📘 নবীজির সংসার > 📄 স্ত্রীদের একসাথে মজা করতে দেখে হাসতেন

📄 স্ত্রীদের একসাথে মজা করতে দেখে হাসতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “সাওদা বিনতে যামআ (নবীজির স্ত্রী) একদিন আমাদের ঘরে আসলেন। আল্লাহর রাসূল আমার ও তার মাঝে বসে এক পা আমার কোলে আর অপর পা তার কোলের ওপর রাখলেন। আমি সাওদার জন্য হারিনা (মসুর, ছোলা এবং ধনে দিয়ে বানানো একধরনের স্যুপ) রান্না করেছিলাম। আমি তাকে বললাম, 'খান।' কিন্তু তিনি খেতে চাইলেন না। তখন আমি বললাম, 'আল্লাহর কসম, আপনি খাবেন, নাহলে আমি আপনার মুখে ঢেলে দেব।' এরপরও তিনি খেতে চাইলেন না। আমি তখন তার মুখে এর কিছুটা ঢেলে দিলাম। আল্লাহর রাসূল হাসতে শুরু করলেন এবং উরু দিয়ে সাওদাকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে করতে তাকে বললেন, 'ওর মুখেও ঢেলে দাও।' তিনি তা-ই করলেন। তিনি আবার হাসতে শুরু করলেন। হঠাৎ আমরা (বাইরে) উমারকে রাযি. বলতে শুনলাম, আবদুল্লাহ ইবনে উমার! আবদুল্লাহ ইবনে উমার!' আল্লাহর রাসূল তখন আমাদের বললেন, 'ওঠো, ওঠো! তোমাদের মুখ পরিষ্কার করো। আমার মনে হয়, উমার এখন আসবে।” ৯৯
এই রেওয়ায়েত স্ত্রীদের সাথে নবীজির আনন্দঘন মুহূর্তের এক অনুপম বর্ণনা। স্ত্রীদের মাঝে আয়িশাকে রাযি. তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসলেও অন্যদের সাথে তিনি কখনো অবিচার করেননি। তিনি আয়িশার রাযি. পক্ষ নিয়ে অন্য স্ত্রীর সাথে অন্যায় করেননি, বরং অপরজনকে সাহায্য করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত সফলভাবে পারিবারিক বন্ধনকে আনন্দঘন করে তুলতেন।

টিকাঃ
৯৮. মুসলিম গ্রন্থের (৮১/১৫) ব্যাখ্যায় নববী (রাহ.)।
৯৯. সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে নাসাঈ (৮৯১৭) এবং ফাওয়াইদ গ্রন্থে আবু বকর আশ-শাফীঈ (১১২)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 স্ত্রীর ধাঁধা শুনতেন

📄 স্ত্রীর ধাঁধা শুনতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “আমি রাসূলুল্লাহকে বললাম, 'আল্লাহর রাসূল ধরুন, আপনি একটি উপত্যকায় এসে দেখলেন একটি গাছের কিছু পাতা খাওয়া হয়েছে, আর অন্য গাছগুলোর পাতা খাওয়া হয়নি। কোন গাছ থেকে আপনার উটকে খাওয়াবেন?' তিনি বললেন, 'যে গাছ থেকে কোনো পাতা খাওয়া হয়নি।” (এখানে আয়িশা রাযি. বোঝাতে চেয়েছেন, তাকে ছাড়া আর কাউকে তিনি কুমারী হিসেবে বিয়ে করেননি।) ১০০

টিকাঃ
১০০. বুখারী (৫০৭৭)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


নবীজির পারিবারিক জীবন ছিল পুরোপুরি ইসলামী নীতির ছাঁচে গড়া। তিনি ইসলামকে নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন, অন্যদের জন্যও ইসলাম মানার দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন। তাঁর বৈবাহিক জীবনের অগণিত ঘটনা মুসলিমদের জন্য আদর্শ। খাদিজার রাযি. সাথে তাঁর পারিবারিক জীবন যেমন আমাদের এক-স্ত্রী পরিবার সম্পর্কে ধারণা দেয়, তেমনি পরবর্তীতে তাঁর একাধিক স্ত্রীর সাথে পারিবারিক জীবন আমাদের ধারণা দেয় প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন সত্তা হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তিনি প্রত্যেকের উপযোগী আচরণ করতেন; স্ত্রীদের আনুগত্য ও ভালোবাসার বিনিময়ে তিনি তাদের অধিকারকে সর্বোত্তম উপায়ে রক্ষা করতেন। একইভাবে নবীজির স্ত্রীগণও স্বামী হিসেবে তাঁর অধিকার রক্ষায় তৎপর ছিলেন। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পারিবারিক জীবনে সুখ-শান্তি আনার ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এর সর্বোত্তম উদাহরণ নবীজির জীবন। এজন্যই তিনি বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেরা তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে আচরণে সেরা।” ১০১
অপর এক হাদীসে তিনি বলেন, “কোনো ঈমানদার पुरुष যেন ঈমানদার নারীকে (তার স্ত্রীকে) ঘৃণা না করে। তার কোনো বৈশিষ্ট্য তার অপছন্দনীয় হবে, আবার তার এমন গুণও আছে, যাতে সে সন্তুষ্ট হবে।” ১০২
নবীজি আরও বলেন, “নারীদের ব্যাপারে আমার পরামর্শ মাথায় রেখো—নারীর সাথে দয়ার্দ্র আচরণ করো।” ১০৩

টিকাঃ
১০১. তিরমিযী (১০৮২)।
১০২. মুসলিম (২৬৭২)।
১০৩. বুখারী (৩৩৩১) ও মুসলিম (১৪৬৮)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 যেভাবে অন্য নারীদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে তাঁর স্ত্রীদের গড়ে তুলেছেন

📄 যেভাবে অন্য নারীদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে তাঁর স্ত্রীদের গড়ে তুলেছেন


স্ত্রীদের সাথে কৌতুক আর হাসি-তামাশা যেমন আল্লাহর রাসূল ﷺ করতেন, তেমনি উম্মাহর নারীদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলায় তাদের প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। এ-ব্যাপারে তিনি ﷺ বলেন, “আল্লাহ প্রত্যেককে তাঁর অধীনস্থ মানুষের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবেন, সে কি তাদের ব্যাপারে দায়িত্ব পালন করেছে, নাকি ধ্বংস করেছে! এভাবে তিনি মানুষকে তার পরিবারের দায়িত্ব সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করবেন।” ১০৪
ইবনে উমার রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ বলেন, “তোমরা প্রত্যেকেই অভিভাবক, তাই নিজ নিজ অধীনস্থদের ব্যাপারে তোমরা দায়বদ্ধ থাকবে। একজন শাসক একজন অভিভাবক, সে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে দায়বদ্ধ। একজন পুরুষও একজন অভিভাবক, সে তার পরিবারের ব্যাপারে দায়বদ্ধ।” ১০৫
একজন স্বামীর দায়িত্ব তার স্ত্রীকে শিক্ষিত করা, দিকনির্দেশনা দেওয়া। ইসলাম ও জীবন সম্পর্কে স্বামী শিক্ষা না দেওয়ার কারণে অনেক নারীর জীবনে অশুভ পরিণতি দেখা দিয়েছে। হয়তো যথার্থ শিক্ষা ও পথনির্দেশ পেলে তারা এ-দুনিয়া ও আখিরাত—দুই জগতেই উপকৃত হতে পারত।

টিকাঃ
১০৪. নাসাঈ (৯১7৪)।
১০৫. বুখারী (৮৯৩) ও মুসলিম (১৮২৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00