📘 নবীজির সংসার > 📄 ফাতিমাকে রাযি. নিজের কাজের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হতে বলতেন

📄 ফাতিমাকে রাযি. নিজের কাজের ব্যাপারে দায়িত্বশীল হতে বলতেন


নবীজি একবার ফাতিমাকে রাযি. বললেন, “ফাতিমা, জাহান্নাম থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখো। আমি তোমাকে আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষা করতে পারব না।” ১৯৮
বুখারীতে এই হাদীস এভাবে এসেছে-“মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতিমা, আমার সম্পদ থেকে কী চাও বলো, (কিন্তু) আমি তোমাকে আল্লাহর কাছ থেকে বাঁচাতে পারব না।” অর্থাৎ, তোমার বংশ তোমাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না। ১৯৯

টিকাঃ
১৯৮. বুখারী (২৭৫৩) ও মুসলিম (২০৪)।
১৯৯. মুসলিম গ্রন্থের (৮০/৩) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 ফাতিমাকে রাযি. তাহাজ্জুদ আদায়ের নির্দেশ দিতেন

📄 ফাতিমাকে রাযি. তাহাজ্জুদ আদায়ের নির্দেশ দিতেন


আলী ইবনে আবু তালিব রাযি. থেকে বর্ণিত, এক রাতে নবীজি ফাতিমা ও তার কাছে এলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা তাহাজ্জুদ পড়ো না?” আলি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমাদের রূহ আল্লাহর হাতে, তিনি যখন ইচ্ছা করেন, তখন আমরা জেগে উঠি।' নবীজি আমার উত্তর শুনে কিছু না বলে চলে গেলেন। আমি তাঁকে উরুতে আঘাত করে বলতে শুনলাম,
وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا
“বরং মানুষ বড়ই তর্কপ্রবণ।” (কাহাফ : ৫৪) ২০০
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “ইবনে বাত্তাল বলেন, এ-হাদীস থেকে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করা ও এর জন্য রাতে ওঠার গুরুত্ব আমরা জানতে পারি। রাতের এই সালাত এতটা গুরুত্বপূর্ণ, নাহলে ঘুমের সময় এসে নবীজি তাদেরকে এভাবে বিরক্ত করতেন না। তিনি সালাতের নির্দেশ দানের ব্যাপারে কুরআনের এই আদেশের বাস্তবায়ন করেছেন-“তোমার পরিবারকে সালাতের নির্দেশ দাও।”” (আল কুরআন, ২০: ১৩২) ২০১
ইবনে বাত্তাল রাহ. আরও বলেন, "আলির দ্রুত উত্তর দেওয়া ও অজুহাত দেখে নবীজি বিস্ময়ে নিজ উরুতে আঘাত করেছিলেন। তিনি তার উত্তর পছন্দ করেননি; কারণ, একটি দায়িত্বের ব্যাপারে আলী রাযি. তাকদীরকে কারণ হিসেবে দাড় করিয়েছিলেন, যা কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। তবে তাহাজ্জুদের সালাত যেহেতু নফল বিষয়, তাই তিনি কুরআনের আয়াতটি বলে আর কথা না বাড়িয়ে চলে গেলেন। যদি এটি আবশ্যিক কোনো সালাত হতো, তবে তিনি তাদের সেটা না পড়িয়ে চলে যেতেন না।” ২০২

টিকাঃ
২০০. বুখারী (১১২৭) ও মুসলিম (৭৭৫)।
২০১. ফাতহুল বারী (১১/৩)।
২০২. বুখারী (১১৫৬/৩) ও হাসিয়াত আস-সিন্দি (২০৫/৩) গ্রন্থদয়ের ব্যাখ্যায় ইবনে বাত্তাল।

📘 নবীজির সংসার > 📄 কন্যাদের তিনি ﷺ খুশি করার চেষ্টা করতেন

📄 কন্যাদের তিনি ﷺ খুশি করার চেষ্টা করতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “ফাতিমা রাযি. একদিন নবীজির মতো করে হেঁটে আসছিল। তাকে দেখে নবীজি বললেন, “স্বাগতম, আমার মেয়ে!” এরপর তাকে তাঁর ডানে বা বামে বসালেন এবং তার সঙ্গে চুপিচুপি কথা বললেন। তখন ফাতিমা রাযি. কেঁদে দিলেন। আমি তাকে বললাম, 'কাঁদছ কেন?' নবী পুনরায় চুপিচুপি তার সঙ্গে কথা বললেন। ফাতিমা রাযি. এবার হেসে উঠলেন।
আমি বললাম, 'আজকের মতো দুঃখ ও বেদনার সঙ্গে আনন্দ ও খুশি কখনো একসাথে দেখিনি।' আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, 'তিনি কী বলেছিলেন?' তিনি উত্তর দিলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূলের ﷺ গোপন কথা প্রকাশ করব না।' নবীজি ﷺ ইন্তেকাল করার পর আমি তাকে (আবার) জিজ্ঞেস করলাম, 'তিনি কী বলেছিলেন?' ফাতিমা রাযি. উত্তর দিলেন, 'তিনি ﷺ প্রথমবার আমাকে বলেছিলেন, 'জিবরীল (আ.) প্রতি বছর একবার আমার সঙ্গে কুরআন পাঠ করতেন; এ বছর দু'বার পড়ে শুনিয়েছেন। আমার মনে হয়, আমার বিদায়বেলা উপস্থিত। এরপর আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে মিলিত হবে।' তা শুনে আমি কেঁদেছিলাম। এরপর তিনি ﷺ বললেন, 'তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতবাসী নারীদের তুমি নেত্রী হবে?'-এ-কথা শুনে আমি হেসেছিলাম।” ২০৩

টিকাঃ
২০৩. বুখারী (২৬২৪)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 নবীজি ﷺ কন্যাদের উপহার দিতেন

📄 নবীজি ﷺ কন্যাদের উপহার দিতেন


আলী ইবনে আবু তালিব রাযি. বলেন, “নবীজি ﷺ আমাকে রেশমের একটি কাপড় দিলেন। আমি সেটা পরে বেরিয়ে এলাম। আমাকে দেখে নবীজি ﷺ বললেন, "আলী, আমি তোমাকে এটি পরার জন্য দিইনি। এটি দিয়ে ফাতিমাদের মাথার ওড়না বানিয়ে দিয়ো।” ২০৪
নববী রাহ. বলেন, “ফাতিমাদের বলার কারণ হলো এর দ্বারা নবীজি ﷺ তাঁর কন্যা ফাতিমা, আলির মা ফাতিমা বিনতে আসাদ এবং হামজার কন্যা ফাতিমার কথা বুঝিয়েছেন।” ২০৫

টিকাঃ
২০৪. বুখারী (২৬১৪), মুসলিম (২০৭১) এবং আহমদ (৭১২)।
২০৫. মুসলিম গ্রন্থের (৫১/১৪) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00