📄 ছোট ছোট পাপের ব্যাপারেও স্ত্রীদের সাবধান করতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন, “আয়িশা, সগীরা গুনাহের ব্যাপারে সাবধান থাকো। আল্লাহ সেগুলো লিখে রাখার জন্যেও একজন ফেরেশতা নিয়োগ করে রেখেছেন।” ১৪০
আস-সিন্দি রাহ. বলেন, “সগীরা গুনাহ এমন পাপ, যেগুলো মানুষ অনেক তুচ্ছ ভাবে এবং সহজেই করে বসে। আল্লাহর নিকট সে-সব গুনাহ অনেক বড়, তাই সেগুলো লিখে রাখার জন্যেও একজন ফেরেশতা নিয়োগ করে রেখেছেন।” ১৪১
টিকাঃ
১৪০. ইবনে মাজাহ (৪২৪৩)।
১৪১. ইবনে মাজাহর গ্রন্থের (৫৯/৮) ব্যাখ্যায় আস-সিন্দি (রাহ.)।
📄 অস্পষ্ট ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে স্ত্রীকে উৎসাহ দিতেন
আবু মুলায়কাহ রাহ. থেকে বর্ণিত, আয়িশা রাযি. কোনো কিছু সম্পূর্ণ না বুঝলে সে-ব্যাপারে নবীজিকে প্রশ্ন করতেন। একবার নবীজি বলেন, “যার হিসাব নেওয়া হবে, সে শাস্তি পাবে।” এটি শুনে আয়িশা রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহ কি বলেননি ‘যার ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তার হিসাব সহজে নেওয়া হবে।' (আল কুরআন, ৬৯:৮) তিনি উত্তর দিলেন, 'এটি তো আমলনামা দেওয়ার ব্যাপারে ব্যাখ্যা। কিন্তু যাকে প্রশ্ন করা হবে, আমলের ব্যাপারে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।” ১৪২ ১৪৩
টিকাঃ
১৪২. বুখারী (১০০) ও মুসলিম (২৮৭৬)।
১৪৩. আশা এবং ভয় একই পাখির দুটো ডানার মতো। নিজের ওপর বর্তানো শরীয়তের হুকুম আহকাম পালন করার সাথে সাথে বান্দার মধ্যে সর্বদা এই ধ্যান থাকা চাই, রব্বুল আলামীন তাউফিক দিয়েছেন বলেই তাঁর আনুগত্যের সৌভাগ্য হচ্ছে, তাই আশা করা যায় তিনি আপন দয়ায় আমলগুলো কবুল করবেন। আবার একইসাথে এই ভয়ও থাকা চাই যে, যতটা বিশুদ্ধতার সাথে আল্লাহর হক আদায় করা দরকার; আমার দ্বারা সেটা হয়নি। তাই না জানি আল্লাহর দরবারে আমলগুলো বাতিল হয় কিনা। বাস্তবিকপক্ষেই আল্লাহর দয়া ব্যতীত কেউ কি পারবে আখিরাতের ময়দানে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দিয়ে জাহান্নাম থেকে পরিত্রান পাওয়ার? আর জান্নাত অর্জন করার? এজন্য আশা এবং ভয় উভয়ের সমন্বয়েই পরিপূর্ণ শরীয়তের প্রতি অনুগত হতে হবে। - সম্পাদক
📄 স্ত্রীদের ব্যাপারে নবীজির ﷺ গাইরাহ কাজ করত
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “এক খোজা (মেয়েলি পুরুষ) রাসূলের স্ত্রীদের সাথে দেখা করতে আসত। তারা তাকে নপুংসক বা জৈবিক ইচ্ছাহীন মানুষ হিসেবে মনে করত। একদিন আল্লাহর রাসূল ঘরে ঢুকে দেখলেন তাঁর এক স্ত্রীর কাছে সে এক মহিলার বিবরণ দিচ্ছে, যে অনেক সৌন্দর্যের অধিকারিণী ছিল। তার কথা শুনে আল্লাহর রাসূল বললেন, “এ-লোকটা কীভাবে নারীদের বর্ণনা দিতে হয়, জানে (অর্থাৎ পুরুষের মতো তারও কামনা আছে)। (এখন থেকে) সে তোমাদের বাসায় যেন ঢোকার অনুমতি না পায়।” ১৪৪
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, "নবীজির স্ত্রীগণ লোকটিকে খোজা ভেবে ঘরে ঢোকার অনুমতি দিত এবং তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, তার নারীদের প্রতি কোনো আসক্তি নেই। কিন্তু নবীজি তার কোনো এক নারীর বিবরণ দেওয়া দেখে বুঝতে পারলেন, তার নারীদের প্রতি কামনা থাকতে পারে। তিনি আরও ভয় করেছিলেন যে, সে হয়তো তাঁর স্ত্রীদের বর্ণনাও অন্যদের কাছে করে বেড়াতে পারে। এই হাদীস তা-ই প্রমাণ যে, কোনো লোক যদি নারীকে দেখে তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে (মাহরাম হলেও) তার সামনে পর্দা করে যেতে হবে। এ থেকে আমরা এই শিক্ষাও পাই, অনিশ্চিত ব্যাপারগুলো থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।” ১৪৫ নবীজির স্ত্রীর জন্য গাইরাহ কাজ করত, যা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অনুসরণীয়। আফসোসের কথা হলো, অনেক মুসলিম আজ ইসলামের গণ্ডির বাইরে চলে গিয়েছে এবং নিজ স্ত্রীর সৌন্দর্য তারা প্রদর্শন করে বেড়ায়। এভাবে তারা মুসলিম-সমাজের অন্যদের মাঝেও গাইরাহকে ১৪৬ হালকা করে দিচ্ছে।
