📄 জন্মের দিনেই সন্তানদের নাম ঠিক করতেন
আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, "আজ রাতে আমার এক ছেলের জন্ম হয়েছে। আমি তার নাম আমার পিতা ইবরাহীমের নামে রাখলাম।” ১৭৫
টিকাঃ
১৭৫. মুসলিম (২৩১৫)।
📄 সন্তানদের সাথে আচরণের ব্যাপারে নবীজির ﷺ শিক্ষা
নবীজি তাঁর মেয়েদের অনেক ভালোবাসতেন। তিনি তাদের ব্যাপারে অনেক খুশি ছিলেন এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাতেন। তাদের যথার্থ বেড়ে ওঠার ব্যাপারে তিনি খেয়াল রাখতেন।
নবীজি বলেন, “কাউকে যদি মেয়ে সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং সে যদি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে, তবে তারা জাহান্নাম থেকে তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে।” ১৭৬
এখানে পরীক্ষার অর্থ হলো, আল্লাহ দেখবেন—সে মেয়েদের সাথে ভালো ব্যবহার করে কি না! যদি তাতে সে সফল হয়, তবে জাহান্নাম থেকে সে দূরে থাকবে। এর কারণ হলো, প্রকৃতিগতভাবেই মেয়েরা দুর্বল ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে থাকে, তাই তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
টিকাঃ
১৭৬. বুখারী (৫৯৯৫) ও মুসলিম (২৬২৯)।
📄 তাঁর কন্যাদের সর্বোত্তম মানুষদের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন
নবীজি ﷺ কুরাইশ গোত্রের আবুল-আস ইবনে আর-রাবীর সাথে তাঁর মেয়ে যায়নাবের বিয়ে দেন। আবুল-আস তাঁর খালা হালা বিনত খুওয়াইলিদের ছেলে ছিলেন এবং তিনি মক্কায় তার সম্পদ, ব্যবসা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। যায়নাব ইসলাম গ্রহণ করলেও তার স্বামী কাফের অবস্থায় থেকে যায়। একসময় নবীজি ﷺ মদীনায় হিজরত করলেন, কিন্তু তিনি মক্কায় তার স্বামীর সাথে থেকে গেলেন। পরে কুরাইশদের সাথে বদরের যুদ্ধে আবুল-আস ইবনে আর-রাবী মুসলমানদের হাতে বন্দি হন।
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “মক্কাবাসীরা (বদরের) বন্দিদের জন্য মুক্তিপণ পাঠাতে শুরু করল। আবুল-আসের মুক্তিপণ হিসেবে যায়নাব কিছু টাকা ও একটি গলার হার পাঠালেন। হারটি তার বিয়ের সময় তার মা খাদিজা রাযি. তাকে উপহার দিয়েছিলেন। নবীজি ﷺ হারটি দেখে বেশ কষ্ট পেলেন। তিনি বললেন, “তোমরা যদি মনে কর, তার বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া যায় এবং তার (যায়নাবের) সম্পদগুলো ফিরিয়ে দেওয়া যায় (তবে তা-ই করো)।” তারা রাজি হলেন এবং নবীজি ﷺ আবুল-আসের কাছে ওয়াদা নিলেন যে, তিনি ফিরে যায়নাবকে মদীনায় পাঠিয়ে দেবেন। তিনি যায়েদ ইবনে হারিস ও একজন আনসারকে পাঠানোর সময় বললেন, “বাতনে ইয়াজাজ নামের এক জায়গায় যায়নাবের জন্য অপেক্ষা কোরো, তারপর তাকে সাথে নিয়ে এখানে ফিরে এসো।” ১৭৭
নবীজি ﷺ আবুল-আসের প্রশংসা করে বলেন, “সে আমার সাথে কথা বলার সময় সত্য বলেছে এবং আমাকে দেওয়া তার ওয়াদা পূর্ণ করেছে।” ১৭৮ তিনি তার প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেছিলেন। যায়নাবকে অনেক ভালোবাসা সত্ত্বেও তিনি তাকে মদীনায় পাঠিয়ে দিলেন।
নবীজি ﷺ রুকাইয়্যার সাথে উসমান ইবনে আফফানের রাযি. বিয়ে দেন। তার অন্যতম গুণ ছিল লজ্জাশীলতা। তাকে নবীজি ﷺ অনেক শ্রদ্ধা করতেন এবং ভালোবাসতেন। তিনি ﷺ তাকে জান্নাতের সুসংবাদও দিয়েছিলেন। এমনকি রুকাইয়্যার মৃত্যুর পর নবীজি ﷺ তাঁর আরেক মেয়ে উম্মে কুলসুমের সাথে উসমানের বিয়ে দেন। তিনিও উসমানের জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন।
আলী ইবনে আবু তালিব রাযি. তরুণদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। নবীজি ﷺ তার সাথে তাঁর মেয়ে ফাতিমার বিয়ে দিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই আলী রাযি. নবীজির ﷺ বাড়িতে থাকতেন; নবুওয়্যাত লাভের সময় তিনি তাঁর বাড়িতে ছিলেন এবং নবুওয়্যাত লাভের পরও তিনি নবীজির ﷺ সাথে ছিলেন। নবীজি ﷺ তাকে খুব পছন্দ করতেন। নিজের মেয়ের সাথে তার বিয়ে দিয়েছেন এবং ইসলামের খেদমতের কারণে তাকে জান্নাতের সুসংবাদও দিয়েছেন।
টিকাঃ
১৭৭. আবু দাউদ (২৬৯২)।
১৭৮. বুখারী (৩১১0) ও মুসলিম (২৪৪৯)।
📄 বিয়ে দেওয়ার সময় তাঁর মেয়েদের মতামত জিজ্ঞেস করতেন
আতা ইবনে রাবাহ রাহ. থেকে বর্ণিত, যখন আলী রাযি. ফাতিমাকে বিয়ে করার ব্যাপারে নবীজিকে ﷺ প্রস্তাব দিলেন, তখন তিনি ﷺ ফাতিমাকে বললেন, “আলি তোমার কথা বলেছে।” ফাতিমা নীরব থাকলেন (সম্মতি দিলেন)। এরপর নবীজি ﷺ তার সাথে আলীর বিয়ে দিলেন। ১৭৯
ফাতিমার নীরবতাই ছিল বিয়েতে তার সম্মতি। এ-ব্যাপারে নবীজি ﷺ বলেন, "কুমারী মেয়ে তার সম্মতি না দিলে তাকে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, "কীভাবে সে সম্মতি দেবে?” তিনি ﷺ উত্তর দিলেন, "তার নীরবতাই তার সম্মতি।” ১৮০
মূলত কন্যাসন্তান পিতার কাছে একধরনের আমানত। তার অসম্মতিতে বিয়ে দেওয়া সে-আমানতের খেয়ানত এবং এটা নিষিদ্ধ।
টিকাঃ
১৭৯. আত-তাবাকাত গ্রন্থে ইবনে সা'দ (২০/৮)।
১৮০. বুখারী (৫১৩৬) ও মুসলিম (১৪১৯)।