📄 আত্মীয়দের প্রতি উদার আচরণ করতেন
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, যখন বদর যুদ্ধের বন্দিদের নিয়ে আসা হলো, তাদের মাঝে নবীজির চাচা আব্বাস ছিলেন। তার পরিহিত কোনো পোশাক ছিল না। তিনি তার জন্য জামার ব্যবস্থা করতে বললেন। আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের (মুনাফিকদের নেতা) কাছে তার পরার জন্য একটি জামা পাওয়া গেল। নবীজি তার চাচাকে সেই জামাটি দিলেন। এ-কারণে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই মারা যাবার পর তাকে নবীজি নিজের জামা দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন।
আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, একবার নবী ﷺ এর কাছে বাহরাইন থেকে কিছু সম্পদ এলো। তিনি বললেন, “তোমরা এগুলো মসজিদে ঢেলে দাও। এটি ছিল তাঁর কাছে-আসা সবচেয়ে বেশি সম্পদ। তিনি মসজিদে সালাত আদায় করতে গেলেন এবং সম্পদগুলোর দিকে ঘুরেও তাকালেন না। এরপর তিনি সালাত শেষে সম্পদগুলো বিতরণ শুরু করলেন এবং এর কিছু কিছু করে যাকে পেলেন, তাকেই দিলেন।
এ-সময় আব্বাস রাযি. এসে বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমাকে দান করুন। আমি আমার এবং আকীলের মুক্তিপণ দিয়েছি।' আল্লাহর রাসূল বললেন, "আচ্ছা নাও।” তিনি তার কাপড়ে অঞ্জলি ভরে নিতে লাগলেন। তারপর তা উঠাতে চাইলেন, কিন্তু উঠাতে পারলেন না। তখন তিনি বললেন, 'কাউকে আমার উপর এ-বোঝা উঠিয়ে দিতে বলুন।' আল্লাহর রাসূল বললেন, “না।” তখন তিনি বললেন, 'তা হলে আপনিই আমার উপর উঠিয়ে দিন।' রাসূলূল্লাহ বললেন, “না।”
তিনি তা হতে কিছু কমালেন এবং উঠাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু উঠাতে পারলেন না। তারপর বললেন, 'কাউকে আমার উপর বোঝাটি উঠিয়ে দিতে বলুন।' তিনি বললেন, “না।” তখন আব্বাস রাযি. বললেন, 'আপনিই একটু আমার উপর উঠিয়ে দিন।' আল্লাহর রাসূল বললেন, “না।” তখন তিনি আবার তা হতে কমালেন এবং কাঁধে উঠিয়ে রওনা হলেন।
তার এ-আসক্তি দেখে বিস্ময়ের সাথে আল্লাহর রাসূল তাকিয়ে থাকলেন, যতক্ষণ না তিনি আমাদের দৃষ্টির আড়াল হলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ সে-স্থানে একটি দিরহাম থাকা পর্যন্ত সেখান হতে উঠে দাঁড়াননি। ২৬৪
ইবনে রজব আল-হাম্বলী বলেন, “এই হাদীস নবীজির উদারতার দৃষ্টান্ত। সম্পদ যতই থাকুক না কেন, সেটার দিকে তিনি মুখ ফিরিয়েও দেখতেন না। অন্যদিকে আব্বাস বেশ তাগড়া এবং শক্তিশালী মানুষ ছিলেন, তাকেও অনেক সম্পদ তুলে নিতে বাধা দেননি। তিনি সম্পদগুলো তোলায় নিজে বা অন্য কাউকে দিয়ে সাহায্য না করার কারণ—হয়তো—তিনি চাচ্ছিলেন তার চাচা যতটুকু নিজে বহন করতে পারে, ততটুকুই যেন নেয়।” ২৬৫
আব্বাসকে কুরাইশদের মাঝে ধনী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু বদরের যুদ্ধে বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেতে তিনি তার নিজের ও তার ভাতিজা আকিলের মুক্তিপণ দিতে গিয়ে তার অনেক ঋণ হয়ে গিয়েছিল।
টিকাঃ
২৬৪. বুখারী (৩১৬৫), ফাতহুল বারী (৫১৬/১)।
২৬৫. ফাতহুল বারী (১৭৮/৩)।
📄 নবীজি ﷺ আত্মীয়দের হজ্জের ব্যাপারে অনেক আগ্রহী ছিলেন
