📄 অস্পষ্ট ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে স্ত্রীকে উৎসাহ দিতেন
আবু মুলায়কাহ রাহ. থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাযি. কোনো কিছু সম্পূর্ণ না বুঝলে সে-ব্যাপারে নবীজিকে প্রশ্ন করতেন। একবার নবীজি বলেন, “যার হিসাব নেওয়া হবে, সে শাস্তি পাবে।” এটি শুনে আয়িশা রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহ কি বলেননি ‘যার ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তার হিসাব সহজে নেওয়া হবে।' (আল কুরআন, ৬৯:৮) তিনি উত্তর দিলেন, 'এটি তো আমলনামা দেওয়ার ব্যাপারে ব্যাখ্যা। কিন্তু যাকে প্রশ্ন করা হবে, আমলের ব্যাপারে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।” ১৪২ ১৪৩
টিকাঃ
১৪২. বুখারী (১০০) ও মুসলিম (২৮৭৬)।
১৪৩. আশা এবং ভয় একই পাখির দুটো ডানার মতো। নিজের ওপর বর্তানো শরীয়তের হুকুম আহকাম পালন করার সাথে সাথে বান্দার মধ্যে সর্বদা এই ধ্যান থাকা চাই, রব্বুল আলামীন তাউফিক দিয়েছেন বলেই তাঁর আনুগত্যের সৌভাগ্য হচ্ছে, তাই আশা করা যায় তিনি আপন দয়ায় আমলগুলো কবুল করবেন। আবার একইসাথে এই ভয়ও থাকা চাই যে, যতটা বিশুদ্ধতার সাথে আল্লাহর হক আদায় করা দরকার; আমার দ্বারা সেটা হয়নি। তাই না জানি আল্লাহর দরবারে আমলগুলো বাতিল হয় কিনা। বাস্তবিকপক্ষেই আল্লাহর দয়া ব্যতীত কেউ কি পারবে আখিরাতের ময়দানে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দিয়ে জাহান্নাম থেকে পরিত্রান পাওয়ার? আর জান্নাত অর্জন করার? এজন্য আশা এবং ভয় উভয়ের সমন্বয়েই পরিপূর্ণ শরীয়তের প্রতি অনুগত হতে হবে। - সম্পাদক
📄 স্ত্রীদের ব্যাপারে নবীজির ﷺ গাইরাহ কাজ করত
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “এক খোজা (মেয়েলি পুরুষ) রাসূলের স্ত্রীদের সাথে দেখা করতে আসত। তারা তাকে নপুংসক বা জৈবিক ইচ্ছাহীন মানুষ হিসেবে মনে করত। একদিন আল্লাহর রাসূল ঘরে ঢুকে দেখলেন তাঁর এক স্ত্রীর কাছে সে এক মহিলার বিবরণ দিচ্ছে, যে অনেক সৌন্দর্যের অধিকারিণী ছিল। তার কথা শুনে আল্লাহর রাসূল বললেন, “এ-লোকটা কীভাবে নারীদের বর্ণনা দিতে হয়, জানে (অর্থাৎ পুরুষের মতো তারও কামনা আছে)। (এখন থেকে) সে তোমাদের বাসায় যেন ঢোকার অনুমতি না পায়।” ১৪৪
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, "নবীজির স্ত্রীগণ লোকটিকে খোজা ভেবে ঘরে ঢোকার অনুমতি দিত এবং তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তার নারীদের প্রতি কোনো আসক্তি নেই। কিন্তু নবীজি তার কোনো এক নারীর বিবরণ দেওয়া দেখে বুঝতে পারলেন, তার নারীদের প্রতি কামনা থাকতে পারে। তিনি আরও ভয় করেছিলেন যে, সে হয়তো তাঁর স্ত্রীদের বর্ণনাও অন্যদের কাছে করে বেড়াতে পারে। এই হাদীস তা-ই প্রমাণ যে, কোনো লোক যদি নারীকে দেখে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে (মাহরাম হলেও) তার সামনে পর্দা করে যেতে হবে। এ থেকে আমরা এই শিক্ষাও পাই, অনিশ্চিত ব্যাপারগুলো থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।” ১৪৫ নবীজির স্ত্রীর জন্য গাইরাহ কাজ করত, যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অনুসরণীয়। আফসোসের কথা হলো, অনেক মুসলিম আজ ইসলামের গণ্ডির বাইরে চলে গিয়েছে এবং নিজ স্ত্রীর সৌন্দর্য তারা প্রদর্শন করে বেড়ায়। এভাবে তারা মুসলিম-সমাজের অন্যদের মাঝেও গাইরাহকে ১৪৬ হালকা করে দিচ্ছে।
টিকাঃ
১৪৪. বুখারী (৪৩২৪) ও মুসলিম (২১৮১)।
১৪৫. ফাতহুল বারী (৩৩৬/৯)।
