📘 নবীজির সংসার > 📄 স্ত্রীর জন্য নিজেকে সুশোভিত করতেন ও অন্যদের নির্দেশ দিতেন

📄 স্ত্রীর জন্য নিজেকে সুশোভিত করতেন ও অন্যদের নির্দেশ দিতেন


আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন, “যার চুল আছে, সে যেন একে সম্মান করে।”
আসিম আবাদী বলেন, “এর অর্থ হলো, চুল যেন পরিষ্কার রাখা হয়, তেল দেওয়া হয়, আঁচড়ানো হয় এবং এলোমেলো না রাখা হয়। কারণ সবাই পরিষ্কার-সুন্দর বেশভূষা দেখতে পছন্দ করে।”
একজন স্বামীর উচিত স্ত্রীর জন্য উত্তম বেশে সাজা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। যেমন, ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, “আমি চাই যেমন আমার স্ত্রী আমার জন্য সাজুক, তেমনি আমিও যেন তার জন্য সাজি। কারণ, আল্লাহ বলেন, “পুরুষদের উপর নারীদেরও অধিকার আছে, যেমন নিয়ম অনুযায়ী পুরুষদের নারীদের উপর অধিকার আছে।” ৭৮ (আল কুরআন, ২: ২২৮) ৭৯
সাহল ইবনে সাদ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত, “একবার এক লোক রাসূলুল্লাহর কক্ষের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল, তাঁর হাতে একটি চিরুনি এবং সেটি দিয়ে তিনি নিজের চুল ঠিক করছিলেন।” ৮০

টিকাঃ
৭৬. আবু দাউদ (৪১৬৩)।
৭৭. 'আওন আল-মা'বুদ (১১৮৩/৯)।
৭৮. স্বামীর উপর স্ত্রীর নির্দিষ্ট অধিকার আছে, ঠিক যেমন স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার রয়েছে。
৭৯. তাফসীর ইবন জারীর আত-তাবারি (৫৩২/৪)।
৮০. বুখারী (৫৯২৪) ও মুসলিম (২১৫৬)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 স্ত্রীর কাছে নবীজি ﷺ তাঁর চুল ধুয়ে ও আঁচড়িয়ে নিতেন

📄 স্ত্রীর কাছে নবীজি ﷺ তাঁর চুল ধুয়ে ও আঁচড়িয়ে নিতেন


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “ইতিকাফের সময় আল্লাহর রাসূল আমার দিকে তার মাথা হেলে দিতেন এবং আমি তার চুল আঁচড়ে দিতাম। ৮১” ৮২
আয়িশা রাযি. আরও থেকে বর্ণিত, “আমার মাসিকের সময়ও আমি রাসূলুল্লাহর চুল ধুয়ে দিতাম।” ৮৩

টিকাঃ
৮১. তার ঘরের জানালা মসজিদের অনেক কাছাকাছি ছিল, তাই তিনি জানালা দিয়ে মাথা ভেতরে হেলে দিতে পারতেন।
৮২. বুখারী (২০২৯) ও মুসলিম (২৯৭)।
৮৩. বুখারী (৩০১) ও মুসলিম (২৯৭)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 হারাম না হলে স্ত্রীদের অনুরোধ মানার চেষ্টা করতেন

📄 হারাম না হলে স্ত্রীদের অনুরোধ মানার চেষ্টা করতেন


জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. হজ্বের সময় আয়িশার রাযি. মাসিক হওয়ার ঘটনা এবং এতে তার কান্নায় ভেঙে পড়ার বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “আল্লাহর রাসূল মানুষের সাথে ব্যবহারে অনেক সহজ-সরল ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী কোনো কিছু করতে চাইলে তিনি তাতে অনুমতি দিতেন।” ৮৪
আরেক ঘটনা সম্পর্কে আয়িশা রাযি. বলেন, “একদিন আল্লাহর রাসূল আমার সঙ্গে বসেছিলেন, এমন সময় বেশ কিছু উচ্চকণ্ঠে আওয়াজ শুনতে পেয়ে দেখতে গেলেন, কী হচ্ছে। তিনি দেখলেন, কিছু আবেসিনীয় বালক বল্লম নিয়ে খেলা করছে। তিনি আমাকে বলেন, "আয়িশা, তুমি আসবে তাদের খেলা দেখতে?" আমি উঠে গিয়ে তার কাঁধে থুতনি রেখে খেলা দেখতে লাগলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার (দেখা) শেষ হলো?' তাঁর কাছে আমার অবস্থান দেখার জন্য (কতক্ষণ এভাবে থাকেন) প্রত্যেকবার আমি 'না' বলতে লাগলাম।” ৮৫
ইবনে বাত্তাল রাহ. বলেন, “নবীজি কতটা মহান চরিত্রের ছিলেন, তা এ ঘটনা প্রমাণ করে এবং প্রত্যেকের উচিত হারাম না হলে স্ত্রীর খুশিকে নিজের জন্য কষ্টকর হলেও প্রাধান্য দেওয়া।” ৮৬
অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, “আমি তাদের খেলা দেখছিলাম এবং আমিই শেষে খেলা দেখা বন্ধ করে সরে এলাম।” ৮৭

