📄 নবীজির ﷺ চাচা এবং ফুফুগণ
ইবনে আল কায়্যিমের মতে নবীজির ﷺ চাচাগণ ছিলেন— ২৪১
১। শহীদদের নেতা হামজা।
২। আল-আব্বাস।
৩। আবু তালিব (মূল নাম 'আব্দে মানাফ)।
৪। আবু লাহাব (মূল নাম আবদুল উযয...)
৫। যুবাইর।
৬। আব্দুল কাবা।
৭। মুকাওইম।
৮। যিরার।
৯। কুসাম।
১০। মুগীরা (মূল নাম হাজাল)।
১১। গাদাক্ব (মূল নাম মুসআব)।
কিছু জীবনীকার নওফেল ও হারিসের কথা বলেন। বলা হয়-হারিস ও মুকাওইম একই ব্যক্তি ছিলেন। হারিস সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন এবং সবচেয়ে কনিষ্ঠজন ছিলেন আব্বাস।
নবীজির সাত চাচা ইসলাম আবির্ভাবের আগেই মারা যান; বেঁচে ছিলেন চারজন : আবু তালিব, আবু লাহাব, হামজা এবং আব্বাস। শেষ দুজন মুসলিম হয়েছিলেন।
নবীজির ছয় জন ফুফু ছিলেন-
১। সাফিইয়্যা (জুবায়ের ইবনুল আওয়ামের মা)।
২। আতিকা।
৩। বাররা।
৪। আরওয়া।
৫। উমায়মা।
৬। উম্মে হাকীম বায়দা।
তাদের মধ্যে সাফিয়্যা মুসলিম হয়েছিলেন, এটি সুনিশ্চিত। তবে আতিকা ও আরওয়া মুসলিম হয়েছিলেন কি না—এ-ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে。
নবীজির তিন দুধভাই ও দুই দুধবোন ছিলেন। তারা হলেন—
১। হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব।
২। আবু সালামা ইবনে আবদুল আসাদ।
৩। আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস।
৪। উনায়সা বিনতে হারিস।
৫। শায়মা বিনতে হারিস。
টিকাঃ
২৪১. যাদুল মা'আদ (১০৪/১)।
📄 নবীজি ﷺ আত্মীয়দের সাথে উত্তম ব্যবহার করতে বলতেন
জায়িদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণিত, মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী খুম নামক নদীর ধারে নবীজি আমাদের মাঝে একদিন উঠে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন, এরপর আমাদের নাসিহা আকারে বললেন, “শোনো, আমি তো কেবল একজন মানুষ; হয়তো সে-সময় খুব কাছে যখন আল্লাহর বার্তাবাহক আসবে, আর আমিও ফিরে যাব (মারা যাব)। আমি তোমাদের মাঝে দুটো ভারী জিনিস রেখে যাচ্ছি—প্রথমটি কুরআন, যাতে আছে পথনির্দেশনা ও আলো; যে এটি দৃঢ়ভাবে ধরে থাকবে, সে হেদায়েত পাবে, নাহলে পথভ্রষ্ট হবে। আর (দ্বিতীয়) হলো, আমার আহল—আমার পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের খেয়াল রেখো (তিনবার বললেন)।”
আবু বাকর রাযি. বলতেন, “নবীজির পরিবারের যত্ন নাও।” ২৪২
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এর অর্থ হলো, তার পরিবারের প্রতি ক্ষতি বা খারাপ আচরণ কোরো না।” ২৪৩
হুসাইন ইবনে সাবরা রাযি. যায়েদকে রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তাঁর আহল কারা? তাঁর স্ত্রীগণ কি এর মাঝে অন্তর্ভুক্ত?’ তিনি বললেন, ‘তাঁর স্ত্রীগণ তাঁর আহলের অন্তর্গত, কিন্তু এখানে তাদের কথা বলা হয়েছে, যারা সাদাকা নিতে পারবে না।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তারা কারা?’ যায়েদ উত্তর দিলেন, ‘আলির পরিবার, আকিলের পরিবার, জাফরের পরিবার এবং আব্বাসের পরিবার।’ ২৪৪
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, আবু বাকর রাযি. আলীকে রাযি. বললেন, “যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ, আমি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় নিজের আত্মীয়দের তুলনায় নবীজির আত্মীয়দের বেশি গুরুত্ব দেব।” ২৪৫
