📄 যেভাবে অন্য নারীদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে তাঁর স্ত্রীদের গড়ে তুলেছেন
স্ত্রীদের সাথে কৌতুক আর হাসি-তামাশা যেমন আল্লাহর রাসূল ﷺ করতেন, তেমনি উম্মাহর নারীদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলায় তাদের প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। এ-ব্যাপারে তিনি ﷺ বলেন, “আল্লাহ প্রত্যেককে তাঁর অধীনস্থ মানুষের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবেন, সে কি তাদের ব্যাপারে দায়িত্ব পালন করেছে, নাকি ধ্বংস করেছে! এভাবে তিনি মানুষকে তার পরিবারের দায়িত্ব সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করবেন।” ১০৪
ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ বলেন, “তোমরা প্রত্যেকেই অভিভাবক, তাই নিজ নিজ অধীনস্থদের ব্যাপারে তোমরা দায়বদ্ধ থাকবে। একজন শাসক একজন অভিভাবক, সে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে দায়বদ্ধ। একজন পুরুষও একজন অভিভাবক, সে তার পরিবারের ব্যাপারে দায়বদ্ধ।” ১০৫
একজন স্বামীর দায়িত্ব তার স্ত্রীকে শিক্ষিত করা, দিকনির্দেশনা দেওয়া। ইসলাম ও জীবন সম্পর্কে স্বামী শিক্ষা না দেওয়ার কারণে অনেক নারীর জীবনে অশুভ পরিণতি দেখা দিয়েছে। হয়তো যথার্থ শিক্ষা ও পথনির্দেশ পেলে তারা এ-দুনিয়া ও আখিরাত—দুই জগতেই উপকৃত হতে পারত।
টিকাঃ
১০৪. নাসাঈ (৯১7৪)।
১০৫. বুখারী (৮৯৩) ও মুসলিম (১৮২৯)।
📄 স্ত্রীদের ইবাদাত সম্পর্কে শেখাতেন
উম্মে সালামা রাযি. (নবীজির স্ত্রী) থেকে বর্ণিত, “এক রাতে আল্লাহর রাসূল উঠে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! আজ রাতে আল্লাহ কত দুঃখ-কষ্ট নাযিল করেছেন, আবার এই রাতেই আল্লাহ কত গুপ্তধন নাযিল করেছেন। কে আছো, এখানকার নারীদের (তাঁর স্ত্রীদের) সালাতের জন্য জাগিয়ে তোলো! এ জগতের সুসজ্জিত ব্যক্তিও দেখা যাবে আখিরাতে উলঙ্গ হয়ে উঠবে।” ১০৬
আখিরাতের পুরস্কার ও শাস্তির ব্যাপারে মানুষের উদাসীনতা রাসূলুল্লাহকে পেরেশান করে তুলত। তিনি তাঁর স্ত্রীদের এ-সম্পর্কে সজাগ করতে শেষ রাতে জেগে উঠাতেন। তিনি তাদের ইবাদাত করতে তাগাদা দিতেন, তারা কেবল তাঁর স্ত্রী বলে আখিরাতে পার পেয়ে যাবে, এমনটা যেন ভেবে না বসে। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের স্ত্রীকে শেষরাতে জেগে তুলে একসাথে ইবাদাত করা, বিশেষ আবহাওয়াগত বিশেষ ঘটনার সময় (ঝড়ো বাতাস, হারিকেন, টর্নেডো, চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ ইত্যাদির সময়) ইবাদাতে তাগাদা দেওয়া।
টিকাঃ
১০৬. বুখারী (৭০৬৯)।
📄 মন্দের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করতে তাদের শেখাতেন
আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “(এক রাতে) আল্লাহর রাসূল আমার হাত ধরলেন এবং চাঁদের দিকে দেখিয়ে বললেন, আয়িশা, এটি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও, কারণ, এর সম্পর্কেই আল্লাহ বলেছেন, 'অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, যখন তা বিস্তার লাভ করে।” (আল কুরআন, ১১৩: ৩) ১০৭
ইবনে কাসীর রাহ. বলেন, “তিনি রাতের অন্ধকার থেকে আশ্রয় চাইতে বলার কারণ হলো মন্দ সাধারণত রাতে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য আরেক হাদীসেও সরাসরি চাঁদের কথা বলা আছে, যা এ-আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ, রাত চেনা যায় চাঁদের দ্বারা এবং এটা কেবল রাতেই দেখা যায়।” ১০৮
এই রেওয়ায়েতে দেখা যায়, স্ত্রীকে শেখানোর ব্যাপারে তিনি এতটা আন্তরিক ছিলেন যে, হাত ধরে তাকে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি শুধু নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, একই সাথে কারণও ব্যাখ্যা করে তাকে বুঝিয়ে দিতেন।
টিকাঃ
১০৭. তিরমিযী (৩২৮৮)।
১০৮. তাফসীর ইবনে কাসীর (৫৩৬/৮)।
📄 তাদের উপকারী দুআ শেখাতেন
জুওয়ায়রিয়্যা রাযি. (নবীজির স্ত্রী) থেকে বর্ণিত, “আমি ফজরের সালাত পড়ছিলাম। এ-সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। পরে সকাল হলে তিনি ফিরে এলেন। আমি তখনো সেখানেই (সালাতের জায়গায়) বসেছিলাম। নবীজি আমাকে বললেন, 'আমি চলে যাওয়ার পর থেকে তুমি সেই একই জায়গায় বসে আছ (এতক্ষণ)?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তখন নবীজি বললেন, 'তোমার কাছ থেকে চলে যাবার পর আমি মাত্র চারটি শব্দ তিনবার পড়েছি এবং সেগুলো ওজন করলে তুমি এতক্ষণ যা পড়েছ, তার থেকে ভারী হবে; (সেগুলো হলো)
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যার পরিমাণ, তিনি সন্তুষ্ট হওয়া পরিমাণ, তার আরশের ওজনের সমপরিমাণ, তার কথা লিপিবদ্ধ করার কালি পরিমাণ।” ১০৯
আস-সিন্দি রাহ. বলেন, “এর মানে হলো, এমন দুআ আছে, যেগুলো অপর দুআ থেকে উত্তম; কারণ, সেগুলো আরও ব্যাপক এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্বলিত। এ-কারণে তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও অন্য লম্বা দুআগুলোর চেয়ে সেগুলোর সাওয়াব অনেক বেশি।” ১১০
টিকাঃ
১০৯. মুসলিম (২৭২৬)।
১১০. আস-সুয়ূতী এবং আস-সিন্দি কর্তৃক নাসাঈ গ্রন্থের ব্যাখ্যা (৭৮/৩)।