📘 নবীজির সংসার > 📄 নিকটাত্মীয়দের ইসলামের দিকে ডাকতেন

📄 নিকটাত্মীয়দের ইসলামের দিকে ডাকতেন


আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, “তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো!”— আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলে নবীজি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে কুরাইশ, নিজেদের রক্ষা করো, আমি তোমাদের আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না। হে আব্দে মানাফের সন্তানেরা, নিজেদের রক্ষা করো, আমি তোমাদের আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, নিজেকে রক্ষা করুন, আমি আপনাকে আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না। হে সাফিয়্যা, নবীর ফুফু, নিজেকে রক্ষা করুন, আমি আপনাকে আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না। হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ, আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও, আমি তোমাদের আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না।” ২৪৮
নববী রাহ. বলেন, “এর অর্থ হলো, আখিরাতে মুক্তি পেতে তারা যেন নবীজির সাথে সম্পর্কের ওপর নির্ভর না করে। কারণ, আল্লাহর নির্ধারিত কোনো ক্ষতি থেকে তাদের রক্ষা করার কোনো ক্ষমতা তাঁর নেই।” ২৪৯
মুসলিমে বর্ণিত এ-হাদীসের শেষে আরও বলেছেন, “কিন্তু আমার সাথে আপনাদের আত্মীয়তার বন্ধন আছে, সেটি আমি ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে ধরে রাখব।” ২৫০

টিকাঃ
২৪৮. বুখারী (২৭৫৩) ও মুসলিম (২০৬)।
২৪৯. মুসলিম গ্রন্থের (৮০/৩) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।
২৫০. মুসলিম (২০৪)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 চাচা আবু তালিবকে পথপ্রদর্শনে আগ্রহী ছিলেন

📄 চাচা আবু তালিবকে পথপ্রদর্শনে আগ্রহী ছিলেন


ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আল্লাহ নবীজিকে প্রথমে তাঁর ঘনিষ্ঠ নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করতে বলার কারণ হলো, যদি তারা ইসলামের সত্যতা মেনে নেয়, তবে অন্যদেরও ইসলামের পথে আনা যাবে।” ২৫১ নবীজি আলিকে রাযি. ছোট থাকা অবস্থাতেই ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম শিশু।
তিরমিযী রাহ. বলেন, “আলিমদের মাঝে কেউ কেউ বলেন যে, প্রথম প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ছিলেন আবু বাকর, আলি মাত্র আট বছর বয়সে মুসলিম হন এবং খাদিজা ছিলেন ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম নারী।” ২৫২
সাঈদ ইবন মুসায়্যিব রাহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “যখন আবু তালিব মুমূর্ষু অবস্থায় পৌঁছলেন, তখন নবীজি তার কাছে গেলেন। আবু জাহল তখন তার কাছে বসে ছিল। নবীজি তাকে লক্ষ করে বললেন, “চাচাজান, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ কালেমাটি একবার পড়ুন, তা হলে আমি আপনার জন্য আল্লাহর কাছে কথা বলতে পারব।” তখন আবু জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু আবু উমাইয়া বলল, 'আবু তালিব, তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হতে ফিরে যাবে?' এরা দুজন তার সাথে এ-কথাটি বারবার বলতে থাকল। সর্বশেষ আবু তালিব তাদের সাথে বলল, 'আমি 'আবদুল মুত্তালিবের মিল্লাতের উপরেই আছি।' এ-কথার পর নবীজি বললেন, “আমি আপনার জন্য ক্ষমা চাইতে থাকব, যে-পর্যন্ত আপনার ব্যাপারে আমাকে নিষেধ করা না হয়।' এ প্রসঙ্গে এ-আয়াতটি নাযিল হলো—‘নবী ও মুমিনদের পক্ষে উচিত নয় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুশরিকদের জন্য—যদি তারা নিকটাত্মীয়ও হয়, যখন তাদের কাছে এ-কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী।' (আল কুরআন, ৯:১১৩)। আরও নাযিল হলো, “আপনি যাকে ভালোবাসেন, ইচ্ছা করলেই তাকে হিদায়াত করতে পারবেন না।”” (আল কুরআন, ২৮:৫৬) ২৫৩
অন্য হাদীসে এসেছে, নবীজি ﷺ তাকে বললেন, “চাচা, বলুন, 'আল্লাহ ছাড়া ইবাদাতের যোগ্য কেউ নেই', আমি তা হলে আল্লাহর সামনে আপনার জন্য এ-ব্যাপারে সাক্ষ্য দেব।” ২৫৪
আরেকটি সহীহ হাদীসে এসেছে, আহমদ বর্ণনা করেন, আবু তালিব নবীজিকে ﷺ বলেছিলেন, “এমন যদি না হতো যে, কুরাইশরা আমার সমালোচনা করে বলবে, মৃত্যুভয়ে আমি কথাগুলো বলছি, তা হলে আমি অবশ্যই তোমাকে খুশি করার জন্য কথাগুলো বলতাম।” ২৫৫
আবু তালিব কাফের হয়ে মারা গেলেও নবীজি তার জন্য সুপারিশ করতে চেয়েছিলেন। তাঁর সুপারিশের কারণেই আবু তালিব জাহান্নামে সবচেয়ে কম শাস্তি পাবে। ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, "জাহান্নামে সবচেয়ে কম শাস্তি আবু তালিব পাবে। তা হলো তিনি (আগুনের) দুটো জুতা পরে থাকবেন, যা তার মগজকে পর্যন্ত সিদ্ধ করে ফেলবে।” ২৫৬
আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আবু তালিব কি আপনার কারণে উপকৃত হবে? কারণ, তিনি তো আপনার হিফাযাত করতেন, আপনার পক্ষ হয়ে (অন্যের প্রতি) ক্রোধান্বিত হতেন। রসূলুল্লাহ্ উত্তরে বললেন, “হ্যাঁ, তিনি কেবল পায়ের গ্রন্থি পর্যন্ত জাহান্নামের আগুনে থাকবেন, আর যদি আমি না হতাম তবে জাহান্নামের অতল তলেই তিনি অবস্থান করতেন।” ২৫৭

