাটাকাটি হলো। আবু বাকর রাযি. আমাকে এমন একটি কথা বললেন, যেটি আমি অপছন্দ করলাম। এজন্য তিনি অনুতপ্ত হয়ে আমাকে বললেন, 'রাবীআ, তুমি অনুরূপ কথা বলে প্রতিশোধ নিয়ে নাও, যাতে সেটার বদলা হয়ে যায়।' আমি বললাম, 'না, আমি তা করব না।' তখন আবু বাকর রাযি. বললেন, 'তুমি অবশ্যই বলবে, নতুবা তোমার বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করব (অর্থাৎ নালিশ করব)।' আমি বললাম, 'আমি এটা করতে পারব না।' রাবীআ বলেন, তিনি জমি প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানালে আবু বাকর রাযি. আল্লাহর রাসূলের কাছে গেলেন। আমিও তার পিছু পিছু গেলাম।
এরই মধ্যে আসলাম গোত্রের কিছু লোক এসে বলল, 'আল্লাহ আবু বাকরের রাযি. উপর রহম করুন! তিনি তোমার বিরুদ্ধে রাসূলের -এর নিকট নালিশ করছেন! অথচ তিনিই যা ইচ্ছা তা-ই তোমাকে বলেছেন!' আমি বললাম, 'তোমরা জানো না, তিনি কে? ইনিই হচ্ছেন আবু বাকর সিদ্দীক (দুজনের ২য় জন)! তিনি মুসলমানদের মধ্যে সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। সুতরাং, তোমরা তার ব্যাপারে (কথা বলায়) সতর্ক থাকো। তিনি হয়তো দেখে ফেলবেন যে, তোমরা আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করছ। ফলে তিনি রেগে যাবেন এবং রাসূলের কাছে চলে যাবেন। অতঃপর তাঁর ক্রোধের কারণে রাসূলুল্লাহ ﷺ ক্রোধান্বিত হবেন। আর তাদের দুজনের ক্রোধের কারণে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হবেন। তখন রাবীআ ধ্বংস হয়ে যাবে।' তারা বলল, 'তা হলে তুমি আমাদের কী করার নির্দেশ দিচ্ছ?' আমি বললাম, 'তোমরা ফিরে যাও।'
আবু বাকর রাযি. রাসূলুল্লাহর ﷺ বাড়িতে গিয়ে তাঁর কাছে পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন। তারপর তিনি আমার দিকে মাথা উঁচু করে বললেন, “রাবীআ, তোমার ও আবু বাকরের রাযি. মধ্যে কী ঘটেছে?” আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ, ঘটনা ছিল এরূপ এরূপ। একপর্যায়ে তিনি আমাকে এমন কথা বললেন, যা আমার অপছন্দনীয় ছিল। ফলে তিনি আমাকে বললেন, 'আমি তোমাকে যেমন বলেছি, তুমি আমাকে তেমন বলো, যাতে সেটার বদলা হয়ে যায়।' তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “হ্যাঁ, তুমি তার জবাব দেবে না। বরং বলবে, 'আবু বাকর, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন। হে আবু বাকর, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন।' (এটা শুনে) আবু বাকর রাযি. কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেলেন।” ৩২২

টিকাঃ
৩২১. বুখারী (৩৬৬১)।
৩২২. আহমাদ (১৬১৪৩)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 অন্য সাহাবীদের তুলনায় ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের বেশি প্রাধান্য দিতেন

📄 অন্য সাহাবীদের তুলনায় ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের বেশি প্রাধান্য দিতেন


আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ তাঁর মৃত্যুর কিছু কাল আগে একটি খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, “আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটি বেছে নেওয়ার অধিকার দিয়েছেন। একটি হলো দুনিয়ার ভোগ-বিলাস, আরেকটি হলো আল্লাহর নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে-বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা-ই পছন্দ করলেন।”
এ-কথা শুনে আবু বাকর রাযি. কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক!” তার অবস্থা দেখে আমরা অবাক হলাম। লোকেরা বলতে লাগল, 'এ বৃদ্ধের অবস্থা দ্যাখো! রাসূলুল্লাহ ﷺ এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ ভোগ-সম্পদ দিয়েছে এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ-দুরের মধ্যে বেছে নিতে বললেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতাপিতা উৎসর্গ করলাম!'
রাসূলুল্লাহই ﷺ হলেন সেই ইখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা। আর আবু বাকরই রাযি.-ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ বলেন, “যে-ব্যক্তি তার সঙ্গ ও সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সবচেয়ে ইহসান করেছেন, তিনি হলেন আবু বাকর রাযি.। যদি আমি আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তা হলে আবু বাকরকেই করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বাকরের রাযি. দরজা ছাড়া অন্য কারও দরজা খোলা থাকবে না।”” ৩২৩
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আবু বাকর রাযি. বুঝতে পেরেছিলেন যে, এতে নবীজির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।” ৩২৪

