📘 নবীজির সংসার > 📄 সাহাবীদের সম্পর্কে কটুকথা নবীজি ﷺ সহ্য করতেন না

📄 সাহাবীদের সম্পর্কে কটুকথা নবীজি ﷺ সহ্য করতেন না


আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ এবং আব্দুর রাহমান ইবনে আওফের মাঝে একবার বিরোধ বাধল। খালিদ তাকে গালি দিলেন। তখন রাসূল বললেন, “তোমরা আমার সাহাবীদের গালমন্দ কোরো না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমাণ সোনা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো, তবুও তাদের এক মুদ ৩১৮ বা অর্ধ মুদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে না।”” ৩১৯
“আমার সাহাবী”-বলতে নবীজি তার সবচেয়ে কাছের সাহাবীদের বুঝিয়েছেন—যারা মক্কা বিজয়ের আগে মুসলিম হয়েছেন, তাঁকে দীর্ঘ সময় সঙ্গ দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন, তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছেন, সাদাকা করেছেন এবং হিজরত করেছেন। তাই মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে অগ্রবর্তী সাহাবীগণ পরবর্তী সাহাবীদের তুলনায় উত্তম। এই বিষয়টি রাসূলুল্লাহর সাথে খালিদ ইবনে ওয়ালিদের কথপোকথন থেকে বোঝা যায়। তিনিও সে-সময় সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “নবীজি পরবর্তী কিছু সাহাবীদের নিষেধ করেছিলেন, তারা যেন পূর্ববর্তী সাহাবীদের গালি না দেয়। এ থেকে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহর পরের প্রজন্মের মুসলিমদের জন্য সাহাবীদের সম্পর্কে মন্দ কিছু বলা আরও বেশি দূষণীয়।” ৩২০
এখানে খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ ও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম, যারা হুদাইবিয়া যুদ্ধের পর মুসলিম হয়েছিলেন, তাদেরকেই নবীজি এভাবে বলেছিলেন। তা হলে যারা সাহাবী না হয়েও তাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ কীভাবে বলতেন বলে আপনার মনে হয়?

টিকাঃ
৩১৮. মুদ একটি পরিমাণের একক। একটি নির্দিষ্ট আকারের পাত্রের পরিমানকে মুদ বলা হয়। যার আনুমানিক পরিমান দুই হাত মুনাজাতের মত একত্রিত করে তাতে যতটুকু ফসল নেয়া যায়। চার মুদ = ১ সা'। (এক সা' হল ৩ কেজি ১৮৪.২৭২ গ্রাম সমপরিমাণ।) সম্পাদক
৩১৯. বুখারী (৩৬৭৩) ও মুসলিম (২৫৪১)।
৩২০. ফাতহুল বারী (৩৪/৭)।

আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ এবং আব্দুর রাহমান ইবনে আওফের মাঝে একবার বিরোধ বাধল। খালিদ তাকে গালি দিলেন। তখন রাসূল বললেন, “তোমরা আমার সাহাবীদের গালমন্দ কোরো না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমাণ সোনা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো, তবুও তাদের এক মুদ ৩১৮ বা অর্ধ মুদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে না।”” ৩১৯
“আমার সাহাবী”-বলতে নবীজি তার সবচেয়ে কাছের সাহাবীদের বুঝিয়েছেন—যারা মক্কা বিজয়ের আগে মুসলিম হয়েছেন, তাঁকে দীর্ঘ সময় সঙ্গ দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন, তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছেন, সাদাকা করেছেন এবং হিজরত করেছেন। তাই মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে অগ্রবর্তী সাহাবীগণ পরবর্তী সাহাবীদের তুলনায় উত্তম। এই বিষয়টি রাসূলুল্লাহর সাথে খালিদ ইবনে ওয়ালিদের কথপোকথন থেকে বোঝা যায়। তিনিও সে-সময় সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “নবীজি পরবর্তী কিছু সাহাবীদের নিষেধ করেছিলেন, তারা যেন পূর্ববর্তী সাহাবীদের গালি না দেয়। এ থেকে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহর পরের প্রজন্মের মুসলিমদের জন্য সাহাবীদের সম্পর্কে মন্দ কিছু বলা আরও বেশি দূষণীয়।” ৩২০
এখানে খালিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ ও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরাম, যারা হুদাইবিয়া যুদ্ধের পর মুসলিম হয়েছিলেন, তাদেরকেই নবীজি এভাবে বলেছিলেন। তা হলে যারা সাহাবী না হয়েও তাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ কীভাবে বলতেন বলে আপনার মনে হয়?

