📘 নবীজির সংসার > 📄 বেশি বেশি দান করতে উৎসাহ দিতেন

📄 বেশি বেশি দান করতে উৎসাহ দিতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন, “আয়িশা, নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, একটি খেজুরের অর্ধেক দান করে হলেও।” ১১৮
“অর্ধেক খেজুর” দ্বারা কোনো কিছু সামান্য থেকে সামান্যতম হলেও সেটি দান করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আয়িশাকে রাযি. আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ ইবাদাত করতেও উৎসাহিত করেছেন।
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, "একবার আল্লাহর রাসূল আমার সঙ্গে ছিলেন; এমন সময় এক ভিক্ষুক এলে তাকে আমি (আমার খাদেমকে) কিছু দান করতে বললাম। তবে দেওয়ার আগে সে কী দিচ্ছে, তা আমাকে দেখাতে বললাম (তা হলে বুঝতে পারব, আমার কাছে কতখানি অবশিষ্ট থাকছে)। আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে বললেন, 'আয়িশা, তোমার বাসায় কী ঘটছে, তার সব কিছু তদারকি করতে তুমি আগ্রহী? (দানে ব্যবহৃত হয় এরকম) সব কিছুই তোমার গোচরে থাকুক, এটিই তোমার ইচ্ছা?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'আয়িশা, (দানের জন্য) ব্যয় করো এবং জমা করে রেখো না। না হলে আল্লাহ তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।” ১১৯
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আল্লাহর রাসূল ﷺ এই রেওয়ায়েতে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সম্পদ কমে যাবে, এই ভয়ে যেন দান করতে আমরা বাধা না দিই। কারণ, দান থেকে বিরত থাকা সম্পদ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এই দানের কারণেই আল্লাহ দানকারীকে অফুরন্ত রিযক দিয়ে থাকেন। যে সম্পদ হিসাব না করেই দান করে, তাকে আল্লাহ এমন জায়গা থেকে (রিযক) দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” ১২০
আরেকবার ভেড়া কুরবানির সময় নবীজি তাঁর স্ত্রীদের উদার-হাতে দান করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার আমরা একটি ভেড়া জবাই করলাম (এবং সেখান দান করলাম)। পরে আল্লাহর রাসূল এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'কতখানি বাকি আছে?' আমি বললাম, 'কাঁধের মাংস ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।' তিনি বললেন, 'বরং বলো, কাঁধের মাংস ছাড়া বাকি সবটুকুই আছে।” ১২১
মুবারাকপুরী রাহ. বলেন, “এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন আমরা যা দান করব, সেগুলো আমাদের জন্য থেকে যাবে (পুরস্কার হিসেবে) আর যা নিজের জন্য রেখে দেওয়া হলো, তা তো চলে গেল (সেগুলোর কোনো প্রতিদান পাওয়া যাবে না)।” ১২২ এখানে তিনি আল্লাহর এই কথার দিকে ইঙ্গিত করেছেন,
مَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ بَاقٍ وَلَنَجْزِيَنَّ الَّذِينَ صَبَرُوا أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“তোমাদের যা আছে ধ্বংস হয়ে যাবে, আল্লাহর কাছে যা আছে, তা চিরকাল রয়ে যাবে। আমি নিশ্চয়ই যারা ধৈর্য ধরে থাকত, তাদেরকে তাদের সর্বোত্তম কাজের অনুপাতে পুরস্কার দেব।” ১২৩

টিকাঃ
১১৮. আহমদ (২৩৯৮০)।
১১৯. আবু দাউদ (১৭০০) ও নাসাঈ (২৫৪৯)।
১২০. ফাতহুল বারী (৩০০/৩)।
১২১. তিরমিযী (২৩৯৪)।
১২২. তুহফাতুল আওযায়ী (১৪২/৭)।
১২৩. আন-নাহল: ৯৬

📘 নবীজির সংসার > 📄 যারা দান করবে তারা জান্নাতে তাঁর সাথে সবার আগে মিলিত হবে

📄 যারা দান করবে তারা জান্নাতে তাঁর সাথে সবার আগে মিলিত হবে


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন, “তোমাদের মাঝে সবার আগে আমার সাথে (জান্নাতে) তার দেখা হবে, যার লম্বা হাত রয়েছে (অর্থাৎ যিনি অনেক বেশি দান করেন)।” আয়িশা রাযি. বলেন, “তখন আমরা আমাদের হাত বাড়িয়ে দিয়ে মাপতে গিয়ে দেখলাম, সব থেকে লম্বা হাত সাওদার; কিন্তু (হাদীসের মতে) লম্বা হাত ছিল যায়নাবের; কারণ, সে নিজ হাতে জিনিস তৈরি করত (ও বিক্রি করত) এবং সে- অর্থ দান করত।” ১২৪
নববী রাহ. বলেন, “শুরুতে তারা ভেবছিলেন যে, নবীজি আক্ষরিক অর্থে হাতের দৈর্ঘ্যের কথা বলেছেন; তাই তারা হাতের দৈর্ঘ্য মাপতে গিয়ে দেখলেন, সাওদার হাত দৈর্ঘ্যে লম্বা। অন্যদিকে যায়নাব ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে উদার দানশীল; এবং তিনি মারা গেলে (তিনি নবীজির পর প্রথম মারা যান) তারা বুঝতে পারলেন, এটি একটি রূপক ছিল। এর দ্বারা নবীজি দান করার কথা বুঝিয়েছেন।” ১২৫
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এই রেওয়ায়েত দ্বারা বোঝা যায়, আমাদের উচিত যত সম্ভব বেশি বেশি দান করা; তা হলে আমরা নবীজির সাথে জান্নাতে দেখা করতে পারব।” ১২৬