টিকাঃ
২৫১. ফাতহুল বারী (৫০৩/৮)।
২৫২. তিরমিযী (৬৪২/৫)।
২৫৩. বুখারী (৩৮৮৪) ও মুসলিম (২৪)।
২৫৪. বুখারী (১৩৬০)।
২৫৫. আহমাদ (৯২৩৭)।
২৫৬. মুসলিম (২১১)।
২৫৭. মুসলিম (২০৯)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 চাচা আব্বাসের সাথে পরামর্শ করতেন

📄 চাচা আব্বাসের সাথে পরামর্শ করতেন


আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, আব্বাস রাযি. মক্কা বিজয়ের বছরে নবীজির কাছে আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের সঙ্গে এলেন। আবু সুফিয়ান মক্কার কাছাকাছি একটি স্থানে ইসলাম গ্রহণ করলেন। আব্বাস রাযি. বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আবু সুফিয়ান সম্মান ও গৌরব পছন্দ করে, সেজন্য আপনি কি তাকে কিছু দিতে পারবেন?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ, যে আবু সুফিয়ানের ঘরে থাকবে, সে নিরাপদ থাকবে; যে নিজের বাড়িতে থাকবে, সে নিরাপদ থাকবে।” ২৫৮

টিকাঃ
২৫৮. আবু দাউদ (৩০৩১)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 আত্মীয়দের আমল সংশোধন করতেন

📄 আত্মীয়দের আমল সংশোধন করতেন


ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, “আমি আমার চাচী (আল্লাহর রাসূলের স্ত্রী) মায়মুনার বাড়িতে রাত কাটালাম। নবী ﷺ তাঁর প্রয়োজনাদি সেরে মুখ-হাত ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর জেগে উঠে তিনি পানির মশকের (পাত্র) মুখ খুললেন। এরপর মাঝারি রকমের এমন উযু করলেন যে, তাতে বেশি পানি লাগালেন না, অথচ পুরো উযুই করলেন। তারপর তিনি সালাত আদায় করতে লাগলেন। তখন আমিও জেগে উঠলাম। তবে আমি কিছুটা পরে উঠলাম। এজন্য যে, আমি এটা পছন্দ করলাম না, তিনি আমার অনুসরণকে দেখে ফেলেন। যা হোক, আমি উযু করলাম। তখনো তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। আমি গিয়ে তাঁর বাম পার্শ্বে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার কান ধরে তাঁর ডান দিকে আমাকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তের রাকআত সালাত পূর্ণ করলেন। ২৫৯

টিকাঃ
২৫৯. বুখারী (৬৩১৬) ও মুসলিম (৭৬৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00