📘 নবীজির সংসার > 📄 আত্মীয়দের স্বাস্থ্য ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন

📄 আত্মীয়দের স্বাস্থ্য ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন


জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি হাযমের পরিবারকে সাপের কামড়ে রুকইয়াহ ২৬৭ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি আসমা বিনতে উমায়েসকে একবার জিজ্ঞেস করলেন, “আমার ভাইয়ের সন্তানদের দুর্বল ও পাতলা দেখছি কেন? দারিদ্র্যের আঘাতে তারা জর্জড়িত হয়ে পড়েছে?” আসমা জবাব দিলেন, 'না, তাদের ওপর বদনজর পড়েছে।' তিনি বললেন, "তাদের ওপর রুকইয়াহ করো।” আমি যে রুকইয়াহ করি, সেটির কথা তাঁকে বললাম। তিনি আবার বললেন, "তাদের ওপর রুকইয়াহ করো।” ২৬৮
উম্মে মুনযির বিনতে কায়স রাযি. বলেন, “নবীজি ও আলি আমার বাসায় এলেন। আমাদের কিছু কাঁচা খেজুর ছিল, নবীজি সেগুলো খেতে শুরু করলেন। আলি কেবলই রোগ সেরে উঠেছে, তিনিও কিছু খেজুর খেতে চাইলেন। নবীজি তাকে বলেন, “খেও না। তুমি কেবলি সেরে উঠেছ।”

টিকাঃ
২৬৭. রুকইয়াহ বলতে শরীয়তসম্মত ঝাড়ফুঁককে বুঝায়। অর্থাৎ, কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নামের যিকর, রাসূল এর হাদিসে বর্ণিত দোয়া পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কোন বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া কিংবা রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মাকতাবাতুল আসলাফ থেকে প্রকাশিত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রচিত 'রুকইয়াহ' বইয়ে দেখুন। - সম্পাদক
২৬৮. মুসলিম (২১৯৮)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 আত্মীয়দের বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিতেন

📄 আত্মীয়দের বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিতেন


তখন আমি বার্লি ও সবজি দিয়ে কিছু খাবার বানিয়ে নিয়ে এলাম। তখন নবীজি ﷺ বললেন, “আলী, এ থেকে যা ইচ্ছা খাও, এটা তোমার জন্য ভাল।” ২৬৯
নবীজি মদীনা হিজরতের রাতে আলিকে রাযি. তাঁর জায়গায় ঘুমাতে বলেছিলেন। তিনি তাকে খাইবার বাহিনীর সেনাপতি হিসেবেও নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি তাকে হজ্বের সময় উট জবাই করা, মাংস, চামড়া ইত্যাদি বিতরণ করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ২৭০
আলি রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ হজ্বের সময় একশ উট কুরবানী করার জন্য আনলেন। এরপর আমাকে সেগুলোর মাংস, চামড়া, পিঠের গদি ও কাপড় বিতরণ করার আদেশ দিলেন।” ২৭১
নবীজি তাঁর চাচাতো ভাই জাফর ইবনে আবু তালিবকে হাবশায় (ইথিওপিয়া) হিজরতের প্রধান করেছিলেন। তিনি নাজ্জাশীর কাছে ইসলামের বার্তা নিয়ে যান এবং তার কাছে ইসলাম সম্পর্কে তুলে ধরেন।

টিকাঃ
২৬৯. আবু দাউদ (৩৮৫৬), তিরমিযী (১৯৬০) ও ইবন মাজাহ (৩৪৪২)।
২৭০. বুখারী (১৭০৭) ও মুসলিম (১৩১৭)।
২৭১. বুখারী (১৭১৮) ও মুসলিম (২৩২১)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 জাফরের হাবশা থেকে ফিরে আসায় নবীজি ﷺ অনেক খুশি হয়েছিলেন