টিকাঃ
৩১৮. মুদ একটি পরিমাণের একক। একটি নির্দিষ্ট আকারের পাত্রের পরিমানকে মুদ বলা হয়। যার আনুমানিক পরিমান দুই হাত মুনাজাতের মত একত্রিত করে তাতে যতটুকু ফসল নেয়া যায়। চার মুদ = ১ সা'। (এক সা' হল ৩ কেজি ১৮৪.২৭২ গ্রাম সমপরিমাণ।) সম্পাদক
৩১৯. বুখারী (৩৬৭৩) ও মুসলিম (২৫৪১)।
৩২০. ফাতহুল বারী (৩৪/৭)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের সম্মান করতেন

📄 ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের সম্মান করতেন


আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবীজির কাছে বসে ছিলাম। এমন সময় আবু বাকর রাযি. তার পরনের কাপড়ের একপাশ এমনভাবে ধরে আসলেন যে, তার দু' হাঁটু বেরিয়ে পড়ছিল। নবী বললেন, “তোমাদের এ-সাথি এই মাত্র কারও সঙ্গে ঝগড়া করে আসছে।” তিনি সালাম করলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমার এবং উমার ইবনে খাত্তাবের মাঝে একটি বিষয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে। আমিই প্রথমে কটু কথা বলেছি। এরপর আমি লজ্জিত হয়ে তার কাছে মাফ চেয়েছি। কিন্তু তিনি মাফ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন আমি আপনার নিকট হাজির হয়েছি।'
নবী বললেন, আল্লাহ তোমাকে মাফ করবেন, হে আবু বাকর রাযি.! এ-কথাটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর উমার রাযি. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবু বাকরের রাযি. বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'আবু বাকর কি বাড়িতে আছেন?' তারা বলল, 'না'। তখন উমার রাযি. নবীজির কাছে গেলেন। (তাকে দেখে) নবীজির চেহারা রক্তবর্ণ হয়ে গেল। আবু বাকর রাযি. ভীত হয়ে নতজানু হয়ে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমিই প্রথমে অন্যায় করেছি।' এ-কথাটি তিনি দু বার বললেন। তখন নবী বললেন, "আল্লাহ যখন আমাকে তোমাদের কাছে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তোমরা সবাই বলেছ, 'তুমি মিথ্যা বলছ' আর আবু বাকর বলেছে, 'আপনি সত্য বলছেন'; তার জান-মাল সব কিছু দিয়ে আমাকে সহানুভূতি দেখিয়েছে। তোমরা কি আমার সম্মানে আমার সাথিকে অব্যাহতি দেবে না?” এ-কথাটি তিনি দু বার বললেন। এরপর আবু বাকরকে রাযি. আর কখনো কষ্ট দেয়া হয়নি। ৩২১