টিকাঃ
২৪২. বুখারী (৩৭১৩)।
২৪৩. ফাতহুল বারী (৭৯/৭)।
২৪৪. মুসলিম (২৪০৮)।
২৪৫. বুখারী (৩৭১২)।
📄 নবীজি ﷺ তাঁর মায়ের কবর দেখতে গিয়ে কাঁদতেন
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি তাঁর মায়ের কবর দেখতে যেতেন। সেখানে তিনি কাঁদতেন এবং তাঁর আশেপাশে যারা থাকত, তারাও কাঁদত। তিনি বলতেন, “আমি আমার রব্বের কাছে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে অনুমতি দেননি; তখন আমি তার কবর যিয়ারতের জন্য অনুমতি চেয়েছি। তাই কবর জিয়ারত করো, এটা মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়।” ২৪৬ তাঁর কাঁদার কারণ ছিল তাঁর মা ইসলাম আসার আগেই মারা গিয়েছিলেন।
বুরাইদা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি চিহ্নিত-করা এক কবরের কাছে পৌঁছলেন। তিনি বসলেন, তাঁর সাথে সাহাবীরাও বসল। তারপর তিনি এমনভাবে মাথা নাড়ালেন, যেন কথা বলবেন, কিন্তু কাঁদা শুরু করলেন। উমার ইবনে খাত্তাব রাযি. তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কাঁদছেন কেন, আল্লাহর রাসূল?’ তিনি বললেন, “এটি আমিনা বিনতে ওহাবের কবর। আমি আমার রব্বের কাছে তার কবর যিয়ারত করার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করার অনুমতি চাইলে তিনি অনুমতি দিলেন না। তাই আমি দুঃখে কাঁদছি।” বুরাইদা বলেন, 'আমি তখনকার মতো এত বেশি মানুষ কাঁদতে কখনো দেখিনি।” ২৪৭
টিকাঃ
২৪৬. মুসলিম (৯৭৬)।
২৪৭. দালা'ঈল আন-নুবুওয়্যাহ গ্রন্থে বায়হাকী (১৮৯/১)।
📄 নিকটাত্মীয়দের ইসলামের দিকে ডাকতেন
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, “তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো!”— আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলে নবীজি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে কুরাইশ, নিজেদের রক্ষা করো, আমি তোমাদের আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না। হে আব্দে মানাফের সন্তানেরা, নিজেদের রক্ষা করো, আমি তোমাদের আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, নিজেকে রক্ষা করুন, আমি আপনাকে আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না। হে সাফিয়্যা, নবীর ফুফু, নিজেকে রক্ষা করুন, আমি আপনাকে আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না। হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ, আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও, আমি তোমাদের আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষায় কিছুই করতে পারব না।” ২৪৮
নববী রাহ. বলেন, “এর অর্থ হলো, আখিরাতে মুক্তি পেতে তারা যেন নবীজির সাথে সম্পর্কের ওপর নির্ভর না করে। কারণ, আল্লাহর নির্ধারিত কোনো ক্ষতি থেকে তাদের রক্ষা করার কোনো ক্ষমতা তাঁর নেই।” ২৪৯
মুসলিমে বর্ণিত এ-হাদীসের শেষে আরও বলেছেন, “কিন্তু আমার সাথে আপনাদের আত্মীয়তার বন্ধন আছে, সেটি আমি ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে ধরে রাখব।” ২৫০
টিকাঃ
২৪৮. বুখারী (২৭৫৩) ও মুসলিম (২০৬)।
২৪৯. মুসলিম গ্রন্থের (৮০/৩) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।
২৫০. মুসলিম (২০৪)।