📘 নবীজির সংসার > 📄 তাঁর কন্যাদের সর্বোত্তম মানুষদের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন

📄 তাঁর কন্যাদের সর্বোত্তম মানুষদের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন


নবীজি ﷺ কুরাইশ গোত্রের আবুল-আস ইবনে আর-রাবীর সাথে তাঁর মেয়ে যায়নাবের বিয়ে দেন। আবুল-আস তাঁর খালা হালা বিনত খুওয়াইলিদের ছেলে ছিলেন এবং তিনি মক্কায় তার সম্পদ, ব্যবসা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। যায়নাব ইসলাম গ্রহণ করলেও তার স্বামী কাফের অবস্থায় থেকে যায়। একসময় নবীজি ﷺ মদীনায় হিজরত করলেন, কিন্তু তিনি মক্কায় তার স্বামীর সাথে থেকে গেলেন। পরে কুরাইশদের সাথে বদরের যুদ্ধে আবুল-আস ইবনে আর-রাবী মুসলমানদের হাতে বন্দি হন।
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “মক্কাবাসীরা (বদরের) বন্দিদের জন্য মুক্তিপণ পাঠাতে শুরু করল। আবুল-আসের মুক্তিপণ হিসেবে যায়নাব কিছু টাকা ও একটি গলার হার পাঠালেন। হারটি তার বিয়ের সময় তার মা খাদিজা রাযি. তাকে উপহার দিয়েছিলেন। নবীজি ﷺ হারটি দেখে বেশ কষ্ট পেলেন। তিনি বললেন, “তোমরা যদি মনে কর, তার বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া যায় এবং তার (যায়নাবের) সম্পদগুলো ফিরিয়ে দেওয়া যায় (তবে তা-ই করো)।” তারা রাজি হলেন এবং নবীজি ﷺ আবুল-আসের কাছে ওয়াদা নিলেন যে, তিনি ফিরে যায়নাবকে মদীনায় পাঠিয়ে দেবেন। তিনি যায়েদ ইবনে হারিস ও একজন আনসারকে পাঠানোর সময় বললেন, “বাতনে ইয়াজাজ নামের এক জায়গায় যায়নাবের জন্য অপেক্ষা কোরো, তারপর তাকে সাথে নিয়ে এখানে ফিরে এসো।” ১৭৭
নবীজি ﷺ আবুল-আসের প্রশংসা করে বলেন, “সে আমার সাথে কথা বলার সময় সত্য বলেছে এবং আমাকে দেওয়া তার ওয়াদা পূর্ণ করেছে।” ১৭৮ তিনি তার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেছিলেন। যায়নাবকে অনেক ভালোবাসা সত্ত্বেও তিনি তাকে মদীনায় পাঠিয়ে দিলেন।
নবীজি ﷺ রুকাইয়্যার সাথে উসমান ইবনে আফফানের রাযি. বিয়ে দেন। তার অন্যতম গুণ ছিল লজ্জাশীলতা। তাকে নবীজি ﷺ অনেক শ্রদ্ধা করতেন এবং ভালোবাসতেন। তিনি ﷺ তাকে জান্নাতের সুসংবাদও দিয়েছিলেন। এমনকি রুকাইয়্যার মৃত্যুর পর নবীজি ﷺ তাঁর আরেক মেয়ে উম্মে কুলসুমের সাথে উসমানের বিয়ে দেন। তিনিও উসমানের জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন।
আলী ইবনে আবু তালিব রাযি. তরুণদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। নবীজি ﷺ তার সাথে তাঁর মেয়ে ফাতিমার বিয়ে দিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই আলী রাযি. নবীজির ﷺ বাড়িতে থাকতেন; নবুওয়্যাত লাভের সময় তিনি তাঁর বাড়িতে ছিলেন এবং নবুওয়্যাত লাভের পরও তিনি নবীজির ﷺ সাথে ছিলেন। নবীজি ﷺ তাকে খুব পছন্দ করতেন। নিজের মেয়ের সাথে তার বিয়ে দিয়েছেন এবং ইসলামের খেদমতের কারণে তাকে জান্নাতের সুসংবাদও দিয়েছেন।

টিকাঃ
১৭৭. আবু দাউদ (২৬৯২)।
১৭৮. বুখারী (৩১১0) ও মুসলিম (২৪৪৯)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 বিয়ে দেওয়ার সময় তাঁর মেয়েদের মতামত জিজ্ঞেস করতেন