১৪৬. গাইরাহ: গাইরাহ বলতে সূক্ষ্ম আত্মমর্যাদাবোধ বোঝায়। নারীর শালীনতা তার মর্যাদার অংশ। তাই গাইরে মাহরাম তথা যাদের সাথে পর্দা ফরজ তাদের সামনে বেপর্দার সাথে উপস্থিত হওয়া নিঃসন্দেহে আত্মমর্যাদাবোধের বিপরীত কাজ। আর স্ত্রীর মর্যাদার সাথে স্বামীর মর্যাদা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই রাসূল নিজ স্ত্রীদের জন্য মর্যাদাহানি হবে এরকম কাজকে নিজের জন্যেও মর্যাদাহানি ভাবতেন আর সেসবের ব্যাপারে তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ খুব জাগ্রত/সক্রিয় ছিল। -সম্পাদক
📄 কখনো স্ত্রীর ব্যাপারে মন্দ ধারণা রাখতেন না, বরং ছাড় দিতেন
আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি রাতে সফর থেকে ফিরলে তাঁর স্ত্রীদের সাথে দেখা করতেন না। এ-ক্ষেত্রে সকাল কিংবা সূর্যাস্তের পরই শুধু তিনি ঘরে ঢুকতেন। ১৪৭
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি নিষেধ করেছেন যে, কেউ যেন গোপনে বাসায় ফিরে না আসে, সন্দেহ না করে এবং তারা কী করছে, তা যেন লুকিয়ে না দেখে। তাদের দোষ যেন খুঁজে না বেড়ায়।” ১৪৮
দীর্ঘ সফর শেষে হঠাৎ না জানিয়ে গোপনে বাসায় ঢোকা অনুচিত। তবে বাইরে কম সময়ের জন্য থাকলে এবং আগে থেকেই তার ফেরার সময় জানা থাকলে রাতে ঘরে ফিরতে সমস্যা নেই。
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এই হাদীস স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সহানুভূতি ও ভালোবাসার উদ্রেক করে। যদিও তারা একে অপরের খুঁটিনাটি দোষগুণ সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে জানে, তারপরও আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন স্বামী যেন গোপনে রাতে বাসায় না ফেরে। নাহলে হয়তো সে স্ত্রীকে এমন কোনো অবস্থায় দেখে ফেলতে পারে, যা তার পছন্দ নাও হতে পারে।” ১৪৯
আগে থেকে জানিয়ে ঘরে ফিরে এলে স্ত্রীও স্বামীর জন্য সাজগোজ করে স্বামীকে বরণ করার সময় পায়। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ রাতে (সফর থেকে) ফিরে এলে সাথে সাথেই স্ত্রীর সাথে যেন দেখা না করে, বরং তাকে যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার সুযোগ দেয় এবং এলোমেলো চুল সাজানোর সময় দেয়।” ১৫০
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “যে-লোক সকালে কাজ করতে বেরিয়ে যায় এবং রাতে বাসায় ফিরে আসে, তার অবস্থা নিশ্চয়ই তার থেকে আলাদা, যে লম্বা সফরে বের হয় এবং হঠাৎ ফিরে আসে। প্রথম ক্ষেত্রে স্ত্রী জানে অমুক সময়ে সে ফিরে আসবে, কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে স্ত্রীর কাছে, তা অজানা। হাদীসে দ্বিতীয় পরিস্থিতির কথা বলা হচ্ছে। এভাবে হঠাৎ ফিরে এলে স্ত্রীকে অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালোভাবে দেখে স্বামীর ভালো নাও লাগতে পারে, যা তাদের মাঝে বিরক্ত ও অসন্তোষের উদ্রেক করবে।” ১৫১
অবশ্য সফর থেকে কবে-কখন ফিরবে, তা আগেই স্ত্রীকে জানায়ে রাখলে সে- ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।
টিকাঃ
১৪৭. বুখারী (১৮০০) ও মুসলিম (১৯২৮)।
১৪৮. বুখারী (১৮০১) ও মুসলিম (৭১৫)।
১৪৯. ফাতহুল বারী (৩৪১/৯)
১৫০. বুখারী (৫২৪৬) ও মুসলিম (৭১৫)।
১৫১. ফাতহুল বারী (৩৪০/৯)।
📄 প্রজ্ঞার সাথে স্ত্রীদের ঈর্ষার ব্যাপারগুলো সামলাতেন
আল্লাহ প্রকৃতিগতভাবেই মহিলাদের মাঝে ঈর্ষা তৈরি করে রেখেছেন। নবীজি বলেন, “আল্লাহ নারীদের তাকদীরে ঈর্ষা লিখে রেখেছেন।” ১৫২
নবীজির স্ত্রীরাও এ-ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নন। তারা তাঁর ব্যাপারে ঈর্ষা করতেন। নিচের ঘটনাটি আয়িশার রাযি. ঈর্ষার উদাহরণ।
