📘 নবীজির সংসার > 📄 বিয়ে দেওয়ার সময় তাঁর মেয়েদের মতামত জিজ্ঞেস করতেন

📄 বিয়ে দেওয়ার সময় তাঁর মেয়েদের মতামত জিজ্ঞেস করতেন


আতা ইবনে রাবাহ রাহ. থেকে বর্ণিত, যখন আলী রাযি. ফাতিমাকে বিয়ে করার ব্যাপারে নবীজিকে ﷺ প্রস্তাব দিলেন, তখন তিনি ﷺ ফাতিমাকে বললেন, “আলি তোমার কথা বলেছে।” ফাতিমা নীরব থাকলেন (সম্মতি দিলেন)। এরপর নবীজি ﷺ তার সাথে আলীর বিয়ে দিলেন। ১৭৯
ফাতিমার নীরবতাই ছিল বিয়েতে তার সম্মতি। এ-ব্যাপারে নবীজি ﷺ বলেন, "কুমারী মেয়ে তার সম্মতি না দিলে তাকে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, "কীভাবে সে সম্মতি দেবে?” তিনি ﷺ উত্তর দিলেন, "তার নীরবতাই তার সম্মতি।” ১৮০
মূলত কন্যাসন্তান পিতার কাছে একধরনের আমানত। তার অসম্মতিতে বিয়ে দেওয়া সে-আমানতের খেয়ানত এবং এটা নিষিদ্ধ।

টিকাঃ
১৭৯. আত-তাবাকাত গ্রন্থে ইবনে সা'দ (২০/৮)।
১৮০. বুখারী (৫১৩৬) ও মুসলিম (১৪১৯)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 তাঁর কন্যাদের বিয়েতে মোহরানার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতেন না

📄 তাঁর কন্যাদের বিয়েতে মোহরানার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতেন না


নবীজি ﷺ মেয়েদের বিয়েতে খুব বেশি মোহরানা নির্ধারণ করতেন না। ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, আলি রাযি. বলেন, “আমি ফাতিমাকে বিয়ে করলাম। আমাকে নবীজি ﷺ বললেন, 'তাকে কিছু দাও।' আমি বললাম, 'আমার তো কিছুই নেই।' তখন নবীজি ﷺ বললেন, 'তোমার 'হুতামি' বর্মটা কোথায়?' আমি বললাম, 'আমার সাথে আছে।' তিনি তাকে সেটিই দিতে বললেন।” ১৮১
ইবনে আসির রাহ. বলেন, “হুতামি বর্ম হুতামা ইবনে মুহারিব নামের এক গোত্রে তৈরি হতো। কিংবা এর অর্থ শব্দগতভাবেও হতে পারে—অর্থাৎ, এটি তরবারিকে ভেঙে ফেলে।” ১৮২
এই সামান্য বর্মটিই রাসূলুল্লাহর ﷺ কন্যার বিয়ের মোহরানা ছিল; যিনি হবেন জান্নাতি নারীদের প্রধান।
বর্তমানে মোহরানা অত্যধিক বেশি করা প্রথায় পরিণত হয়েছে। অথচ মোহরানা যদি কনের সম্মানের নীতিনির্ধারনী হতো, তা হলে নবীজি ﷺ অবশ্যই তা নিজের মেয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ধারণ করতেন।

টিকাঃ
১৮১. আবু দাউদ (২১২৫) ও নাসাঈ (৩৩ ৭৫)।
১৮২. আন-নিহায়াহ (৯৯৪১)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 বিয়ের পর মেয়ের নতুন বাসস্থানের জন্য উপহার পাঠাতেন

📄 বিয়ের পর মেয়ের নতুন বাসস্থানের জন্য উপহার পাঠাতেন


আলি রাযি. থেকে বর্ণিত, যখন নবীজি ﷺ ফাতিমাকে তার সাথে বিয়ে দিলেন, তখন তিনি তার সঙ্গে একটি জামা, খেজুর ছোবড়াভরা চামড়ার একটি বালিশ, দুটো যাঁতা এবং দুটো পাত্র দিয়েছিলেন। ১৮৩
এ-সব উদাহরণ থেকে বিয়েকে সহজ করার শিক্ষা পাই আমরা। বিয়ের প্রস্তুতি হতে হবে প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী। কনে কিংবা বর কারও উপরই এমন বোঝা চাপানো উচিত নয়, যা তার জন্য জুলম হয়ে দাঁড়াবে।
নবীজি তাদেরকে আয়িশার রাযি. ঘরের পেছনে উত্তরদিকে একটি ছোট ঘর উপহার দিয়েছিলেন। আয়িশার রাযি. ঘরের 'জীবরিলের দরজা' ১৮৪ -এর দিকে মুখ করে সে-ঘরটি ছিল। তাদের ঘরে একটি ছোট দরজা ছিল, যা দিয়ে রাসূল মাঝে মাঝে ঢুকে তাদের সাথে দেখা করতেন।
কনের বাবার উচিত বিয়ের খরচে বরকে সাহায্য করা। কেননা, সচরাচর দেখা যায়, বর কেবলই পড়াশুনা শেষ করেছে বা চাকরিতে ঢুকেছে—যখন বেতন অনেক কম থাকে।

টিকাঃ
১৮৩. আহমদ (৮২১)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 মেয়েদের জন্য বিয়ে-ভোজের আয়োজন করতেন

📄 মেয়েদের জন্য বিয়ে-ভোজের আয়োজন করতেন


বুরাইদা থেকে বর্ণিত, যখন আলী রাযি. নবীজির কাছে ফাতিমাকে রাযি. বিয়ে করার প্রস্তাব দিলেন, তখন তিনি বললেন, “বিয়েতে অবশ্যই ভোজের আয়োজন থাকতে হবে।” তখন সাদ রাযি. বললেন যে, তিনি একটি ভেড়া আনবেন; অন্য আরেক সাহাবী বললেন, তিনি অমুক পরিমাণ গম আনবেন।” ১৮৫
নবীজির সুন্নাত ছিল বিয়ের পরপরই বিয়ের ভোজের আয়োজন করা। তবে এটি বিয়ের আগে, বিয়ের সময় বা বিয়ের পরেও করা যেতে পারে।

টিকাঃ
১৮৪. মসজিদে নববীর পূর্বদিকে একটি দরজা রয়েছে যেটিকে বাবে জিবরীল বা জিবরীলের দরজা বলা হয়। এ দরজা দিয়ে রাসূল মসজিদে প্রবেশ করতেন। খন্দকের যুদ্ধের পর জিবরীল (আঃ) এ দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং রাসূল কে ইহুদী গোত্র বনু কুরায়যার উপর অবরোধ করার আহবান জানিয়েছিলেন (বুখারী: ৪১১৭)। সেকারণ একে 'বাবে জিবরীল' বলা হয়। - সম্পাদক
১৮৫. আহমদ (২২৫২৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00