টিকাঃ
৮৪. মুসলিম (১২১৩)।
৮৫. তিরমিযী (৩৬৯১)। মূল হাদিস বুখারী (৪৫৫) ও মুসলিম (৮৯২)।
৮৬. ইবনে বাত্তালের বুখারীর ব্যাখ্যা (৫৪৮/২)।
৮৭. মুসলিম (৮৯২)।

📘 নবীজির সংসার > 📄 জায়েজ কবিতা শোনার ব্যাপারে স্ত্রীদের নিষেধ করেননি

📄 জায়েজ কবিতা শোনার ব্যাপারে স্ত্রীদের নিষেধ করেননি


আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ ﷺ (আমার ঘরে) এসে দেখলেন, দুই বালিকা বুয়াসের যুদ্ধে আনসারদের দুই গোত্রের (আউস ও খাযরাজ) কবিতা আবৃত্তি করছে। তিনি ﷺ বিছানায় অন্যদিকে মুখ ঘুরে শুয়ে পড়লেন। তারপর আবু বাকর এসে আমাকে বকা দিতে লাগলেন, “রাসূলুল্লাহর ঘরে শয়তানের যন্ত্র (কবিতা)! আল্লাহর রাসূল ﷺ তার দিকে ফিরে বললেন, “ওদের ছেড়ে দাও।” এরপর তিনি আমাদের থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিলেন। আমি তাদেরকে ইশারায় চলে যেতে বললাম। আর এটা ঘটেছিল ঈদের দিনে।” ৮৮
ইবনে হাজর রাহ. বলেন, “এই রেওয়ায়েত প্রমাণ করে যে, ঈদের দিনে পরিবারের আনন্দের ব্যবস্থা করা (নিষিদ্ধ নয় এমন কিছু দিয়ে) এবং (রমাদানের সিয়াম ও দীর্ঘ রজনীর কিয়ামের) ইবাদাতের পর আরাম করা উত্তম। এ থেকে এটিও শেখা যায়, স্ত্রীদের ব্যাপারে নরম থাকা এবং তার ভালোবাসা অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।" ইবনে রজব রাহ. আরও বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদ ও বিয়ে উপলক্ষ্যে তাঁর স্ত্রীদের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার না করে কবিতা আবৃত্তি করে আনন্দ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে দফ নামক বাদ্যযন্ত্রে ছাড় রয়েছে।” ৯০

টিকাঃ
৮৮. বুখারী (৯৫০) ও মুসলিম (৮৯২)।
৮৯. ফাতহুল বারী (৪৪৩/২)।
৯০. দফের আওয়াজ স্পষ্ট ও চিকন নয় এবং সুরেলা ও আনন্দদায়কও নয়। ফলে দফ বলে পরিচিত কোন যন্ত্রের আওয়াজ যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ থাকবে না; বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে। আওনুল বারী ২/৩৫৭ আর দফের মধ্যে যদি বাদ্যযন্ত্রের বৈশিষ্ট্য এসে পড়ে তবে সেটি আর জায়িজ থাকবে না, সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়িজ বলে পরিগণিত হবে। - মিরকাত ৬/২১০ অর্থাৎ দফ বলে পরিচয় দেয়া কোন যন্ত্রতে বাদ্যযন্ত্রের কোন ধরনের বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেলেই একে আর দফ বলা যাবে না। তাই কেউ যেকোন যন্ত্রকে দফ বলে পরিচয় দিয়ে বাদ্যকে হালাল করার অপচেষ্টা করলে তা শরীয়ত বহির্ভূত কাজ বলেই গণ্য হবে এবং সুস্পষ্ট হারাম হবে। তবে প্রকৃত দফ হল ভিন্ন কথা। আল্লাহ শয়তানের যাবতীয় সূক্ষ্ম ধোকা থেকে আমাদের হিফাজত করুক। - সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00