রাবীআ আল-আসলামী রাযি. থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ আমাকে ও আবু বাকরকে রাযি. এক খণ্ড জমি দিয়েছিলেন। তারপর একসময় দুনিয়ার চাকচিক্য এলো। ফলে একটি খেজুরের কাঁদিকে কেন্দ্র করে আমরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়লাম। আবু বাকর রাযি. বললেন, 'এটা আমার জমির সীমানার মধ্যে।' আমি বললাম, 'না, এটা আমার জমিতে।' (এ বিষয়ে) আমার ও আবু বাকরের রাযি. মধ্যে কথা কাটাকাটি হলো। আবু বাকর রাযি. আমাকে এমন একটি কথা বললেন, যেটি আমি অপছন্দ করলাম। এজন্য তিনি অনুতপ্ত হয়ে আমাকে বললেন, 'রাবীআ, তুমি অনুরূপ কথা বলে প্রতিশোধ নিয়ে নাও, যাতে সেটার বদলা হয়ে যায়।' আমি বললাম, 'না, আমি তা করব না।' তখন আবু বাকর রাযি. বললেন, 'তুমি অবশ্যই বলবে, নতুবা তোমার বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করব (অর্থাৎ নালিশ করব)।' আমি বললাম, 'আমি এটা করতে পারব না।' রাবীআ বলেন, তিনি জমি প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানালে আবু বাকর রাযি. আল্লাহর রাসূলের কাছে গেলেন। আমিও তার পিছু পিছু গেলাম।
এরই মধ্যে আসলাম গোত্রের কিছু লোক এসে বলল, 'আল্লাহ আবু বাকরের রাযি. উপর রহম করুন! তিনি তোমার বিরুদ্ধে রাসূলের -এর নিকট নালিশ করছেন! অথচ তিনিই যা ইচ্ছা তা-ই তোমাকে বলেছেন!' আমি বললাম, 'তোমরা জানো না, তিনি কে? ইনিই হচ্ছেন আবু বাকর সিদ্দীক (দুজনের ২য় জন)! তিনি মুসলমানদের মধ্যে সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। সুতরাং, তোমরা তার ব্যাপারে (কথা বলায়) সতর্ক থাকো। তিনি হয়তো দেখে ফেলবেন যে, তোমরা আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করছ। ফলে তিনি রেগে যাবেন এবং রাসূলের কাছে চলে যাবেন। অতঃপর তাঁর ক্রোধের কারণে রাসূলুল্লাহ ﷺ ক্রোধান্বিত হবেন। আর তাদের দুজনের ক্রোধের কারণে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হবেন। তখন রাবীআ ধ্বংস হয়ে যাবে।' তারা বলল, 'তা হলে তুমি আমাদের কী করার নির্দেশ দিচ্ছ?' আমি বললাম, 'তোমরা ফিরে যাও।'
আবু বাকর রাযি. রাসূলুল্লাহর ﷺ বাড়িতে গিয়ে তাঁর কাছে পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন। তারপর তিনি আমার দিকে মাথা উঁচু করে বললেন, “রাবীআ, তোমার ও আবু বাকরের রাযি. মধ্যে কী ঘটেছে?” আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ, ঘটনা ছিল এরূপ এরূপ। একপর্যায়ে তিনি আমাকে এমন কথা বললেন, যা আমার অপছন্দনীয় ছিল। ফলে তিনি আমাকে বললেন, 'আমি তোমাকে যেমন বলেছি, তুমি আমাকে তেমন বলো, যাতে সেটার বদলা হয়ে যায়।' তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “হ্যাঁ, তুমি তার জবাব দেবে না। বরং বলবে, 'আবু বাকর, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন। হে আবু বাকর, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন।' (এটা শুনে) আবু বাকর রাযি. কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেলেন।” ৩২২

