📄 চাচা আব্বাসের সাথে পরামর্শ করতেন
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, আব্বাস রাযি. মক্কা বিজয়ের বছরে নবীজির কাছে আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের সঙ্গে এলেন। আবু সুফিয়ান মক্কার কাছাকাছি একটি স্থানে ইসলাম গ্রহণ করলেন। আব্বাস রাযি. বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আবু সুফিয়ান সম্মান ও গৌরব পছন্দ করে, সেজন্য আপনি কি তাকে কিছু দিতে পারবেন?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ, যে আবু সুফিয়ানের ঘরে থাকবে, সে নিরাপদ থাকবে; যে নিজের বাড়িতে থাকবে, সে নিরাপদ থাকবে।” ২৫৮
টিকাঃ
২৫৮. আবু দাউদ (৩০৩১)।
📄 আত্মীয়দের আমল সংশোধন করতেন
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, “আমি আমার চাচী (আল্লাহর রাসূলের স্ত্রী) মায়মুনার বাড়িতে রাত কাটালাম। নবী ﷺ তাঁর প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর জেগে উঠে তিনি পানির মশকের (পাত্র) মুখ খুললেন। এরপর মাঝারি রকমের এমন উযু করলেন যে, তাতে বেশি পানি লাগালেন না, অথচ পুরো উযুই করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন আমিও জেগে উঠলাম। তবে আমি কিছুটা পরে উঠলাম। এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন। যা হোক, আমি উযু করলাম। তখনো তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি গিয়ে তাঁর বাম পার্শ্বে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তাঁর ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তের রাকআত সালাত পূর্ণ করলেন। ২৫৯
টিকাঃ
২৫৯. বুখারী (৬৩১৬) ও মুসলিম (৭৬৩)।
📄 কেউ পাপ করতে গেলে তাকে থামাতেন
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, ফযল ইবনে আববাস রাযি. একই বাহনে আল্লাহর রাসূলের ﷺ পিছনে বসেছিলেন। এরপর খাশআম গোত্রের জনৈক মহিলা উপস্থিত হলো। তখন ফযল রাযি. সেই মহিলার দিকে তাকাচ্ছিলেন এবং মহিলাটিও তার দিকে তাকাচ্ছিল। আল্লাহর রাসূল ﷺ ফযলের চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন। মহিলাটি বলল, 'আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর বান্দার উপর ফরযকৃত হজ্ব আমার বয়োঃবৃদ্ধ পিতার উপর ফরজ হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের উপর স্থির থাকতে পারেন না, আমি কি তাঁর পক্ষ হতে হজ্ব আদায় করবো?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ (আদায় কর)।” ঘটনাটি বিদায় হজ্বের সময়ের। ২৬০
টিকাঃ
২৬০. বুখারী (১৫১৩) ও মুসলিম (১৩৩৪)।
📄 গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আত্মীয়দের সাহায্য চাইতেন
কাব ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত আকাবার শপথের ঘটনায় তিনি বলেন, “আমরা হজ্বের জন্য বের হলাম এবং তাশরীকের দিনগুলোর (জিলহজ্বের ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ) মাঝের দিনে নবীজি ﷺ আকাবায় আমাদের সাথে দেখা করবেন বলে জানালেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে আমরা রাসূলুল্লাহর আগমনের অপেক্ষায় ছিলাম। একসময় তিনি তাঁর চাচা আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিবের সাথে এলেন। আব্বাস তখনো তার পিতৃধর্মের অনুসারী ছিলেন। তবে ভাতিজা মুহাম্মদের কাজে তিনি যুক্ত থাকতে আগ্রহী ছিলেন, যেন তিনি নিরাপদ থাকেন।
আমরা বসে পড়লাম। আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব প্রথম কথা বললেন, 'খাযরাজের লোকজন, আমাদের মধ্যে মুহাম্মদ-এর অবস্থা সম্পর্কে তোমরা জানো। আমরা তাঁকে আমাদের লোকদের থেকে নিরাপত্তা দিয়েছি। ফলে তিনি এ-এলাকায় সুরক্ষিত এবং নিরাপদ আছেন। এখন তিনি তোমাদের সাথে মিলিত হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তোমরা যদি মনে করো যে, মুহাম্মদকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ তোমরা পুরোপুরি পালন করতে পারবে এবং বিরোধিতাকারীদের হাত থেকে তাঁকে রক্ষা করতে পারবে, তা হলে তো ভালোই। আর যদি তোমরা মনে করো, মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে রক্ষা করতে পারবে না, তবে তাঁকে রেখে যাও। কারণ, তিনি নিজ সম্প্রদায় থেকে নিরাপদে আছেন।' আনসাররা বললেন, 'আপনার কথা আমরা শুনেছি। রাসূলাল্লাহ, এবার আপনি কথা বলুন এবং আপনার প্রতিপালকের পক্ষে আমাদের থেকে যত অঙ্গীকার নিতে চান, নিন।' রাসূলুল্লাহ্ কথা বললেন, কুরআন তিলাওয়াত করলেন, তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন এবং তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন...।” ২৬১
টিকাঃ
২৬১. আহমাদ (১১৯৪৪)।