টিকাঃ
৩২৩. বুখারী (৩৯০৪) ও মুসলিম (২৩৮২)।
৩২৪. ফাতহুল বারী (১২/৭)।

আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ তাঁর মৃত্যুর কিছু কাল আগে একটি খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, “আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটি বেছে নেওয়ার অধিকার দিয়েছেন। একটি হলো দুনিয়ার ভোগ-বিলাস, আরেকটি হলো আল্লাহর নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে-বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা-ই পছন্দ করলেন।”
এ-কথা শুনে আবু বাকর রাযি. কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক!” তার অবস্থা দেখে আমরা অবাক হলাম। লোকেরা বলতে লাগল, 'এ বৃদ্ধের অবস্থা দ্যাখো! রাসূলুল্লাহ ﷺ এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ ভোগ-সম্পদ দিয়েছে এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ-দুরের মধ্যে বেছে নিতে বললেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতাপিতা উৎসর্গ করলাম!'
রাসূলুল্লাহই ﷺ হলেন সেই ইখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা। আর আবু বাকরই রাযি.-ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ বলেন, “যে-ব্যক্তি তার সঙ্গ ও সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সবচেয়ে ইহসান করেছেন, তিনি হলেন আবু বাকর রাযি.। যদি আমি আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তা হলে আবু বাকরকেই করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বাকরের রাযি. দরজা ছাড়া অন্য কারও দরজা খোলা থাকবে না।”” ৩২৩
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আবু বাকর রাযি. বুঝতে পেরেছিলেন যে, এতে নবীজির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।” ৩২৪

টিকাঃ
৩২৩. বুখারী (৩৯০৪) ও মুসলিম (২৩৮২)।
৩২৪. ফাতহুল বারী (১২/৭)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 অন্যদের চেয়ে সাহাবীদের প্রতি বেশি সহনশীল ছিলেন

📄 অন্যদের চেয়ে সাহাবীদের প্রতি বেশি সহনশীল ছিলেন


উমার ইবনে খাত্তাব রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(মুনাফিক-সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূলকে আহ্বান করা হলো। আল্লাহর রাসূল (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ইবনে উবাইয়ের জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে! এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম।' আল্লাহর রাসূল মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, “উমার, সরে যাও!” আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, “আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তরবারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে, তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম।”
তারপর আল্লাহর রাসূল তার জানাযার সালাত আদায় করে ফিরে এলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের ৩২৫ এ-দুটি আয়াত নাযিল হলো-“তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে, তারা ফাসিক।” (আল কুরআন, ৯:৮৪)
উমার বলেন, আল্লাহর রাসূলের সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণে আমি নিজেই বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ-ব্যাপারে অধিক অবগত।” ৩২৬ ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এভাবেই নবীজি সেই পরিস্থিতিতে উমার রাযি.-এর কথায় সহনশীল ছিলেন এবং তিনি তার দিকে ফিরে মুচকি হেসেছিলেন।” ৩২৭

টিকাঃ
৩২৫. সূরা তাওবা কে সূরা বারাআত ও বলা হয়。
৩২৬. বুখারী (১৩৬৬) ও মুসলিম (২৪০০)।
৩২৭. ফাতহুল বারী (৩৩৫/১)।