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “এক রাতে আমার সাথে রাসূলের থাকার পালা ছিল। তিনি এসে তার চাদর রেখে দিলেন, জুতা খুলে পায়ের কাছে রাখলেন। এরপর নিজ তহবন্দের (লুঙ্গি) একদিক বিছানায় বিছিয়ে কাত হয়ে শুয়ে পড়লেন। কিছু সময় পার হলে তাঁর ধারণা হলো, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। তখন তিনি উঠে ধীরে ধীরে তাঁর চাদর নিলেন এবং জুতা পরলেন। তারপর আস্তে করে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়লেন। ১৫৩ আমি আমার মাথা ঢেকে, পর্দা গায়ে দিলাম এবং কোমরবন্ধনি শক্ত করে পরলাম। তারপর তাঁর পেছনে রওয়ানা হলাম। যেতে যেতে তিনি বাকীতে (কবরস্থানে) পৌছলেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তিনি তিনবার হাত উঠিয়ে দুআ করলেন। এবার গৃহের দিকে ফিরে রওয়ানা দিলে আমিও রওয়ানা হলাম। তিনি দ্রুত হাঁটতে লাগলেন, আমিও হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলাম। এরপর তিনি দৌড়াতে আরম্ভ করলে আমিও দৌড়াতে লাগলাম এবং তার আগেই ঘরে ঢুকে পড়লাম এবং দেরি না করে শুয়ে পড়লাম。
একটু পরে তিনি ঘরে ঢুকে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আয়িশা, তুমি কেন হাপাচ্ছ?' আয়িশা রাযি. বলেন, আমি জবাব দিলাম, 'না, তেমন কিছু না।' রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, 'হয় তুমি আমাকে ব্যাপারটা খুলে বলবে নতুবা মহান আল্লাহ আমাকে তা জানিয়ে দেবেন।' আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, আপনার ওপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক।...' এরপর তাঁকে পুরো ব্যাপার খুলে বললাম। তিনি বললেন, 'তুমিই তা হলে সেই কালো ছায়া, যা আমি আমার সামনে দেখছিলাম।' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি আমার বুকে বাড়ি মারলেন, তাতে আমি ব্যথা পেলাম। তারপর বললেন, 'তুমি কি ধারণা করেছ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার ওপর অবিচার করবেন?' ১৫৪
রাসূলুল্লাহ বললেন, 'যখন তুমি আমাকে দেখেছ, সে-সময় আমার কাছে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এসে আমাকে ডাকছিলেন। অবশ্য তা তোমার কাছে গোপন রাখা হয়েছে। আর আমিও তা গোপন রাখা বাঞ্ছনীয় মনে করে তোমার নিকট গোপন রেখেছিলাম। যেহেতু তুমি তোমার কাপড় রেখে দিয়েছ, তাই তিনি তোমার কাছে আসেননি। আমি ভেবেছিলাম, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ, তাই তোমাকে জাগানো ঠিক হবে না, ভাবলাম। আর আমার আশঙ্কা হচ্ছিল, তুমি ভয় পেয়ে যেতে পার。
এরপর জিবরীল (আ) বললেন, 'আপনার প্রভু আপনার প্রতি আদেশ করছেন বাকীর কবরবাসীদের কাছে গিয়ে তাদের জন্য দুআ-ইসতিগফার করতে।' আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'জিবরীল, আমি তাদের জন্য কীভাবে দুআ ও ক্ষমা প্রার্থনা করব?' তিনি বললেন, 'আপনি বলবেন,
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ، وَأَتَاكُمْ مَا تُوعَدُونَ غَدًا، مُؤَجَّلُونَ، وَإِنَّا، إِنْ شَاءَ اللَّهُ، بِكُمْ لَاحِقُونَ
“এ-বাসস্থানের অধিবাসী ঈমানদার মুসলিমদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। আমাদের মধ্য থেকে যারা আগে বিদায় গ্রহণ করেছে, আর যারা পিছনে বিদায় নিয়েছে, সবার প্রতি আল্লাহ দয়া করুন। আল্লাহ চান তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব।” ১৫৫
