📄 সালাতের মধ্যে শিশুদের খেলাধুলা সহ্য করতেন
শাদ্দাদ ইবনে আল-হাদ থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ মাগরিব বা ইশার সালাতের জন্য বেরিয়ে এলেন। তাঁর সাথে (কোলে) হাসান বা হুসাইন রাযি. ছিল। তিনি সামনে গিয়ে তাকে রেখে সালাত শুরু করলেন। সালাতে তিনি অনেক লম্বা সিজদা দিলেন। আমি সিজদা থেকে মাথা তুলে দেখলাম, বাচ্চাটি তাঁর পিঠে বসে আছে তাঁর সিজদা করার সময়। আমি আমার মাথা আবার নামিয়ে ফেললাম। সালাত শেষে নবীজিকে লোকেরা বলল, 'আল্লাহর রাসূল, আপনি একটি সিজদা অনেক লম্বা করেছিলেন— আমরা ভেবে বসলাম, কোনো খারাপ কিছু ঘটেছে (হঠাৎ মৃত্যু বা অসুস্থতা) কিংবা আপনার ওপর ওহী এসেছে। নবীজি ﷺ উত্তর দিলেন, “কোনোটিই না, বরং আমার বাচ্চা (নাতি) আমার পিঠে চড়েছিল। তার (খেলা) শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি নড়তে চাচ্ছিলাম না।” ২২১
টিকাঃ
২২১. নাসাঈ (১১৪১)।
📄 হাসান ও হুসাইন তাঁর পিঠে চড়লে রাগ করতেন না
আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “নবীজির ﷺ সাথে আমরা ইশার সালাত আদায় করছিলাম। তিনি সিজাদায় গেলে হাসান ও হুসাইন তাঁর পিঠের ওপর চড়ে বসছিল। সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় আলতো করে তিনি তাদের মাটিতে নামিয়ে দিচ্ছিলেন। এরপর তিনি আবার (সিজাদায়) গেলে আবার তারা পিঠে চড়ে বসছিল। এভাবেই তিনি সালাত শেষ করলেন। এরপর তাদেরকে কোলে নিয়ে বসে ছিলেন। আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তাদের বাসায় রেখে আসছি।' তখন আকাশে বজ্রপাত হলো। নবীজি ﷺ তাদের বললেন, “তোমরা দুজন মায়ের কাছে যাও।” তাদেরকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত আকাশে বজ্রপাত হচ্ছিল।” ২২২
আবু বাকরা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ সালাত পড়ার সময় সিজদায় গেলে হাসান তাঁর কাঁধে চড়ে বসত। নবীজি ﷺ তাকে আলতো করে নামিয়ে দিতেন, যেন মাটিতে পড়ে না যায়। সে এরকম একাধিকবার করল। সালাত শেষে আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনাকে হাসানের সাথে এমন কিছু করতে দেখলাম, যা আগে কখনো দেখিনি।' নবীজি উত্তর দিলেন, “সে এ-জীবনে আমার রায়হান (একধরনের সুগন্ধি গাছ)। আমার এই বাচ্চা একদিন নেতৃত্ব দান করবে এবং মুসলিমদের দুটো বিশাল দলের মাঝে সে সমঝোতা করে দেবে।” ২২৩
নাতিদের নবীজি দয়া ও রহমতের মাঝে বড় করেছেন। বাচ্চাদের খাদ্য- পানীয়ের মতো বড়দের যত্ন-ভালোবাসাও প্রয়োজন। বাচ্চার ভারসাম্যপূর্ণ জটিলতামুক্ত ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলায় এ-রকম পরিবেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
টিকাঃ
২২২. আহমদ (১০২৮১)।
২২৩. আহমদ (১৯৯৯৪)।
📄 নবীজি ﷺ তাদের অনেক ভালোবাসতেন
আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, “আমি রাসূলুল্লাহর সাথে বের হলাম; আমরা দুজনেই কোনো কথা বলছিলাম না। আমরা বনু কায়নুকার বাজারে গেলাম এবং ফিরে এলাম। এরপর তিনি ফাতিমার বাসায় গেলেন। তিনি ডাকলেন, “লুকা (অর্থ-ছোট শিশু হাসান) এখানে আছে?” আমরা ভেবেছিলাম, সে (ফাতিমা) হাসানকে নিয়ে আছে—গোসল করিয়ে মালা পরে দেওয়ার জন্য। হাসান নবীজির কাছে এলে দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। তিনি বললেন, “আল্লাহ, আমি একে ভালোবাসি, আপনিও তাকে ভালোবাসুন এবং যে ব্যক্তি তাকে ভালোবাসে, তাকেও আপনি ভালোবাসুন।” আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “নবীজির এ-কথা বলার পর হাসান ইবনু আলির চেয়ে অন্য কেউ আমার কাছে অধিকতর প্রিয় হয়নি।” ২২৪
নববী রাহ. বলেন, “তারপর হাসান বের হয়ে এসে নবীজিকে জড়িয়ে ধরল'-এ থেকে বাচ্চাদের সাথে কোমল হয়ে খেলাধুলা করার শিক্ষা পাওয়া যায়।” ২২৫
টিকাঃ
২২৪. বুখারী (৫৮৮৪) ও মুসলিম (২৪২১)।
২২৫. মুসলিম (১৯৩/১৫) গ্রন্থের ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।
📄 নাতিদের কোলে নিয়ে চুমো দিতেন
আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “নবীজি আকরা ইবনে হাবিস আত-তামিমীর সামনে হাসান ইবন আলিকে চুমো খেলেন। আকরা বলল, 'আমার দশটি সন্তান আছে, আমি কখনো তাদের চুমো দিইনি।' নবীজি ﷺ তার দিকে তাকিয়ে বলেন, “যার মাঝে রহমত নেই, তাকে রহমত দেখানো হবে না।”” ২২৬
এ-হাদীস থেকে বোঝা যায়, বাচ্চাকে চুমো দেওয়া, জড়িয়ে ধরা—এগুলো তাদের প্রতি বাবা-মায়ের রহমতের অংশ। ২২৭
আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “আমি নবীজিকে তাঁর কাঁধে হাসান ইবনে আলিকে নিয়ে থাকতে দেখলাম। সে-সময় তাঁর ওপর হাসানের লালা গড়িয়ে পড়ছিল।” ২২৮
টিকাঃ
২২৬. বুখারী (৫৯৯৭) ও মুসলিম (২৩১৮)।
২২৭. ফাতহুল বারী (৪৩০/১০)।