টিকাঃ
১৪৪. বুখারী (৪৩২৪) ও মুসলিম (২১৮১)।
১৪৫. ফাতহুল বারী (৩৩৬/৯)।
১৪৬. গাইরাহ: গাইরাহ বলতে সূক্ষ্ম আত্মমর্যাদাবোধ বোঝায়। নারীর শালীনতা তার মর্যাদার অংশ। তাই গাইরে মাহরাম তথা যাদের সাথে পর্দা ফরজ তাদের সামনে বেপর্দার সাথে উপস্থিত হওয়া নিঃসন্দেহে আত্মমর্যাদাবোধের বিপরীত কাজ। আর স্ত্রীর মর্যাদার সাথে স্বামীর মর্যাদা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই রাসূল নিজ স্ত্রীদের জন্য মর্যাদাহানি হবে এরকম কাজকে নিজের জন্যেও মর্যাদাহানি ভাবতেন আর সেসবের ব্যাপারে তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ খুব জাগ্রত/সক্রিয় ছিল। -সম্পাদক
📄 কখনো স্ত্রীর ব্যাপারে মন্দ ধারণা রাখতেন না, বরং ছাড় দিতেন
আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি রাতে সফর থেকে ফিরলে তাঁর স্ত্রীদের সাথে দেখা করতেন না। এ-ক্ষেত্রে সকাল কিংবা সূর্যাস্তের পরই শুধু তিনি ঘরে ঢুকতেন। ১৪৭
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, “নবীজি নিষেধ করেছেন যে, কেউ যেন গোপনে বাসায় ফিরে না আসে, সন্দেহ না করে এবং তারা কী করছে, তা যেন লুকিয়ে না দেখে। তাদের দোষ যেন খুঁজে না বেড়ায়।” ১৪৮
দীর্ঘ সফর শেষে হঠাৎ না জানিয়ে গোপনে বাসায় ঢোকা অনুচিত। তবে বাইরে কম সময়ের জন্য থাকলে এবং আগে থেকেই তার ফেরার সময় জানা থাকলে রাতে ঘরে ফিরতে সমস্যা নেই。
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এই হাদীস স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সহানুভূতি ও ভালোবাসার উদ্রেক করে। যদিও তারা একে অপরের খুঁটিনাটি দোষগুণ সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে জানে, তারপরও আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন স্বামী যেন গোপনে রাতে বাসায় না ফেরে। নাহলে হয়তো সে স্ত্রীকে এমন কোনো অবস্থায় দেখে ফেলতে পারে, যা তার পছন্দ নাও হতে পারে।” ১৪৯
আগে থেকে জানিয়ে ঘরে ফিরে এলে স্ত্রীও স্বামীর জন্য সাজগোজ করে স্বামীকে বরণ করার সময় পায়। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ রাতে (সফর থেকে) ফিরে এলে সাথে সাথেই স্ত্রীর সাথে যেন দেখা না করে, বরং তাকে যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার সুযোগ দেয় এবং এলোমেলো চুল সাজানোর সময় দেয়।” ১৫০
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “যে-লোক সকালে কাজ করতে বেরিয়ে যায় এবং রাতে বাসায় ফিরে আসে, তার অবস্থা নিশ্চয়ই তার থেকে আলাদা, যে লম্বা সফরে বের হয় এবং হঠাৎ ফিরে আসে। প্রথম ক্ষেত্রে স্ত্রী জানে অমুক সময়ে সে ফিরে আসবে, কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে স্ত্রীর কাছে, তা অজানা। হাদীসে দ্বিতীয় পরিস্থিতির কথা বলা হচ্ছে। এভাবে হঠাৎ ফিরে এলে স্ত্রীকে অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালোভাবে দেখে স্বামীর ভালো নাও লাগতে পারে, যা তাদের মাঝে বিরক্ত ও অসন্তোষের উদ্রেক করবে।” ১৫১
অবশ্য সফর থেকে কবে-কখন ফিরবে, তা আগেই স্ত্রীকে জানায়ে রাখলে সে- ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।
টিকাঃ
১৪৭. বুখারী (১৮০০) ও মুসলিম (১৯২৮)।
১৪৮. বুখারী (১৮০১) ও মুসলিম (৭১৫)।
১৪৯. ফাতহুল বারী (৩৪১/৯)
১৫০. বুখারী (৫২৪৬) ও মুসলিম (৭১৫)।
১৫১. ফাতহুল বারী (৩৪০/৯)।