📘 নবীজির সংসার > 📄 ইবাদাতে নিজের ওপর অত্যাচার করতে নিষেধ করতেন

📄 ইবাদাতে নিজের ওপর অত্যাচার করতে নিষেধ করতেন


আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ মসজিদে প্রবেশ করে দুই খুঁটির মাঝে একটি দড়ি বাঁধা পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'এটা কী?' লোকেরা উত্তর দিল, 'এটা যায়নাবের জন্য। তিনি সালাত পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে গেলে এটা ধরে থাকেন।' তিনি বললেন, 'এটা খুলে ফেলো। যতক্ষণ শরীর সতেজ থাকে, সালাত পড়ো; এরপর ক্লান্ত হয়ে গেলে থেমে যাও।” ১১২
নববী রাহ. বলেন, “এই রেওয়ায়েত থেকে প্রমাণিত যে, ইবাদাতের ব্যাপারে নিজের ওপর কেউ যেন কঠোর না হয়, বরং ভারসাম্য বজায় রাখে। শরীরে উদ্যম থাকা পর্যন্ত ইবাদাত করতে থাকবে এবং ক্লান্ত হয়ে গেলে বন্ধ করে দিয়ে (আরাম করে) আবার শক্তি সঞ্চয় করবে।” ১১৩
আয়িশা রাযি. নবীজিকে এক মহিলা সম্পর্কে বললেন, যে না ঘুমিয়ে সারা রাত সালাত পড়ে। তিনি এরকম করতে নিষেধ করলেন। উরওয়া ইবনে আয-যুবাইর রাযি. থেকে বর্ণিত, “আয়িশা রাযি. আমাকে বলেছেন, একবার হাওলা বিনতে তুওয়াত (একজন মহিলা সাহাবী) তার ও নবীজির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। আয়িশা রাযি. বললেন, 'রাসূলুল্লাহ, লোকে বলে হাওলা বিনতে তুওয়াত রাতে ঘুমায় না।' তিনি বলে উঠলেন, 'রাতে ঘুমায় না! এমন কাজই করো, যা করার সামর্থ্য তোমাদের আছে। তোমরা ক্লান্ত হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহ ক্লান্ত হবেন না." ১১৪
নববী রাহ. বলেন, “‘রাতে ঘুমায় না!'- কথার দ্বারা তিনি এ-কাজের ব্যাপারে অসম্মতি জানিয়েছেন এবং সে যে তার নিজের ওপর কঠোর, তা বুঝিয়েছেন।” ১১৫

টিকাঃ
১১২. বুখারী (১১৫০) ও মুসলিম (৭৮৪)।
১১৩. মুসলিম গ্রন্থের (৭৩/৬) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।
১১৪. বুখারী (৪৩) ও মুসলিম (৭৮৫)।
১১৫. মুসলিম গ্রন্থের (৭৩/৬) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 পরিমাণে অল্প হলেও ইবাদাত নিয়মিত জারি রাখতে উৎসাহ দিতেন

📄 পরিমাণে অল্প হলেও ইবাদাত নিয়মিত জারি রাখতে উৎসাহ দিতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেন, “আল্লাহর কাছে সেই আমলগুলো প্রিয় যেগুলো নিয়মিত, যদিও তা পরিমাণে অল্প হোক না কেন।” কাসিম ইবনে মুহাম্মদ রাহ. বলেন, “আয়িশা রাযি. কোনো ইবাদাত শুরু করলে, সেটি কখনোই ছেড়ে দিতেন না।” ১১৬
ইবনে আল-জাওযী রাহ. বলেন, “মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ দুটি কারণে নিয়মিত আমল পছন্দ করেন; প্রথমত, কোনো আমল শুরু করে সেটি থামিয়ে দেওয়া সেই আমল ছেড়ে দেওয়ার সমতুল্য। দ্বিতীয়ত, কোনো আমল নিয়মিত করা কোনো দাসের তার প্রভুর নিয়মিত সেবা করার সমতুল্য। সে এমন এক খাদেম, যে তার প্রভুর দরজার সামনে প্রতিদিন কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকে; তার মতো না, যে সারা দিন প্রভুর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সে-স্থান ত্যাগ করে চিরতরে চলে যায়।” ১১৭

টিকাঃ
১১৬. বুখারী (৬৪৬৫) ও মুসলিম (৭৮৩)।
১১৭. ফাতহুল বারী (১০৩/১)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 বেশি বেশি দান করতে উৎসাহ দিতেন