📄 জাফরের হাবশা থেকে ফিরে আসায় নবীজি ﷺ অনেক খুশি হয়েছিলেন


জাফর রাযি. খাইবার বিজয়ের পর মদীনায় ফিরে এলেন। নবীজি তাকে দেখে উঠে দাঁড়িয়ে আলিঙ্গন করলেন এবং চোখে চুমো দিয়ে বললেন, “খাইবার বিজয় আর জাফরের ফিরে আসা—কোনটিতে আমি বেশি খুশি বলতে পারব না।” ২৭২
নবীজি তাকে মসজিদের পাশেই থাকার জায়গা দিলেন এবং খাইবারের গনিমত থেকে তাকে সম্পদ দিলেন। এরপর মুতার যুদ্ধে যায়েদ বিন হারিসার পর তাকে সেনাপতির দায়িত্ব দিলেন।
আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ সেনাপতি হিসেবে জায়িদ ইবনে হারিসাকে একদল সৈন্যসহ পাঠালেন এবং বললেন, “যায়েদ যদি শহীদ হয়, তা হলে জাফর সেনাপতি হবে; জাফর যদি শহীদ হয়, তা হলে আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহ সেনাপতি হবে।” তারপর (যুদ্ধের) খবর নবীজির কাছে এলো। তিনি মানুষের সামনে উঠে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা করে বলা শুরু করলেন, “তোমাদের ভাই ও শত্রুরা যুদ্ধে নেমেছে।” যায়েদ পতাকা নিলেন এবং তিনি শহীদ হলেন। এরপর জাফর ইবনে আবু তালিব পতাকা নিলেন, তিনিও শহীদ হলেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহ পতাকা নিলেন, তিনিও শহীদ হলেন। এরপর আল্লাহর অন্যতম তরবারি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ পতাকা নিলেন এবং জয়লাভ করলেন।”
এরপর তিনি জাফরের পরিবারের কাছে (শোক কাটার জন্য) তিনদিন পর এলেন। তাদের সান্ত্বনা দিলেন, "আজকে বা কালকের পর থেকে আমার ভাইয়ের জন্য তোমরা কেঁদো না। আমার ভাইয়ের বাচ্চাদের (যে-কোনো প্রয়োজনে) আমাকে তোমরা ডাক দিয়ো।” আমরা ছোট পাখির ছানাদের মতো তাঁর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, “নাপিতকে ডাক দাও।” নাপিত এসে আমাদের মাথা কামিয়ে দিল (কারণ, তাদের মা তাদের বাবার মৃত্যুতে দুঃখ-ভারাক্রান্ত ছিলেন, তাই তাদের যত্ন নিতে পা-রছিলেন না।)।
এরপর নবীজি বললেন, “মুহাম্মদ যেমন তাঁর চাচার মতো দেখতে, তেমনি আবদুল্লাহ আমার মতো চেহারায় ও আচরণে।” তিনি এটি তিনবার বললেন। তখন আমাদের মা তাঁর কাছে এসে দুঃখ করে বলল, 'আমরা এখন ইয়াতীম।' তখন নবীজি তাকে বললেন, “তুমি তাদের জন্য দারিদ্র্যের ভয় করছ কেন! আমি তাদের এই দুনিয়ায় ও আখিরাতে রক্ষক ও অভিভাবক।” ২৭৩

টিকাঃ
২৭২. হাকিম (৪২৪৯)।
২৭৩. আহমাদ (১৭৫৩)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 ছোট শিশুদের মাথায় হাত রেখে দুআ করতেন

📄 ছোট শিশুদের মাথায় হাত রেখে দুআ করতেন


আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি. থেকে বর্ণিত, “আমি এবং আব্বাসের দুই ছেলে কুসাম আর উবায়দুল্লাহ খেলা করছিলাম। নবীজি তাঁর বাহনে করে আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি লোকদের বললেন আমাকে তুলে দিতে এবং তাঁর সামনে বসালেন। এরপর কুসামকে তুলে দিতে বললেন এবং তাকে পেছনে বসালেন। তারপর নবীজি ﷺ আমার মাথা তিনবার স্পর্শ করে বললেন, "আল্লাহ, জাফরের সন্তানদের দেখে রাখুন।” ২৭৪

টিকাঃ
২৭৪. আহমাদ (১৭৬৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00