📘 নবীজির সংসার > 📄 মাঝে মাঝে নিজেই কিছু সাহাবীর বাসায় মেহমান হিসেবে যেতেন

📄 মাঝে মাঝে নিজেই কিছু সাহাবীর বাসায় মেহমান হিসেবে যেতেন


আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, “এক দিন রাসূল ﷺ আবু বাকর ও উমারকে রাযি. দেখতে পেলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, “এ-সময় কীসে তোমাদের ঘর থেকে বের করে এনেছে?” তারা বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, ক্ষুধার যন্ত্রণা।' তিনি বললেন, “যে-মহান আল্লাহর হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম, যা তোমাদের বের করে এনেছে, আমাকেও তা-ই বের করে এনেছে, চলো।” তারা উভয়ে তার সাথে চলতে লাগলেন। তারপর তিনি এক আনসারীর ৩১১ গৃহে এলেন, তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার সহধর্মিণী তাঁকে দেখে বললেন, 'স্বাগতম!' রাসূল ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “অমুক কোথায়?” স্ত্রীলোকটি বলল, 'তিনি আমাদের জন্য খাবার পানি আনতে গিয়েছেন।'
তখন আনসারী ব্যক্তিটি এসে রাসূল ﷺ ও তাঁর দুই সাথিকে দেখতে পেয়ে বললেন, 'আল্লাহর প্রশংসা, আজ মেহমানের দিক হতে আমার থেকে সৌভাগ্যবান আর কেউ নেই।' তারপর তিনি গিয়ে একটি খেজুরের ছড়া নিয়ে আসলেন। তাতে কাঁচা, পাকা ও শুকনা খেজুর ছিল। তিনি বললেন, 'আপনার এ ছড়া থেকে খান।’
এরপর তিনি ছুরি নিলেন (ছাগল যবেহ করার জন্য)। তখন রাসূল ﷺ তাকে বললেন, "সাবধান, দুধওয়ালা বকরী যবেহ কোরো না।" তারপর তাদের জন্য (বকরী) যবেহ করলে তারা বকরীর গোশত ও কাঁদির খেজুর খেলেন এবং (মিঠা) পানি পান করলেন। তারা সকলে ক্ষুধা মিটালেন ও পরিতৃপ্ত হলেন। রাসূলুল্লাহ তখন আবু বাকর ও উমারকে রাযি. বললেন, “যে-সত্তার হাতে আমার জীবন, তার কসম, কিয়ামাতের দিন এ নিয়ামাত সম্বন্ধে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে। ক্ষুধা তোমাদের বাড়ি হতে বের করে এনেছে, অথচ তোমরা এ নিয়ামাত লাভ না করে ফিরে যাওনি।” ৩১২
লাকিত ইবনে সাবরাহ রাযি. বলেন, “রাসূলুল্লাহর কাছে আগত বনু মুনতাফিক গোত্রের প্রতিনিধি দলটির নেতা ছিলাম আমি (অথবা বলেন, আমি তাঁদের মধ্যেই ছিলাম)। আমরা যখন রাসূলুল্লাহর কাছে পৌঁছলাম, তখন তাঁকে তাঁর ঘরে পেলাম না, অবশ্য উম্মুল মুমিনীন আয়িশাকে রাযি. পেলাম। তিনি আমাদের জন্য 'খাযিরা' (একপ্রকার খাদ্য) তৈরির আদেশ দিলেন। আমাদের জন্য তা তৈরি করা হলো এবং আমাদের সামনে কিনা (অর্থাৎ খেজুরভর্তি একটি পাত্র) পেশ করা হলো। কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ ﷺ এসে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনারা কি কিছু খেয়েছেন?” অথবা তিনি বললেন, "আপনাদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে?” আমরা বললাম, 'হ্যাঁ, আল্লাহর রাসূল!' আমরা রাসূলুল্লাহর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় এক রাখাল বকরীর পাল খোঁয়াড়ে নিয়ে এলেন। সাথে একটি বকরীর বাচ্চা ছিল, সেটি চিৎকার করছিল।
রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, “ওহে অমুক, কী বাচ্চা জন্ম দিয়েছে?” সে বলল, 'মাদি।' তিনি বললেন, “সেটির পরিবর্তে আমাদের জন্য একটি বকরী যবেহ করো।” তারপর (প্রতিনিধি দলের নেতাকে উদ্দেশ্য করে) বললেন, “এমনটি মনে করবেন না যে, বকরীটি আপনাদের জন্যই যবেহ করছি; বরং আমাদের কাছে একশটি বকরী আছে। তাই আমরা এর সংখ্যা আর বাড়াতে চাই না। সেজন্যই কোনো বাচ্চা জন্ম হলে আমরা সেটির পরিবর্তে আরেকটি বকরী যবেহ করি।” ৩১৩
আয়নী রাহ. বলেন, “এ-হাদীসের শিক্ষা হলো, বাসায় অতিথি এলে বাসার মানুষের উচিত পরিবারের কর্তার অপেক্ষা না করে তাদের কিছু খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা। এ থেকে এটাও শিক্ষা পাওয়া যায়, মেজবানের উচিত তাদের সর্বোৎৃষ্টটা দিয়ে মেহমানদারি করা।” ৩১৪

টিকাঃ
৩১১. তিরমিযীর বর্ণনামতে (২৩৬৯) তার নাম আবু হাইসাম ইবনে আত-তায়্যিহান।
৩১২. মুসলিম (২০৩৮)।
৩১৩. আবু দাউদ (১৪২)।
৩১৪. আবু দাউদ গ্রন্থের (৩৩৫/১) ব্যাখ্যায় আয়নী (রাহ.)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


নবীজি মুহাম্মদ ক্রমাগত তাঁর সাহাবীদের আল্লাহর প্রতি এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন। একজন বিশ্বাসী কখনোই তার ভাইকে অভুক্ত-ক্ষুধার্ত রেখে শান্তিতে থাকতে পারে না। তিনি তাদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, একজন বিশ্বাসী তার ভাই বা বোনকে ক্ষুধার্ত দেখতে বা দুর্ভাগ্যজনক অবস্থার মধ্যে বাস করতে দেখে চুপচাপ বসে থাকতে পারে না।
অতিথি, প্রতিবেশী ও অন্যদের মাঝে আতিথেয়তা করে সাওয়াব অর্জনের অসংখ্য সুযোগ একজন মুসলিমের রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণে আমরা আজ পিছিয়ে পড়েছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00