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ যুবাআ বিনতে যুবায়র- এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার হজ্বে যাবার ইচ্ছে আছে?” সে উত্তর দিল, 'আল্লাহর কসম, আমি খুবই অসুস্থবোধ করছি (তবে হজ্বে যাবার ইচ্ছে আছে)।' তার উত্তরে বললেন, “তুমি হজ্বের নিয়্যতে বেরিয়ে যাও এবং আল্লাহর কাছে নিয়ত করে বলো, 'আল্লাহ, যেখানেই আমি বাধাগ্রস্ত হব, সেখানেই আমি আমার ইহরাম শেষ করব।” ২৬৬
টিকাঃ
২৬৬. বুখারী (৫০৮৯) ও মুসলিম (১২০৭)।
📄 আত্মীয়দের স্বাস্থ্য ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতেন
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি হাযমের পরিবারকে সাপের কামড়ে রুকইয়াহ ২৬৭ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি আসমা বিনতে উমায়েসকে একবার জিজ্ঞেস করলেন, “আমার ভাইয়ের সন্তানদের দুর্বল ও পাতলা দেখছি কেন? দারিদ্র্যের আঘাতে তারা জর্জড়িত হয়ে পড়েছে?” আসমা জবাব দিলেন, 'না, তাদের ওপর বদনজর পড়েছে।' তিনি বললেন, "তাদের ওপর রুকইয়াহ করো।” আমি যে রুকইয়াহ করি, সেটির কথা তাঁকে বললাম। তিনি আবার বললেন, "তাদের ওপর রুকইয়াহ করো।” ২৬৮
উম্মে মুনযির বিনতে কায়স রাযি. বলেন, “নবীজি ও আলি আমার বাসায় এলেন। আমাদের কিছু কাঁচা খেজুর ছিল, নবীজি সেগুলো খেতে শুরু করলেন। আলি কেবলই রোগ সেরে উঠেছে, তিনিও কিছু খেজুর খেতে চাইলেন। নবীজি তাকে বলেন, “খেও না। তুমি কেবলি সেরে উঠেছ।”
টিকাঃ
২৬৭. রুকইয়াহ বলতে শরীয়তসম্মত ঝাড়ফুঁককে বুঝায়। অর্থাৎ, কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নামের যিকর, রাসূল এর হাদিসে বর্ণিত দোয়া পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কোন বিপদ থেকে মুক্তি চাওয়া কিংবা রোগ থেকে আরোগ্য কামনা করা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মাকতাবাতুল আসলাফ থেকে প্রকাশিত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রচিত 'রুকইয়াহ' বইয়ে দেখুন। - সম্পাদক
২৬৮. মুসলিম (২১৯৮)।
📄 আত্মীয়দের বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিতেন
তখন আমি বার্লি ও সবজি দিয়ে কিছু খাবার বানিয়ে নিয়ে এলাম। তখন নবীজি ﷺ বললেন, “আলী, এ থেকে যা ইচ্ছা খাও, এটা তোমার জন্য ভাল।” ২৬৯
নবীজি মদীনা হিজরতের রাতে আলিকে রাযি. তাঁর জায়গায় ঘুমাতে বলেছিলেন। তিনি তাকে খাইবার বাহিনীর সেনাপতি হিসেবেও নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি তাকে হজ্বের সময় উট জবাই করা, মাংস, চামড়া ইত্যাদি বিতরণ করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ২৭০
আলি রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ হজ্বের সময় একশ উট কুরবানী করার জন্য আনলেন। এরপর আমাকে সেগুলোর মাংস, চামড়া, পিঠের গদি ও কাপড় বিতরণ করার আদেশ দিলেন।” ২৭১
নবীজি তাঁর চাচাতো ভাই জাফর ইবনে আবু তালিবকে হাবশায় (ইথিওপিয়া) হিজরতের প্রধান করেছিলেন। তিনি নাজ্জাশীর কাছে ইসলামের বার্তা নিয়ে যান এবং তার কাছে ইসলাম সম্পর্কে তুলে ধরেন।
টিকাঃ
২৬৯. আবু দাউদ (৩৮৫৬), তিরমিযী (১৯৬০) ও ইবন মাজাহ (৩৪৪২)।
২৭০. বুখারী (১৭০৭) ও মুসলিম (১৩১৭)।
২৭১. বুখারী (১৭১৮) ও মুসলিম (২৩২১)।