📄 আল্লাহ নবীজিকে ﷺ অনেক সন্তান দান করেছিলেন
রাসূলের তিন ছেলে ছিল : কাসিম, আবদুল্লাহ এবং ইবরাহীম। অনেকে ভুল করে তৈয়ব ও তাহির নামে তাঁর আলাদা ছেলে আছে ভেবে বসে। মূলত এ-দুই নাম আবদুল্লাহরই উপনাম ছিল। এই তিনজনই শিশুকালে ইন্তেকাল করেছিল।
দুই বছর কয়েক মাস বয়সে কাসিম মক্কায় মারা যান। এ-কারণে নবীজিকে আবুল কাসিম (আল-কাসিমের বাবা) উপনামে ডাকা হতো। কাসিমের মা ছিলেন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ।
খাদিজার ঔরসে আবদুল্লাহর জন্ম হয়। রাসূলের নবুওয়্যাত লাভের কিছু কাল পরে তিনিও মক্কায় ইন্তেকাল করেন।
ইবরাহীমের মা ছিলেন মারিয়া আল-কিবতিয়্যা। তিনি মদীনায় হিজরী অষ্টম বছরের জিলহজ্ব মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরী দশম বছরে তিনি মাত্র ১৭ বা ১৮ মাস বয়সে ইন্তেকাল করেন।
নবীজির চারজন মেয়ে ছিল: যায়নাব, রুকাইয়্যা, ফাতিমা এবং উম্মে কুলসুম। তাদের সবার জন্ম খাদিজার ঔরসে।
তাঁর প্রথম কন্যা যায়নাব এবং তিনি আবুল আস ইবনে আর-রাবীকে বিয়ে করেন। রুকাইয়্যা তাঁর দ্বিতীয় কন্যা, উসমান ইবনে আফফানের সাথে তার বিয়ে হয়। উম্মে কুলসুম তাঁর তৃতীয় কন্যা; রুকাইয়্যার মৃত্যুর পর উসমান ইবনে আফফফান তাকে বিয়ে করেন। সর্বকনিষ্ঠ কন্যা ফাতিমা, তিনি নবীজির সবচেয়ে প্রিয় কন্যা ছিলেন; নবীজির একচল্লিশ বছর বয়সে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুর মাত্র ছয় মাস পর তিনিও ইন্তেকাল করেন; আলী ইবনে আবু তালিবের সাথে তার বিয়ে হয়।
📄 নবীজি ﷺ সন্তানদের সুন্দর অর্থবহ নাম রাখতেন
আমরা তাঁর সন্তানদের নামের দিকে খেয়াল করলে দেখতে পাই, সবগুলোই অনেক সুন্দর নাম ছিল। তিনি সব সময় সুন্দর অর্থবহ নাম রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দিতেন এবং মন্দ অর্থের নাম পেলে তা বদলে নতুন নাম দিতেন।
সুফিয়ান আস-সাওরী রাহ. বলেন, “পিতার ওপর সন্তানের অধিকার হলো, তিনি তার জন্য সুন্দর নাম ঠিক করবেন, প্রাপ্তবয়স্ক হলে বিয়ে দেবেন, হজ্ব করার জন্য সম্পদ দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তাঁকে ভালো ব্যবহার ও আদব শিক্ষা দেবেন।” ১৭৪
টিকাঃ
১৭৪. আল-'ইয়্যালে (১৭১) ইবনে আবিদ-দুনইয়া।
📄 জন্মের দিনেই সন্তানদের নাম ঠিক করতেন
আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, "আজ রাতে আমার এক ছেলের জন্ম হয়েছে। আমি তার নাম আমার পিতা ইবরাহীমের নামে রাখলাম।” ১৭৫
টিকাঃ
১৭৫. মুসলিম (২৩১৫)।
📄 সন্তানদের সাথে আচরণের ব্যাপারে নবীজির ﷺ শিক্ষা
নবীজি তাঁর মেয়েদের অনেক ভালোবাসতেন। তিনি তাদের ব্যাপারে অনেক খুশি ছিলেন এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাতেন। তাদের যথার্থ বেড়ে ওঠার ব্যাপারে তিনি খেয়াল রাখতেন।
নবীজি বলেন, “কাউকে যদি মেয়ে সন্তান দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং সে যদি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে, তবে তারা জাহান্নাম থেকে তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে।” ১৭৬
এখানে পরীক্ষার অর্থ হলো, আল্লাহ দেখবেন—সে মেয়েদের সাথে ভালো ব্যবহার করে কি না! যদি তাতে সে সফল হয়, তবে জাহান্নাম থেকে সে দূরে থাকবে। এর কারণ হলো, প্রকৃতিগতভাবেই মেয়েরা দুর্বল ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে থাকে, তাই তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
টিকাঃ
১৭৬. বুখারী (৫৯৯৫) ও মুসলিম (২৬২৯)।