টিকাঃ
৩২১. বুখারী (৩৬৬১)।
৩২২. আহমাদ (১৬১৪৩)।

আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবীজির কাছে বসে ছিলাম। এমন সময় আবু বাকর রাযি. তার পরনের কাপড়ের একপাশ এমনভাবে ধরে আসলেন যে, তার দু' হাঁটু বেরিয়ে পড়ছিল। নবী বললেন, “তোমাদের এ-সাথি এই মাত্র কারও সঙ্গে ঝগড়া করে আসছে।” তিনি সালাম করলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমার এবং উমার ইবনে খাত্তাবের মাঝে একটি বিষয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে। আমিই প্রথমে কটু কথা বলেছি। এরপর আমি লজ্জিত হয়ে তার কাছে মাফ চেয়েছি। কিন্তু তিনি মাফ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন আমি আপনার নিকট হাজির হয়েছি।'
নবী বললেন, আল্লাহ তোমাকে মাফ করবেন, হে আবু বাকর রাযি.! এ-কথাটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর উমার রাযি. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আবু বাকরের রাযি. বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'আবু বাকর কি বাড়িতে আছেন?' তারা বলল, 'না'। তখন উমার রাযি. নবীজির কাছে গেলেন। (তাকে দেখে) নবীজির চেহারা রক্তবর্ণ হয়ে গেল। আবু বাকর রাযি. ভীত হয়ে নতজানু হয়ে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমিই প্রথমে অন্যায় করেছি।' এ-কথাটি তিনি দু বার বললেন। তখন নবী বললেন, "আল্লাহ যখন আমাকে তোমাদের কাছে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তোমরা সবাই বলেছ, 'তুমি মিথ্যা বলছ' আর আবু বাকর বলেছে, 'আপনি সত্য বলছেন'; তার জান-মাল সব কিছু দিয়ে আমাকে সহানুভূতি দেখিয়েছে। তোমরা কি আমার সম্মানে আমার সাথিকে অব্যাহতি দেবে না?” এ-কথাটি তিনি দু বার বললেন। এরপর আবু বাকরকে রাযি. আর কখনো কষ্ট দেয়া হয়নি। ৩২১
রাবীআ আল-আসলামী রাযি. থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ আমাকে ও আবু বাকরকে রাযি. এক খণ্ড জমি দিয়েছিলেন। তারপর একসময় দুনিয়ার চাকচিক্য এলো। ফলে একটি খেজুরের কাঁদিকে কেন্দ্র করে আমরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়লাম। আবু বাকর রাযি. বললেন, 'এটা আমার জমির সীমানার মধ্যে।' আমি বললাম, 'না, এটা আমার জমিতে।' (এ বিষয়ে) আমার ও আবু বাকরের রাযি. মধ্যে কথা কাটাকাটি হলো। আবু বাকর রাযি. আমাকে এমন একটি কথা বললেন, যেটি আমি অপছন্দ করলাম। এজন্য তিনি অনুতপ্ত হয়ে আমাকে বললেন, 'রাবীআ, তুমি অনুরূপ কথা বলে প্রতিশোধ নিয়ে নাও, যাতে সেটার বদলা হয়ে যায়।' আমি বললাম, 'না, আমি তা করব না।' তখন আবু বাকর রাযি. বললেন, 'তুমি অবশ্যই বলবে, নতুবা তোমার বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করব (অর্থাৎ নালিশ করব)।' আমি বললাম, 'আমি এটা করতে পারব না।' রাবীআ বলেন, তিনি জমি প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানালে আবু বাকর রাযি. আল্লাহর রাসূলের কাছে গেলেন। আমিও তার পিছু পিছু গেলাম।
এরই মধ্যে আসলাম গোত্রের কিছু লোক এসে বলল, 'আল্লাহ আবু বাকরের রাযি. উপর রহম করুন! তিনি তোমার বিরুদ্ধে রাসূলের -এর নিকট নালিশ করছেন! অথচ তিনিই যা ইচ্ছা তা-ই তোমাকে বলেছেন!' আমি বললাম, 'তোমরা জানো না, তিনি কে? ইনিই হচ্ছেন আবু বাকর সিদ্দীক (দুজনের ২য় জন)! তিনি মুসলমানদের মধ্যে সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। সুতরাং, তোমরা তার ব্যাপারে (কথা বলায়) সতর্ক থাকো। তিনি হয়তো দেখে ফেলবেন যে, তোমরা আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করছ। ফলে তিনি রেগে যাবেন এবং রাসূলের কাছে চলে যাবেন। অতঃপর তাঁর ক্রোধের কারণে রাসূলুল্লাহ ﷺ ক্রোধান্বিত হবেন। আর তাদের দুজনের ক্রোধের কারণে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হবেন। তখন রাবীআ ধ্বংস হয়ে যাবে।' তারা বলল, 'তা হলে তুমি আমাদের কী করার নির্দেশ দিচ্ছ?' আমি বললাম, 'তোমরা ফিরে যাও।'
আবু বাকর রাযি. রাসূলুল্লাহর ﷺ বাড়িতে গিয়ে তাঁর কাছে পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন। তারপর তিনি আমার দিকে মাথা উঁচু করে বললেন, “রাবীআ, তোমার ও আবু বাকরের রাযি. মধ্যে কী ঘটেছে?” আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল ﷺ, ঘটনা ছিল এরূপ এরূপ। একপর্যায়ে তিনি আমাকে এমন কথা বললেন, যা আমার অপছন্দনীয় ছিল। ফলে তিনি আমাকে বললেন, 'আমি তোমাকে যেমন বলেছি, তুমি আমাকে তেমন বলো, যাতে সেটার বদলা হয়ে যায়।' তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “হ্যাঁ, তুমি তার জবাব দেবে না। বরং বলবে, 'আবু বাকর, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন। হে আবু বাকর, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন।' (এটা শুনে) আবু বাকর রাযি. কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেলেন।” ৩২২

