📘 নবীজির সংসার > 📄 বাচ্চাদের তাহনীক করতেন

📄 বাচ্চাদের তাহনীক করতেন


নবীজির স্ত্রী আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “বাচ্চাদের তাঁর কাছ আনা হতো। তিনি তাদের জন্য দুআ করতেন এবং তাহনীক করতেন।” ২১১
নববী রাহ. বলেন, “তাহনীক হলো, খেজুর বা এ-রকম কিছু চিবিয়ে শিশুর মুখের তালুতে লাগিয়ে দেওয়া। খেজুর ছাড়াও এটি করা যায়। তবে খেজুর দিয়ে করাই উত্তম; কারণ, এর মিষ্টতা বাচ্চাদের জন্য উপকারী।” ২১২
আধুনিক বিজ্ঞান শিশুর শারীরিক বিকাশে তাহনীকের গুরুত্ব স্বীকার করেছে। এ-সম্পর্কিত গবেষণা বলে, নবজাতক শিশুর তাহনীকে খেজুর বা মিষ্টি-জাতীয় কোনো খাবার ব্যবহার করা উচিত। কারণ, দুটো কারণে নবজাতকের হঠাৎ মৃত্যু হতে পারে— রক্তে ব্লাড সুগার কমে যাওয়ার কারণে অথবা চারপাশের তাপমাত্রা কম থাকার কারণে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেলে। সাধারণত নবজাতকের শরীরে ব্লাড সুগারের মাত্রা কম থাকে, যার ফলে শিশু মায়ের দুধ খেতে চায় না, পেশিতে খিঁচুনি লাগে, শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয় বা ত্বক নীলাভ হয়ে ওঠে。
এর প্রতিকার বেশ সহজ; তা হলো, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ানো—সরাসরি মুখে খেতে দিয়ে অথবা ইনজেকশনের মাধ্যমে। তাহনীকের মাধ্যমে এ-কাজটিই করা হয়। তাহনীকের মাধ্যমে বাচ্চার মুখ ও জিহবার পেশি সচল হয়, ফলে মায়ের দুধ খাওয়া তার জন্য সহজ হয়। ২১৩

টিকাঃ
২১১. মুসলিম (২৩১৬)।
২১২. মুসলিম গ্রন্থের (১২৪/১৪) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)。
২১৩. http://www.islamweb.net/media/index.php?page=article,lang=A,id=143055 প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে নেওয়া।

📘 নবীজির সংসার > 📄 কোলে নাতি প্রসাব করলে রেগে যেতেন না

📄 কোলে নাতি প্রসাব করলে রেগে যেতেন না


লুবাবা বিনতে হারিস থেকে বর্ণিত, “একদিন হাসান ইবনে আলী রাযি. নবীজির কোলে বসে প্রসাব করে দিলেন। তিনি নবীকে বললেন, 'আপনার জামা পরিবর্তন করে নিন। আমি ধুয়ে দিচ্ছি।' তিনি বললেন, 'কেবল বাচ্চা মেয়ের প্রসাব লাগলে (জামা) ধুয়ে দিতে হয়, কিন্তু বাচ্চা ছেলের প্রসাব হলে সেটার ওপর পানি ছিটিয়ে দিলেই চলে।” ২১৪
আবু লায়লা বলেন, “আমি নবীজির সঙ্গে ছিলাম আর হাসান কিংবা হুসাইন তাঁর বুক বা পেটের ওপর শুয়ে ছিল। আমি দেখলাম, সে প্রসাব করে দিচ্ছে; তাই আমি তাকে নিতে উঠে দাঁড়ালাম। নবীজি বললেন, “থাক, তাকে ভয় পাইয়ে দিয়ো না। প্রসাব করা শেষ করতে দাও তাকে।” এরপর তিনি সেটা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেন এবং প্রসাব পানির সাথে ধুয়ে চলে গেল।” ২১৫

টিকাঃ
২১৪. আবু দাউদ (৩৭৫) ও ইবনে মাজাহ (৫২২)।
২১৫. আহমদ (১৮৫৮০)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 নাতিদের মসজিদে নিয়ে যেতেন

