📄 শিশুদের সাথে খেলাধুলা করতেন
ইয়ালা ইবনে মুররা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজির সাথে কয়েকজন রাতের খাবারের দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হুসাইনকে খেলতে দেখতে পেলেন। নবীজি * অন্যদের থেকে এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন। হুসাইন হাসতে হাসতে দৌড়ে এলো। নবীজি তাকে কোলে তুলে নিলেন। তিনি হুসাইনের থুতনির নিচে এক হাত রাখলেন আর তার মাথার পেছনে আরেক হাত রেখে চুমো দিলেন। তিনি তারপর বললেন, “হুসাইন আমার, আমি হুসাইনের। যে হুসাইনকে ভালোবাসে, আল্লাহ যেন তাকে ভালোবাসেন। হুসাইন যেন নিজেই এক জাতি।” ২০২
মুবারাকপুরী রাহ. বলেন, “হুসাইন আমার, আমি হুসাইনের”-এর অর্থ হলো, তারা দুজন একে অপরের সাথে অত্যন্ত দৃঢ় ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ。
“হুসাইন যেন নিজেই এক জাতি”—এর অর্থ হলো, তার বংশে অনেক গোত্রের জন্ম হবে এবং তার অনেক বংশধর বেঁচে থাকবে। এমনকি বর্তমানেও তার অনেক বংশধর জীবিত।” ২৩৩
টিকাঃ
২৩২. ইবনে মাজাহ (১৪৪) ও তিরমিযী (৩৭৭৫)।
২৩৩. তুহফাতুল আওযায়ী (১৭৮/১০)।
📄 নাতিদের জন্য দুআ করতেন
উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণিত, নবীজি তাকে ও হাসানকে তাঁর দুই হাঁটুতে বসালেন এবং তাদেরকে খুব কাছে নিয়ে বললেন,
اللَّهُمَّ ارْحَمْهُمَا فَإِنِّي أَرْحَمُهُمَا
| “আল্লাহ, তাদের ওপর দয়া করুন, আমি যে তাদের দয়া করি।” ২৩৪
টিকাঃ
২৩৪. বুখারী (৬০০৩)।
📄 হাদিয়া পেলে তার একটি অংশ তাদের দিতেন
উপহার পেলে বড়রা তো খুশি হয়, ছোটরা আরও বেশি খুশি হয়। তাই নাতিদের নবীজি উপহার দিতেন। আয়িশা রাযি. বলেন, “নাজ্জাশী (ইথিওপিয়ার শাসক) নবীজিকে উপহার হিসেবে কিছু গয়না পাঠালেন। সেগুলোর মধ্যে একটি সোনার আংটি ছিল। তিনি একটি লাঠি দিয়ে সেটি তুললেন, যেন তার স্পর্শে না আসে এবং যায়নাবের মেয়ে উমামাকে ডেকে বললেন, “মেয়ে (নাতনী) আমার, তুমি এটা পরো।” ২৩৫
টিকাঃ
২৩৫. আবু দাউদ (৪২৩৫) ও ইবনে মাজাহ (৩৬৪৪)।
📄 হারাম থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দিতেন
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, হাসান ইবনে আলি সাদাকার একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিলেন। নবীজি খক, খক” শব্দ করে ফেলে দিতে বললেন। তারপর তাকে বললেন, “জানো না, আমরা সাদাকা থেকে কিছু খাই না!” ২৩৬
বড়দের জন্য যা নিষিদ্ধ, সে-ব্যাপারে ছোটদেরও শেখানো অভিভাবকের দায়িত্ব। তাদের ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে শেখানো উচিত। হয়তো প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় কোনো হারাম কাজ করে বসলে তাদের পাপ হবে না। তবে তাদের সে সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ২৩৭
টিকাঃ
২৩৬. বুখারী (১৪১৯) ও মুসলিম (১০৬৯)।
২৩৭. মুসলিম (১৭৫/৭) গ্রন্থের ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.) এবং ফাতহুল-বারী (৩৫৫/৩)।