টিকাঃ
৩২১. বুখারী (৩৬৬১)।
৩২২. আহমাদ (১৬১৪৩)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 অন্য সাহাবীদের তুলনায় ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের বেশি প্রাধান্য দিতেন

📄 অন্য সাহাবীদের তুলনায় ঘনিষ্ঠ সাহাবীদের বেশি প্রাধান্য দিতেন


আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ তাঁর মৃত্যুর কিছু কাল আগে একটি খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, “আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটি বেছে নেওয়ার অধিকার দিয়েছেন। একটি হলো দুনিয়ার ভোগ-বিলাস, আরেকটি হলো আল্লাহর নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে-বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা-ই পছন্দ করলেন।”
এ-কথা শুনে আবু বাকর রাযি. কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক!” তার অবস্থা দেখে আমরা অবাক হলাম। লোকেরা বলতে লাগল, 'এ বৃদ্ধের অবস্থা দ্যাখো! রাসূলুল্লাহ ﷺ এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ ভোগ-সম্পদ দিয়েছে এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ-দুরের মধ্যে বেছে নিতে বললেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতাপিতা উৎসর্গ করলাম!'
রাসূলুল্লাহই ﷺ হলেন সেই ইখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা। আর আবু বাকরই রাযি.-ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ বলেন, “যে-ব্যক্তি তার সঙ্গ ও সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সবচেয়ে ইহসান করেছেন, তিনি হলেন আবু বাকর রাযি.। যদি আমি আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তা হলে আবু বাকরকেই করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বাকরের রাযি. দরজা ছাড়া অন্য কারও দরজা খোলা থাকবে না।”” ৩২৩
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আবু বাকর রাযি. বুঝতে পেরেছিলেন যে, এতে নবীজির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।” ৩২৪