টিকাঃ
১২৪. বুখারী (১৪২০) ও মুসলিম (২৪৫২)।
১২৫. মুসলিম গ্রন্থের (৮/১৬) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।
১২৬. ফাতহুল বারী (২৮৬/৩)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 সচ্চরিত্র শেখাতেন

📄 সচ্চরিত্র শেখাতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, "পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পর আফলাহ আমার সাথে দেখা করতে এল। তিনি আবুল কুয়াসের ভাই-যার স্ত্রী আমাকে বুকের দুধ খাইয়েছিলেন। আফলাহ (প্রবেশ করার) অনুমতি চাইলে আমি তাকে বললাম, 'আল্লাহর কসম, আমি রাসূলের ﷺ নির্দেশ না পেয়ে আফলাহকে ঘরে ঢোকার অনুমতি দিতে পারি না। কারণ, আবুল কুয়াস আমাকে দুধ পান করায়নি, বরং তার স্ত্রী আমাকে দুধপান করিয়েছিল।' পরে আল্লাহর রাসূল ﷺ ঘরে এলেন। আমি তাকে বললাম, 'রাসূলুল্লাহ ﷺ, আফলাহ আবুল কুয়াসের ভাই। সে (আমার ঘরে) ঢোকার অনুমতি চেয়েছিল। আমি আপনার নির্দেশ ছাড়া তাকে ঘরে ঢোকানো পছন্দ করলাম না। তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন, 'তাকে অনুমতি দিতে কীসে তোমাকে বাধা দিল?' আমি বললাম, 'আবুল কুয়াস আমাকে দুধ পান করায়নি, বরং তার স্ত্রী আমাকে দুধপান করিয়েছিল।' এটি শুনে তিনি বললেন, 'তাকে (ঘরে ঢোকার) অনুমতি দিতে পারো, কারণ সে তোমার চাচা (দুধপিতার ভাই)।' ১২৭

টিকাঃ
১২৭. বুখারী (৪৭৯৬) ও মুসলিম (১৪৪৫)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 জ্ঞান ছাড়াই কোনো বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করতেন

📄 জ্ঞান ছাড়াই কোনো বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করতেন


পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়াই কোনো বিষয়ে কথা বলতে আল্লাহর রাসূল ﷺ তাঁর স্ত্রীদের নিষেধ করতেন, যেন তাড়াহুড়া করে তারা কোনো ভুল মতামত দিয়ে না বসে।
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার আনসারদের এক বাচ্চার জানাজা সালাত পড়াতে রাসূলুল্লাহকে ﷺ অনুরোধ করা হলো। আমি বললাম, 'আল্লাহর রাসূল, এ-শিশুর জন্য তো সুখবর, সে পাপ না করায় জান্নাতের পাখি হয়ে উড়ে বেড়াবে। সে বালেগ হওয়ার আগেই এমন এক বয়সে মারা গিয়েছে যে, পাপ করার সুযোগই পায়নি।' তিনি বললেন, আয়িশা, (কথা বলতে গিয়ে) তাড়াহুড়ো কোরো না; বিপরীতও ঘটতে পারে। আল্লাহ যোগ্যদের জন্য জান্নাত সৃষ্টি করেছেন-তাদের পিতার কটিদেশ থেকে তাদের বের করারও বহু আগে। আল্লাহ জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন, যারা জাহান্নামে যাবে, তাদের জন্য। তিনি তাদের জন্য জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন-তাদের পিতার কটিদেশ থেকে বের করারও বহু আগে।” ১২৮
নববী রাহ. বলেন, “মুসলিম আলিমদের সর্বসম্মত অভিমত হলো, কোনো মুসলিম শিশু যদি (বালেগ হওয়ার আগেই) মারা যায়, তবে সে জান্নাতে যাবে। কারণ, সে বালেগ হয়নি-যখন থেকে তার আমলের হিসাব নেওয়া শুরু হয়। আলিমগণ আরও বলেন, উপরোক্ত হাদীসে নবীজির উদ্দেশ্য ছিল আয়িশাকে রাযি. শেখানো যে, পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে এবং প্রমাণ ছাড়া তিনি যেন তাড়াহুড়ো করে কোনো মতামত না দেন।” ১২৯

টিকাঃ
১২৮. মুসলিম (২৬৬২)।
১২৯. মুসলিমের গ্রন্থের (২০৭/১৬) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00