📄 বিয়ে দেওয়ার সময় তাঁর মেয়েদের মতামত জিজ্ঞেস করতেন


আতা ইবনে রাবাহ রাহ. থেকে বর্ণিত, যখন আলী রাযি. ফাতিমাকে বিয়ে করার ব্যাপারে নবীজিকে ﷺ প্রস্তাব দিলেন, তখন তিনি ﷺ ফাতিমাকে বললেন, “আলি তোমার কথা বলেছে।” ফাতিমা নীরব থাকলেন (সম্মতি দিলেন)। এরপর নবীজি ﷺ তার সাথে আলীর বিয়ে দিলেন। ১৭৯
ফাতিমার নীরবতাই ছিল বিয়েতে তার সম্মতি। এ-ব্যাপারে নবীজি ﷺ বলেন, "কুমারী মেয়ে তার সম্মতি না দিলে তাকে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, "কীভাবে সে সম্মতি দেবে?” তিনি ﷺ উত্তর দিলেন, "তার নীরবতাই তার সম্মতি।” ১৮০
মূলত কন্যাসন্তান পিতার কাছে একধরনের আমানত। তার অসম্মতিতে বিয়ে দেওয়া সে-আমানতের খেয়ানত এবং এটা নিষিদ্ধ।

টিকাঃ
১৭৯. আত-তাবাকাত গ্রন্থে ইবনে সা'দ (২০/৮)।
১৮০. বুখারী (৫১৩৬) ও মুসলিম (১৪১৯)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 তাঁর কন্যাদের বিয়েতে মোহরানার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতেন না

📄 তাঁর কন্যাদের বিয়েতে মোহরানার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতেন না


নবীজি ﷺ মেয়েদের বিয়েতে খুব বেশি মোহরানা নির্ধারণ করতেন না। ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, আলি রাযি. বলেন, “আমি ফাতিমাকে বিয়ে করলাম। আমাকে নবীজি ﷺ বললেন, 'তাকে কিছু দাও।' আমি বললাম, 'আমার তো কিছুই নেই।' তখন নবীজি ﷺ বললেন, 'তোমার 'হুতামি' বর্মটা কোথায়?' আমি বললাম, 'আমার সাথে আছে।' তিনি তাকে সেটিই দিতে বললেন।” ১৮১
ইবনে আসির রাহ. বলেন, “হুতামি বর্ম হুতামা ইবনে মুহারিব নামের এক গোত্রে তৈরি হতো। কিংবা এর অর্থ শব্দগতভাবেও হতে পারে—অর্থাৎ, এটি তরবারিকে ভেঙে ফেলে।” ১৮২
এই সামান্য বর্মটিই রাসূলুল্লাহর ﷺ কন্যার বিয়ের মোহরানা ছিল; যিনি হবেন জান্নাতি নারীদের প্রধান।
বর্তমানে মোহরানা অত্যধিক বেশি করা প্রথায় পরিণত হয়েছে। অথচ মোহরানা যদি কনের সম্মানের নীতিনির্ধারনী হতো, তা হলে নবীজি ﷺ অবশ্যই তা নিজের মেয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি নির্ধারণ করতেন।

টিকাঃ
১৮১. আবু দাউদ (২১২৫) ও নাসাঈ (৩৩ ৭৫)।
১৮২. আন-নিহায়াহ (৯৯৪১)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 বিয়ের পর মেয়ের নতুন বাসস্থানের জন্য উপহার পাঠাতেন

📄 বিয়ের পর মেয়ের নতুন বাসস্থানের জন্য উপহার পাঠাতেন


আলি রাযি. থেকে বর্ণিত, যখন নবীজি ﷺ ফাতিমাকে তার সাথে বিয়ে দিলেন, তখন তিনি তার সঙ্গে একটি জামা, খেজুর ছোবড়াভরা চামড়ার একটি বালিশ, দুটো যাঁতা এবং দুটো পাত্র দিয়েছিলেন। ১৮৩
এ-সব উদাহরণ থেকে বিয়েকে সহজ করার শিক্ষা পাই আমরা। বিয়ের প্রস্তুতি হতে হবে প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী। কনে কিংবা বর কারও উপরই এমন বোঝা চাপানো উচিত নয়, যা তার জন্য জুলম হয়ে দাঁড়াবে।
নবীজি তাদেরকে আয়িশার রাযি. ঘরের পেছনে উত্তরদিকে একটি ছোট ঘর উপহার দিয়েছিলেন। আয়িশার রাযি. ঘরের 'জীবরিলের দরজা' ১৮৪ -এর দিকে মুখ করে সে-ঘরটি ছিল। তাদের ঘরে একটি ছোট দরজা ছিল, যা দিয়ে রাসূল মাঝে মাঝে ঢুকে তাদের সাথে দেখা করতেন।
কনের বাবার উচিত বিয়ের খরচে বরকে সাহায্য করা। কেননা, সচরাচর দেখা যায়, বর কেবলই পড়াশুনা শেষ করেছে বা চাকরিতে ঢুকেছে—যখন বেতন অনেক কম থাকে।

টিকাঃ
১৮৩. আহমদ (৮২১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00