📘 নবীজির সংসার > 📄 নাতিদের মসজিদে নিয়ে যেতেন

📄 নাতিদের মসজিদে নিয়ে যেতেন


আবু বাকরা রাযি. বলেন, “আমি নবীজিকে মিম্বারের উপর দাঁড়ানো দেখলাম। তাঁর পাশেই হাসান ছিল। সে নবীজি আর তাঁর সামনের মানুষের মাঝে ছুটাছুটি করছিল। তিনি বললেন, “আমার এই বাচ্চা একদিন নেতৃত্ব দান করবে এবং মুসলিমদের দুটো বিশাল দলের মাঝে সে সমঝোতা করে দেবে।” ২১৬
বুরাইদা ইবন হুসাইব রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় তাঁর সামনে লাল জামা পরে এসে হাসান ও হুসাইন একজন আরেকজনের ওপর পড়তে লাগল এবং আবার উঠতে লাগল। নবীজি মিম্বার থেকে নেমে এসে তাদেরকে কোলে নিয়ে আবার মিম্বারে উঠলেন এবং বললেন, “আল্লাহ সত্য বলেছেন— “তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তোমাদের জন্য পরীক্ষা।” (আল কুরআন, ৬৪:১৫) আমি এ দুজনকে দেখে ধৈর্য ধরে রাখতে পারলাম না।” ২১৮ এরপর তিনি তাঁর খুতবার কথায় ফিরে গেলেন।
আল্লাহর বাণী—“তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তোমাদের জন্য পরীক্ষা”—এর অর্থ হলো, এগুলো মানুষকে আল্লাহর ইবাদাত থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। খুতবা থামিয়ে ভালোবাসাবশত তাদের কোলে তুলে নেওয়া তাঁর জন্য একটি পরীক্ষা ছিল। সন্তানদের মাধ্যমে পিতামাতা বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, এটি ছিল সেগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের। এ-পরীক্ষা যেন উপরের স্তরে না যায়, তা খেয়াল রাখতে হবে। ২১৯
আবু কাতাদা আল-আনসারী থেকে বর্ণিত, তিনি নবীজিকে সালাতে ইমামতি করতে দেখলেন। এ-সময় তাঁর কাঁধে যায়নাবের মেয়ে উমামা বিনতে আবুল আস তাঁর কাঁধে চড়ে ছিল। যখন তিনি রুকুতে যেতেন তাকে নামিয়ে রাখতেন, আর সিজদা থেকে উঠে তাকে আবার তুলে নিতেন। ২২০

টিকাঃ
২১৬. আলী রা.-এর মৃত্যুর পর কুফাবাসীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁর হাতে বাইআত হয়। ওদিকে শামবাসীরা মুআবিয়া রা.-এর সঙ্গে আপোস করে নেন এবং খেলাফত থেকে পদত্যাগ করে তাঁর হাতে বাইআত হয়ে যান। - সম্পাদক
২১৭. বুখারী (২৭১৪)।
২১৮. আবু দাউদ (১১০৯), তিরমিযী (৩৭৭৪), নাসাঈ (১৪১৩) এবং ইবনে মাজাহ (৩৬০০)।
২১৯. ফাতহুল বারী (২৫৪/১১)।
২২০. বুখারী (৫১৬) ও মুসলিম (৫৪৩)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 সালাতের মধ্যে শিশুদের খেলাধুলা সহ্য করতেন

📄 সালাতের মধ্যে শিশুদের খেলাধুলা সহ্য করতেন


শাদ্দাদ ইবনে আল-হাদ থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ মাগরিব বা ইশার সালাতের জন্য বেরিয়ে এলেন। তাঁর সাথে (কোলে) হাসান বা হুসাইন রাযি. ছিল। তিনি সামনে গিয়ে তাকে রেখে সালাত শুরু করলেন। সালাতে তিনি অনেক লম্বা সিজদা দিলেন। আমি সিজদা থেকে মাথা তুলে দেখলাম, বাচ্চাটি তাঁর পিঠে বসে আছে তাঁর সিজদা করার সময়। আমি আমার মাথা আবার নামিয়ে ফেললাম। সালাত শেষে নবীজিকে লোকেরা বলল, 'আল্লাহর রাসূল, আপনি একটি সিজদা অনেক লম্বা করেছিলেন— আমরা ভেবে বসলাম, কোনো খারাপ কিছু ঘটেছে (হঠাৎ মৃত্যু বা অসুস্থতা) কিংবা আপনার ওপর ওহী এসেছে। নবীজি ﷺ উত্তর দিলেন, “কোনোটিই না, বরং আমার বাচ্চা (নাতি) আমার পিঠে চড়েছিল। তার (খেলা) শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি নড়তে চাচ্ছিলাম না।” ২২১