টিকাঃ
৩২৩. বুখারী (৩৯০৪) ও মুসলিম (২৩৮২)।
৩২৪. ফাতহুল বারী (১২/৭)।

আবু সাঈদ আল-খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ তাঁর মৃত্যুর কিছু কাল আগে একটি খুতবা দিতে গিয়ে বললেন, “আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুটি বিষয়ের একটি বেছে নেওয়ার অধিকার দিয়েছেন। একটি হলো দুনিয়ার ভোগ-বিলাস, আরেকটি হলো আল্লাহর নিকট যা রক্ষিত রয়েছে। তখন সে-বান্দা আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা-ই পছন্দ করলেন।”
এ-কথা শুনে আবু বাকর রাযি. কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “আমাদের পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক!” তার অবস্থা দেখে আমরা অবাক হলাম। লোকেরা বলতে লাগল, 'এ বৃদ্ধের অবস্থা দ্যাখো! রাসূলুল্লাহ ﷺ এক বান্দা সম্বন্ধে খবর দিলেন যে, তাকে আল্লাহ ভোগ-সম্পদ দিয়েছে এবং তার কাছে যা রয়েছে, এ-দুরের মধ্যে বেছে নিতে বললেন আর এই বৃদ্ধ বলছে, আপনার জন্য আমাদের মাতাপিতা উৎসর্গ করলাম!'
রাসূলুল্লাহই ﷺ হলেন সেই ইখতিয়ারপ্রাপ্ত বান্দা। আর আবু বাকরই রাযি.-ই হলেন আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ বলেন, “যে-ব্যক্তি তার সঙ্গ ও সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সবচেয়ে ইহসান করেছেন, তিনি হলেন আবু বাকর রাযি.। যদি আমি আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তিকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তা হলে আবু বাকরকেই করতাম। তবে তার সঙ্গে আমার ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। মসজিদের দিকে আবু বাকরের রাযি. দরজা ছাড়া অন্য কারও দরজা খোলা থাকবে না।”” ৩২৩
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আবু বাকর রাযি. বুঝতে পেরেছিলেন যে, এতে নবীজির মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।” ৩২৪

টিকাঃ
৩২৩. বুখারী (৩৯০৪) ও মুসলিম (২৩৮২)।
৩২৪. ফাতহুল বারী (১২/৭)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 অন্যদের চেয়ে সাহাবীদের প্রতি বেশি সহনশীল ছিলেন

📄 অন্যদের চেয়ে সাহাবীদের প্রতি বেশি সহনশীল ছিলেন


উমার ইবনে খাত্তাব রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(মুনাফিক-সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূলকে আহ্বান করা হলো। আল্লাহর রাসূল (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ইবনে উবাইয়ের জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে! এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম।' আল্লাহর রাসূল মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, “উমার, সরে যাও!” আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, “আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তরবারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে, তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম।”
তারপর আল্লাহর রাসূল তার জানাযার সালাত আদায় করে ফিরে এলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের ৩২৫ এ-দুটি আয়াত নাযিল হলো-“তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে, তারা ফাসিক।” (আল কুরআন, ৯:৮৪)
উমার বলেন, আল্লাহর রাসূলের সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণে আমি নিজেই বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ-ব্যাপারে অধিক অবগত।” ৩২৬ ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এভাবেই নবীজি সেই পরিস্থিতিতে উমার রাযি.-এর কথায় সহনশীল ছিলেন এবং তিনি তার দিকে ফিরে মুচকি হেসেছিলেন।” ৩২৭

টিকাঃ
৩২৫. সূরা তাওবা কে সূরা বারাআত ও বলা হয়。
৩২৬. বুখারী (১৩৬৬) ও মুসলিম (২৪০০)।
৩২৭. ফাতহুল বারী (৩৩৫/১)।

উমার ইবনে খাত্তাব রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “(মুনাফিক-সর্দার) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালূল মারা গেলে তার জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূলকে আহ্বান করা হলো। আল্লাহর রাসূল (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ইবনে উবাইয়ের জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে! এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম।' আল্লাহর রাসূল মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, “উমার, সরে যাও!” আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, “আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তরবারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে, তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম।”
তারপর আল্লাহর রাসূল তার জানাযার সালাত আদায় করে ফিরে এলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের ৩২৫ এ-দুটি আয়াত নাযিল হলো-“তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে, তারা ফাসিক।” (আল কুরআন, ৯:৮৪)
উমার বলেন, আল্লাহর রাসূলের সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণে আমি নিজেই বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ-ব্যাপারে অধিক অবগত।” ৩২৬ ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এভাবেই নবীজি সেই পরিস্থিতিতে উমার রাযি.-এর কথায় সহনশীল ছিলেন এবং তিনি তার দিকে ফিরে মুচকি হেসেছিলেন।” ৩২৭

টিকাঃ
৩২৫. সূরা তাওবা কে সূরা বারাআত ও বলা হয়。
৩২৬. বুখারী (১৩৬৬) ও মুসলিম (২৪০০)।
৩২৭. ফাতহুল বারী (৩৩৫/১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00