উমার ইবনে খাত্তাব রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(মুনাফিক-সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূলকে আহ্বান করা হলো। আল্লাহর রাসূল (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ইবনে উবাইয়ের জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে! এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম।' আল্লাহর রাসূল মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, “উমার, সরে যাও!” আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, “আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তরবারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে, তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম।”
তারপর আল্লাহর রাসূল তার জানাযার সালাত আদায় করে ফিরে এলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের ৩২৫ এ-দুটি আয়াত নাযিল হলো-“তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে, তারা ফাসিক।” (আল কুরআন, ৯:৮৪)
উমার বলেন, আল্লাহর রাসূলের সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণে আমি নিজেই বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ-ব্যাপারে অধিক অবগত।” ৩২৬ ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এভাবেই নবীজি সেই পরিস্থিতিতে উমার রাযি.-এর কথায় সহনশীল ছিলেন এবং তিনি তার দিকে ফিরে মুচকি হেসেছিলেন।” ৩২৭

টিকাঃ
৩২৫. সূরা তাওবা কে সূরা বারাআত ও বলা হয়。
৩২৬. বুখারী (১৩৬৬) ও মুসলিম (২৪০০)।
৩২৭. ফাতহুল বারী (৩৩৫/১)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 ব্যক্তিগত বিষয়েও সাহাবীদের ওপর আস্থা রাখতেন

📄 ব্যক্তিগত বিষয়েও সাহাবীদের ওপর আস্থা রাখতেন


নবীজি বিলাল ইবনে রাবাহর রাযি. ওপর তাঁর খরচ দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আবদুল্লাহ আল-হাওযানীর রাযি. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদা হালব শহরে আমার সাথে রাসূলুল্লাহর মুয়াযযিন বিলালের রাযি. দেখা হলো। আমি বললাম, 'হে বিলাল, রাসূলুল্লাহর পরিবারে ভরণ-পোষণের খরচ কীভাবে ব্যবস্থা হতো, আমাকে বলুন।' তিনি বললেন, 'মহান আল্লাহ নবীজিকে (রাসূল করে) পাঠানোর পর থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর পরিবারের যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বে ছিলাম। তাঁর কাছে কোনো বস্ত্রহীন মুসলিম এলে তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতেন এবং আমি ধার করতে বের হতাম। আমি তাঁর জন্য কাপড় কিনে এনে তাঁকে পরিয়ে দিতাম এবং আহার করাতাম। এমতাবস্থায় মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, আমার অনেক সম্পদ রয়েছে। তুমি অন্য কারও কাছ থেকে ধার না করে আমার কাছ থেকে ধার নাও। সুতরাং আমি তা-ই করলাম।'
এ-অবস্থায় আমি একদিন উযু করে সালাতের আযান দিতে উঠি। এ-সময় মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ীর সাথে এসে উপস্থিত হলো। সে আমাকে দেখামাত্র বলল, 'হে হাবশি!' আমি বললাম, 'উপস্থিত আছি।' সে আমাকে কটূক্তি করাতে আমার মনে খুব বিঁধল। সে আমাকে আরও বলল, 'তুমি কি জানো, মাসের কত দিন বাকি আছে?' আমি বললাম, 'প্রায় শেষ।' সে বলল, 'তোমার ও তার (ঋণ পরিশোধের সময়ের) মধ্যে চার দিন ব্যবধান। কাজেই আমি তোমাকে ঋণের পরিবর্তে ধরে নিয়ে যাব এবং মেষপালের রাখাল বানিয়ে তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।' তার এরূপ কথা শুনে আমি মর্মাহত হলাম, যেমন অন্যান্য লোকদের হয়ে থাকে। আমি যখন ইশার সালাত আদায় করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পরিজনের কাছে ফিরে এলেন। আমি তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলে তিনি তা অনুমতি দিলেন。
আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আমি যে-মুশরিক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম, সে আমাকে এ-কথা বলেছে। আমার এ-ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য আপনারও নেই, আমারও নেই। সে আমাকে অপদস্থ করবে। কাজেই ইতোপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছে এরূপ কোনো মুসলিম জনপদে পলায়ন করার অনুমতি আমাকে দিন। আমি তত দিন আত্মগোপন থাকার অনুমতি চাই, যত দিন না মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ﷺ এ-সম্পদের ব্যবস্থা করে দেন, যা দিয়ে আমার ঋণ পরিশোধ হবে।' এ-কথা বলে আমি আমার ঘরে চলে এসে আমার তরবারি, মোজা, জুতা ও ঢাল গুছিয়ে আমার মাথার কাছে রাখি। ইচ্ছা ছিলো, ভোরের আভা ফোটামাত্রই বেরিয়ে পড়ব।
হঠাৎ এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, রাসূলুল্লাহ ﷺ তোমাকে স্মরণ করেছেন।' আমি রওনা হয়ে তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হয়ে দেখি, চারটি উট পিঠে সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে বসে আছে। আমি অনুমতি চাইলাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করো! মহান আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধের জন্য এগুলো পাঠিয়েছেন।” পুনরায় তিনি বললেন, “তুমি কি দেখছ না চারটি উট মাল বোঝাই হয়ে বসে আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, “এই উট এবং এদের পিঠে বোঝাই সম্পদ তোমার জন্য। এগুলো—পিঠ বোঝাই বস্ত্র ও খাদ্যদ্রব্য ফাদাকের শাসক আমার জন্য পাঠিয়েছে। এগুলো নিয়ে তোমার ঋণ পরিশোধ করো।' আমি তা-ই করলাম।
তারপর বিলাল বলেন, 'আমি মসজিদে গিয়ে দেখি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বসে আছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি বললেন, "তুমি যে সম্পদ পেয়েছ, তা কী করেছ? ঋণ পরিশোধ হয়েছে কি?" আমি বললাম, 'মহান আল্লাহ রাসূলের ﷺ সমস্ত ঋণ পরিশোধের তাওফীক দিয়েছেন। এখন আর অবশিষ্ট নেই।' তিনি বললেন, "কিছু সম্পদ অবশিষ্ট আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "অবশিষ্ট সম্পদ তাড়াতাড়ি খরচ করো। তুমি আমাকে এ-অবশিষ্ট সম্পদ থেকে রেহাই না দেওয়া পর্যন্ত আমি আমার পরিবারের কারও কাছে যাব না।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইশার সালাত আদায়ের পর আমাকে ডেকে বললেন, “তোমাকে দেওয়া মালের অবস্থা কী?” আমি বললাম, 'সেগুলো আমার কাছেই আছে। আমার কাছে কেউ আসেনি।' রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে রাত কাটালেন। বর্ণনাকারী হাদীসের বাকি অংশ বর্ণনা করলেন—'এমনকি পরবর্তী দিনের ইশার সালাত আদায় করে তিনি আমাকে ডাকলেন। তিনি বললেন, “তোমার কাছে অবশিষ্ট মালের অবস্থা কী?' আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে তা থেকে চিন্তামুক্ত করেছেন।' তিনি তাকবীর দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন।” ৩২৮