টিকাঃ
২২১. নাসাঈ (১১৪১)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 হাসান ও হুসাইন তাঁর পিঠে চড়লে রাগ করতেন না

📄 হাসান ও হুসাইন তাঁর পিঠে চড়লে রাগ করতেন না


আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “নবীজির ﷺ সাথে আমরা ইশার সালাত আদায় করছিলাম। তিনি সিজাদায় গেলে হাসান ও হুসাইন তাঁর পিঠের ওপর চড়ে বসছিল। সিজদা থেকে মাথা তোলার সময় আলতো করে তিনি তাদের মাটিতে নামিয়ে দিচ্ছিলেন। এরপর তিনি আবার (সিজাদায়) গেলে আবার তারা পিঠে চড়ে বসছিল। এভাবেই তিনি সালাত শেষ করলেন। এরপর তাদেরকে কোলে নিয়ে বসে ছিলেন। আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমি তাদের বাসায় রেখে আসছি।' তখন আকাশে বজ্রপাত হলো। নবীজি ﷺ তাদের বললেন, “তোমরা দুজন মায়ের কাছে যাও।” তাদেরকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত আকাশে বজ্রপাত হচ্ছিল।” ২২২
আবু বাকরা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ সালাত পড়ার সময় সিজদায় গেলে হাসান তাঁর কাঁধে চড়ে বসত। নবীজি ﷺ তাকে আলতো করে নামিয়ে দিতেন, যেন মাটিতে পড়ে না যায়। সে এরকম একাধিকবার করল। সালাত শেষে আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, 'আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনাকে হাসানের সাথে এমন কিছু করতে দেখলাম, যা আগে কখনো দেখিনি।' নবীজি উত্তর দিলেন, “সে এ-জীবনে আমার রায়হান (একধরনের সুগন্ধি গাছ)। আমার এই বাচ্চা একদিন নেতৃত্ব দান করবে এবং মুসলিমদের দুটো বিশাল দলের মাঝে সে সমঝোতা করে দেবে।” ২২৩
নাতিদের নবীজি দয়া ও রহমতের মাঝে বড় করেছেন। বাচ্চাদের খাদ্য- পানীয়ের মতো বড়দের যত্ন-ভালোবাসাও প্রয়োজন। বাচ্চার ভারসাম্যপূর্ণ জটিলতামুক্ত ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলায় এ-রকম পরিবেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

টিকাঃ
২২২. আহমদ (১০২৮১)।
২২৩. আহমদ (১৯৯৯৪)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 নবীজি ﷺ তাদের অনেক ভালোবাসতেন

📄 নবীজি ﷺ তাদের অনেক ভালোবাসতেন


আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, “আমি রাসূলুল্লাহর সাথে বের হলাম; আমরা দুজনেই কোনো কথা বলছিলাম না। আমরা বনু কায়নুকার বাজারে গেলাম এবং ফিরে এলাম। এরপর তিনি ফাতিমার বাসায় গেলেন। তিনি ডাকলেন, “লুকা (অর্থ-ছোট শিশু হাসান) এখানে আছে?” আমরা ভেবেছিলাম, সে (ফাতিমা) হাসানকে নিয়ে আছে—গোসল করিয়ে মালা পরে দেওয়ার জন্য। হাসান নবীজির কাছে এলে দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। তিনি বললেন, “আল্লাহ, আমি একে ভালোবাসি, আপনিও তাকে ভালোবাসুন এবং যে ব্যক্তি তাকে ভালোবাসে, তাকেও আপনি ভালোবাসুন।” আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, “নবীজির এ-কথা বলার পর হাসান ইবনু আলির চেয়ে অন্য কেউ আমার কাছে অধিকতর প্রিয় হয়নি।” ২২৪
নববী রাহ. বলেন, “তারপর হাসান বের হয়ে এসে নবীজিকে জড়িয়ে ধরল'-এ থেকে বাচ্চাদের সাথে কোমল হয়ে খেলাধুলা করার শিক্ষা পাওয়া যায়।” ২২৫

টিকাঃ
২২৪. বুখারী (৫৮৮৪) ও মুসলিম (২৪২১)।
২২৫. মুসলিম (১৯৩/১৫) গ্রন্থের ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00