📄 সহনশীলতা, উদারতা ও ক্ষমা করতে শেখাতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি তাকে বলেছেন, “আয়িশা, সব সময় মানুষকে দয়া করো। আল্লাহ যখন কোনো ঘরের মঙ্গল চান, তিনি তার মাঝে দয়ার প্রসার করে দেন।” ১৩২
টিকাঃ
১৩২. আহমাদ (২৩৯০৬)।
📄 ভালো কথা বলতে উৎসাহ দিতেন এবং অসার কথাবার্তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিতেন
আয়িশা রাযি. বর্ণিত, “কিছু ইহুদী নবীজির কাছে এসে বলল, 'আস-সামু আলাইকুম” (যার মানে হলো—তোমাদের মৃত্যু হোক)। নবীজি বলেন, 'ওয়া 'আলাইকুম' (মানে তোমাদেরও অনুরূপ হোক)। আয়িশা রাযি. (তাদের) বলে উঠলেন, 'তোমাদের মৃত্যু হোক, তোমাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ ও গজব পড়ুক!' নবীজি বলেন, 'শান্ত হও, আয়িশা! তোমার আচরণ নরম করো। খারাপ আর রূঢ় কথা বলা থেকে সাবধান থাকো।' তিনি নবীজিকে বললেন, 'তারা (ইহুদীরা) আপনাকে কী বলেছে শোনেননি?' তিনি বলেন, 'তুমি শোনোনি আমি তাদের কী বলেছি? আমি তাদের কথাই তাদেরকে বলেছি। তাদের বিরুদ্ধে আমার দুআ কবুল করা হবে, কিন্তু আমার ব্যাপারে তাদের কথা কবুল করা হবে না।” ১৩৩
টিকাঃ
১৩৩. বুখারী (২৯৩৫) ও মুসলিম (২১৬৫)।
📄 স্ত্রীদের আকীদা সম্পর্কে শেখাতেন
আল্লাহর রাসূল তাঁর স্ত্রীদের আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করার ব্যাপারে শেখাতেন। যখনই আকাশ মেঘে ছেয়ে যেত বা ঝড় উঠত, তখনই তিনি বারবার ঘরের ভেতরে-বাইরে যাওয়া আসা করতেন এবং তাঁর চেহারার রঙ বদলে যেত。
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “অন্ধকার মেঘ বা ঝড় দেখলেই নবীজির চেহারায় ভয়ের চিহ্ন ফুটে উঠত। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'আল্লাহর রাসূল, মানুষ তো বৃষ্টি আসবে ভেবে কালো মেঘ দেখে খুশি হয়। কিন্তু আমি আপনার চেহারায় অনেক ভয় দেখতে পাচ্ছি।' তিনি বলেন, 'আয়িশা, আমার ভয় হয় (মেঘে করে) আমাদের জন্য শাস্তি আসছে, যেভাবে (পূর্ববর্তী) জাতির জন্য শাস্তি আসত; আর তারা তা দেখে বলত, 'এটি তো আমাদের জন্য বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, এমন এক মেঘ!” (আল কুরআন, ৪৬ : ২৪) ১৩৪
টিকাঃ
১৩৪. বুখারী (৪৮২৯) ও মুসলিম (৮৯৯)।
📄 মানুষের আকীদাসংক্রান্ত ভুলগুলো সম্পর্কে সতর্ক করতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার নবীজি ﷺ অসুস্থ ছিলেন। (তাঁর সামনে) তাঁর স্ত্রীরা ইথিওপিয়ায়-দেখা মারিয়া নামের এক গির্জা নিয়ে গল্প করছিল। উম্মে সালামা ও উম্মে হাবীবা ইথিওপিয়ায় গিয়েছিলেন। তারা উভয়ে সেটির (গির্জা) সৌন্দর্য ও ছবিগুলোর প্রশংসা করছিলেন। নবীজি ﷺ তাঁর মাথা তুলে বললেন, “তারা তো সে-সব লোক, যাদের কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষ মারা গেলে তার কবরকে ইবাদাতস্থল বানাত এবং সেগুলোতে ছবি আঁকাত। তারা আল্লাহর দৃষ্টিতে নিকৃষ্টতম সৃষ্টি।” ১৩৫ অসুস্থতা সত্ত্বেও নবীজি লোকগুলোর ভুলের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে নীরব থাকেননি, বরং তিনি তাঁর স্ত্রীদের এ সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝিয়ে সাবধান করেছেন।
টিকাঃ
১৩৫. বুখারী (৪২৭) ও মুসলিম (৫২৮)।