📄 নাতিদের মসজিদে নিয়ে যেতেন


আবু বাকরা রাযি. বলেন, “আমি নবীজিকে মিম্বারের উপর দাঁড়ানো দেখলাম। তাঁর পাশেই হাসান ছিল। সে নবীজি আর তাঁর সামনের মানুষের মাঝে ছুটাছুটি করছিল। তিনি বললেন, “আমার এই বাচ্চা একদিন নেতৃত্ব দান করবে এবং মুসলিমদের দুটো বিশাল দলের মাঝে সে সমঝোতা করে দেবে।” ২১৬
বুরাইদা ইবন হুসাইব রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় তাঁর সামনে লাল জামা পরে এসে হাসান ও হুসাইন একজন আরেকজনের ওপর পড়তে লাগল এবং আবার উঠতে লাগল। নবীজি মিম্বার থেকে নেমে এসে তাদেরকে কোলে নিয়ে আবার মিম্বারে উঠলেন এবং বললেন, “আল্লাহ সত্য বলেছেন— “তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তোমাদের জন্য পরীক্ষা।” (আল কুরআন, ৬৪:১৫) আমি এ দুজনকে দেখে ধৈর্য ধরে রাখতে পারলাম না।” ২১৮ এরপর তিনি তাঁর খুতবার কথায় ফিরে গেলেন।
আল্লাহর বাণী—“তোমাদের সম্পদ ও সন্তান তোমাদের জন্য পরীক্ষা”—এর অর্থ হলো, এগুলো মানুষকে আল্লাহর ইবাদাত থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। খুতবা থামিয়ে ভালোবাসাবশত তাদের কোলে তুলে নেওয়া তাঁর জন্য একটি পরীক্ষা ছিল। সন্তানদের মাধ্যমে পিতামাতা বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন হয়, এটি ছিল সেগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের। এ-পরীক্ষা যেন উপরের স্তরে না যায়, তা খেয়াল রাখতে হবে। ২১৯
আবু কাতাদা আল-আনসারী থেকে বর্ণিত, তিনি নবীজিকে সালাতে ইমামতি করতে দেখলেন। এ-সময় তাঁর কাঁধে যায়নাবের মেয়ে উমামা বিনতে আবুল আস তাঁর কাঁধে চড়ে ছিল। যখন তিনি রুকুতে যেতেন তাকে নামিয়ে রাখতেন, আর সিজদা থেকে উঠে তাকে আবার তুলে নিতেন। ২২০

টিকাঃ
২১৬. আলী রা.-এর মৃত্যুর পর কুফাবাসীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁর হাতে বাইআত হয়। ওদিকে শামবাসীরা মুআবিয়া রা.-এর সঙ্গে আপোস করে নেন এবং খেলাফত থেকে পদত্যাগ করে তাঁর হাতে বাইআত হয়ে যান। - সম্পাদক
২১৭. বুখারী (২৭১৪)।
২১৮. আবু দাউদ (১১০৯), তিরমিযী (৩৭৭৪), নাসাঈ (১৪১৩) এবং ইবনে মাজাহ (৩৬০০)।
২১৯. ফাতহুল বারী (২৫৪/১১)।
২২০. বুখারী (৫১৬) ও মুসলিম (৫৪৩)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 সালাতের মধ্যে শিশুদের খেলাধুলা সহ্য করতেন

📄 সালাতের মধ্যে শিশুদের খেলাধুলা সহ্য করতেন


শাদ্দাদ ইবনে আল-হাদ থেকে বর্ণিত, “নবীজি ﷺ মাগরিব বা ইশার সালাতের জন্য বেরিয়ে এলেন। তাঁর সাথে (কোলে) হাসান বা হুসাইন রাযি. ছিল। তিনি সামনে গিয়ে তাকে রেখে সালাত শুরু করলেন। সালাতে তিনি অনেক লম্বা সিজদা দিলেন। আমি সিজদা থেকে মাথা তুলে দেখলাম, বাচ্চাটি তাঁর পিঠে বসে আছে তাঁর সিজদা করার সময়। আমি আমার মাথা আবার নামিয়ে ফেললাম। সালাত শেষে নবীজিকে লোকেরা বলল, 'আল্লাহর রাসূল, আপনি একটি সিজদা অনেক লম্বা করেছিলেন— আমরা ভেবে বসলাম, কোনো খারাপ কিছু ঘটেছে (হঠাৎ মৃত্যু বা অসুস্থতা) কিংবা আপনার ওপর ওহী এসেছে। নবীজি ﷺ উত্তর দিলেন, “কোনোটিই না, বরং আমার বাচ্চা (নাতি) আমার পিঠে চড়েছিল। তার (খেলা) শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি নড়তে চাচ্ছিলাম না।” ২২১

টিকাঃ
২২১. নাসাঈ (১১৪১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00