টিকাঃ
৩২৮. আবু দাউদ (৩০৫৫)।

নবীজি বিলাল ইবনে রাবাহর রাযি. ওপর তাঁর খরচ দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
আবদুল্লাহ আল-হাওযানীর রাযি. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদা হালব শহরে আমার সাথে রাসূলুল্লাহর মুয়াযযিন বিলালের রাযি. দেখা হলো। আমি বললাম, 'হে বিলাল, রাসূলুল্লাহর পরিবারে ভরণ-পোষণের খরচ কীভাবে ব্যবস্থা হতো, আমাকে বলুন।' তিনি বললেন, 'মহান আল্লাহ নবীজিকে (রাসূল করে) পাঠানোর পর থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর পরিবারের যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্বে ছিলাম। তাঁর কাছে কোনো বস্ত্রহীন মুসলিম এলে তিনি আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতেন এবং আমি ধার করতে বের হতাম। আমি তাঁর জন্য কাপড় কিনে এনে তাঁকে পরিয়ে দিতাম এবং আহার করাতাম। এমতাবস্থায় মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, আমার অনেক সম্পদ রয়েছে। তুমি অন্য কারও কাছ থেকে ধার না করে আমার কাছ থেকে ধার নাও। সুতরাং আমি তা-ই করলাম।'
এ-অবস্থায় আমি একদিন উযু করে সালাতের আযান দিতে উঠি। এ-সময় মুশরিক লোকটি একদল ব্যবসায়ীর সাথে এসে উপস্থিত হলো। সে আমাকে দেখামাত্র বলল, 'হে হাবশি!' আমি বললাম, 'উপস্থিত আছি।' সে আমাকে কটূক্তি করাতে আমার মনে খুব বিঁধল। সে আমাকে আরও বলল, 'তুমি কি জানো, মাসের কত দিন বাকি আছে?' আমি বললাম, 'প্রায় শেষ।' সে বলল, 'তোমার ও তার (ঋণ পরিশোধের সময়ের) মধ্যে চার দিন ব্যবধান। কাজেই আমি তোমাকে ঋণের পরিবর্তে ধরে নিয়ে যাব এবং মেষপালের রাখাল বানিয়ে তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।' তার এরূপ কথা শুনে আমি মর্মাহত হলাম, যেমন অন্যান্য লোকদের হয়ে থাকে। আমি যখন ইশার সালাত আদায় করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পরিজনের কাছে ফিরে এলেন। আমি তাঁর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলে তিনি তা অনুমতি দিলেন。
আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আমি যে-মুশরিক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার নিয়েছিলাম, সে আমাকে এ-কথা বলেছে। আমার এ-ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য আপনারও নেই, আমারও নেই। সে আমাকে অপদস্থ করবে। কাজেই ইতোপূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছে এরূপ কোনো মুসলিম জনপদে পলায়ন করার অনুমতি আমাকে দিন। আমি তত দিন আত্মগোপন থাকার অনুমতি চাই, যত দিন না মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ﷺ এ-সম্পদের ব্যবস্থা করে দেন, যা দিয়ে আমার ঋণ পরিশোধ হবে।' এ-কথা বলে আমি আমার ঘরে চলে এসে আমার তরবারি, মোজা, জুতা ও ঢাল গুছিয়ে আমার মাথার কাছে রাখি। ইচ্ছা ছিলো, ভোরের আভা ফোটামাত্রই বেরিয়ে পড়ব।
হঠাৎ এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে আমাকে বলল, 'বিলাল, রাসূলুল্লাহ ﷺ তোমাকে স্মরণ করেছেন।' আমি রওনা হয়ে তাঁর কাছে এসে উপস্থিত হয়ে দেখি, চারটি উট পিঠে সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে বসে আছে। আমি অনুমতি চাইলাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, “সুসংবাদ গ্রহণ করো! মহান আল্লাহ তোমার ঋণ পরিশোধের জন্য এগুলো পাঠিয়েছেন।” পুনরায় তিনি বললেন, “তুমি কি দেখছ না চারটি উট মাল বোঝাই হয়ে বসে আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, “এই উট এবং এদের পিঠে বোঝাই সম্পদ তোমার জন্য। এগুলো—পিঠ বোঝাই বস্ত্র ও খাদ্যদ্রব্য ফাদাকের শাসক আমার জন্য পাঠিয়েছে। এগুলো নিয়ে তোমার ঋণ পরিশোধ করো।' আমি তা-ই করলাম।
তারপর বিলাল বলেন, 'আমি মসজিদে গিয়ে দেখি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বসে আছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলে তিনি বললেন, "তুমি যে সম্পদ পেয়েছ, তা কী করেছ? ঋণ পরিশোধ হয়েছে কি?" আমি বললাম, 'মহান আল্লাহ রাসূলের ﷺ সমস্ত ঋণ পরিশোধের তাওফীক দিয়েছেন। এখন আর অবশিষ্ট নেই।' তিনি বললেন, "কিছু সম্পদ অবশিষ্ট আছে?” আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, "অবশিষ্ট সম্পদ তাড়াতাড়ি খরচ করো। তুমি আমাকে এ-অবশিষ্ট সম্পদ থেকে রেহাই না দেওয়া পর্যন্ত আমি আমার পরিবারের কারও কাছে যাব না।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইশার সালাত আদায়ের পর আমাকে ডেকে বললেন, “তোমাকে দেওয়া মালের অবস্থা কী?” আমি বললাম, 'সেগুলো আমার কাছেই আছে। আমার কাছে কেউ আসেনি।' রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে রাত কাটালেন। বর্ণনাকারী হাদীসের বাকি অংশ বর্ণনা করলেন—'এমনকি পরবর্তী দিনের ইশার সালাত আদায় করে তিনি আমাকে ডাকলেন। তিনি বললেন, “তোমার কাছে অবশিষ্ট মালের অবস্থা কী?' আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আপনাকে তা থেকে চিন্তামুক্ত করেছেন।' তিনি তাকবীর দিলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন।” ৩২৮

টিকাঃ
৩২৮. আবু দাউদ (৩০৫৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00