📄 বেশি বেশি দান করতে উৎসাহ দিতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন, “আয়িশা, নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো, একটি খেজুরের অর্ধেক দান করে হলেও।” ১১৮
“অর্ধেক খেজুর” দ্বারা কোনো কিছু সামান্য থেকে সামান্যতম হলেও সেটি দান করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য আয়িশাকে রাযি. আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ ইবাদাত করতেও উৎসাহিত করেছেন।
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, "একবার আল্লাহর রাসূল আমার সঙ্গে ছিলেন; এমন সময় এক ভিক্ষুক এলে তাকে আমি (আমার খাদেমকে) কিছু দান করতে বললাম। তবে দেওয়ার আগে সে কী দিচ্ছে, তা আমাকে দেখাতে বললাম (তা হলে বুঝতে পারব, আমার কাছে কতখানি অবশিষ্ট থাকছে)। আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাকে বললেন, 'আয়িশা, তোমার বাসায় কী ঘটছে, তার সব কিছু তদারকি করতে তুমি আগ্রহী? (দানে ব্যবহৃত হয় এরকম) সব কিছুই তোমার গোচরে থাকুক, এটিই তোমার ইচ্ছা?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'আয়িশা, (দানের জন্য) ব্যয় করো এবং জমা করে রেখো না। না হলে আল্লাহ তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।” ১১৯
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “আল্লাহর রাসূল ﷺ এই রেওয়ায়েতে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সম্পদ কমে যাবে, এই ভয়ে যেন দান করতে আমরা বাধা না দিই। কারণ, দান থেকে বিরত থাকা সম্পদ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এই দানের কারণেই আল্লাহ দানকারীকে অফুরন্ত রিযক দিয়ে থাকেন। যে সম্পদ হিসাব না করেই দান করে, তাকে আল্লাহ এমন জায়গা থেকে (রিযক) দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” ১২০
আরেকবার ভেড়া কুরবানির সময় নবীজি তাঁর স্ত্রীদের উদার-হাতে দান করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “একবার আমরা একটি ভেড়া জবাই করলাম (এবং সেখান দান করলাম)। পরে আল্লাহর রাসূল এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'কতখানি বাকি আছে?' আমি বললাম, 'কাঁধের মাংস ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।' তিনি বললেন, 'বরং বলো, কাঁধের মাংস ছাড়া বাকি সবটুকুই আছে।” ১২১
মুবারাকপুরী রাহ. বলেন, “এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন আমরা যা দান করব, সেগুলো আমাদের জন্য থেকে যাবে (পুরস্কার হিসেবে) আর যা নিজের জন্য রেখে দেওয়া হলো, তা তো চলে গেল (সেগুলোর কোনো প্রতিদান পাওয়া যাবে না)।” ১২২ এখানে তিনি আল্লাহর এই কথার দিকে ইঙ্গিত করেছেন,
مَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ وَمَا عِنْدَ اللَّهِ بَاقٍ وَلَنَجْزِيَنَّ الَّذِينَ صَبَرُوا أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“তোমাদের যা আছে ধ্বংস হয়ে যাবে, আল্লাহর কাছে যা আছে, তা চিরকাল রয়ে যাবে। আমি নিশ্চয়ই যারা ধৈর্য ধরে থাকত, তাদেরকে তাদের সর্বোত্তম কাজের অনুপাতে পুরস্কার দেব।” ১২৩

টিকাঃ
১১৮. আহমদ (২৩৯৮০)।
১১৯. আবু দাউদ (১৭০০) ও নাসাঈ (২৫৪৯)।
১২০. ফাতহুল বারী (৩০০/৩)।
১২১. তিরমিযী (২৩৯৪)।
১২২. তুহফাতুল আওযায়ী (১৪২/৭)।
১২৩. আন-নাহল: ৯৬

📘 নবীজির সংসার > 📄 যারা দান করবে তারা জান্নাতে তাঁর সাথে সবার আগে মিলিত হবে

📄 যারা দান করবে তারা জান্নাতে তাঁর সাথে সবার আগে মিলিত হবে


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন, “তোমাদের মাঝে সবার আগে আমার সাথে (জান্নাতে) তার দেখা হবে, যার লম্বা হাত রয়েছে (অর্থাৎ যিনি অনেক বেশি দান করেন)।” আয়িশা রাযি. বলেন, “তখন আমরা আমাদের হাত বাড়িয়ে দিয়ে মাপতে গিয়ে দেখলাম, সব থেকে লম্বা হাত সাওদার; কিন্তু (হাদীসের মতে) লম্বা হাত ছিল যায়নাবের; কারণ, সে নিজ হাতে জিনিস তৈরি করত (ও বিক্রি করত) এবং সে- অর্থ দান করত।” ১২৪
নববী রাহ. বলেন, “শুরুতে তারা ভেবছিলেন যে, নবীজি আক্ষরিক অর্থে হাতের দৈর্ঘ্যের কথা বলেছেন; তাই তারা হাতের দৈর্ঘ্য মাপতে গিয়ে দেখলেন, সাওদার হাত দৈর্ঘ্যে লম্বা। অন্যদিকে যায়নাব ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে উদার দানশীল; এবং তিনি মারা গেলে (তিনি নবীজির পর প্রথম মারা যান) তারা বুঝতে পারলেন, এটি একটি রূপক ছিল। এর দ্বারা নবীজি দান করার কথা বুঝিয়েছেন।” ১২৫
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এই রেওয়ায়েত দ্বারা বোঝা যায়, আমাদের উচিত যত সম্ভব বেশি বেশি দান করা; তা হলে আমরা নবীজির সাথে জান্নাতে দেখা করতে পারব।” ১২৬

টিকাঃ
১২৪. বুখারী (১৪২০) ও মুসলিম (২৪৫২)।
১২৫. মুসলিম গ্রন্থের (৮/১৬) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।
১২৬. ফাতহুল বারী (২৮৬/৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00