📄 আত্মীয় হলেও ইসলামের ব্যাপারে কোনো পক্ষপাতিত্ব করতেন না
আনাস ইবনে মালিক রাযি. বর্ণিত, আনসারদের কয়েকজন নবীজিকে বললেন, 'আমাদের অনুমতি দিন, যেন আমাদের বোনের ছেলে আব্বাসের (বদরে তিনি মুসলিমদের হাতে বন্দি হলে) মুক্তিপণ না নেওয়া হয়।' নবীজি (অনুমতি না দিয়ে) জবাব দিলেন, "তার মুক্তিপণে কোনো ছাড় দিয়ো না।” ২৭৮
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আমাদের বোনের ছেলে আব্বাস”—বলার কারণ হলো, তারা তার বাবা আব্দুল মুত্তালিবের সম্পর্কে মামা ছিলেন। কারণ, আব্দুল মুত্তালিবের মা মদীনার মহিলা ছিলেন। তার নাম সালমা বিনতে আমর ইবনে উহায়হা এবং তিনি নাজ্জার গোত্রের ছিলেন।”
তারা “আমাদের বোনের ছেলে”—বলার কারণ হলো, এটা তারা তাদের আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে বলছে। “আপনার চাচা” বলেনি তারা; কারণ, এতে রাসূলের জন্য তা বলা হচ্ছে মনে হবে। শব্দ চয়নে তাদের এই প্রজ্ঞা তাদের বুদ্ধিমত্তা ও উত্তম বচনেরই প্রমাণ।” ২৭৯
ইবনে হাজর রাহ. আরও বলেন, “ইবনে আয়িস থেকে বর্ণিত, যখন উমারকে বন্দিদের বাঁধার দায়িত্ব দেওয়া হলো, তখন তিনি আব্বাসকে অনেক জোরে বাঁধলেন। তার ব্যথায় গোঙানি শুনে নবীজি ঘুমাতে পারেননি। আনসাররা এটা শুনে তার দড়ির বাঁধন খুলে দিল। যখন তারা বুঝতে পারল নবীজি তাদের কাজে খুশি হয়েছেন, তখন তারা তাঁকে আরও খুশি করতে মুক্তিপণ ছাড়াই আব্বাসকে মুক্তি দিতে চাইলেন। কিন্তু নবীজি এর অনুমতি দিলেন না।”২৮০
ইবনে হাজর রাহ. আরও বলেন, “এটা তিনি করার অনুমতি দেননি, কারণ ইসলামে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই।” ২৮১
টিকাঃ
২৭৮. বুখারী (২৫৩৭)।
২৭৯. ফাতহুল বারী (১৬৮/৫)।
২৮০. ফাতহুল বারী (৩২২/৭)।
২৮১. ফাতহুল বারী (১৬৮/৫)।