রাসূলের কাছে অন্য বিবিদের তুলনায় আয়িশার রাযি. এর বিশেষ মর্যাদা ছিল, যা তিনি ভালোভাবেই জানতেন। তারপরও আয়িশা রাযি. তাঁর অন্য স্ত্রীদের ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত ছিলেন। এমনকি তিনি তাঁর মৃত স্ত্রীর ব্যাপারেও ঈর্ষাবোধ করতেন এবং বলতেন, “আমি কাউকেই এতটা ঈর্ষা করতাম না, যতটা খাদিজাকে করতাম।” ১৫৬
আল্লাহর রাসূল স্ত্রীদের ঈর্ষার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন না। বর্তমানে তো অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীর এমন আচরণে প্রচণ্ড বিরক্তি প্রকাশ করে। তারা কী করে না করে সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে স্ত্রীকে নিষেধ করে। এতে করে স্ত্রীর অন্তরে ঈর্ষা তো কমেই না, বরং আরও বাড়ে।
আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি এক স্ত্রীর (আয়িশা) ঘরে ছিলেন; তখন অন্য এক উম্মুল মুমিনীন (স্ত্রী) ১৫৭ এক পাত্রে করে তাঁর জন্য খাবার পাঠালেন। যে স্ত্রীর ঘরে নবীজি ছিলেন, তিনি (ঈর্ষাবশত) তার হাত দাসের হাতে ধাক্কা দিলেন, এতে পাত্র পড়ে ভেঙে গেল। নবীজি ভাঙা টুকরোগুলো কুড়িয়ে নিয়ে তাতে পড়ে-যাওয়া খাবারগুলো তুলতে লাগলেন। আর হাসতে হাসতে বললেন, “তোমাদের মা (আমার স্ত্রী) ঈর্ষা করেছে।” এরপর তিনি খাদেমকে থামালেন এবং যে-স্ত্রীর ঘরে ছিলেন তার থেকে আরেকটি পাত্র নিয়ে যে-স্ত্রীর পাত্র ভেঙে গিয়েছে, তাকে (ফেরত) দেওয়ার জন্য দিলেন। ভাঙা পাত্রের অংশগুলো সে-বাসাতেই রেখে দিলেন।” ১৫৮
এই ঘটনা স্ত্রীদের প্রতি নবীজির উদারতা ও সহনশীলতার অনুপম উদাহরণ। তিনি পাত্র ভেঙে ফেলার কারণে তাকে বকা দিলেন না বা রেগেও গেলেন না। তিনি তার ঈর্ষার ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিলেন। আবার অপর স্ত্রীর অধিকারও যেন ক্ষুন্ন না হয়, সেজন্য আরেকটি পাত্র পাঠিয়ে দিলেন।
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এই ঘটনা মহিলাদের ঈর্ষার ব্যাপারে আমাদের ক্ষমা করার শিক্ষা দেয়। কারণ, তারা ঈর্ষার কারণে রেগে গিয়ে এরকম কাজ করে বসে।” ১৫৯
আয়িশা বলেন, “আমি নবীজিকে বললাম, সাফিয়্যার অমুক অমুক ব্যাপারগুলোই তো আপনার জন্য যথেষ্ট (তিনি বোঝাতে চাচ্ছিলেন সাফিয়্যা উচ্চতায় খাট ছিলেন)। তিনি শুনে বললেন, “তুমি যে-কথাগুলো বললে, সেগুলো সমুদ্রে মিশিয়ে দেওয়া গেলে সারা সমুদ্র দূষিত হয়ে যেত।” ১৬০
মুবারাকপুরী রাহ. বলেন, “এর অর্থ হলো, তার গিবতের এই কথাগুলো সমুদ্রের জলে মিশিয়ে দেওয়া গেলে পরিমাণে প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও পুরো সমুদ্রের জলকে দূষিত করে ফেলত। এত প্রচুর জিনিসকে যদি এত ছোট কাজ দূষিত করে দিতে পারে, তা হলে সমুদ্রের পানির চেয়ে পরিমাণে অনেক কম মানুষের আমলে এ-ধরনের কাজ কতটা ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে!” ১৬১
টিকাঃ
১৫২. তাবারানী (১০০৪০)।
১৫৩. আল্লাহর রসূল দরজা আস্তে লাগালেন এই সাবধানতায়-হয়তো আয়িশা (রা) জেগে উঠবেন অথবা তার ঘুম পাতলা হয়ে যাবে এবং রাতে অন্ধকারে নিজেকে ঘরে একা দেখে ভয় পেয়ে যাবেন।
১৫৪. এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার কারণ হলো, তার পালা রেখে অন্য কোনো স্ত্রীর কাছে রাতে যাওয়া রাসূলের জন্য অन्याয় করা হয়ে যাবে।
১৫৫. মুসলিম (৯৭৪)
১৫৬. বুখারী (৩৮১৬) ও মুসলিম (২৪৩৫)
১৫৭. কিছু হাদিস অনুসারে এটি উম্মু সালামা ছিলেন। কিছু হাদিস অনুসারে এটি যাইনাব বিনতে জাহশ ছিলেন。
১৫৮. বুখারী (৫২৩৫)
১৫৯. ফাতহুল বারী (৩২৫/৯)
১৬০. আবু দাউদ (৪৮৭৫) এবং তিরমিযী (২৫০২)
১৬১. তুহফাতুল আওযায়ী (১৭৭/৭)।